০৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

মোবাইল ও ‘বেয়াদবি’ ইস্যুতে জামিয়া নূরিয়ার দাওরার সব ছাত্র বহিষ্কার

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ১২:২০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৭৫ Time View


বিশেষ প্রতিনিধি: মোবাইল ও ‘বেয়াদবি’ ইস্যুতে জামিয়া নূরিয়ার দাওরার সব ছাত্র বহিষ্কার করা হয়েছে।
মোবাইল ব্যবহার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে টঙ্গি জামিয়া ইসলামিয়া নূরিয়া মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের (সর্বোচ্চ শ্রেণি) সকল শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসাটির শিক্ষক মাওলানা শফী কাসেমী নদভী। রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে এটি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে এ বছরের দাওরার সব শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি মাদ্রাসায় মোবাইল চেকিং চালানো হলে দাওরার শিক্ষার্থীরা আগেই টের পেয়ে মোবাইল সরিয়ে ফেলে। ফলে তাদের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার না হলেও অন্যান্য জামাতে মোবাইল পাওয়া যায়। তবে ওই শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ করা হয়, দাওরার শিক্ষার্থীরা মাগরিবের সময় বুখারী শরীফের দরস বর্জন করে দারুল হাদিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
মাওলানা শফী কাসেমী নদভী আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ভুল স্বীকার করে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে পর্যন্ত তারা ক্ষমা প্রার্থনা না করায় শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অবশ্য অনেক শিক্ষার্থী দুঃখ প্রকাশ করে।

তিনি দাবি করেন, বহিষ্কৃত এই গ্রুপটি আগের বছরও একটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, যা মাদ্রাসার অন্যান্য শ্রেণির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। শিক্ষকদের মতে, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য আদব-আখলাক শিক্ষা ও বিশুদ্ধ ইলমের খেদমত করা। বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও যদি শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।

এদিকে, দাওরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তরের সব শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

মোবাইল ও ‘বেয়াদবি’ ইস্যুতে জামিয়া নূরিয়ার দাওরার সব ছাত্র বহিষ্কার

Update Time : ১২:২০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


বিশেষ প্রতিনিধি: মোবাইল ও ‘বেয়াদবি’ ইস্যুতে জামিয়া নূরিয়ার দাওরার সব ছাত্র বহিষ্কার করা হয়েছে।
মোবাইল ব্যবহার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে টঙ্গি জামিয়া ইসলামিয়া নূরিয়া মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের (সর্বোচ্চ শ্রেণি) সকল শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসাটির শিক্ষক মাওলানা শফী কাসেমী নদভী। রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে এটি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে এ বছরের দাওরার সব শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি মাদ্রাসায় মোবাইল চেকিং চালানো হলে দাওরার শিক্ষার্থীরা আগেই টের পেয়ে মোবাইল সরিয়ে ফেলে। ফলে তাদের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার না হলেও অন্যান্য জামাতে মোবাইল পাওয়া যায়। তবে ওই শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ করা হয়, দাওরার শিক্ষার্থীরা মাগরিবের সময় বুখারী শরীফের দরস বর্জন করে দারুল হাদিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
মাওলানা শফী কাসেমী নদভী আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ভুল স্বীকার করে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে পর্যন্ত তারা ক্ষমা প্রার্থনা না করায় শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অবশ্য অনেক শিক্ষার্থী দুঃখ প্রকাশ করে।

তিনি দাবি করেন, বহিষ্কৃত এই গ্রুপটি আগের বছরও একটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, যা মাদ্রাসার অন্যান্য শ্রেণির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। শিক্ষকদের মতে, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য আদব-আখলাক শিক্ষা ও বিশুদ্ধ ইলমের খেদমত করা। বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও যদি শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।

এদিকে, দাওরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তরের সব শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।