https://sonalishopbd.com/
প্রসঙ্গ – জিব্বাহ্ ——— মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০২:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / ২০ Time View

জিহ্বা মানুষের শরীরের একটি ক্ষুদ্র অঙ্গ। কিন্তু এর কারণে মানুষ বেশি মিথ্যা কথার কাজে জড়িয়ে
থাকে, অন্য কোনো অঙ্গ থেকে এতো বেশি খারাপ প্রকাশ পায় না। ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত
আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একবার নিজের জিহ্বা ধরে মোচড়াচ্ছিলেন। তাকে এর
কারণ জিগেস করা হলে তিনি বলেন, এই জিনিসটি (জিহ্বা) আমাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
(মুয়াত্তা মালেক, হাদিস, ৩৮৭) জিহ্বার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে মানুষ যে বড় বিপদে পড়ে
তাহলো ঝগড়া বিবাদ। ঝগড়ায় জেতার জন্য মানুষ একে অপরকে হেয়-প্রতিপন্ন করে, অন্যকে নিয়ে
বিদ্রুপ করে। আর এসব করতে গিয়ে মানুষ এর ক্ষতিকর দিকগুলো খেয়ালই করে না। পার্থিব বিষয়ে
ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া নিন্দনীয় কাজ । ধর্মীয় বিষয়েও ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা
উচিত। ইমাম মালেক রহ. বলেছেন, ইলমের ব্যাপারে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া ঈমানের নূরকে ধ্বংস করে
দেয়। একথা শুনে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন, কোনো ব্যক্তিকে সুন্নতে বিপরীত কিছু করতে দেখলে
এক্ষেত্রে করণীয় কী? উত্তরে ইমাম মালেক রহ. বললেন, নম্রভাবে তাকে বুঝিয়ে দেবে, ঝগড়া করবে
না। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৭/৪১৮) মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রঃ) বলেছিলেন যে কোন মূল্যে
জিব্বাহকে হেফাজত করতে হবে। জিব্বাহর দ্ধারা মানব সমাজে নানা ধরনের ফেৎনা ফ্যাসাদ সৃষ্টির
কারন। আবার এ জিব্বাহ্ দিয়েই মানুষ প্রভুর যিকির করে দিদার লাভ করেন। এখন কথা হল যে কোন
কাজ করার পূর্বে ভালো ও মন্দের বিষয়ের উপর একটু চিন্তা ভাবনা করে নিতে হবে। তাহলে কিছুটা
বাঁচা যাবে। মনে পড়ে গেল স্যাকারিন আবিষ্কারের চিত্তাকর্ষক কাহিনী-১৮৭৯ সাল।
Sonali Shop – online shop in Bangladesh
ল্যাবরেটরিতে কাজ করছিলেন রুশ রসায়নবিদ কনস্টানটিং ফালবার্গ। এ সময় অজ্ঞাতেই তার হাতে
মেখে যায় কিছু রাসায়নিক দ্রব্য। এগুলো তিনি খেয়ালই করেননি। কাজ করতে করতে অনেক রাত হয়ে
যায়। ডিনারের কথা তার মনেই ছিল না। রাত অনেক গভীর হলে মনে পড়ে ডিনারের কথা। তৎক্ষণাৎ
এক টুকরো রুটি নিয়ে তাতে কামড় দিল। কিন্তু মুখে দিয়েই অবাক হয়ে গেলেন তিনি! রুটি বেশ মিষ্টি
লাগছিল। কিন্তু কেন? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলেন। নিশ্চিত রুটিতে কোন চিনি ছিল না, পরে হাত মুখে
দিয়ে বুঝতে পারেন মিষ্টির উৎস হলো হাত। অর্থাৎ হাতে লেগে থাকা অজ্ঞাত কেমিক্যাল। কী কী
নিয়ে কাজ করছিলেন, সেগুলো ভালো করে যাচাই করার পর ফালবার্গ অবশেষে আবিষ্কার করে
ফেললেন পৃথিবীর কৃত্রিম সুইটনার। পরে এর পেটেন্ট রাইটও নিয়ে নেন নিজের নামে। অচিরেই
স্যাকারিন চিনির বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বিশ্বব্যাপী। স্যাকারিন একটি মিষ্টি জৈব
পদার্থ। এটি চিনির চেয়ে প্রায় ৫০০ গুন বেশি মিষ্টি। এটি ডায়াবেটিস রোগীকে খেতে দেয়া হয়।
স্যাকারিনের খাদ্যগুণ নেই। স্যাকারিন তৈরি হয় আলকাতরার পাতনের পর প্রাপ্ত উলুইন নামক
পদার্থ থেকে। স্যাকারিন বিষাক্ত না। তবে এটি খাদ্যে না মিলানোই উত্তম। এটি খেলে তেমন ক্ষতি
হতেও দেখা যায় না। স্যাকারিন চিনির চেয়ে ২০০ থেকে ৭০০ গুণ মিষ্টি হলেও এর কোন পুষ্টিগুণ নেই
অর্থাৎ স্যাকারিন শরীরে কোন পুষ্টি বা ক্যালরি সরবরাহ করেনা। যেভাবে শরীরে প্রবেশ করে ঠিক
অনুরূপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায় অর্থাৎ শরীরের ভেতরে কোন রকম রাসায়নিক রূপান্তর বা
মেটাবোলিজমে সে অংশগ্রহণ করে না। শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ ভাঙ্গার কোন
সম্পর্ক নাই। ধানমন্ডি ৩২ ভাঙ্গা হইছে মূলত দুইটি কারনে। প্রথম কারন হইলো, জামাতের
গনজাগরণ মঞ্চের প্রতিশোধ । ২০১৩ এর ৫ ফেব্রুয়ারী গনজাগরণ মঞ্চ গঠিত হয়। জামাত মনে করে
এই গনজাগরণ মঞ্চের চাপে জামাতের অনেকের ফাঁসি হয়। এজন্য তারা ২০২৫ এর ৫ ফেব্রুয়ারী
বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার পূর্বে আওয়ামী লীগের অন্যতম অপারেটিং
সেন্টার ধানমন্ডি ৩২ ভেঙ্গে দেয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে ধানমন্ডিতে অবস্থিত
৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা। বিবিসি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আরব নিউজ,
এবিসি নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি, সিএনএন, এপিসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে উঠে
এসেছে ৩২ নম্বর ভাঙচুরের খবর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া
স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ভাষনে ক্ষুব্ধ হয় দেশের ছাত্র-জনতাসহ তরুণ প্রজন্ম। ফলে রাজধানীর
ধানমন্ডিতে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার উদ্যোগ নেন তারা। কারণ এই
ভবনকে তারা ফ্যাসিবাদের আইকন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি)
রাত ৮টায় কর্মসূচি থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে সেখানে জড়ো হতে থাকে ছাত্র-জনতা। সেখানে জড়ো
হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে রাত ৮টার কিছু আগে ৩২ নম্বরের ওই বাড়িতে
ঢুকে পড়ে ছাত্র-জনতা। এরপর ভাঙতে শুরু করে বাড়ি। একটা সময় আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়
বাড়ি। এরপর বুলডোজার মেশিন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু হয়। শুধু এই বাড়িটিই নয়। শেখ মুজিব ও তার
পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ও ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই। যা বেশ
গুরুত্ব সহকারে প্রচার করেছে অন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা
গণমাধ্যম সিএনএন তাদের শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের বিক্ষোভকারীরা নির্বাসিত সাবেক নেত্রী
শেখ হাসিনার বাড়ি ধ্বংস করেছে।’ এরপর তাদের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, প্রতিবেশী ভারতে
নির্বাসিত থেকে দলের সমর্থকদের উদ্দেশে হাসিনার একটি বক্তৃতা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই
হামলার সূত্রপাত। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহে ১৫ বছরের শাসন শেষে পালিয়ে যান তিনি। তার বিরুদ্ধে
ভিন্নমত দমন করার অভিযোগ রয়েছে।ব্রিটিশ খ্যাতনামা গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তার শিরোনাম
করেছে, ‘বাংলাদেশি বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার প্রতীক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক বাড়ি
ধ্বংস করেছে’। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এই বাড়িটি থেকেই শেখ হাসিনার বাবা পাকিস্তান ভাঙনের
ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে কর্তৃত্ববাদের সাথে যোগসূত্র থাকার কারণে তার বাড়িতে
আক্রমণ করা হয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে,
‘বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে’।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শুধু শেখ হাসিনাই নয়, তার পরিবার ও রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাদের
বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক খ্যাতনামা গণমাধ্যম রয়টার্স তাদের
প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাবার বাড়ি উচ্ছেদ করেছে
বিক্ষোভকারীরা’। সংবাদ মাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সোশ্যাল
মিডিয়ায় একটি জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন। যে কারণে এই হামলার সূত্রপাত। সূত্র- মনিং টাইম ২৪ তাং
৬/২/২০২৫ ইং। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী
সরকার। সরকার এ ঘটনার জন্য পলাতক শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যকেই দায়ী করেছেন।
তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার জানায়, গত জুলাই মাসে অভ্যুত্থান নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্যের
ফলে জনগণের মধ্যে ক্রোধ সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ এই সহিংস ঘটনা ঘটেছে। অন্তর্বর্তী
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ছয় মাসে ৩২ নম্বর বাড়িটিতে কোনো ধরনের আক্রমণ,
ধংসযজ্ঞ হয়নি। গতকাল রাতে এটি ঘটেছে পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে যার দুটো অংশ আছে।
একটা অংশ হলো, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মদান করেছেন শেখ হাসিনা তাদেরকে অপমান
করেছেন, অবমাননা করেছেন। শহিদের মৃত্যু সম্পর্কিত অবান্তর, আজগুবি ও বিদ্বেষমূলক কথা বলে
পলাতক শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করেছেন ও অশ্রদ্ধা জানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত,
শেখ হাসিনা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অমানবিক প্রক্রিয়ায় নিপীড়ন চালিয়ে ক্ষমতায় থাকাকালীন যে সুরে
কথা বলতেন গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি একই হুমকি-ধামকির সুরে জুলাই
গণঅভ্যুত্থানকে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রতিটি মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলে চলেছেন, হুমকি
ধামকি দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির হুমকি দিয়েছেন। বিবৃতিতে আরো বলা হয়,
মানুষের মনে জুলাই গণহত্যা নিয়ে যে ক্ষত রয়েছে সে ক্ষততে শেখ হাসিনা একের পর এক আঘাত করে
চলছেন। তার এই সহিংস আচরণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সরকার সর্বদা দেশ ও জনগণের জানমালের রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনী সর্বাত্মকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার যথাযথ চেষ্টা করছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে
একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি শেখ হাসিনা বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকলে এমন ঘটনার
পুনরাবৃত্তি হতো না।
























