https://www.facebook.com/obaidul1991
প্রসঙ্গ – দলিল লেখকদের অধিকার ——— মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৪:২৯:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫১ Time View

নাগরিক অধিকার প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য সেই অধিকার, যা তাকে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন,
মতপ্রকাশ এবং উন্নত জীবনের সুযোগ দেয়। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম অংশে উল্লেখ
করা হয়েছে যে দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। তবে বাস্তবতায় দেখা
যায়, অনেক নাগরিক তাদের অধিকার সম্পর্কে জানেন না কিংবা সেগুলো আদায়ে সক্রিয় নন।
ফলে তারা নানাভাবে বঞ্চিত হন। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে নাগরিক অধিকার
আদায়ে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। দলিল লেখকরা ন্যায্য মুজুরী এবং কাজের
সুষ্ঠ পরিবেশ পাচ্ছেন না। আর্থিক, সামাজিক এবং সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে এখনো
নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। যুগ যুগ ধরে দলিল লেখকরা দেশের মাটি ও মানুষের সেবা করে
আসছে। দলিল লেখকরা দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারকে আদায় দিয়ে আসছে। কিন্তু
তারা কিভাবে দিন কাটাচ্ছে তার খোজ খবর কেউ রাখে না। গত কোভিট/১৯ কালে অনেক
দলিল লেখক আর্থিক ও চিকিৎসার অভাবে দুনিয়া থেকে চলে যেতে হয়েছে। করোনাকালীন
কোন দলিল লেখক কোন প্রণোদনা আর্থিক সাহায্য পায়নি। যদিও লক্ষ কোটি টাকা
সরকারকে রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা করে আসছে কিন্তু অতীতের কোন সরকারই দলিল
লেখকদের প্রতি চোখ খুলে তাকায়নি। এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ আমল থেকে ইংরেজরা
মানুষের অধিকার রক্ষার্থে ১৯০৮ সালে ভূমি রেজিষ্ট্রেশন আইন চালু করেন। বর্তমানে
আমাদের দেশে ভূমি রেজিষ্ট্রেশন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীন
নিবন্ধন অধিদপ্তরের উপর ন্যাস্ত। নিবন্ধন অধিদপ্তর দেশের লাইসেন্সধারী দলিল
লেখকদের নিয়ন্ত্রন করছে। দিন বদল থেকে ধারাবাহিকতায় দেশ র্স্মাট হওয়ার পথে এগিয়ে
যাচ্ছে। এটা বাস্তবিক সত্য। আমাদের দেশে সরকারের রাজস্ব আদায়ে দলিল লেখকরা প্রথম
স্থান না পেলেও দ্ধিতীয় স্থানে অবস্থান করছে বলে অনেকেই ধারনা করেন। লোকমুখে শুনা
যায় কাষ্টম অফিস সরকারী রাজস্ব আদায়ে শীর্ষে আছে। সরকার তাদেরকে বাড়ী, গাড়ী,
পোষাক, রেশন, চিকিৎসা সেবা ও ছেলেমেয়েদেরকে সুশিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ব্রিটিশ
আমল থেকে দলিল লেখকরা যে আইনের গন্ডীতে আজও সেই আইনের ভিতর বসবাস করছে।
একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে দলিল লেখকদের লাইসেন্সের উপরিভাগে আমাদের দেশের
মানচিত্রের মনোগ্রামটি পর্যন্ত দেয়নি। এরপর লাইসেন্সের কাগজের মান খুবই নিন্ম মানের।
আমাদের দেশে ৫ পাঁচ বৎসর অন্তর অন্তর জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সৃষ্টি হয় সাংসদীয় এলাকা থেকে সংসদ সদস্য আইন প্রনয়নকারী। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে
সংসদে তুলে ধরবেন জনগনের জন্য নতুন নতুন আইন। নিবন্ধন পরিদপ্তর একটি স্পর্শকাতর
সরকারী অফিস। এ অফিস নিয়ন্ত্রন করছে দেশের লাইসেন্সধারী দলিল লেখকদেরকে।
জনগনের প্রাণের সাথে সম্পৃক্ত ভূমি রেজিষ্ট্রেশন বা সাব রেজিস্ট্রার অফিস। এ অফিসের
সাথে জনগনের আত্মিক সর্ম্পক থাকলেও সংসদ সদস্যরা দলিল লেখকদেরকে কিভাবে সুস্থ
ও স্বাভাবিক জিবনে বাঁচিয়ে রাখবে এ বিষয়ে সংসদে টু শব্দটি করেননি। না করার কারন তারা
এ বিষয়ে তেমন বুঝেন না। সরকার দৈনিক দলিল লেখকদের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব
পাচ্ছেন কিন্তু দলিল লেখকদেরকে কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন না। অবহেলিত বঞ্চিত
দলিল লেখকদেরকে সরকার কোন বেতন ভাতা, প্রণোদনা, রেশন, আবাসন, চিকিৎসা সেবা ও
ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষার কোন ব্যবস্থা করে নাই। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যুগ দলিল
লেখকরা প্রযুক্তিকে বুকে ধারন করে দেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চায়। এখন শুধু
সরকারের সদিচ্ছার দরকার । গনতন্ত্রের দেশে প্রতিটি নাগরিক তার অধিকারের কথা বলতে
পারবে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়েষ্টান অষ্ট্রেলিয়া উপাচার্য স্যার অমিত চাকমা ৪ টি প্রশ্ন
করেছিলেন- (১) মানুষ হিসেবে আমরা কারা ? (২) মানবতা বলতে আমরা কি বুঝি ? (৩)
আমাদের জিবন যাত্রার লক্ষ্য কি ? (৪) পরস্পরের সঙ্গে আমাদের আচরন কেমন হওয়া
উচিত ? আমরা এসব প্রশ্নের উত্তর কিভার দেব ! হ্যাঁ যুক্তরাষ্ট্র যখন মহামন্দার শীর্ষে
ছিল এবং লাখ লাখ মানুষ অনেক কষ্ট করে দূর্বিষহ দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট
রুজভেল্ট এই বলে জনগনের কাছে আশা নিয়ে এসেছিলেন, আমাদের কেবল একটাই ভয় পাওয়ার
বিষয় ভয় । এদিকে শুনা যাচ্ছে আমাদের সরকারী আমলা কামলারা তাদের সন্তানদের শিক্ষার
জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী জানিয়েছেন সরকারের কাছে। আমরা গোলামীর জিঞ্জির
ছিড়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশের অবাল বৃদ্ধ বনিতা কুলি
মুজুর শিক্ষিত অশিক্ষিত সকল পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিল। এখন আমরা
স্বাধীন। রাষ্ট্র চলে জনগনের করের টাকায়। রাষ্ট্রের কাছে জনগন সুখ দুখের কথা বলা
নাগরিক অধিকার। নাগরিক অধিকার আদায় শুধু একটি আইনি বিষয় নয়, এটি একটি নৈতিক
ও সামাজিক দায়িত্ব। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে
প্রতিটি নাগরিককে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এটি শুধু মানুষের
জীবনমান উন্নয়ন করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে অধিকার আদায়ে রাস্তা অবরোধ, ভাংচুর ইত্যাদি সহিংসতা অবশ্যই পরিহার করতে
হবে। নাগরিক সচেতনতা যত বাড়বে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন তত শক্তিশালী
হবে। এক্ষেত্রে সরকার ও জনগণ উভয়কে ভূমিকা রাখতে হবে। তাই দলিল লেখকদেরকে
বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিকদের
অধিকারগুলো মূলত সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মৌলিক অধিকার,
রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার। যেমন জীবন ও ব্যক্তিগত
স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, এবং বিচার পাওয়ার অধিকার হচ্ছে মৌলিক
অধিকার। রাজনৈতিক অধিকার হচ্ছে ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, এবং সমাবেশ
করার অধিকার। সামাজিক অধিকার বলতে স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান এবং
পরিবেশ সংরক্ষণের অধিকার বুঝায়। অর্থনৈতিক অধিকার জনগণের শ্রমিক অধিকার,
ন্যায্য মজুরি এবং সম্পদ ভাগাভাগির অধিকার। এই অধিকারগুলো কার্যকর হলে প্রতিটি
নাগরিক সমাজে সম্মানজনক ও সমান অবস্থান লাভ করতে পারে। আশা করি সরকার বিষয়টি
ভেবে দেখবেন।















