মুসলিম উম্মাহ যতদিন এরূপ বিভক্তি নিয়ে বাঁচবে ততদিন বঞ্চিত হবে স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ই্জ্জত নিয়ে বাঁচা থেকে। কারণ, মহান আল্লাহতায়ালা কখনো সে নিয়ামত বিভক্ত মুসলিমদের দেন না
উম্মাহর বিভক্তি: বেঈমানীর দৃশ্যমান রূপ
- Update Time : ০১:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ৭৪ Time View

ফিরোজ মাহবুব কামাল
উম্মাহর বিভক্তি এবং প্রতিশ্রুত আযাব
আরব ভূমি আজ ২২টি রাষ্ট্রে বিভক্ত। আজ যদি ২২টি আরব রাষ্ট্র তাদের বিভক্তির দেয়াল ভেঙে একটি বৃহৎ রাষ্ট্রে পরিণত হতো -তবে কি ইসরাইল এতো বড় গণহত্যার সাহস পেত। বিভক্তির নাশকতা যে কতটা ভয়ানক হতে পারে -বিশ্ববাসীর সামনে আরবগণ সেটিই তুলে ধরছে। পৃথিবীতে ১৫০ কোটির বেশি মুসলিম। কিন্তু তারা গাজার ২৩ লাখ মুসলিমদের প্রাণ বাঁচাতে খাড়া হতে পারছে না। ইসরাইলী জুলুমের বিরুদ্ধে তারা নীরব ও নিষ্ক্রিয়। মুসলিম উম্মাহকে শক্তিহীন করার লক্ষ্যেই ইসলামের দেশী বিদেশী শত্রুগুলি মুসলিমদের ৫০টির বেশী রাষ্ট্রে বিভক্ত করে রেখেছে। বিভক্ত করেছে ভাষা, গোত্র, বর্ণ ও অঞ্চলের নামে। সে বিভক্তি নিয়ে বাঁচাকেই তারা মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতা বলছে। অথচ বিভক্তির এ স্থিতিশীলতা মুসলিমদের দিয়েছে শক্তিহীনতা, পরাজয় ও পরাধীনতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উরোপীয়ান ইউনিয়নসহ সকল পাশ্চাত্য শক্তি চায়, স্থিতিশীলতার নামে মুসলিম বিশ্বের এ বিভক্তি মানচিত্রকে যেন যে কোন মূল্যে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখা যায়। কারণ, মুসলিমদের বিভক্তির মাঝে তারা নিজেদের নিরাপত্তা দেখে। এ বিভক্ত মানচিত্র পাশ্চাত্য শক্তির জন্য প্রতিষ্ঠা দিয়েছে শোষণ ও লুণ্ঠনের অবকাঠামো। সে লক্ষপূরণে তারা চায়, মুসলিম দেশগুলিতে আরো বিভক্ত করতে।
শত্রুশক্তির পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেয়া বিভক্তির কারণে মুসলিমগণ প্রতিষ্ঠা দিতে পারিনি বহু ভাষা, বহু অঞ্চলীয় ও বহু বর্ণীয় ইসলামী সিভিলাইজেশনাল স্টেট তথা ইসলামী রাষ্ট্র -যেমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাগণ। খেলাফত ভেঙে যাওয়ার পর ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমগণ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সেরূপ একট সিভিলাইজেশনাল স্টেট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মুসলিমদের নিজ ঘরে সৃষ্ট সেক্যুলারিস্ট, কম্যুনিস্ট ও ফ্যাসিস্ট শত্রু এবং ভারতীয় পৌত্তলিক শত্রু ১৯৭১য়ে সে চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে মুসলিমরা বাঁচছে গোত্রীয়, জাতীয় ও উপজাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দিয়ে। এসব দেশের শাসকদের রয়েছে দলীয়, গোত্রীয়, জাতীয়, উপজাতীয় বা রাজতান্ত্রিক এজেন্ডা। এবং নাই কোন প্যান ইসলামী এজেন্ডা। গাজার লোকগুলি যেহেতু তাদের নিজ ভাষা, নিজ গোত্রের, নিজ জাতির ও নিজ এলাকার নয়, তাদের বাঁচানো নিয়ে তুর্কি, মিশরি, ইরানি, পাকিস্তানি, বাংলাদেশি, সৌদি, ইন্দোনেশিয়ান ও অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের সরকারগুলির কোন মাথা ব্যাথা নাই।
বিলুপ্ত হয়েছে উম্মাহর ধারণা
নবীজী (সা:) মুসলিম উম্মাহকে একটি দেহের সাথে তূলনা করেছেন। দেহের এক অঙ্গে আঘাত লাগলে সমগ্র দেহ সে ব্যাথায় কেঁদে উঠে। এটিই তো প্যান ইসলামী চেতনার লক্ষণ। কিন্তু মুসলিমগণ সে প্যান ইসলামী চেতনা নিয়ে বাঁচে না। তারা দূরে সরেছে ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে। তাদের মাঝে বিলুপ্ত হয়েছে উম্মাহর ধারণা। উম্মাহর দর্শন দেয় অভিন্ন বিশ্বাস এবং মহান রব’য়ের দেয়া অভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে একতাবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা। মুসলিমগণ সে দর্শন ও সে এজেন্ডা পরিত্যাগ করেছে বহু আগেই; তারা একতার প্রেরণা খোঁজে তাদের ভাষা, ভূগোল, বর্ণ ও আঞ্চলিক সংস্কৃতি থেকে। ফলে মুসলিম উম্মাহর দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাঁচাটিই এখন তাদের রাজনীতি ও সংস্কৃতি। দেহ খণ্ডিত হলে বিচ্ছন্ন টুকরোকে আগুনে ফেললেও দেহের বাকী অংশ সে ব্যাথা অনুভব করে না। তাই মুসলিম উম্মাহ ব্যর্থ হচ্ছে গাজা, কাশ্মীর, আরাকান ও উইঘুরের মজলুল মুসলিমদের দুঃসহ ব্যাথাটি বুঝতে ও তাতে সাড়া দিতে। এজন্যই ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মির, আরাকান ও উইঘুরের মজলুম মুসলিমদের পাশে অন্য এলাকার মুসলিমদের দেখা যায় না।
বিভক্তির এ বিপদ থেকে বাঁচাতেই মহান আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিভক্তি গড়াকে হারাম করেছেন এবং একতাকে ফরজ করেছেন। কিন্তু এরপরও মুসলিমগণ মুসলিম দেশের মানচিত্র ভেঙেই চলেছে এবং বাঁচছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নামে গড়া বিভক্তির দেয়াল পাহারা দেয়া নিয়ে। সে বিভক্তির দেয়াল বাঁচানোর হারাম এজেন্ডাই হলো প্রতিটি মুসলিম দেশের জাতীয় এজেন্ডা। সে লক্ষ্যে প্রতিটি মুসলিম দেশেরই রয়েছে সেনাবাহিনী। বাজেটের বিশাল অংশ হয় ব্যয় হয় সেনাবাহিনীর পিছনে তথা বিভক্তির দেয়াল বাঁচানোর কাজে। নিজ দেশের সীমানার বাইরে বসবাসকারী বিপদগ্রস্ত মুসলিমদের নিয়ে চিন্তা না করা এবং তাদের বিষয়ে নিশ্চুপ থাকাই তাদের সরকারি নীতি।
মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ইজ্জতের সাথে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানদের গাদ্দারী আজ আবার দৃশ্যমান হচ্ছে ইরানের উপর ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে। আক্রান্ত ইরানের পাশে দাঁড়াতে কোন মুসলিম রাষ্ট্রই এগিয়ে আসছে না। তারা নীরব দর্শক মাত্র। অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের উপর ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার এবং দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর হত্যাকে নিন্দা পর্যন্ত করেনি। মুসলিম দেশের শাসকদের ঈমান ও বিবেকের মান যে কতটা তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে -সেটি বুঝতে কি এরপরও কিছু বাকি থাকে?
বিভক্তি নিয়ে বাঁচাই আজ রাজনীতি ও সংস্কৃতি
মুসলিম জীবনে সবচেয়ে ক্ষতিকর বিদয়াত হলো মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি। কিন্তু এ বিদয়াতের বিরুদ্ধে কোন জিহাদ নাই। দেশের আলেম এবং বুদ্ধিজীবীগণও এ নিয়ে কথা বলে না। বরং বিভক্তির এ বিদয়াত নিয়ে বাঁচাই আজ মুসলিমদের সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ মুসলিম উম্মাহ যতদিন এরূপ বিভক্তি নিয়ে বাঁচবে ততদিন বঞ্চিত হবে স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ই্জ্জত নিয়ে বাঁচা থেকে। কারণ, মহান আল্লাহতায়ালা কখনো সে নিয়ামত বিভক্ত মুসলিমদের দেন না। যা দেন তা হলো প্রতিশ্রুত আযাব -যার প্রতিশ্রুতি শোনানো হয়েছে নিচের আয়াতে:
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ ۚ وَأُولَـٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
অর্থ: “আর তাদের মত হয়ো না, যারা পরস্পরে বিভক্ত হয়েছে, এবং সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও মতবিরোধ গড়েছে -তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব।–(সুরা আল ইমরান, আয়াত ১০৫)।
তাই বিপদ শুধু গাজার মুসলিমদের নয়। একই বিপদ ভারত, কাশ্মীর, রোহিঙ্গা ও উইঘুর মুসলিমদেরও। এমন কি সে বিপদ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব, আমিরাতসহ অন্যান্য মুসলিম দেশের নাগরিকদেরও। কারণ সবাই বাঁচছে বিভক্তি নিয়ে। আর বিভক্তি নিয়ে বাঁচা মানেই মহান রব’য়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে বাঁচা। তখন সে বিদ্রোহের জন্য আযাব তথন অনিবার্য হয়ে পড়ে। মুসলিম উম্মাহ তাই আজ বিরামহীন আযাবের মধ্যে। সে আযাবে নমুনা হলো, সমগ্র মুসলিম বিশ্ব পরিণত হয়েছে এক বিশাল জেলখানায়। প্রতিটি রাষ্ট্র যেন সে জেলখানার একেকটি উঁচু দেয়াল ঘেরা কক্ষ।
বিজয় শয়তানের এজেন্ডার
মুসলিমদের ভূরাজনৈতিক মানচিত্রই প্রমাণ করে তারা মহান আল্লাহতায়ালার এজেন্ডা থেকে তারা কতটা বিচ্ছন্ন। তারা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়েছে মজহাব, ফিরকা, তরিকা ও পীর-মুরিদীর নামেও। এরূপ বিচ্ছিন্নতা বস্তুত আল্লাহতায়ালা ও তাঁর নির্দেশিত দ্বীন ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দলিল। হৃদয়ে মহান রব’য়ের এজেন্ডার স্মরণ এবং ইসলাম ধারণ করে বাঁচলে তারা কি কখনো এরূপ বিচ্ছিন্ন হতো? এরূপ বিভক্তি যেমন সূন্নত বিরোধী; তেমনি এটি চরম বিদ্রোহ মহান আল্লাহতায়ালা হুকুমের বিরুদ্ধে। মুসলিম উম্মাহর মাঝে এরূপ বিভক্তি গড়াটি বস্তুত শয়তানের এজেন্ডা। কারণ বিভক্ত করার মধ্য দিয়ে শয়তান মুসলিমদের দুর্বল করে।
মুসলিম বিশ্বের জনগণ কতটা শয়তানের এজেন্ডা নিয়ে বাঁচে সেটি বুঝা যায় তাদের মাঝে বিভক্তির দেয়াল দেখে। সেটি আরো স্পষ্ট ভাবে দেখা যায় যখন বিভক্তির দিনগুলি নিয়ে তারা উৎসব করে। বাংলাদেশের মুসলিমগণ সেরূপ উৎসব করে প্রতিবছর ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর তারিখে। এমন উৎসবে প্রচণ্ড খুশি হয় শয়তান। কারণ, ১৯৭১’য়ে সে বিভক্তির পথে তো শয়তানই নিয়েছিল। এবং ১৬ ডিসেম্বরে বাংলার ভূমিতে কোন মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হয়নি, বরং বিজয়ী হয়েছিল শয়তানের পৌত্তলিক সেনাবাহিনী। শরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকলে তো মুসলিম উম্মাহর বিভক্তির এ দিনগুলি নিয়ে মুসলিমদের মাঝে মাতম উঠতো। মাতম না উঠার কারণ, তাদের বিবেক সুস্থতা হারিয়েছে।
বিভক্তিই বেঈমানীর দৃশ্যমান রুপ
বিভক্তি হলো বেঈমানীর দৃশ্যমান রুপ। সে বেঈমানীর কদর্যতা এতোই প্রকট যে নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত, তাহাজ্জুদ ও দোয়াদরুদ দিয়ে সে বেঈমানী ঢাকা যায়না। এবং এসব ইবাদতে মুক্তি মেলেনা তার নাশকতা থেকে। মুসলিম বিশ্বের বর্তমান বিপর্যয় তো তারই সাক্ষী। মুসলিম বিশ্বের বিভক্ত মানচিত্র নিয়ে যেরূপ উৎসব -তা থেকে বুঝা যায় তারা নিজ দেশে কতটা বিজয়ী করেছে শয়তান ও তার অনুসারীদের এজেন্ডাকে। বেঈমানীর ন্যায় ঈমানও গোপন থাকার বিষয় নয়। ঈমান দৃশ্যমান হয় ভাষা, বর্ণ, অঞ্চল ভিত্তিক পরিচয়ের উর্দ্ধে উঠে ইস্পাতসম একতা গড়ার মধ্যে। মুসলিমদের যে গুণটি মহান আল্লাহতায়ালাকে সবচেয়ে খুশি করে সেটি হলো তাদের মাঝের সীসাঢালা প্রাচিরসম একতা এবং তার দ্বীনকে বিজয়ী করার জিহাদ -যার উল্লেখ এসেছে সুরা সাফ’য়ের ৪ নম্বর আয়াতে। অথচ মুসলিমগণ আল্লাহকে খুশি করার বদলে খুশি করেছে শয়তানকে। এবং সেটি শয়তানের এজেন্ডাকে বিজয়ী করে এবং মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে পরাজিত করে। শয়তানের বিজয় তো মুসলিমদের বিভক্তির মাঝে। এরপরও কি তারা করুণাময় মহান আল্লাহ থেকে করুণা আশা করতে পারে?
বিভক্তি মুসলিম উম্মাহর জীবনে বার বার ভয়াবহ বিপদ ডেকে এনেছে। এ বিভক্তির কারণেই মুসলিমগণ হালাকু-চিঙ্গিসের হাতে নির্মম গণহত্যার শিকার হয়েছে। বিভক্তির কারণেই স্পেন থেকে নির্মূল হয়েছে। বিভক্তির কারণেই ঔপনিবেশিক শাসনের দখলে গেছে অধিকাংশ মুসলিম ভূমি। আর আজ গণহত্যার শিকার হচ্ছে ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ভারত, আরাকান ও চীনের উইঘুরে। বিভক্তির এ বিপদ থেকে বাঁচার একটিই পথ। সেটি হলো, ভাঙ্গতে হবে বিভক্তির দেয়াল এবং গড়তে হবে প্যান ইসলামী একতা। সেটিই তো মহান আল্লাহতায়ালা এজেন্ডা। এ বিভক্তিকেই যদি তারা বাঁচিয়ে রাখে, তবে তাদের বিপদ কখনোই শেষ হবার নয়। বরং সে বিপদ আরো ভয়াবহ হবে। তাদের জন্য প্রতি মুসলিম ভূমিতে অপেক্ষা করছে গাজার গণহত্যার ন্যায় বহু গণহত্যা ও বহু গণনির্মূল। বাংলাদেশও তা থেকে বাদ পড়বে না। কারণ যেখানেই রয়েছে মুসলিম, সেখানেই রয়েছে ইসরাইল। বাংলাদেশের জন্য সে উদ্ধত ইসরাইল হলো ভারত।
বিভক্তি বাঁচলে আযাবও বেঁচে থাকবে
বিভক্তির পথ যারা বেছে নেয় তাদের শাস্তি দুনিয়াতে শেষ হয়না, সে আযাব আখেরাতেও হাজির হয়। সে পাপ পাপীকে জাহান্নামে পৌঁছায়। সে হুঁশিয়ারিটি মহান আল্লাহতায়ালা শুনিয়েছেন সুরা আল-ইমরানের ১০৫ নম্বর আয়াতে। তাই বিভক্তি কখনো একাকী আসে না। সাথে আনে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত আযাব। সে প্রতিশ্রুত আযাব ছাড় দেয়, তবে ছেড়ে দেয় না। সে আযাবই তো আজ মুসলিম বিশ্বকে ঘিরে ধরেছে। আজ গাজা, লেবানন, জর্দান নদীর পশ্চিম তীর, সিরিয়া বা আরব বিশ্বের অন্যত্র যা কিছু ঘটছে -সেটি আরবদের নিজ হাতের কামাই। কারণ, তাদের দৃশ্যমান পাপের অঙ্কটি বিশাল।
আরবগণ আত্মঘাতী বিভক্তির পথ বেছে নিয়েছিল বহু আগেই -সেটি ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কালে। সে সময় ১০ লাখ আরব মুসলিম ব্রিটিশ বাহিনীতে যোগ দিয়ে উসমানিয়া খেলাফত ভেঙেছে। তারা আরবের ভূমিকে তুর্কি মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত করেছে -যেমন ১৯৭১’য়ে বাংলার মাটি বাঙালিরা রঞ্জিত করেছিল ২-৩ লাখ বিহারীর রক্তে। খলিফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বহু আরব মুসলিম যোগ দিয়েছিল ফরাসীদের সেনাবাহিনীতে। খলিফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ হারাম। এবং হারাম হলো কোন কাফির বাহিনীতে যোগ দেয়া। কিন্তু আরব মুসলিমগণ দুটি হারাম কাজ একত্রে করেছে। এমনকি খলিফার নির্মিত মদিনা-জেরুজালেম-দামেস্ক রেল লাইনকেও তারা উপড়িয়ে ফেলেছিল। রেল লাইনও তাদের কাছে অপরাধী গণ্য হয়েছিল। তখন ফিলিস্তিনের ভূমিতে ফিলিস্তিনীরা ধনশালী ইহুদীদের সাদরে গ্রহণ করেছিল এবং তাদের কাছে স্বেচ্ছায় জমি বিক্রয় করেছিল। এভাব ইসরাইলের প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি প্রস্তৃত করেছিল খোদ ফিলিস্তিনীরা। অথচ উসমানিয়া খেলাফত আমলে ইহুদীদের কাছে ফিলিস্তিনের জমি বিক্রয় নিষিদ্ধ ছিল। তাদের সে পাপ এখন আরবদের ঘরে ঘরে আযাব নিয়ে হাজির হয়েছে।পাপ আসতে বিলম্ব করে, তবে ছাড় দেয় না।
অভিন্ন ধর্ম, অভিন্ন ভাষা, অভিন্ন বর্ণ এবং এক অখণ্ড ভূ-খণ্ডের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও আরবগণ বিভক্ত হয়েছে ২২ টি রাষ্ট্রে। এমন বিভক্তি নিয়ে যারা বাঁচে তারা কি মহান আল্লাহতায়ালার প্রতিশ্রুত আযাব থেকে বাঁচতে পারে? এ আযাব না আসলে বরং সুরা আল-ইমরানের ১০৫ নম্বর আয়াত অসত্য প্রমানিত হতো। ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন যেভাবে শত্রুশক্তির হাতে অধিকৃত হলো, লক্ষ লক্ষ আরব যে ভাবে গণহত্যার শিকার হলো এবং বহু লক্ষ আরব যেভাবে উদ্বাস্তু হলো -সেগুলিকে কি রহমত বলা যায়? মুসলিম উম্মাহর এ ভূরাজনৈতিক বিভক্তি মুষ্টিমেয় কিছু স্বার্থান্বেষী দুর্বৃত্তের রাজা-বাদশাহ ও স্বৈর শাসক হওয়ার সুযোগ করে দিলেও ভয়ানক ক্ষতির মুখে পড়েছে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ। প্রশ্ন হলো, এরপরও কি তারা বিভক্তির দেয়ালগুলি বাঁচিয়ে রাখবে? বিভক্তির দেয়াল বাঁচলে আযাবও যে বেঁচে থাকবে এবং দিন দিন তা তীব্রতর হবে -তা নিয়ে কি সন্দেহ আছে?
























