০৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

একটি সত্য মানুষের গল্প ———- মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ১২০ Time View

জিবনের বেলাও শেষ, খেলাও শেষ। আজ একটি গল্প দিয়ে শুরু করছি – জঙ্গলের বাঘ খালের
পাড়ে একটি স্বর্নের চুড়ি নিয়ে বসে আছে। অত্যন্ত বুদ্ধিমান বাঘটি একটি পরিকল্পনা করল
এবং ঠিক করল যে পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়া কোনো পথচারীকে সে প্রলুব্ধ করবে। শীঘ্রই
পুকুরের অপর পাশ দিয়ে একজন পথিক যাচ্ছিল। বাঘটি খুব খুশি হলো এবং মনে মনে ভাবল,
“এই মোটাতাজা লোকটি সুস্বাদু খাবার হবে। আমাকে আর তিন-চার দিন শিকার করতে হবে না,
কারণ এই লোকটিই কিছুদিনের জন্য যথেষ্ট হবে। বাঘটি লোকটিকে আকৃষ্ট করার জন্য তার
থাবায় চুড়িটি রেখে তাকে ডাকল। বাঘটি বলল, ওহে পথিক, আমি জঙ্গলে একটি সোনার চুড়ি
পেয়েছি। এটা আমার কোনো কাজে লাগবে না। এটা তোমাদের মানব জাতের দরকার। তুমি চাইলে
এসে এটা নিয়ে যেতে পারো। চকচকে সোনার চুড়িটি দেখে পথিকের খুব লোভ হল এবং সে চুড়িটি
নিতে চাইল। কিন্তু সে অন্তরে খুব ভয়ও পেল, কারণ কাছে গেলেই বাঘটি তাকে মেরে ফেলবে।
পথিক বলল, ওহে জানোয়ার পশু, আমি তোমাকে কী করে বিশ্বাস করব ? তুমি একটা পশু এবং
আমি জানি যে কাছে গেলেই তুমি আমাকে মেরে ফেলবে। এ কথা শুনে বাঘটি বলল, “আমাকে ভয়
পেয়ো না। আমি এখন অনেক বুড়ো হয়ে গেছি। একটি তরুণ বাঘের মতো আমার আর সেই দৈহিক
শক্তি বা কর্মশক্তি নেই। আমার থাবাগুলোর নখ আর আগের মত ধারালো নেই, ভোঁতা হয়ে
গেছে। এখন আমি নিরামিশভোজী হয়ে সন্ন্যাসীত্ব গ্রহণ করেছি এবং সমস্ত মন্দ কাজ ত্যাগ
করেছি। আমি এখন একা এবং কেবল পরকালের জন্য সৎ কর্মই করি। এসব শুনে লোভ
পথিকের মনকে গ্রাস করল এবং সে বাঘের কথা বিশ্বাস করল। সে পুকুরে ঝাঁপ দিল। পুকুরটির
এক পাশে জলাভূমি ছিল এবং সাঁতার কাটার সময় পথিকটি সেই জলাভূমিতে আটকে গেল। বাঘটি
বলল, ওরে আমার প্রিয় বন্ধু, চিন্তা কোরো না, আমি তোমাকে সাহায্য করতে এবং এই
জলাভূমি থেকে বের করে আনতে আসছি। বাঘটি পথিকের কাছে এসে তাকে ধরে ফেলল। পথিকটি
তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারল যে তাকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে এবং বাঘটি তাকে মিথ্যা বলছে। সে
উপলব্ধি করল যে পশু তো পশুই হয় এবং সোনার প্রতি তার লোভ তার বিচারবুদ্ধিকে ছাপিয়ে
গিয়েছিল। পথিকটি ভাবল, যদি আমি লোভী না হতাম, তাহলে হয়তো এখন বেঁচে থাকতাম। কিন্তু
অনেক দেরি হয়ে গেছে। যার যার ধর্ম সব মানুষের কাছেই বড়। ধর্ম বিরোধী কাজ করলেই
মানুষের অধপতন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাতি শেখ হাসিনার ছেলে জয় আমেরিকান
নাগরিক তার বউ ছিল আমেরিকান সাদা চামড়ার খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী। কিছুদিন আগে তাদের
সাংসারিক জিবনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। অপরদিকে নাতনি পুতুল কানাডিয়ান নাগরিক, বিয়ে
করেছিলেন আরেক কানাডিয়ান নাগরিক বাঙালী মাশরুরকে। বিনিময়ে মাশরুরের পিতা
মোশাররফকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কানাডিয়ান
নাগরিক পুতুল- মাশরুর বিয়ে করেছিল ঢাকার কোর্টে। তাদের তালাক হয়েছে দুবাইয়ের কোর্টে।
তালাকের পর জামাই মাশরুরের কাছ থেকে সম্পত্তি আদায় করেছে আমেরিকার ফ্লোরিডায়
নগদ তিনকোটি টাকা, দুইটা বাড়ি এবং এযাবত কালের সব ধরনের গিফট। আর জয়-পুতুলের মা
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মুখে জিবন বাচাতে পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রে পালিয়েছেন। আজ
মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত ফাঁসির আসামী হয়ে পালিয়ে আছেন দলবল সহ ভারতে।

বিচারের ভয়ে দেশে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। শেখ রেহানা ও ব্রিটিশ সিটিজেন। তার মেয়ে
টিউলিপ ব্রিটিশ নাগরিক। রিয়ে করেছেন সাদা চামড়ার খ্রিষ্টান ধর্মীয় ব্রিটিশ নাগরিক।
শেখ রেহানার ছেলে ববি ব্রিটিশ নাগরিক। তার বউ পেপি নাহালও ব্রিটিশ নাগরিক। রেহানার
দুই ছেলেমেয়ে না বাংলাদেশী, না মুসলিম। তাদের বংশের একজনও বাংলাদেশে নাই। গত প্রায়
পনের বছর বাংলাদেশের জনগনের টাকা লুটপাট করে সব সম্পদ বিদেশে জমিয়েছে। আপনারা
এদেরকে বলেন দেশ প্রেমিক ! এরপরও আমরা বেহুশ হয়ে নিজের জিবন নিজে নষ্ট করছি। তবে
শেষ করতে চাই ভারতের তুখোড় রাজনীতিবিদ অটল বিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন- নিজের
পছন্দের দলের ভূলের ব্যাপারে যদি তুমি চুপ থাকো তাহলে তুমি দেশ প্রেমিক নও, তুমি দল
প্রমিক। দল প্রেমিক আসে যায়, দেশ প্রেমিক থেকে যায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

একটি সত্য মানুষের গল্প ———- মোশারফ হোসেন

Update Time : ০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

জিবনের বেলাও শেষ, খেলাও শেষ। আজ একটি গল্প দিয়ে শুরু করছি – জঙ্গলের বাঘ খালের
পাড়ে একটি স্বর্নের চুড়ি নিয়ে বসে আছে। অত্যন্ত বুদ্ধিমান বাঘটি একটি পরিকল্পনা করল
এবং ঠিক করল যে পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়া কোনো পথচারীকে সে প্রলুব্ধ করবে। শীঘ্রই
পুকুরের অপর পাশ দিয়ে একজন পথিক যাচ্ছিল। বাঘটি খুব খুশি হলো এবং মনে মনে ভাবল,
“এই মোটাতাজা লোকটি সুস্বাদু খাবার হবে। আমাকে আর তিন-চার দিন শিকার করতে হবে না,
কারণ এই লোকটিই কিছুদিনের জন্য যথেষ্ট হবে। বাঘটি লোকটিকে আকৃষ্ট করার জন্য তার
থাবায় চুড়িটি রেখে তাকে ডাকল। বাঘটি বলল, ওহে পথিক, আমি জঙ্গলে একটি সোনার চুড়ি
পেয়েছি। এটা আমার কোনো কাজে লাগবে না। এটা তোমাদের মানব জাতের দরকার। তুমি চাইলে
এসে এটা নিয়ে যেতে পারো। চকচকে সোনার চুড়িটি দেখে পথিকের খুব লোভ হল এবং সে চুড়িটি
নিতে চাইল। কিন্তু সে অন্তরে খুব ভয়ও পেল, কারণ কাছে গেলেই বাঘটি তাকে মেরে ফেলবে।
পথিক বলল, ওহে জানোয়ার পশু, আমি তোমাকে কী করে বিশ্বাস করব ? তুমি একটা পশু এবং
আমি জানি যে কাছে গেলেই তুমি আমাকে মেরে ফেলবে। এ কথা শুনে বাঘটি বলল, “আমাকে ভয়
পেয়ো না। আমি এখন অনেক বুড়ো হয়ে গেছি। একটি তরুণ বাঘের মতো আমার আর সেই দৈহিক
শক্তি বা কর্মশক্তি নেই। আমার থাবাগুলোর নখ আর আগের মত ধারালো নেই, ভোঁতা হয়ে
গেছে। এখন আমি নিরামিশভোজী হয়ে সন্ন্যাসীত্ব গ্রহণ করেছি এবং সমস্ত মন্দ কাজ ত্যাগ
করেছি। আমি এখন একা এবং কেবল পরকালের জন্য সৎ কর্মই করি। এসব শুনে লোভ
পথিকের মনকে গ্রাস করল এবং সে বাঘের কথা বিশ্বাস করল। সে পুকুরে ঝাঁপ দিল। পুকুরটির
এক পাশে জলাভূমি ছিল এবং সাঁতার কাটার সময় পথিকটি সেই জলাভূমিতে আটকে গেল। বাঘটি
বলল, ওরে আমার প্রিয় বন্ধু, চিন্তা কোরো না, আমি তোমাকে সাহায্য করতে এবং এই
জলাভূমি থেকে বের করে আনতে আসছি। বাঘটি পথিকের কাছে এসে তাকে ধরে ফেলল। পথিকটি
তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারল যে তাকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে এবং বাঘটি তাকে মিথ্যা বলছে। সে
উপলব্ধি করল যে পশু তো পশুই হয় এবং সোনার প্রতি তার লোভ তার বিচারবুদ্ধিকে ছাপিয়ে
গিয়েছিল। পথিকটি ভাবল, যদি আমি লোভী না হতাম, তাহলে হয়তো এখন বেঁচে থাকতাম। কিন্তু
অনেক দেরি হয়ে গেছে। যার যার ধর্ম সব মানুষের কাছেই বড়। ধর্ম বিরোধী কাজ করলেই
মানুষের অধপতন হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাতি শেখ হাসিনার ছেলে জয় আমেরিকান
নাগরিক তার বউ ছিল আমেরিকান সাদা চামড়ার খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী। কিছুদিন আগে তাদের
সাংসারিক জিবনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। অপরদিকে নাতনি পুতুল কানাডিয়ান নাগরিক, বিয়ে
করেছিলেন আরেক কানাডিয়ান নাগরিক বাঙালী মাশরুরকে। বিনিময়ে মাশরুরের পিতা
মোশাররফকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কানাডিয়ান
নাগরিক পুতুল- মাশরুর বিয়ে করেছিল ঢাকার কোর্টে। তাদের তালাক হয়েছে দুবাইয়ের কোর্টে।
তালাকের পর জামাই মাশরুরের কাছ থেকে সম্পত্তি আদায় করেছে আমেরিকার ফ্লোরিডায়
নগদ তিনকোটি টাকা, দুইটা বাড়ি এবং এযাবত কালের সব ধরনের গিফট। আর জয়-পুতুলের মা
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মুখে জিবন বাচাতে পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রে পালিয়েছেন। আজ
মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত ফাঁসির আসামী হয়ে পালিয়ে আছেন দলবল সহ ভারতে।

বিচারের ভয়ে দেশে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। শেখ রেহানা ও ব্রিটিশ সিটিজেন। তার মেয়ে
টিউলিপ ব্রিটিশ নাগরিক। রিয়ে করেছেন সাদা চামড়ার খ্রিষ্টান ধর্মীয় ব্রিটিশ নাগরিক।
শেখ রেহানার ছেলে ববি ব্রিটিশ নাগরিক। তার বউ পেপি নাহালও ব্রিটিশ নাগরিক। রেহানার
দুই ছেলেমেয়ে না বাংলাদেশী, না মুসলিম। তাদের বংশের একজনও বাংলাদেশে নাই। গত প্রায়
পনের বছর বাংলাদেশের জনগনের টাকা লুটপাট করে সব সম্পদ বিদেশে জমিয়েছে। আপনারা
এদেরকে বলেন দেশ প্রেমিক ! এরপরও আমরা বেহুশ হয়ে নিজের জিবন নিজে নষ্ট করছি। তবে
শেষ করতে চাই ভারতের তুখোড় রাজনীতিবিদ অটল বিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন- নিজের
পছন্দের দলের ভূলের ব্যাপারে যদি তুমি চুপ থাকো তাহলে তুমি দেশ প্রেমিক নও, তুমি দল
প্রমিক। দল প্রেমিক আসে যায়, দেশ প্রেমিক থেকে যায়।