https://sonalishopbd.com/
বিশ্ব বরন্যে চিত্রশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা ——————- মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০১:০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৪ Time View

ছবি আঁকাআঁকিতেই উপভোগ করছিলেন তারুণ্যে ভরপুর জীবন। সেই রংমাখা জীবনে হঠাৎ করে শত্রুরা হানা দিল স্বদেশের মাটিতে। বদলে গেল শিল্পীর জীবনের ভাবনা। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে রং-তুলির বদলে হাতে তুলেন নিলেন অস্ত্র। চিত্রকর্ম সৃজনের বদলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে গর্জে উঠল চিত্রকরের হাতিয়ার। অতঃপর দেশ স্বাধীন করে পুনরায় যাত্রা হল চিত্রকলার ভুবনে। আর সেই শিল্পের ভুবনে বাংলাদেশের অনন্য এক চিত্রশিল্পী হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়লেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ। বড় ক্যানভাসের পর্দায় গতিশীল ও পেশীবহুল অতিমানবীয় পুরুষের ছবি আঁকতে ভীষণ পছন্দ করেন শাহাবুদ্দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে উপজীব্য করে রংয়ের তুলির সাহায্যে যথাযথ উপস্থাপনা, প্রতিস্থাপন ইত্যাদি বিষয়গুলো সার্থক ও সফলভাবেই সম্পন্ন করেছেন তিনি। এছাড়াও, শাহাবুদ্দিনের তুলিতে নারী চিত্রকর্মগুলোয় তাদের চিরায়ত কোমলতা, দ্যুতির স্পন্দন, স্নিগ্ধতা দেখা যায়। মিহি কাপড়ের মাধ্যমে নারীকে আবৃত করে শারীরিক সৌন্দর্য্যের দ্যূতি তুলে ধরেন তিনি যাতে রমণীর অলৌকিক ও অসীম শক্তি বিচ্ছুরিত হয়। শিল্পের ভুবনে পৃথিবী বিখ্যাত বাংলাদেশের অনন্য এক চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তাহার স্বপ্নের পাখী আকাশ থেকে জন্ম নেয়। স্বকীয় শৈলীতে উদ্ভাসিত এই শিল্পীর ক্যানভাস। রং আর রেখার খেলায় অনবদ্য হয়ে ধরা দেয় তার চিত্রপটের স্বতন্ত্র আঙ্গিকের শরীরী প্রকাশভঙ্গি। রেখাচিত্রের গতিময়তার মাঝে খুঁজে নেন নিজের লড়াকু জীবনকে। স্বদেশের প্রতি দায়বদ্ধ এই শিল্পীর ক্যানভাসে বারবার উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্যপট ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। মুক্তিযোদ্ধা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই চিত্রকরের ৭৫ তম জন্মদিন ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি.। ১৯৫০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার আলগী গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী ও বীরউত্তম মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তাদের পরিবারের ৮ আটভাই সবাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাবা তায়েবউদ্দীন আহমেদ ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। তার মায়ের নাম সাফিউন্নেসা আহমেদ। ব্যক্তিগত জীবনে আনা’কে বিয়ে করেন শাহাবুদ্দিন আহমদে। সংসারে তার দুই মেয়ে- চিত্র ও চর্চা আছে। শিল্পের তীর্থস্থান ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাসের পাশাপাশি সেখানেই অব্যাহত রয়েছে শাহাবুদ্দিন আহমেদের শিল্পচর্চা । প্যারিসে অবস্থান করে খ্যাতি ছড়িয়েছেন ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় যোদ্ধা তিনি। গেরিলা আর সম্মুখরণাঙ্গনে উভয় ক্ষেত্রেই বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। একাত্তর সদাজাগ্রত তার চেতনায়। শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে ফ্রান্স সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৭৪ সালে তিনি প্যারিসে চলে যান। সেখানে ইকোল দে বোজার্ট চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে পেশাদার শিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অদ্যাবধি তিনি প্যারিসে কর্মরত আছেন। শাহাবুদ্দিন আহমেদের ক্যানভাসে উঠে এসেছে উপমহাদেশের বিশেষ ব্যক্তিত্বরা। এদের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মওলানা ভাসানী, শহীদজননী জাহানারা ইমাম, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রমুখ। এ পর্যন্ত দেশে বিদেশে তার শতাধিক একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে এবং বহু দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। দেশ-বিদেশে নামকরা বহু গ্যালারিতে তার একক ও যৌথ চিত্রকর্মের প্রদর্শনী হয়। এর মধ্যে ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্তদের অর্থ সাহায্যের জন্য ঢাকায় চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। শাহাবুদ্দিন আহমেদের বিভিন্ন চিত্রকর্ম বাংলাদেশসহ বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রখ্যাত গ্যালারি, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত আছে। ১৯৬৮ সালের পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ শিশু চিত্রশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক পুরস্কার । ১৯৭৩ সালে শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক। এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, স্বাধীনতাসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই শিল্পী। ২০১৪ সালে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৯২ বার্সেলোনা অলিম্পিয়াড অব আর্টে বিশ্বের ৫০ জন মাস্টার পেইন্টারের একজন হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী ও বীরউত্তম মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ তার গ্রামের বাড়ী আলগীতে বাবার নামে মুক্তিযোদ্ধা তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন এলাকার গরীব দুঃখী মানুষের ছেলেমেয়েদের স্বার্থে।
























