০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

কাফনের কাপড়সহ হুমকির চিঠি পেয়ে আতঙ্কে কলেজ, তদন্তে পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ১২:৫৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২২ Time View

 (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজে দুই শিক্ষকের নামে কাফনের কাপড়সহ হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রহস্যজনক এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

                                                                                                    https://www.facebook.com/obaidul1991

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ছুটির সময় প্রধান করণিক রাফিজা খাতুন ডাকযোগে আসা দুটি রেজিস্ট্রি চিঠি গ্রহণ করেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে কলেজ খোলার পর চিঠি দুটি খোলা হলে প্রত্যেকটিতে তিনটি করে মোট ছয় টুকরো সাদা কাফনের কাপড় পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠি দুটি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা থেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলো কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুস সামাদের নামে প্রেরিত। খামে কোনো প্রেরকের ফোন নম্বর না থাকলেও ‘জনি শেখ’সহ আরও এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে।

ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, চিঠি দুটি গুরুদাসপুর ডাকঘর থেকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় এবং একজন পিয়ন অফিসিয়াল রিসিভ নিয়ে সেগুলো কলেজে পৌঁছে দেন।

ঘটনার বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। আমরা বিষয়টি গুরুদাসপুর থানাকে অবগত করেছি। পুলিশ এসে ঘটনাটি পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ওমর আলী জানান, “ঘটনা জানার পরপরই ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, কলেজটির ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই বিরোধের জের ধরেই এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটতে পারে।

শেষকথা:
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ভয়ভীতি ও অস্থিরতা শুধু শিক্ষার পরিবেশকেই নষ্ট করে না, বরং সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়ায়। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

https://www.facebook.com/obaidul1991

কাফনের কাপড়সহ হুমকির চিঠি পেয়ে আতঙ্কে কলেজ, তদন্তে পুলিশ

Update Time : ১২:৫৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

 (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজে দুই শিক্ষকের নামে কাফনের কাপড়সহ হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রহস্যজনক এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

                                                                                                    https://www.facebook.com/obaidul1991

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ছুটির সময় প্রধান করণিক রাফিজা খাতুন ডাকযোগে আসা দুটি রেজিস্ট্রি চিঠি গ্রহণ করেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে কলেজ খোলার পর চিঠি দুটি খোলা হলে প্রত্যেকটিতে তিনটি করে মোট ছয় টুকরো সাদা কাফনের কাপড় পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠি দুটি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা থেকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলো কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুস সামাদের নামে প্রেরিত। খামে কোনো প্রেরকের ফোন নম্বর না থাকলেও ‘জনি শেখ’সহ আরও এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে।

ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, চিঠি দুটি গুরুদাসপুর ডাকঘর থেকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে প্রেরণ করা হয় এবং একজন পিয়ন অফিসিয়াল রিসিভ নিয়ে সেগুলো কলেজে পৌঁছে দেন।

ঘটনার বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। আমরা বিষয়টি গুরুদাসপুর থানাকে অবগত করেছি। পুলিশ এসে ঘটনাটি পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ওমর আলী জানান, “ঘটনা জানার পরপরই ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, কলেজটির ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই বিরোধের জের ধরেই এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটতে পারে।

শেষকথা:
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ভয়ভীতি ও অস্থিরতা শুধু শিক্ষার পরিবেশকেই নষ্ট করে না, বরং সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়ায়। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।