০৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

তিতাস নদীর বুক জুড়ে ময়লার পাহাড়: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হুমকির মুখে পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ

শেখ মোঃ ইলিয়াস, জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • Update Time : ১০:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৮ Time View

​শেখ মোঃ ইলিয়াস, জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ​ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের আনন্দবাজার, কারখানাঘাট ও ননীশাহ রোড এলাকার তিতাস নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বর্জ্যের বিশাল পাহাড়। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে জনবহুল এই এলাকাটি বর্তমানে চরম দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের পাশাপাশি আনন্দবাজারের কিছু ব্যবসায়ীর নিয়মিত নদীর তীরে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক আবর্জনা ফেলার কারণে এই কৃত্রিম ভাগাড় সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

​দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চললেও এবং সচেতন মহল থেকে বারবার অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার ফলে একদিকে যেমন এলাকার পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ। বিশেষ করে ময়লার দুর্গন্ধ ও দূষিত বর্জ্য সরাসরি তিতাস নদীতে মিশে জলজ পরিবেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

​ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীর এই ভয়াবহ দূষণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষক দলনেতা ফারহান আহমেদ বলেন, “আনন্দবাজার সংলগ্ন তিতাস নদীর তীরে যেভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে নদী দূষণ চরম মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নদী দূষণ ও দখলদারিত্ব দ্রুত বন্ধ না হলে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

​এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজিম হোসেন শেখ জানান, আনন্দবাজারসহ তিতাস নদীর পাড়ের বাজারে প্রতিদিন প্রচুর অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য উৎপাদিত হয় এবং নদীর তীরে তা ফেলা হয়। এখানে প্রধানত পচনশীল ও অপচনশীল—এই দুই ধরনের বর্জ্য তৈরি হয়।
​পচনশীল বর্জ্যের প্রভাবে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা তিতাস নদীর জলজ প্রাণী ও দেশি মাছের বংশবৃদ্ধিকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। অন্যদিকে, অপচনশীল বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক ও সিন্থেটিক উপাদান, যা পানিতে মিশে না এবং শত বছরেও নষ্ট হয় না। এসব বর্জ্য থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়ে বায়ুতে ছড়াচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

​এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পরিবেশকর্মী এখলাছুল কবির মৃধা বলেন, “এই দূষণের ফলে শুধু পরিবেশই নষ্ট হচ্ছে না, বরং বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হয়ে পুরো অঞ্চলটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আমরা অবিলম্বে এসব দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

তিতাস নদীর বুক জুড়ে ময়লার পাহাড়: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হুমকির মুখে পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ

Update Time : ১০:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​শেখ মোঃ ইলিয়াস, জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ​ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের আনন্দবাজার, কারখানাঘাট ও ননীশাহ রোড এলাকার তিতাস নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বর্জ্যের বিশাল পাহাড়। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে জনবহুল এই এলাকাটি বর্তমানে চরম দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের পাশাপাশি আনন্দবাজারের কিছু ব্যবসায়ীর নিয়মিত নদীর তীরে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক আবর্জনা ফেলার কারণে এই কৃত্রিম ভাগাড় সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

​দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চললেও এবং সচেতন মহল থেকে বারবার অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার ফলে একদিকে যেমন এলাকার পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ। বিশেষ করে ময়লার দুর্গন্ধ ও দূষিত বর্জ্য সরাসরি তিতাস নদীতে মিশে জলজ পরিবেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

​ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীর এই ভয়াবহ দূষণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষক দলনেতা ফারহান আহমেদ বলেন, “আনন্দবাজার সংলগ্ন তিতাস নদীর তীরে যেভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে নদী দূষণ চরম মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নদী দূষণ ও দখলদারিত্ব দ্রুত বন্ধ না হলে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

​এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজিম হোসেন শেখ জানান, আনন্দবাজারসহ তিতাস নদীর পাড়ের বাজারে প্রতিদিন প্রচুর অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য উৎপাদিত হয় এবং নদীর তীরে তা ফেলা হয়। এখানে প্রধানত পচনশীল ও অপচনশীল—এই দুই ধরনের বর্জ্য তৈরি হয়।
​পচনশীল বর্জ্যের প্রভাবে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা তিতাস নদীর জলজ প্রাণী ও দেশি মাছের বংশবৃদ্ধিকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। অন্যদিকে, অপচনশীল বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক ও সিন্থেটিক উপাদান, যা পানিতে মিশে না এবং শত বছরেও নষ্ট হয় না। এসব বর্জ্য থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়ে বায়ুতে ছড়াচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

​এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পরিবেশকর্মী এখলাছুল কবির মৃধা বলেন, “এই দূষণের ফলে শুধু পরিবেশই নষ্ট হচ্ছে না, বরং বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হয়ে পুরো অঞ্চলটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আমরা অবিলম্বে এসব দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।