০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://sonalishopbd.com/

মানুষের মনের খবর আল্লাহ জানেন ———- মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০২:৪১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৬ Time View

এই পৃথিবীতে সকল মানুষই সাদা রং পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সরলতার প্রতীক মনে করে। মানুষ
যেভাবে নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক হয়ে পৃথিবীতে আগমন করে, সাদা কাপড়ের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে
বোঝানো হয় যে সে সমস্ত পার্থিব মোহ ত্যাগ করে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন অবস্থায় আল্লাহর কাছে
ফিরে যাচ্ছে। জীবিত অবস্থায় মানুষের পোশাকে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা বা সামাজিক মর্যাদার
পার্থক্য বোঝা যায়। কিন্তু মৃত্যুর পর সাদা কাফনের কাপড় সবার জন্য সমান। কোটিপতি ব্যক্তি
এবং একজন নিঃস্ব ভিক্ষুক উভয়কেই হুবহু এক টুকরো সাধারণ সাদা কাপড়ে জড়ানো হয়। এর
মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর দরবারে পার্থিব ধন-সম্পদের কোনো মূল্য নেই, কেবল মানুষের
আমল বা কর্মই আসল। রঙিন পোশাক মানুষের আকর্ষণ, ফ্যাশন ও অহংকার প্রকাশ করতে পারে।
মৃত্যুর পর সাদা ও জৌলুসহীন কাপড় ব্যবহার করে মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, দুনিয়ার সমস্ত
জাঁকজমক বিলাসী জিবন ক্ষণস্থায়ী এবং মৃত্যুর পর মানুষ সম্পূর্ণ খালি হাতে পৃথিবী থেকে বিদায়
নেয়। মানুষ বেঁচে থাকাকারীন সাদা পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা পরিধান করার পেছনে মূলত আবহাওয়া,
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মানসিক শান্তির মতো বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সাদা রং সূর্যের
আলো ও তাপ শোষণ করার বদলে তা প্রতিফলিত করে, ফলে গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা থাকে।
স্বাচ্ছন্দ্যময় সুতি কাপড় দক্ষিণ এশিয়ার গরম আবহাওয়ায় ঢিলেঢালা সুতি সাদা পোশাক বাতাস
চলাচলে সাহায্য করে ও ঘাম কম টানে। দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি ও ইসলাম ধর্মে সাদা রং পবিত্রতা,
পরিচ্ছন্নতা, বিনয় এবং সরলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইসলাম ধর্মে সাদা রঙের পোশাক
পরার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, কারণ নবী করীম (সা.) সাদা রঙের পোশাক পছন্দ
করতেন। এই পোশাক পরিধান করলে মানুষের মনের মধ্যে এক ধরনের গাম্ভীর্য, আভিজাত্য এবং
মার্জিত ভাব প্রকাশ পায়। ভারতে এমন এক দেশ যেখানে কয়েকশো কিলোমিটার অন্তর ভাষা,

                                                                          Sonali Shop – online shop in Bangladesh

উপভাষা এবং পোশাক পরিবর্তিত হয়। সেখানে 'বিবিধের মধ্যে' একটি জিনিসের মধ্যে মিল রয়েছে তা
হল আমাদের নেতা-নেত্রীদের পোশাক। দেখা যায়, দেশের প্রতিটি রাজ্যে, প্রতিটি গ্রামে এবং প্রতিটি
শহরে, যিনি নেতা হতে চান বা নেতা হিসাবে দেখাতে চান, তিনি একটি সাদা কুর্তা পাজামা বা শাড়ি
পরেন। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল এর শুরু কোথা থেকে। কে বলেছে ভারতীয় নেতা বা নেত্রী হতে গেলে শুধু
সাদা জামাকাপড় পরতে হবে?  দ্য নিউজ মিনিটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের প্রবীণ
নেতা শশী তারুর যখন একটি শিশু কল্যাণ সমিতির শিবিরে এসেছিলেন, তখন সেখানে একটি শিশু তাকে
জিজ্ঞাসা করেছিল- কেন তিনি সর্বদা তাঁর কাঁধে তিরঙ্গা শাল রাখেন। এই বিষয়ে শশী তারুর বলেছিলেন
যে সাদা পোশাক শোকের জন্য বলে তিনি এমনটা করেন। এখন এখান থেকে একটা প্রশ্ন জাগে যে সাদা
পোশাক যখন শোকের জন্য, তাহলে ভারতের নেতারা কেন সবসময় সাদা পোশাক পরেন? এই প্রশ্নের
উত্তর লুকিয়ে আছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়
মহাত্মা গান্ধী যখন স্বদেশীর স্লোগান দিয়েছিলেন, তখন মানুষ বিদেশি কাপড় জড়ো করে আগুন
ধরিয়ে দেয়। এরপর মহাত্মা গান্ধী ভারতীয় জনগণকে চরকা থেকে তৈরি খাদি কাপড় পরতে উদ্বুদ্ধ
করেন। গান্ধীজি এটিকে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন এবং খাদির তৈরি পোশাকের
বেশিরভাগই ছিল সাদা রঙের। ধীরে ধীরে তা নেতাদের কাপড়ে পরিণত হয়। এরপর সাদা পোশাকে

রাজনীতি ও সমাজসেবাকারীরা হাজির হতে থাকে।অন্যদিকে, আমরা যদি ঐতিহ্যগতভাবে দেখি, সাদা
রং সত্য ও অহিংসার প্রতীক। যেখানে কুর্তা, পাজামা, ধুতি এবং ক্যাপ হল ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী
পোশাক। এর পাশাপাশি সাদা রংয়ের কাপড় পরার পেছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে। এই রঙটি খুব
আকর্ষণীয় দেখায়। বলা হয়, সাদা রঙের পোশাক পরেন, তখন নিজের সত্যতা এবং সরলতাকে
প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া হয় বলে মনে করা হয়। এই কারণেই ভারতের প্রতিটি নেতা এবং বেশিরভাগ
সমাজকর্মী সাদা পোশাক পরেন। আমরাও এই সাদা পাঞ্জাবী ও পায়জামার প্রতি আসক্ত হয়েছি।
আমার মনের খবর আল্লাহ জানেন।

লেখক: সাংবাদিকও দলিল লেখক 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://sonalishopbd.com/

মানুষের মনের খবর আল্লাহ জানেন ———- মোশারফ হোসেন

Update Time : ০২:৪১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

এই পৃথিবীতে সকল মানুষই সাদা রং পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সরলতার প্রতীক মনে করে। মানুষ
যেভাবে নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক হয়ে পৃথিবীতে আগমন করে, সাদা কাপড়ের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে
বোঝানো হয় যে সে সমস্ত পার্থিব মোহ ত্যাগ করে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন অবস্থায় আল্লাহর কাছে
ফিরে যাচ্ছে। জীবিত অবস্থায় মানুষের পোশাকে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা বা সামাজিক মর্যাদার
পার্থক্য বোঝা যায়। কিন্তু মৃত্যুর পর সাদা কাফনের কাপড় সবার জন্য সমান। কোটিপতি ব্যক্তি
এবং একজন নিঃস্ব ভিক্ষুক উভয়কেই হুবহু এক টুকরো সাধারণ সাদা কাপড়ে জড়ানো হয়। এর
মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর দরবারে পার্থিব ধন-সম্পদের কোনো মূল্য নেই, কেবল মানুষের
আমল বা কর্মই আসল। রঙিন পোশাক মানুষের আকর্ষণ, ফ্যাশন ও অহংকার প্রকাশ করতে পারে।
মৃত্যুর পর সাদা ও জৌলুসহীন কাপড় ব্যবহার করে মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, দুনিয়ার সমস্ত
জাঁকজমক বিলাসী জিবন ক্ষণস্থায়ী এবং মৃত্যুর পর মানুষ সম্পূর্ণ খালি হাতে পৃথিবী থেকে বিদায়
নেয়। মানুষ বেঁচে থাকাকারীন সাদা পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা পরিধান করার পেছনে মূলত আবহাওয়া,
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মানসিক শান্তির মতো বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সাদা রং সূর্যের
আলো ও তাপ শোষণ করার বদলে তা প্রতিফলিত করে, ফলে গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা থাকে।
স্বাচ্ছন্দ্যময় সুতি কাপড় দক্ষিণ এশিয়ার গরম আবহাওয়ায় ঢিলেঢালা সুতি সাদা পোশাক বাতাস
চলাচলে সাহায্য করে ও ঘাম কম টানে। দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি ও ইসলাম ধর্মে সাদা রং পবিত্রতা,
পরিচ্ছন্নতা, বিনয় এবং সরলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ইসলাম ধর্মে সাদা রঙের পোশাক
পরার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, কারণ নবী করীম (সা.) সাদা রঙের পোশাক পছন্দ
করতেন। এই পোশাক পরিধান করলে মানুষের মনের মধ্যে এক ধরনের গাম্ভীর্য, আভিজাত্য এবং
মার্জিত ভাব প্রকাশ পায়। ভারতে এমন এক দেশ যেখানে কয়েকশো কিলোমিটার অন্তর ভাষা,

                                                                          Sonali Shop – online shop in Bangladesh

উপভাষা এবং পোশাক পরিবর্তিত হয়। সেখানে 'বিবিধের মধ্যে' একটি জিনিসের মধ্যে মিল রয়েছে তা
হল আমাদের নেতা-নেত্রীদের পোশাক। দেখা যায়, দেশের প্রতিটি রাজ্যে, প্রতিটি গ্রামে এবং প্রতিটি
শহরে, যিনি নেতা হতে চান বা নেতা হিসাবে দেখাতে চান, তিনি একটি সাদা কুর্তা পাজামা বা শাড়ি
পরেন। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল এর শুরু কোথা থেকে। কে বলেছে ভারতীয় নেতা বা নেত্রী হতে গেলে শুধু
সাদা জামাকাপড় পরতে হবে?  দ্য নিউজ মিনিটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের প্রবীণ
নেতা শশী তারুর যখন একটি শিশু কল্যাণ সমিতির শিবিরে এসেছিলেন, তখন সেখানে একটি শিশু তাকে
জিজ্ঞাসা করেছিল- কেন তিনি সর্বদা তাঁর কাঁধে তিরঙ্গা শাল রাখেন। এই বিষয়ে শশী তারুর বলেছিলেন
যে সাদা পোশাক শোকের জন্য বলে তিনি এমনটা করেন। এখন এখান থেকে একটা প্রশ্ন জাগে যে সাদা
পোশাক যখন শোকের জন্য, তাহলে ভারতের নেতারা কেন সবসময় সাদা পোশাক পরেন? এই প্রশ্নের
উত্তর লুকিয়ে আছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়
মহাত্মা গান্ধী যখন স্বদেশীর স্লোগান দিয়েছিলেন, তখন মানুষ বিদেশি কাপড় জড়ো করে আগুন
ধরিয়ে দেয়। এরপর মহাত্মা গান্ধী ভারতীয় জনগণকে চরকা থেকে তৈরি খাদি কাপড় পরতে উদ্বুদ্ধ
করেন। গান্ধীজি এটিকে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন এবং খাদির তৈরি পোশাকের
বেশিরভাগই ছিল সাদা রঙের। ধীরে ধীরে তা নেতাদের কাপড়ে পরিণত হয়। এরপর সাদা পোশাকে

রাজনীতি ও সমাজসেবাকারীরা হাজির হতে থাকে।অন্যদিকে, আমরা যদি ঐতিহ্যগতভাবে দেখি, সাদা
রং সত্য ও অহিংসার প্রতীক। যেখানে কুর্তা, পাজামা, ধুতি এবং ক্যাপ হল ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী
পোশাক। এর পাশাপাশি সাদা রংয়ের কাপড় পরার পেছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে। এই রঙটি খুব
আকর্ষণীয় দেখায়। বলা হয়, সাদা রঙের পোশাক পরেন, তখন নিজের সত্যতা এবং সরলতাকে
প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া হয় বলে মনে করা হয়। এই কারণেই ভারতের প্রতিটি নেতা এবং বেশিরভাগ
সমাজকর্মী সাদা পোশাক পরেন। আমরাও এই সাদা পাঞ্জাবী ও পায়জামার প্রতি আসক্ত হয়েছি।
আমার মনের খবর আল্লাহ জানেন।

লেখক: সাংবাদিকও দলিল লেখক