০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
https://www.facebook.com/obaidul1991
বন্যার তীব্র স্রোতে ভাঙছে বসতভিটা ও কৃষি জমি: ৩ কন্যা ও ১ পুত্র নিয়ে চরম ঝুঁকিতে মোহাম্মদ ফোরকান ও নীলু আকতার দম্পতি
আনিছুর রহমান ,নিজস্ব প্রতিবেদক
- Update Time : ০৫:২৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫০ Time View

আনিছুর রহমান ,নিজস্ব প্রতিবেদক: অতিবর্ষণে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সর্বস্ব হারানোর উপক্রম হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উত্তর পূর্ব জলদি চুম্মা পাড়া এলাকার একটি অসহায় পরিবারের। গত ৩০ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব পার্শ্বে চুম্মা পাড়ার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি পানি চলাচলের একমাত্র বড় ছড়াটিতে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষা প্রাচীর, গাইডওয়াল নেই। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানির তীব্র স্রোতে নদীভাঙনের মতো ভেঙে পড়ছে খতিয়ানভুক্ত বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও ফসলি কৃষিজমি।
ক্ষতিগ্রস্ত এই বসতভিটার মালিক মোহাম্মাদ ফোরকান ও তাঁর স্ত্রী নীলু আকতার একটি ছোট্ট টিনের ঘরে বসবাস করছেন। এই দম্পতির সংসারে রয়েছে তিন কন্যা ও এক ছোট পুত্রসন্তান। ছোট্ট বাচ্চাদের বসবাসরত ঘরটি যেকোনো মুহূর্তে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ছড়ার গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে অবুঝ শিশুগুলোর জীবন চরম বিপন্ন হতে পারে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের বর্ষায় টানা বর্ষণের তীব্র পাহাড়ি ঢলে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফোরকান-নীলু ধারদেনা করে প্রতিরক্ষামূলক ৫ হাজার বালুর বস্তা ব্যবহার করেও এই ভাঙন রোধ করতে পারছেন না। বসতভিটা ভেঙে যাওয়ার কারণে ছোট ছোট শিশুসন্তানদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই দম্পতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই পাহাড়ি ঢলের পানি এই বড় ছড়া দিয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হয়। কিন্তু ছড়ার দুই তীরে কোনো পাকা ওয়াল,সুরক্ষা বাঁধ না থাকায় পানির তোড়ে পাড়ের মাটি ক্রমাগত ধসে পড়ছে। এতে ফোরকান দম্পতির ক্রয়কৃত খতিয়ানভুক্ত ভিটেমাটি এবং বসতঘর চড়া খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন আয়ের উৎস ফসলি কৃষিজমিও ভেঙে নষ্ট হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় মোহাম্মদ ফোরকান, নীলু দম্পতির বসতভিটা রক্ষায় ছড়ার প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় অন্তত এক তীরে হলেও প্রতিরক্ষামূলক গাইডওয়াল নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের বসতভিটা ও কৃষিজমি ছড়া খালের ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন ফোরকান নীলু দম্পতি ও এলাকাবাসী।

Tag :














