https://www.facebook.com/obaidul1991
প্রসঙ্গ- “প্রতিহিংসার রাজনীতি ”———– মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৩:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৬ Time View

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিহিংসার রাজনীতি নিয়ে বহু বছর ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা
হয়েছে। দেশের সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মতে,
ক্ষমতার পালাবদল এবং রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে সৃষ্ট এই সংস্কৃতি দেশের গণতন্ত্র ও
সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। তবে এই পরিস্থিতি কতকাল চলবে, তার কোনো নির্দিষ্ট
সময়সীমা বা সহজ উত্তর নেই। যারা রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হননি তারা বুঝবেন না এই
প্রতিহিংসা কত দূরে যেতে পারে। তবে আশে পাশে চোখ রাখলে ঠিকই বুঝতে পারবেন প্রতিহিংসার
রাজনীতি কাকে বলে। আজও পর্যন্ত প্রতিহিংসার রাজনীতিতে পড়ে জীবন যাচ্ছে অহরহ মানুষের।
নিজের জন্য সব সময় দোয়া করবেন ও সাবধান থাকবেন যেন প্রতিহিংসার রাজনীতিতে আপনাকে
পড়তে না হয়। বর্তমান সরকারের লোকজনও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বাইরে নয়। বর্তমান সময়ে
সাধারন জনগনের নামে গায়েবী মামলা তার বড় উদাহরন। এই মামলা থেকে মৃত ব্যক্তিও নিস্তার
পাচ্ছেন না। আবার যারা প্রবাসে আছেন দীর্ঘদিন ধরে তাদের নামেও মামলা হচ্ছে। এই সব মামলায়
লাভ হয় পুলিশের ও কিছু সংখ্যক দালারদের। যাদের নামে মামলা হয় তাদের কে ছাড়াতে তার পরিবার
হাজার হাজার টাকা খরচ করে মুক্ত করতে বাধ্য হয়। দেখা যায় গ্রামের অনেক নিরীহ মানুষের নামে
বিনা কারনে মামলা হয়েছে যার কারন প্রতিহিংসার রাজনীতি। জানিনা এদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি
কোন দল আগে শুরু করেছিল। যেই শুরু করুক না কেন সব রাজনীতি দল গুলোকে প্রতিহিংসার রাজনীতি
থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। একটা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি যখন প্রতিহিংসার
রাজনীতে পড়ে প্রান হারান বা জেলে যান তখন সেই পরিবারটির কি অবস্থা হয় তা কি রাজনীতির বড়
নেতারা কখনও ভেবে দেখেন? বড় বড় নেতাদের ছত্র ছায়াই গ্রাম্য পর্যায়ের চুনোপুটি নেতারা
প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে সাহস পায়। নদীর জল যেমন এক জায়গায় থেমে থাকে না, ঠিক ক্ষমতাও
চিরদিন কারও হাতের কব্জায় বন্দি থাকে না। ক্ষমতায় থাকা কালিন এই কথা ক্ষমতাসীন দল একদম
ভুলে যান। দেশের জনগনের জন্য সত্যি যদি কাজ করতে চান তবে সব দলকেই প্রতিহিংসার রাজনীতি
বাদ দিয়ে জনগনের জন্য কাজ করে যেতে হবে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রতিটি দলই এমন কাজ
করুন যেন ক্ষমতা না থাকলেও আপনাকে প্রতিহিংসার রাজনীতির কবলে না পড়তে হয়। রাজনীতি যদি
সত্যি জনগনের কল্যানের জন্য হয় তবে প্রতিহিংসার রাজনীতি কোন দলের কাছেই কাম্য নয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে কয়েকটি মৌলিক পরিবর্তনের
প্রয়োজন:-(১) রাজনৈতিক সদিচ্ছা :- প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা,
সহনশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠার মানসিকতা তৈরি হওয়া জরুরি। (২)
প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা :- নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ
দেওয়া। (৩) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা :- ক্ষমতার বাইরে থাকা দলকে শত্রু ভাবার পরিবর্তে
গঠনমূলক বিরোধী পক্ষ হিসেবে মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো। (৪) জনগণের
সচেতনতা :- সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং সহিংসতাহীন রাজনীতির পক্ষে
জোরালো অবস্থান ও চাপ তৈরি করা। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিহিংসার রাজনীতি
পরিহার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবে এর স্থায়ী রূপান্তর এখনও একটি চলমান চ্যালেঞ্জ
হিসেবেই রয়ে গেছে। যারা রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হননি তারা বুঝবেন না এই প্রতিহিংসা কত
দূরে যেতে পারে।তবে আশে পাশে চোঁখ রাখলে ঠিকই বুঝতে পারবেন প্রতিহিংসার রাজনীতি কাকে
বলে।আজও পর্যন্ত প্রতিহিংসার রাজনীতিতে পড়ে জীবন যাচ্ছে অহরহ মানুষের।নিজের জন্য সব
সময় দোয়া করবেন যেন প্রতিহিংসার রাজনীতিতে আপনাকে পড়তে না হয়। বর্তমান সরকারের
লোকজনও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বাইরে নয়।বর্তমান সময়ে সাধারন জনগনের নামে গায়েবী
মামলা তার বড় উদাহরন।এই মামলা থেকে মৃত ব্যক্তিও নিস্তার পাচ্ছেন না।আবার যারা প্রবাসে
আছেন দীর্ঘদিন ধরে তাদের নামেও মামলা হচ্ছে।এই সব মামলায় লাভ হয় পুলিশের।যাদের নামে মামলা
হয় তাদের কে ছাড়াতে তার পরিবার হাজার হাজার টাকা খরচ করে।আমি দেখেছি আমাদের গ্রামের
অনেক নিরীহ মানুষের নামে বিনা কারনে মামলা হয়েছে যার কারন প্রতিহিংসার রাজনীতি। জানিনা
এদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি কোন দল আগে শুরু করেছিল।যেই শুরু করুক না কেন সব রাজনীতি দল
গুলোকে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।একটা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম
মানুষটি যখন প্রতিহিংসার রাজনীতে পড়ে প্রান হারান বা জেলে যান তখন সেই পরিবারটির কি অবস্থা
হয় তা কি রাজনীতির বড় নেতারা কখনও ভেবে দেখেন?বড় বড় নেতাদের ছত্র ছায়াই গ্রাম্য পর্যায়ের
চুনোপুটি নেতারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে সাহস পায়। ক্ষমতা চিরদিন কারও থাকে না। ক্ষমতায়
থাকা কালিন এই কথা ক্ষমতাসীন দল একদম ভুলে যান। দেশের জনগনের জন্য সত্যি যদি কাজ করতে
চান তবে সব দলকেই প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়ে জনগনের জন্য কাজ করে যেতে হবে। ক্ষমতায়
থাকা অবস্থায় প্রতিটি দলই এমন কাজ করুন যেন ক্ষমতা না থাকলেও আপনাকে প্রতিহিংসার
রাজনীতির কবলে না পড়তে হয়। রাজনীতি যদি সত্যি জনগনের কল্যানের জন্য হয় তবে প্রতিহিংসার
রাজনীতি কোন দলের কাছেই কাম্য নয়। প্রায়ই এই প্রশ্নটি জেগে উযঠে গ্রামাঞ্চলে গরীব মানুষের
নব্য শিক্ষিত ছাত্রগুলোকে রাজনীতিবিদরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কেন? রাজনৈতিক
বিশ্লেষক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও নব্য শিক্ষিত যুবসমাজকে
রাজনীতিবিদদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পেছনে গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং কাঠামোগত
কারণ রয়েছে। এই যুবগোষ্ঠী শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে চাইলেও, উপযুক্ত
কর্মসংস্থান এবং সঠিক নির্দেশনার অভাবে সহজেই রাজনৈতিক চক্রের ফাঁদে পড়ে যায়।
সমাজবিজ্ঞান ও রাজনীতিবিদ্যার বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, এই যুবকদের রাজনৈতিক হাতিয়ার
হিসেবে ব্যবহার করার প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:- বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট
:- নব্য শিক্ষিত যুবকদের বড় একটি অংশ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেও উপযুক্ত কর্মসংস্থান
পায় না। এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক নেতারা তাদের সামান্য
আর্থিক সুবিধা, চাকরি বা ব্যবসার সুযোগের লোভ দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন।
সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা : – গ্রামীণ সমাজে দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা প্রায়ই
প্রান্তিক বোধ করেন। রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হলে তারা এক ধরণের সামাজিক প্রভাব,
পরিচিতি ও ক্ষমতা লাভ করেন, যা তাদের এই বলয়ের দিকে আকৃষ্ট করে। আইনি ও প্রশাসনিক
সুরক্ষার অভাব :- গ্রামাঞ্চলে নানা ধরণের স্থানীয় বিরোধ বা আইনি জটিলতায় পড়লে সাধারণ
মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ছায়াতলে থাকলে থানা-পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসন থেকে এক
ধরণের অন্যায্য সুরক্ষা পাওয়া যায়, যা এই যুবকদের নেতাদের অনুগামী হতে বাধ্য করে। পদ্ধতিগত
রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব :- প্রথম প্রজন্মের শিক্ষিত (নব্য শিক্ষিত) যুবকদের অনেকে
শিক্ষার ডিগ্রি অর্জন করলেও গভীর রাজনৈতিক মূল্যবোধ বা আদর্শিক সচেতনতা অর্জনের সুযোগ
পান না। ফলে নেতার অন্ধ আনুগত্য এবং আবেগকে পুঁজি করে তাদের সহজেই সহিংস বা প্রতিহিংসার
রাজনীতিতে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। আমাদের ছোট একটি দেশে সুন্দর বাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি
করে নিজের ক্ষমতাকে দূরে রেখে প্রতিহিংসার রাজনীতিকে বাদ দিয়ে আইনের শাসনের মাধ্যমে
দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নিতে হবে। তাহলেই আমরা গর্বিত দেশের নাগরিক হিসেবে
বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করতে পারব। আল্লাহ আমাদের সহায় হউক।























