০২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
আমাদের দেশে অছিয়ত নামা দলিলের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম মুটামুটি বেড়ে চলছে

প্রসঙ্গ -অসিয়ত নামা ——— মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০৬:১৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৬৫ Time View


আমাদের দেশে অছিয়ত নামা দলিলের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম মুটামুটি বেড়ে চলছে।
অতি কম খরচে দলিলটি রেজিস্ট্রি করা যায়। এতে করে সরকার যদিও রাজস্ব কম
পাচ্ছে তবে অছিয়তের মুসলিম পারিবারিক আইন স্পষ্ট করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা
দরকার। তাহলে অছিয়ত নামায় স্বচ্ছতা আসবে বলে ধারনা। বাংলাদেশে মুসলিম
পারিবারিক আইন অনুযায়ী অসিয়ত বা উইল হলো মৃত্যুর পর সম্পত্তির সুশৃঙ্খল
বণ্টনের একটি আইনি দলিল, যা মৌখিক বা লিখিত হতে পারে। ১৯৯৬ সালের
হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, উত্তরাধিকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য মোট
সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ অসিয়ত করা যায়, তবে উত্তরাধিকারীদের সম্মতি
থাকলে এর বেশিও করা সম্ভব । ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারী)
জন্য অসিয়ত করা জায়েজ নেই, কারণ তাদের অংশ কুরআন দ্বারাই নির্ধারিত । তবে
ওয়ারিশ ছাড়া অন্য আত্মীয় বা অসহায়দের জন্য মোট সম্পদের সর্বোচ্চ এক-
তৃতীয়াংশ (১/৩) পর্যন্ত অসিয়ত করা যায় । ওয়ারিশদের জন্য করা অসিয়ত কার্যকর
করতে হলে অন্য সকল ওয়ারিশের সম্মতি প্রয়োজন । ওয়ারিশদের জন্য অসিয়তের মূল
নিয়মাবলী-ওয়ারিশদের জন্য অসিয়ত:- সাধারণত উত্তরাধিকারী (যেমন- সন্তান, স্ত্রী,
বাবা-মা) যারা মীরাসের সম্পদ পান, তাদের জন্য অসিয়ত করা অবৈধ । তবে যদি কোনো
অসিয়ত করা হয়, তবে অন্য ওয়ারিশরা তা মেনে নিলে তা কার্যকর হবে । অসিয়ত
অবশ্যই মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের (১/৩) বেশি হতে পারবে না ।  যারা ওয়ারিশ
নন কিন্তু আত্মীয় বা কোনো এতিম নাতি-নাতনী, তাদের জন্য অসিয়ত করা যেতে পারে।
১৯৯৬ সালের অসিয়ত আইনের মূল দিকসমূহ :- ১/৩ বিধি: ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী
নন, এমন কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পর্যন্ত
অসিয়ত করা বৈধ । উত্তরাধিকারীদের সম্মতি: যদি অসিয়তকৃত সম্পত্তির পরিমাণ
১/৩ অংশের বেশি হয় অথবা উত্তরাধিকারী বা ওয়ারিশকে সম্পত্তি দেয়া হয়, তবে
অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি প্রয়োজন হয়। অসিয়ত দলিল লিখিত বা মৌখিক উভয়ভাবেই
করা যেতে পারে । প্রবেট :- মুসলমানদের অসিয়ত বা উইল প্রবেট (probate) করার
প্রয়োজন হয় না । উইলকারী মৃত্যুর আগে যেকোনো সময় তার অসিয়ত দলিল বাতিল বা
পরিবর্তন করতে পারেন । অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের বা প্রাপকের
সম্মতিক্রমে এটি কার্যকর হয় । অসিয়ত বা উইল হলো সম্পত্তি হস্তান্তরের এমন

একটি প্রক্রিয়া যা দাতার মৃত্যুর পর কার্যকর হয় এবং এটি পারিবারিক বিবাদ এড়াতে
সাহায্য করে ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

আমাদের দেশে অছিয়ত নামা দলিলের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম মুটামুটি বেড়ে চলছে

প্রসঙ্গ -অসিয়ত নামা ——— মোশারফ হোসেন

Update Time : ০৬:১৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬


আমাদের দেশে অছিয়ত নামা দলিলের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম মুটামুটি বেড়ে চলছে।
অতি কম খরচে দলিলটি রেজিস্ট্রি করা যায়। এতে করে সরকার যদিও রাজস্ব কম
পাচ্ছে তবে অছিয়তের মুসলিম পারিবারিক আইন স্পষ্ট করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা
দরকার। তাহলে অছিয়ত নামায় স্বচ্ছতা আসবে বলে ধারনা। বাংলাদেশে মুসলিম
পারিবারিক আইন অনুযায়ী অসিয়ত বা উইল হলো মৃত্যুর পর সম্পত্তির সুশৃঙ্খল
বণ্টনের একটি আইনি দলিল, যা মৌখিক বা লিখিত হতে পারে। ১৯৯৬ সালের
হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, উত্তরাধিকারী ব্যতীত অন্য কারো জন্য মোট
সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ অসিয়ত করা যায়, তবে উত্তরাধিকারীদের সম্মতি
থাকলে এর বেশিও করা সম্ভব । ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারী)
জন্য অসিয়ত করা জায়েজ নেই, কারণ তাদের অংশ কুরআন দ্বারাই নির্ধারিত । তবে
ওয়ারিশ ছাড়া অন্য আত্মীয় বা অসহায়দের জন্য মোট সম্পদের সর্বোচ্চ এক-
তৃতীয়াংশ (১/৩) পর্যন্ত অসিয়ত করা যায় । ওয়ারিশদের জন্য করা অসিয়ত কার্যকর
করতে হলে অন্য সকল ওয়ারিশের সম্মতি প্রয়োজন । ওয়ারিশদের জন্য অসিয়তের মূল
নিয়মাবলী-ওয়ারিশদের জন্য অসিয়ত:- সাধারণত উত্তরাধিকারী (যেমন- সন্তান, স্ত্রী,
বাবা-মা) যারা মীরাসের সম্পদ পান, তাদের জন্য অসিয়ত করা অবৈধ । তবে যদি কোনো
অসিয়ত করা হয়, তবে অন্য ওয়ারিশরা তা মেনে নিলে তা কার্যকর হবে । অসিয়ত
অবশ্যই মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের (১/৩) বেশি হতে পারবে না ।  যারা ওয়ারিশ
নন কিন্তু আত্মীয় বা কোনো এতিম নাতি-নাতনী, তাদের জন্য অসিয়ত করা যেতে পারে।
১৯৯৬ সালের অসিয়ত আইনের মূল দিকসমূহ :- ১/৩ বিধি: ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী
নন, এমন কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পর্যন্ত
অসিয়ত করা বৈধ । উত্তরাধিকারীদের সম্মতি: যদি অসিয়তকৃত সম্পত্তির পরিমাণ
১/৩ অংশের বেশি হয় অথবা উত্তরাধিকারী বা ওয়ারিশকে সম্পত্তি দেয়া হয়, তবে
অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি প্রয়োজন হয়। অসিয়ত দলিল লিখিত বা মৌখিক উভয়ভাবেই
করা যেতে পারে । প্রবেট :- মুসলমানদের অসিয়ত বা উইল প্রবেট (probate) করার
প্রয়োজন হয় না । উইলকারী মৃত্যুর আগে যেকোনো সময় তার অসিয়ত দলিল বাতিল বা
পরিবর্তন করতে পারেন । অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের বা প্রাপকের
সম্মতিক্রমে এটি কার্যকর হয় । অসিয়ত বা উইল হলো সম্পত্তি হস্তান্তরের এমন

একটি প্রক্রিয়া যা দাতার মৃত্যুর পর কার্যকর হয় এবং এটি পারিবারিক বিবাদ এড়াতে
সাহায্য করে ।