০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পলিয়ে যেতে বাধ্য হন। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকার কয়টা মামলা দিয়েছে জানেন ? কেন দিয়েছে জানেন? কারণ তারাও জানতো তারা বিতাড়িত হলে ড. ইউনূসই ক্ষমতায় আসবে। জানতো বলেই ৮৩ বছরের প্রবীণ বিশ্ববরেণ্য একজন ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে শত শত মামলা করেছিল।

এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের ———- মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০২:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৬০ Time View

অযোগ্য কাউকে ওপরে তুলতে নেই। তুললেই এই অবস্থাই হয়। মানুষ থেকে মানবতার সৃষ্টি।
মানবতার সাথে জড়িয়ে আছে নিঃস্বার্থ শব্দটি। মানুষ যখন মানুষের কল্যানে কাজ করে তখন
সেই মানুষটি নিজের স্বার্থের বাইরে থাকে। বাংলাদেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। শেখ
হাসিনাকে অনেকে গত এক যুগ ধরে ‘আয়রন লেডি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সাড়ে ১৫ বছর
যাবৎ ক্ষমতায় টিকে থাকা একজন জেদী প্রধানমন্ত্রী এভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন সেটি
অনেক ধারণাই করতে পারেননি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর কোনো ব্যক্তি
এভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হননি। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট
শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পলিয়ে যেতে বাধ্য হন। ড.
ইউনূসের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকার কয়টা মামলা দিয়েছে জানেন ? কেন দিয়েছে জানেন? কারণ
তারাও জানতো তারা বিতাড়িত হলে ড. ইউনূসই ক্ষমতায় আসবে। জানতো বলেই ৮৩ বছরের
প্রবীণ বিশ্ববরেণ্য একজন ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে শত শত মামলা করেছিল। জানতো বলেই
ওবায়দুল কাদের বলেছিল "কি ফকরুল সাহেব জায়গা দিবেন না ?" তারা জানতো তাদের পায়ের
তলার মাটি আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছিল । ড. ইউনূস দুর্নীতি করেছে সত্য। একটু গভীরে গেলে
দেখবেন ড. ইউনূসের চেয়ে হাজার না বরং লক্ষ কোটি গুন্ বেশি দুর্নীতি করেছে সালমান
রহমান, এস আলমসহ আরো অসংখ্য মানুষ। বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা ও হিন্দু ঘৃণা সম্পূর্ণ
ভিত্তিহীন। এটা শুধু একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিাশোধ নেয়া। ভারতের কাছ দেশ বিক্রির
অভিযোগের এক মাত্র সমাধান পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী জামাত কিংবা তার সহযোগী
রাজনৈতিক শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানো। ইউনুস নামের সর্বকালের একটা নিকৃষ্ট
নরপিশাচ গত পাঁচ দশক ধরে বিশ্বময় দান্ধাবাজী করে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা সব
কিছুর গলা চিপে ধরেছিল। এই নরপিশাচের অপরাধ হিসাব করে দেখুন। পদ্মা সেতুর কাজে বিশ্ব
ব্যাংককে সরে যেতে বাধ্য করা থেকে সর্বশেষ ধরা পড়া শিশুদের টিকা কেনার টাকা আত্মসাত
করে ফেলা পর্যন্ত। এমন এক নরপিশাচ যাকে এ দেশের মানুষ পূজা করত ফলে এই মানুষগুলির
সন্তানরা এই দৈত্যকে অবতার হিসাবে দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। এই নরপিশাচের চেহারা
বাংলাদেশের মানুষের সামনে উন্মোচিত না হলে এই দেশের আরও বড় ধরনের ক্ষতি হত।
বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারত না এই দেশ চালানো কোনও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পক্ষে
সম্ভব নয়। কারণ কোনও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দল বা শক্তির সাথে ইতিহাস আর সভ্যতার
শক্তি সহযোগী হিসাবে নাই। এই দুই শক্তি ছাডা বাংলাদেশের কোনও সমস্যার সমাধান করার
সাহসই করে না। বাংলাদেশের মানুষের মনে একটা সাধারণ ধারণা জন্মেছে যে আওয়ামী লীগের
সদস্যদের যোগ্যতা নাই । যখন তারা দেখছে আন্দালিব পার্থ (সংসদে), সালাউদ্দিন সাহেব
(মন্ত্রিসভায়), বিএনপির সর্বোচ্চ সম্পদ, মানুষ বুঝতে পারছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
গুণেমানে বাংলাদেশে বিএনপির অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান, চৌকশ, মানবিক এবং সংবেদনশীল
রাষ্ট্রনায়ক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের মানুষকে কখনও বোঝানো যেত না জঙ্গিবাদ,
মৌলবাদ, এবং স্বাধীনতাবিরোধী সকল অপশক্তির ধ্বংস ছাড়া বাংলাদেশ কখনও তার
কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে পারবে না। এখন একটি গল্প দিয়ে শেষ করছি। মোল্লা নাসিরুদ্দিন
একবার নিজের পোষা গাধাটিকে বাড়ির ছাদে নিয়ে গেলেন। কিন্তু ছাদে উঠে, গাধা আর নামতে
চাইছে না। বহু চেষ্টা বিফলে গেল । গাধা মোটেও নিচে নামবে না। বাধ্য হয়ে মোল্লা নিচে নেমে

এসে গাধার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। আধ ঘন্টা, এক ঘন্টা, এভাবে ঘন্টা দুয়েক পার
হয়ে গেল, তবুও গাধা নামছে না। এরপর মোল্লা নাসিরুদ্দিন অনুভব করলেন, গাধা পদাঘাত করে
তাঁর বাড়ির জীর্ণ-শীর্ণ ছাদ ভেঙে ফেলতে চাইছে। মোল্লা ভয় পেয়ে গেলেন। ছাদের অবস্থা
ভাল না, সামনে বর্ষাকাল, বিপদ আসন্ন । যদি ছাদ ভেঙে যায়, ঝড়-তুফানের দিনে থাকবেন
কোথায় ! বাধ্য হয়ে আবার ছাদে উঠলেন, গাধাকে নিচে নামানোর প্রচেষ্টায়। কিন্তু গাধা
নামতেই চায় না, ছাদের উপর ক্রমাগতঃ লাথি মেরে চলেছে। মোল্লা শেষ অবধি গাধাকে ধাক্কা
মেরে নিচে নামানোর চেষ্টা করতেই গাধা মোল্লাকে কয়েকবার লাথি মেরে ছাদ থেকে নিচে
ফেলে দিল। মোল্লা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছেন। ওদিকে গাধাও ছাদ ভেঙে ঘরের মেঝেতে
পড়ে গেল। মোল্লা রক্তাক্ত, গাধাও তাই । মোল্লার হাত ভেঙেছে, কোমরে ব্যথা, ওদিকে
গাধাও প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে উঠে দাঁড়াতে পারছে না। নির্ঘাত পা ভেঙে গিয়েছে ! মোল্লা
নাসিরুদ্দিন সেদিন বুঝলেন, গাধাকে কখনোই উঁচুতে নিয়ে যেতে নেই। নিয়ে গেলে গাধা- যে
জায়গায় নিয়ে যাবেন, সেই জায়গার ক্ষতি করবেই । দেশটা কারো বাপ দাদার একক সম্পত্তি
না। আমাদের এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পলিয়ে যেতে বাধ্য হন। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকার কয়টা মামলা দিয়েছে জানেন ? কেন দিয়েছে জানেন? কারণ তারাও জানতো তারা বিতাড়িত হলে ড. ইউনূসই ক্ষমতায় আসবে। জানতো বলেই ৮৩ বছরের প্রবীণ বিশ্ববরেণ্য একজন ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে শত শত মামলা করেছিল।

এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের ———- মোশারফ হোসেন

Update Time : ০২:৪৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

অযোগ্য কাউকে ওপরে তুলতে নেই। তুললেই এই অবস্থাই হয়। মানুষ থেকে মানবতার সৃষ্টি।
মানবতার সাথে জড়িয়ে আছে নিঃস্বার্থ শব্দটি। মানুষ যখন মানুষের কল্যানে কাজ করে তখন
সেই মানুষটি নিজের স্বার্থের বাইরে থাকে। বাংলাদেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। শেখ
হাসিনাকে অনেকে গত এক যুগ ধরে ‘আয়রন লেডি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সাড়ে ১৫ বছর
যাবৎ ক্ষমতায় টিকে থাকা একজন জেদী প্রধানমন্ত্রী এভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন সেটি
অনেক ধারণাই করতে পারেননি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর কোনো ব্যক্তি
এভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হননি। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট
শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পলিয়ে যেতে বাধ্য হন। ড.
ইউনূসের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকার কয়টা মামলা দিয়েছে জানেন ? কেন দিয়েছে জানেন? কারণ
তারাও জানতো তারা বিতাড়িত হলে ড. ইউনূসই ক্ষমতায় আসবে। জানতো বলেই ৮৩ বছরের
প্রবীণ বিশ্ববরেণ্য একজন ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে শত শত মামলা করেছিল। জানতো বলেই
ওবায়দুল কাদের বলেছিল "কি ফকরুল সাহেব জায়গা দিবেন না ?" তারা জানতো তাদের পায়ের
তলার মাটি আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছিল । ড. ইউনূস দুর্নীতি করেছে সত্য। একটু গভীরে গেলে
দেখবেন ড. ইউনূসের চেয়ে হাজার না বরং লক্ষ কোটি গুন্ বেশি দুর্নীতি করেছে সালমান
রহমান, এস আলমসহ আরো অসংখ্য মানুষ। বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা ও হিন্দু ঘৃণা সম্পূর্ণ
ভিত্তিহীন। এটা শুধু একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিাশোধ নেয়া। ভারতের কাছ দেশ বিক্রির
অভিযোগের এক মাত্র সমাধান পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী জামাত কিংবা তার সহযোগী
রাজনৈতিক শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানো। ইউনুস নামের সর্বকালের একটা নিকৃষ্ট
নরপিশাচ গত পাঁচ দশক ধরে বিশ্বময় দান্ধাবাজী করে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা সব
কিছুর গলা চিপে ধরেছিল। এই নরপিশাচের অপরাধ হিসাব করে দেখুন। পদ্মা সেতুর কাজে বিশ্ব
ব্যাংককে সরে যেতে বাধ্য করা থেকে সর্বশেষ ধরা পড়া শিশুদের টিকা কেনার টাকা আত্মসাত
করে ফেলা পর্যন্ত। এমন এক নরপিশাচ যাকে এ দেশের মানুষ পূজা করত ফলে এই মানুষগুলির
সন্তানরা এই দৈত্যকে অবতার হিসাবে দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। এই নরপিশাচের চেহারা
বাংলাদেশের মানুষের সামনে উন্মোচিত না হলে এই দেশের আরও বড় ধরনের ক্ষতি হত।
বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারত না এই দেশ চালানো কোনও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পক্ষে
সম্ভব নয়। কারণ কোনও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দল বা শক্তির সাথে ইতিহাস আর সভ্যতার
শক্তি সহযোগী হিসাবে নাই। এই দুই শক্তি ছাডা বাংলাদেশের কোনও সমস্যার সমাধান করার
সাহসই করে না। বাংলাদেশের মানুষের মনে একটা সাধারণ ধারণা জন্মেছে যে আওয়ামী লীগের
সদস্যদের যোগ্যতা নাই । যখন তারা দেখছে আন্দালিব পার্থ (সংসদে), সালাউদ্দিন সাহেব
(মন্ত্রিসভায়), বিএনপির সর্বোচ্চ সম্পদ, মানুষ বুঝতে পারছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
গুণেমানে বাংলাদেশে বিএনপির অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান, চৌকশ, মানবিক এবং সংবেদনশীল
রাষ্ট্রনায়ক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের মানুষকে কখনও বোঝানো যেত না জঙ্গিবাদ,
মৌলবাদ, এবং স্বাধীনতাবিরোধী সকল অপশক্তির ধ্বংস ছাড়া বাংলাদেশ কখনও তার
কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে পারবে না। এখন একটি গল্প দিয়ে শেষ করছি। মোল্লা নাসিরুদ্দিন
একবার নিজের পোষা গাধাটিকে বাড়ির ছাদে নিয়ে গেলেন। কিন্তু ছাদে উঠে, গাধা আর নামতে
চাইছে না। বহু চেষ্টা বিফলে গেল । গাধা মোটেও নিচে নামবে না। বাধ্য হয়ে মোল্লা নিচে নেমে

এসে গাধার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। আধ ঘন্টা, এক ঘন্টা, এভাবে ঘন্টা দুয়েক পার
হয়ে গেল, তবুও গাধা নামছে না। এরপর মোল্লা নাসিরুদ্দিন অনুভব করলেন, গাধা পদাঘাত করে
তাঁর বাড়ির জীর্ণ-শীর্ণ ছাদ ভেঙে ফেলতে চাইছে। মোল্লা ভয় পেয়ে গেলেন। ছাদের অবস্থা
ভাল না, সামনে বর্ষাকাল, বিপদ আসন্ন । যদি ছাদ ভেঙে যায়, ঝড়-তুফানের দিনে থাকবেন
কোথায় ! বাধ্য হয়ে আবার ছাদে উঠলেন, গাধাকে নিচে নামানোর প্রচেষ্টায়। কিন্তু গাধা
নামতেই চায় না, ছাদের উপর ক্রমাগতঃ লাথি মেরে চলেছে। মোল্লা শেষ অবধি গাধাকে ধাক্কা
মেরে নিচে নামানোর চেষ্টা করতেই গাধা মোল্লাকে কয়েকবার লাথি মেরে ছাদ থেকে নিচে
ফেলে দিল। মোল্লা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছেন। ওদিকে গাধাও ছাদ ভেঙে ঘরের মেঝেতে
পড়ে গেল। মোল্লা রক্তাক্ত, গাধাও তাই । মোল্লার হাত ভেঙেছে, কোমরে ব্যথা, ওদিকে
গাধাও প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে উঠে দাঁড়াতে পারছে না। নির্ঘাত পা ভেঙে গিয়েছে ! মোল্লা
নাসিরুদ্দিন সেদিন বুঝলেন, গাধাকে কখনোই উঁচুতে নিয়ে যেতে নেই। নিয়ে গেলে গাধা- যে
জায়গায় নিয়ে যাবেন, সেই জায়গার ক্ষতি করবেই । দেশটা কারো বাপ দাদার একক সম্পত্তি
না। আমাদের এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের।