১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

স্বাধীন বাংলাদেশে বৈষম্যমুক্ত স্বাধীন নাগরিকের অধিকার চাই —- মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০৫:৫৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৩ Time View

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, এটি
ছিল ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম একটি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। দেশজুড়ে তীব্র
সহিংসতা, কারফিউ এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে এই সুনির্দিষ্ট দিনে বাহ্যিকভাবে বড়
কোনো প্রাপ্তি না দেখা গেলেও, এই সময়টুকুর ত্যাগই পরবর্তী বড় অর্জনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
২৪ জুলাই এবং এর সামগ্রিক আন্দোলন থেকে আমাদের বাংলাদেশ যা পেয়েছে এর মধ্যে মেধাবী কোটা
ব্যবস্থার সংস্কার আন্দোলনের মূল দাবি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২৩ জুলাই সরকারি
প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে ৯৩% নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।
২৪ জুলাই ছাত্র সমাজ বৈষম্যহীন মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার এই আইনি স্বীকৃতি লাভ করে। ৯
দফা দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধতা এই দিনটিতেই সমন্বয়কারীরা ডিবি হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও দেশের
ছাত্র-জনতা সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁদের ৯ দফা দাবিতে অনড় থাকে। এর ফলে আন্দোলনটি
শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি স্বৈরাচারবিরোধী বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ
নেয়। জুলাই মাসের এই তীব্র প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় অবশেষে ৫ আগস্ট ২০২৪-এ
শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, যা দেশের মানুষকে একটি স্বৈরাচারমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ উপহার
দেয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম দেশের শাসনব্যবস্থা, জবাবদিহিতা ও রাষ্ট্র
সংস্কারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। মানুষ তাদের বাকস্বাধীনতা এবং অন্যায়ের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস ফিরে পায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ২৪ জুলাইয়ের মতো রক্তক্ষয়ী ও
কঠিন দিনগুলোর মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা সাময়িকভাবে চরম দুর্ভোগ সহ্য করলেও, এর বিনিময়ে
অর্জিত হয়েছে কোটা সংস্কারের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এবং পরবর্তীতে একটি নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ।
এখন ছোট্ট একটি গল্প মনে পড়ে গেল- স্বামী বিবেকানন্দ ট্রেনে ভ্রমন করছিলেন। তার কাছে তেমন
কিছু ছিল না। তার সামনে বসে থাকা অপরিচিতা দুইজন বিদেশী মহিলা। স্বামীজির পোষাক নিয়ে নানা
ধরনের মন্তব্য শুরু করলেন। কিছুক্ষন পর তাদের নজর পরল স্বামীজির হাতে থাকা দামী ঘড়ির দিকে।
মহিলারা ঠিক করল স্বামীজিকে ফাঁদে ফেলবেন। মহিলাদের মধ্যে একজন তার কাছে গিয়ে বলল ঘড়িটা
আমাদের দিয়ে দাও, না হলে আমরা পুলিশ ডাকব এবং বলব যে তুমি আমাদেরকে বিরক্ত করছ। তারপর
স্বামীজি বোবা ও কানে কম শোনা ব্যধিরের মত অভিনয় করে ঈশারায় বুঝালেন যে তিনি কিছুই শুনতে
পাচ্ছেন না। মহিলারা ঈশারায় বুঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু চেষ্টা করেও তারা বুঝাতে পারলেন না।
তারপর স্বামীজি বিণয়ের সাথে ইঙ্গিতে বুঝালেন, তারা যা জানতে চান, সেটা যেন একটা কাগজে লিখে
স্বামীজিকে দেন। এবার স্বামীজি শান্তভাবে বললেন “ এখন পুলিশ ডাকুন”। স্বামী বিবেকানন্দের আগে
অনেকে মনে করতেন ধর্ম বা আন্তরিকতা মানেই দূর্বলতা, হাত জোড় করে কাঁদা বা সংসার ত্যাগ
করা। বিবেকানন্দ এই ভূল ধারনাকে সংশোধন করেন। পাঠক যারা আমার কথা বুঝেন তারা আমার ভাই,
যারা না বুঝেন তারাও আমার ভাই , যারা বুঝেও না বুঝার ভান ধরেন তারা কিন্তু আমার প্যাচ লাগানোর
ভাই। এখন বলছি পুরানো অপরিস্কার বাড়ীর মেঝেতে আর কোনদিন শোবেন না। হ্যাঁ যে ঘটনাটা ঘটবে
এটা সাধারনতঃ অন্ধকারেই ঘটে। মনে করেন আপনি মেঝেতে শুয়ে আছেন। এমন সময় অপরিস্কার
ঘরের কোনের ফাঁটল থেকে এক তেঁতুলে বিছা বা ছোট চেলা গরম আশ্রয়ের খোজে বেরিয়ে পড়ে।

Sonali Shop – online shop in Bangladesh

ঘুরাফিরা শেষে হঠাৎ আপনার কান খুজে পায় এবং সুযোগে আপনার কানের ভিতর ঢুকে পড়ে। শেষ
পর্যন্ত সেটি আপনার কানে আটকে যায়। আর যেতেও পারে না, বের হতেও পারে না। এটি কি আপনার
প্রাণ নিতে পারে ? না, কারন এদের বিষ মূলত মাকড়াসার মতো প্রাণীদের জন্য আল্লাহ তৈরী
করেছেন, মানুষের জন্য নয়। তবে এতে আপনার কানে ব্যথা হবে এবং বিজাতীয় এক অনুভূতি হবে। এ
দানবটির পা আপনার কানের পর্দায় নখ দিয়ে আঁচড় কাটবে এবং সরু জায়গায় আটকা পড়ে আতংকিত
হয়ে ছুটাছুটি করবে। এতে আপনি আতংকিত হয়ে পড়রেন। এ ধরনের ঘটনায় অনেক মানুষই হয়তো
ভাবেন তারা ভয় পাবেন না, কিন্তু বাস্তবে তারাও ভয় পেয়ে যান। তবে মাথার ভিতরে ছোট চেলার আঁচড়
কাটার শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাবেন। মনে হবে যেন মস্তিস্কের ভিতরে কিছু একটা নড়াচড়া করছে। আপনি
হাসপাতালে যাবেন; ডাক্তাররা অন্যান্য কাজ ফেলে আপনার কাছে ছুটে আসবে। ডাক্তার তখন ঠান্ডা
ধাতব দিয়ে চিমটি মেরে চেলাটি টেনে বের করবেন। আপনি মারা যাবেন না। কিন্তু সর্তক হোন। ওই
পুরানো বাড়ীর অপরিস্কার মেঝেতে আপনি আর কখনো শুতে যাবেন না।

লেখক: কলামিষ্ঠ ও দলিল লেখক

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

স্বাধীন বাংলাদেশে বৈষম্যমুক্ত স্বাধীন নাগরিকের অধিকার চাই —- মোশারফ হোসেন

Update Time : ০৫:৫৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, এটি
ছিল ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম একটি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। দেশজুড়ে তীব্র
সহিংসতা, কারফিউ এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে এই সুনির্দিষ্ট দিনে বাহ্যিকভাবে বড়
কোনো প্রাপ্তি না দেখা গেলেও, এই সময়টুকুর ত্যাগই পরবর্তী বড় অর্জনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
২৪ জুলাই এবং এর সামগ্রিক আন্দোলন থেকে আমাদের বাংলাদেশ যা পেয়েছে এর মধ্যে মেধাবী কোটা
ব্যবস্থার সংস্কার আন্দোলনের মূল দাবি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২৩ জুলাই সরকারি
প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে ৯৩% নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।
২৪ জুলাই ছাত্র সমাজ বৈষম্যহীন মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার এই আইনি স্বীকৃতি লাভ করে। ৯
দফা দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধতা এই দিনটিতেই সমন্বয়কারীরা ডিবি হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও দেশের
ছাত্র-জনতা সরকারের নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁদের ৯ দফা দাবিতে অনড় থাকে। এর ফলে আন্দোলনটি
শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি স্বৈরাচারবিরোধী বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ
নেয়। জুলাই মাসের এই তীব্র প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় অবশেষে ৫ আগস্ট ২০২৪-এ
শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, যা দেশের মানুষকে একটি স্বৈরাচারমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ উপহার
দেয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম দেশের শাসনব্যবস্থা, জবাবদিহিতা ও রাষ্ট্র
সংস্কারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। মানুষ তাদের বাকস্বাধীনতা এবং অন্যায়ের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস ফিরে পায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ২৪ জুলাইয়ের মতো রক্তক্ষয়ী ও
কঠিন দিনগুলোর মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা সাময়িকভাবে চরম দুর্ভোগ সহ্য করলেও, এর বিনিময়ে
অর্জিত হয়েছে কোটা সংস্কারের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এবং পরবর্তীতে একটি নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ।
এখন ছোট্ট একটি গল্প মনে পড়ে গেল- স্বামী বিবেকানন্দ ট্রেনে ভ্রমন করছিলেন। তার কাছে তেমন
কিছু ছিল না। তার সামনে বসে থাকা অপরিচিতা দুইজন বিদেশী মহিলা। স্বামীজির পোষাক নিয়ে নানা
ধরনের মন্তব্য শুরু করলেন। কিছুক্ষন পর তাদের নজর পরল স্বামীজির হাতে থাকা দামী ঘড়ির দিকে।
মহিলারা ঠিক করল স্বামীজিকে ফাঁদে ফেলবেন। মহিলাদের মধ্যে একজন তার কাছে গিয়ে বলল ঘড়িটা
আমাদের দিয়ে দাও, না হলে আমরা পুলিশ ডাকব এবং বলব যে তুমি আমাদেরকে বিরক্ত করছ। তারপর
স্বামীজি বোবা ও কানে কম শোনা ব্যধিরের মত অভিনয় করে ঈশারায় বুঝালেন যে তিনি কিছুই শুনতে
পাচ্ছেন না। মহিলারা ঈশারায় বুঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু চেষ্টা করেও তারা বুঝাতে পারলেন না।
তারপর স্বামীজি বিণয়ের সাথে ইঙ্গিতে বুঝালেন, তারা যা জানতে চান, সেটা যেন একটা কাগজে লিখে
স্বামীজিকে দেন। এবার স্বামীজি শান্তভাবে বললেন “ এখন পুলিশ ডাকুন”। স্বামী বিবেকানন্দের আগে
অনেকে মনে করতেন ধর্ম বা আন্তরিকতা মানেই দূর্বলতা, হাত জোড় করে কাঁদা বা সংসার ত্যাগ
করা। বিবেকানন্দ এই ভূল ধারনাকে সংশোধন করেন। পাঠক যারা আমার কথা বুঝেন তারা আমার ভাই,
যারা না বুঝেন তারাও আমার ভাই , যারা বুঝেও না বুঝার ভান ধরেন তারা কিন্তু আমার প্যাচ লাগানোর
ভাই। এখন বলছি পুরানো অপরিস্কার বাড়ীর মেঝেতে আর কোনদিন শোবেন না। হ্যাঁ যে ঘটনাটা ঘটবে
এটা সাধারনতঃ অন্ধকারেই ঘটে। মনে করেন আপনি মেঝেতে শুয়ে আছেন। এমন সময় অপরিস্কার
ঘরের কোনের ফাঁটল থেকে এক তেঁতুলে বিছা বা ছোট চেলা গরম আশ্রয়ের খোজে বেরিয়ে পড়ে।

Sonali Shop – online shop in Bangladesh

ঘুরাফিরা শেষে হঠাৎ আপনার কান খুজে পায় এবং সুযোগে আপনার কানের ভিতর ঢুকে পড়ে। শেষ
পর্যন্ত সেটি আপনার কানে আটকে যায়। আর যেতেও পারে না, বের হতেও পারে না। এটি কি আপনার
প্রাণ নিতে পারে ? না, কারন এদের বিষ মূলত মাকড়াসার মতো প্রাণীদের জন্য আল্লাহ তৈরী
করেছেন, মানুষের জন্য নয়। তবে এতে আপনার কানে ব্যথা হবে এবং বিজাতীয় এক অনুভূতি হবে। এ
দানবটির পা আপনার কানের পর্দায় নখ দিয়ে আঁচড় কাটবে এবং সরু জায়গায় আটকা পড়ে আতংকিত
হয়ে ছুটাছুটি করবে। এতে আপনি আতংকিত হয়ে পড়রেন। এ ধরনের ঘটনায় অনেক মানুষই হয়তো
ভাবেন তারা ভয় পাবেন না, কিন্তু বাস্তবে তারাও ভয় পেয়ে যান। তবে মাথার ভিতরে ছোট চেলার আঁচড়
কাটার শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাবেন। মনে হবে যেন মস্তিস্কের ভিতরে কিছু একটা নড়াচড়া করছে। আপনি
হাসপাতালে যাবেন; ডাক্তাররা অন্যান্য কাজ ফেলে আপনার কাছে ছুটে আসবে। ডাক্তার তখন ঠান্ডা
ধাতব দিয়ে চিমটি মেরে চেলাটি টেনে বের করবেন। আপনি মারা যাবেন না। কিন্তু সর্তক হোন। ওই
পুরানো বাড়ীর অপরিস্কার মেঝেতে আপনি আর কখনো শুতে যাবেন না।

লেখক: কলামিষ্ঠ ও দলিল লেখক