https://www.facebook.com/obaidul1991
“আমরা এখন কোন পথে হাটছি” ——- মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৩:২৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৩ Time View

"আমরা এখন কোন পথে হাঁটছি" এই প্রশ্নটি মূলত একটি গভীর সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক চিন্তাভাবনা
থেকে আসে। বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা প্রেক্ষাপটে মানুষ যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ, নৈতিকতা এবং
সামষ্টিক লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে, তখনই এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
প্রযুক্তি ও আধুনিকতার এই যুগে আমরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের মাঝে
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং পারস্পরিক সহানুভূতির অভাব দেখা যায়। ব্যক্তিস্বার্থ ও চাটুকারিতার
ভিড়ে অনেক সময় আমরা সঠিক নৈতিক পথটি হারিয়ে ফেলছি কিনা এই প্রশ্ন থেকেই যায়। বর্তমান সমাজ ও
রাষ্ট্রের নানা প্রেক্ষাপটে মানুষ যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ, নৈতিকতা এবং সামষ্টিক লক্ষ্য নিয়ে
দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে, তখনই এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এর উত্তর পরিস্থিতি এবং
দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে কয়েকভাবে দেওয়া যায় :- দেশের চলমান শাসনব্যবস্থা, গণতন্ত্রের রূপান্তর,
এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা চিন্তা করলে এই প্রশ্নটি ঘুরেফিরে আসে। বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষকদের
মতে, জাতি হিসেবে আমরা একটি সুশাসন ও টেকসই পরিবর্তনের পথে হাঁটছি নাকি কোনো অনুদার ব্যবস্থার
দিকে ধাবিত হচ্ছি, তা ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে। আমরা কোন পথে চলব—তা আমাদের প্রতিদিনের ছোট
ছোট সিদ্ধান্ত এবং সততার ওপর নির্ভর করে। আমরা ব্যক্তি স্বার্থ ও চাটুকারিতার পথ থেকে কিভাবে
আমরা সঠিক নৈতিক পথটি পাব। ব্যক্তিস্বার্থ ও চাটুকারিতার করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে সঠিক নৈতিক
পথে ফিরে আসা রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে দৃঢ় ইচ্ছা এবং মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি অবশ্যই
অর্জন করা সম্ভব। সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে নৈতিক পথ খুঁজে পাওয়ার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া
প্রয়োজন আত্মোপলব্ধি ও আত্মজিজ্ঞাসা:- প্রতিদিন আমাকে প্রশ্ন করতে হবে আমার কর্ম বা সিদ্ধান্ত
অন্যের কল্যাণে আসছে নাকি কেবলই নিজের স্বার্থ হাসিল করছি ? নিজের ভুলগুলো নিজে স্বীকার করার
মানসিকতা তৈরি করা প্রথম ধাপ।
Sonali Shop – online shop in Bangladesh
এটাই মানবের ইনসাফের প্রথম ষ্টেজ। আমাকে সত্য বলার সাহস ও
তোষামোদি বর্জন করতে হবে। চাটুকারিতা মূলত সাময়িক সুবিধার জন্য অন্যকে মিথ্যা প্রশংসা করা। আসলে
এটা মানবের নিন্ম সিড়ির কাজ। এই অভ্যাস থেকে বের হতে হলে "না" বলার এবং অপ্রিয় হলেও সত্য কথা
বিনয়ের সাথে বলার অভ্যাস করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যদিও সত্য অপ্রিয় তবে হক কথাকে সবাই
ভালবাসে। জীবনে এমন কিছু নীতি (যেমন – সততা, পরোপকার, ন্যায়পরায়ণতা) নির্ধারণ করতে হবে যা কোনো
পরিস্থিতির চাপেই আপনি বা আমি বিসর্জন দেবেন না বা দেব না। ক্ষণস্থায়ী লোভের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী
সম্মান ও মানসিক শান্তিকে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের চারপাশের মানুষ যদি লোভী ও চাটুকার
প্রকৃতির হয়, তবে আমাদের ওপর তার কিছু প্রভাব পড়বেই। তাই এমন বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করতে হবে
যারা সৎ, স্পষ্টবাদী এবং আপনাকে সঠিক পরামর্শ দেওয়ার সাহস রাখে। সহানুভূতি ও সমানুভূতি জাগানো:-
সমাজের অন্য মানুষের কষ্ট ও অধিকারকে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি আমরা অনুভব করার চেষ্টা করি। যখন
আপনি অন্যের অধিকারকে নিজের স্বার্থের চেয়ে বড় করে দেখতে শিখবেন, তখন চাটুকারিতার পথ এমনিতেই
বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে এই পরিবর্তনগুলো আনা একান্তই জরুরী। ব্যক্তিগত জীবনে এই
পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই আপনার ও আমার প্রথম এবং সবচেয়ে বড় নৈতিক জয়। নিজের ভেতরের
ব্যক্তিস্বার্থ ও চাটুকারিতার মতো সূক্ষ্ম নেতিবাচক দিকগুলো ধরতে পারা এবং তা বদলাতে চাওয়া অত্যন্ত
উচ্চ মানসিকতার লক্ষণ। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র ৫ মিনিট সময় নিয়ে যদি নিজেকে দুটি প্রশ্ন
করি-"আজকে স্বার্থপরের মতো কোনো কাজ করেছি কি?" এবং "কাউকে খুশি করতে গিয়ে কোনো মিথ্যা
প্রশংসা বা চাটুকারিতা করেছি কি?" যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবে পরের দিন তা সংশোধন করার সংকল্প কবতে
হবে। অনেক সময় আমরা সমাজ বা বন্ধুদের চাপে পড়ে নিজের নীতি বিসর্জন দিই। কোনো অন্যায় বা অনৈতিক
অনুরোধে বিনীত কিন্তু দৃঢ়ভাবে "না" বলতে শিখতে হবে। সাময়িকভাবে কেউ অসন্তুষ্ট হলেও দীর্ঘমেয়াদে
আপনার ব্যক্তিত্ব ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে। এটাই বাস্তবতার নিরিখে সত্য। ব্যক্তিস্বার্থ কাটাতে আমাকে বা
আপনাকে সপ্তাহে বা মাসে অন্তত একটি এমন কাজ করতে হবে, যা থেকে আমার বা আপনার নিজের কোনো
আর্থিক বা সামাজিক লাভ নেই। যেমন কোনো নিঃস্ব মানুষকে সাহায্য করা বা নিঃস্বার্থভাবে কাউকে সময়
দেওয়া। এটি মনের ভেতরের লোভ ও স্বার্থপরতা দূর করার একটি মহৌষধ। কারও ভালো কাজের প্রশংসা
অবশ্যই করব, তবে তা যেন মন থেকে এবং সত্য হয়। নিজের কোনো সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বা কাউকে
অতিরিক্ত তৈলমর্দন করার জন্য মুখরোচক কথা বলা সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে।এই পথটিতে চলার শুরুতে
কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে এবং স্বার্থপর মানুষের ভিড়ে আপনাকে বা আমাকে হয়তো কিছুটা একাকী বোধ
করতে হতে পারে। কিন্তু এর মাধ্যমেআমরা যে মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান পাবেন, তা অতুলনীয়। মহান
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে হাটার তৌফিক দান করুন। আমিন।
























