১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

ভোলা জেলার তোফায়েল আহমেদের মৃত্যূর ভৌতিক সত্যতা মৃত্যূর খবর

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / ৯ Time View
 প্রতিনিধি : গ্রেগরিয়ান তৃতীয় খ্রীষ্টাব্দের পার্বতী দেবতার যুগের ও বর্তমান প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার প্রশস্তের প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম পাড়াঞ্চলীয় অখন্ড ভারতের আঞ্চল ভিত্তিক বিভক্তির বা দেশ ভিত্তিক বিভক্তির সতেরতম যুদ্ধাঞ্চল (বাংলাদেশ-পাকিস্থান) এর গণঅভ্যূত্থান খ্যাত- ঊনবিংশ শতাব্দির ঊনসত্তর খ্রীষ্টাব্দের গণঅভ্যূত্থানের মহানায়ক, ঊনবিংশ শতাব্দির তেতাল্লিশ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে অক্টোবর তারিখে ভোলা মহকুমার বা বর্তমান ভোলা জেলার ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের ভূমিষ্ট, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের বর্তমানে- শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার ছাত্রলীগের ও  ঢাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) এর ঐতিহাসিক ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম ভোলাইয়া মাস্টার্স অফ সাইন্স, ভোলা সরকারি স্কুল-কলেজ ও বরিশালের ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, বাংলাদেশের মহান পবিত্র জাতীয় সংসদের নয়বারের নির্বাচিত মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, বাংলাদেশের মন্ত্রী পরিষদের একাধিক মন্ত্রনালয়ের একাধিকবারের প্রাক্তন মাননীয় মন্ত্রী, এশিয়ার যুব কন্ঠ, রাজপথের লড়াকু যোদ্ধা, জাতীয়-আন্তর্জাতিক ছাত্র নেতৃত্বের ধ্রুব ও অবিসংবাদিত কিংবদন্তী, বাংলার বুলবুল, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান-পবিত্র মুক্তি যোদ্ধাবাহিনী-রক্ষীবাহিনী এর চীফ অফ ষ্ট্যাফ, মহান মুক্তিযোদ্ধা, জননেতা, ভোলা জেলার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থান প্রাপ্ত নেতা, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি ঘোষণাকারী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বর্ষিয়ান জননেতা, “মানুষ আসে মানুষ যায়- শুধু তাঁর স্মৃতি রয়ে যায়” – নীতির বীরত্বপূর্ণ প্রবক্তা, জনাব মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ গত ০১/০৬/২০২৬ ইং তারিখে বিকাল ৩:৩০ টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড -এ  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
ঊনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকের  (ঊনসত্তরের) গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থান-মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,  বর্ষীয়ান জননেতা ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এর প্রথম জানাজা ঢাকার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে চলমান কালে ঢাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাবের হোসেন চৌধুরীর উপস্থিতিতে তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীরা ফ্যাসিবাদ উজ্জীবনের শ্লোগান প্রদান করে। মুহূর্তের মধ্যেই ফ্যাসিবাদ বিরোধীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেই আওয়ামী ঘরানার মরা রাজনীতির নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তেফায়েল আহম্মেদের শেষ নিশ্বাস ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লেই প্রথম প্রথম অনেকে তাঁর মৃত্যূর খবর বিশ্বাস করেন নাই। কারন ইতিপূর্বেও কয়েকবার তার মৃত্যূর খবর বেড়িয়েছিল। মৃত্যূকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন বিভিন্ন সংবাদ সংস্থাকে মৃত্যূর তথ্য নিশ্চিত করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যূর খবরের সত্যতার কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গত ছয় মাস আগে তার স্ত্রী মারা গিয়েছিল। স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি আইসিইউ সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রায়হান রাব্বানীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদ গত বছরের ২০ নভেম্বর মারা যান। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীও একজন চিকিৎসক। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তোফায়েল আহমেদের জন্ম। ১৯৬৭ইং থেকে ১৯৬৯ইং সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। তার আগে ইকবাল হলের বর্তমান সার্জেন্ট জহিরুল হক হল ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও ভিপি ছিলেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তার নেতৃত্বের ভূমিকা তাকে দেশের মানুষের সামনে পরিচিত করে তোলে। এরপর তিনি (তোফায়েল আহমেদ) ১৯৭০ইং সালের পাকিস্থান সরকারের জাতীয় নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ ইং সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের গেরিলা পরিস্থিতি উৎপাদনকরন ও চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের মোক্ষম ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয় বার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। গত এক/এগারো (One/Eleven) এর সেনা অভিযানের স্ব-পক্ষের রাষ্ট্র শক্তির সাথে বেঈমানী করা আওয়ামী চক্রের বা ঘষেটি চক্রের চীফ অফ কমান্ডার হয়ে বিগত সতের বছর যাবত ভোলা জেলাবাসী সহ বাংলাদেশী জাতির বুকে ফ্যাসিবাদী নাশকতা চালানোর চাবিকাঠি ভূমিকা পালন করেন। ইংরেজী ১৯৬৮-৬৯-এ গণআন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ওই বছরের ২৩শে ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুরের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার সেই সম্মেলনে শেখ মুজিবুরকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা করেন এই তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়সহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন প্রবীণ এ রাজনীতিক। ভোলা জেলায় তার দ্বিতীয় জানাজা ঘিরে জাতীয়তা ঘরানার যাবতীয় বিষয়াদী সংক্রান্ত দাবী-দাওয়া নিয়ে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠের দ্বিতীয় জানাজা কেন্দ্রিক বিরোধিতার ব্যাপক সংঘাত ও সংঘর্ষ হয়। উক্ত সংঘাত ও সংঘর্ষ নিয়ে সহিংসতা ঘরানার বহু সুবিধাবাদীরা সন্ত্রাসবাদী ও অসভ্যতাবাদী ভোলা জেলা ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করার খবর পাওয়া গেছে। জানাজার বিপক্ষে “একটা একটা লীগ ধর- ধইর্রা ধইর্রা জবাই কর, ধইর্রা ধইর্রা জেলে ভর” জানাজার পক্ষে “জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” ইত্যাদি ভূমিধ্বস শ্লোগানে শ্লোগানে সমগ্র ভোলা সদর টাউনের অলিগলি প্রকম্পিত হয়। ছবিতে- তোফায়েল আহম্মেদ, হেলমেট পরিহিত লাঠিছুটাবাহী আওয়ামী সন্ত্রাসলীগ ও জানাজার স্থল দখলদার জাতীয়তাবাদী সন্ত্রাসী দল এবং কঠোর নিরাপত্তায় ও রাষ্ট্রীয় সন্মানে লক্ষ লক্ষ জনতার অংশগ্রহনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জানাজা পরবর্তী দাফন সম্পন্ন।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

ভোলা জেলার তোফায়েল আহমেদের মৃত্যূর ভৌতিক সত্যতা মৃত্যূর খবর

Update Time : ০৮:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
 প্রতিনিধি : গ্রেগরিয়ান তৃতীয় খ্রীষ্টাব্দের পার্বতী দেবতার যুগের ও বর্তমান প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার প্রশস্তের প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম পাড়াঞ্চলীয় অখন্ড ভারতের আঞ্চল ভিত্তিক বিভক্তির বা দেশ ভিত্তিক বিভক্তির সতেরতম যুদ্ধাঞ্চল (বাংলাদেশ-পাকিস্থান) এর গণঅভ্যূত্থান খ্যাত- ঊনবিংশ শতাব্দির ঊনসত্তর খ্রীষ্টাব্দের গণঅভ্যূত্থানের মহানায়ক, ঊনবিংশ শতাব্দির তেতাল্লিশ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে অক্টোবর তারিখে ভোলা মহকুমার বা বর্তমান ভোলা জেলার ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের ভূমিষ্ট, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের বর্তমানে- শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার ছাত্রলীগের ও  ঢাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) এর ঐতিহাসিক ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম ভোলাইয়া মাস্টার্স অফ সাইন্স, ভোলা সরকারি স্কুল-কলেজ ও বরিশালের ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, বাংলাদেশের মহান পবিত্র জাতীয় সংসদের নয়বারের নির্বাচিত মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, বাংলাদেশের মন্ত্রী পরিষদের একাধিক মন্ত্রনালয়ের একাধিকবারের প্রাক্তন মাননীয় মন্ত্রী, এশিয়ার যুব কন্ঠ, রাজপথের লড়াকু যোদ্ধা, জাতীয়-আন্তর্জাতিক ছাত্র নেতৃত্বের ধ্রুব ও অবিসংবাদিত কিংবদন্তী, বাংলার বুলবুল, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান-পবিত্র মুক্তি যোদ্ধাবাহিনী-রক্ষীবাহিনী এর চীফ অফ ষ্ট্যাফ, মহান মুক্তিযোদ্ধা, জননেতা, ভোলা জেলার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থান প্রাপ্ত নেতা, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি ঘোষণাকারী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বর্ষিয়ান জননেতা, “মানুষ আসে মানুষ যায়- শুধু তাঁর স্মৃতি রয়ে যায়” – নীতির বীরত্বপূর্ণ প্রবক্তা, জনাব মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ গত ০১/০৬/২০২৬ ইং তারিখে বিকাল ৩:৩০ টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড -এ  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
ঊনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকের  (ঊনসত্তরের) গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থান-মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,  বর্ষীয়ান জননেতা ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এর প্রথম জানাজা ঢাকার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে চলমান কালে ঢাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাবের হোসেন চৌধুরীর উপস্থিতিতে তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীরা ফ্যাসিবাদ উজ্জীবনের শ্লোগান প্রদান করে। মুহূর্তের মধ্যেই ফ্যাসিবাদ বিরোধীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেই আওয়ামী ঘরানার মরা রাজনীতির নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তেফায়েল আহম্মেদের শেষ নিশ্বাস ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লেই প্রথম প্রথম অনেকে তাঁর মৃত্যূর খবর বিশ্বাস করেন নাই। কারন ইতিপূর্বেও কয়েকবার তার মৃত্যূর খবর বেড়িয়েছিল। মৃত্যূকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন বিভিন্ন সংবাদ সংস্থাকে মৃত্যূর তথ্য নিশ্চিত করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যূর খবরের সত্যতার কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গত ছয় মাস আগে তার স্ত্রী মারা গিয়েছিল। স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি আইসিইউ সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রায়হান রাব্বানীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদ গত বছরের ২০ নভেম্বর মারা যান। তাদের একমাত্র সন্তান তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীও একজন চিকিৎসক। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তোফায়েল আহমেদের জন্ম। ১৯৬৭ইং থেকে ১৯৬৯ইং সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। তার আগে ইকবাল হলের বর্তমান সার্জেন্ট জহিরুল হক হল ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও ভিপি ছিলেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তার নেতৃত্বের ভূমিকা তাকে দেশের মানুষের সামনে পরিচিত করে তোলে। এরপর তিনি (তোফায়েল আহমেদ) ১৯৭০ইং সালের পাকিস্থান সরকারের জাতীয় নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ ইং সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের গেরিলা পরিস্থিতি উৎপাদনকরন ও চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের মোক্ষম ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয় বার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। গত এক/এগারো (One/Eleven) এর সেনা অভিযানের স্ব-পক্ষের রাষ্ট্র শক্তির সাথে বেঈমানী করা আওয়ামী চক্রের বা ঘষেটি চক্রের চীফ অফ কমান্ডার হয়ে বিগত সতের বছর যাবত ভোলা জেলাবাসী সহ বাংলাদেশী জাতির বুকে ফ্যাসিবাদী নাশকতা চালানোর চাবিকাঠি ভূমিকা পালন করেন। ইংরেজী ১৯৬৮-৬৯-এ গণআন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনে তিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ওই বছরের ২৩শে ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুরের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার সেই সম্মেলনে শেখ মুজিবুরকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা করেন এই তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়সহ অসংখ্যবার কারাভোগ করেন প্রবীণ এ রাজনীতিক। ভোলা জেলায় তার দ্বিতীয় জানাজা ঘিরে জাতীয়তা ঘরানার যাবতীয় বিষয়াদী সংক্রান্ত দাবী-দাওয়া নিয়ে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠের দ্বিতীয় জানাজা কেন্দ্রিক বিরোধিতার ব্যাপক সংঘাত ও সংঘর্ষ হয়। উক্ত সংঘাত ও সংঘর্ষ নিয়ে সহিংসতা ঘরানার বহু সুবিধাবাদীরা সন্ত্রাসবাদী ও অসভ্যতাবাদী ভোলা জেলা ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করার খবর পাওয়া গেছে। জানাজার বিপক্ষে “একটা একটা লীগ ধর- ধইর্রা ধইর্রা জবাই কর, ধইর্রা ধইর্রা জেলে ভর” জানাজার পক্ষে “জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” ইত্যাদি ভূমিধ্বস শ্লোগানে শ্লোগানে সমগ্র ভোলা সদর টাউনের অলিগলি প্রকম্পিত হয়। ছবিতে- তোফায়েল আহম্মেদ, হেলমেট পরিহিত লাঠিছুটাবাহী আওয়ামী সন্ত্রাসলীগ ও জানাজার স্থল দখলদার জাতীয়তাবাদী সন্ত্রাসী দল এবং কঠোর নিরাপত্তায় ও রাষ্ট্রীয় সন্মানে লক্ষ লক্ষ জনতার অংশগ্রহনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জানাজা পরবর্তী দাফন সম্পন্ন।