https://www.facebook.com/obaidul1991
চির সবুজের দেশ মাতৃভূমি বাংলাদেশ ——– মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৩:০৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৭ Time View

শস্য শ্যামলা সুজলা সুফলা চির সবুজের দেশ আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ। পাখির কিচির মিচির, নদীর
কল কল শব্দ ও কক্সবাজারের উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ মনে আনে প্রশান্তির একটু সময়। এ দেশের
কোন তুলনা হয়না। পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট্ট একটি পরিচ্ছন্ন সুন্দর দেশ। এ দেশকে বিশ্বের বিভিন্ন
দেশের মানুষ এক নজর দেখার জন্য পর্যটক হিসেবে চলে আসে। পর্যটক আগমনে আমাদের দেশের
অর্থনীতি মজবুত হয়। আমরা পর্যটকদের জান মালের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। কিন্তু কেন ? পূজী
বিণিয়োগ না করলে ব্যবসায় লাভ হয়না। এ কথা আমরা সবাই বুঝি। দেশে পর্যটকদের জানমালের
পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার পেছনে বেশ কিছু কাঠামোগত, সামাজিক ও প্রশাসনিক
কারণ রয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো অবকাঠামোগত ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার
সীমাবদ্ধতা :- দেশের অনেক পর্যটন এলাকায় সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয়, পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা
এবং সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক নজরদারির অভাব রয়েছে । রিসোর্ট, হোটেল বা দর্শনীয় স্থানের
চারপাশে সুনির্দিষ্ট পরিধি বা শারীরিক বেষ্টনী না থাকায় অপরাধীরা সহজেই ইচ্ছে মত প্রবেশ করতে
পারে। অপরাধীদেরকে বাঁধা দেওয়ার কেউ নেই । পাহাড়ি অঞ্চল কিংবা সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন
স্পর্শকাতর স্থানে টহল ও জরুরি সহায়তা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তির
ব্যবহার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় পর্যটক হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় :-
অনেক এলাকায় পর্যটক দেখলেই তাদেরকে ‘চলমান এটিএম মেশিন’ হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে ।
অসাধু ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, জোরপূর্বক পণ্য বিক্রি এবং
অসহযোগিতামূলক আচরণ পর্যটকদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তোলে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বা
সাজেকের মতো কিছু অঞ্চলে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিংবা নানা ধরনের অবরোধ ও
অস্থিরতার কারণে প্রায়ই পর্যটকরা আটকা পড়েন বা ঝুঁকির মধ্যে পড়েন ঐসব এলাকায় প্রশাসনের
কড়া নজরদারী বাখতে হবে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি কিংবা পর্যটকদের হেনস্থা হওয়ার ঘটনায় দ্রুত ও
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ করতে দ্বিধা করে না। বরং তারা
উৎসাহিত হয়। সকলেরই মনে রাখা উচিৎ পর্যটন শিল্প আমাদের অর্থনৈতিক খাতকে আরও
শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। পাশ্ববর্তী ভারতে দেখা গেছে বিদেশী পর্যটকদের কোন প্রকার
জরুরী সাহায্যের জন্য ২৪ পরগনার বারাসাতে ও রাজস্থানের অধিকাংশ বাড়ীর আঙ্গিনায় হেল্প
ডেক্স রয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই তাদের অর্থনৈতিক খাতকে মজবুত করা। যদিও অধিকাংশ মানুষ
বিভিন্ন ধর্মের কিন্তু তাদের মধ্যে হটকারিতা, ভন্ডামি, ছিনতাই, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এসব
নেই। তাদের রয়েছে দেশপ্রেম। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক পর্যটনখাতের পরিবর্তনকে
মোটামুটি চারটি পর্যায়ে দেখা যায়। ২০১৯ সালে কোভিডের আগের সময়টিতে পর্যটনখাত ছিল
শক্তিশালী অবস্থানে। এরপর ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে এই খাতে বড় ধস নামে। ২০২১
থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যটন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। আর ২০২৪ সাল থেকে অনেক দেশে
পর্যটন আবার মহামারির আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে, কোথাও কোথাও আগের অবস্থাকেও ছাড়িয়ে
গেছে। এই পুনরুদ্ধারের সঙ্গে পর্যটনখাতে প্রযুক্তির ব্যবহারও দ্রুত বেড়েছে।
পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতে ডিজিটাল সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষ
জনবল, টেকসই অবকাঠামো এবং তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশের
ক্ষেত্রেও দেশের পর্যটনখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পর্যটকদের
নিরাপত্তা, তথ্যপ্রাপ্তি, ভিড় ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবার মান উন্নত করতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে এসব প্রযুক্তি
ব্যবহার করা গেলে পর্যটকের অভিজ্ঞতা যেমন ভালো হবে, তেমনি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর
ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। শক্তিশালী হবে আমাদের অর্থনীতি। একটি স্মার্ট ও
প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন গন্তব্য গড়ে তুলতে সাশ্রয়ী মূল্য, মানসম্মত সেবা, সেবার উৎকর্ষ এবং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার জরুরি। আশা করি বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে
নজর দিবেন।
























