১০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

বিশ্বে সভ্য রাষ্ট্র ও সভ্য সংস্কৃতির নির্মাণ: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ ———– ফিরোজ মাহবুব কামাল

মতামত
  • Update Time : ০২:৫০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪ Time View

রাষ্ট্রের গুরুত্ব এবং সভ্য ও অসভ্য রাষ্ট্র

পর্বত গুহায় বা জঙ্গলে জীব জন্তুর ন্যায় আমৃত্যু বসবাস করা যায়। সেরূপ বাঁচার জন্য গৃহ, বস্ত্র, শিক্ষা ও আইন আদালত লাগে না; পশুদের ন্যায় শুধু পানাহার হলেই চলে। এমন বন্য জীবনকে কখনোই সভ্য জীবন বলা হয়না। সভ্য জীবনের চাহিদা অনেক। শুধু পানাহার, গৃহ, বস্ত্র ও রাস্তা ঘাট থাকলে চলে না, থাকতে সুশিক্ষা, সুশাসন ও সুবিচারের শক্তিশালী অবকাঠামো। থাকতে হয় সভ্য আইন ও আইন প্রয়োগের সামর্থ্য। সভ্য জীবনের জন্য অপরিহার্য তাই ইসলামী রাষ্ট্র। কারণ, ইসলামী রাষ্ট্রই হলো সমগ্র মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্য রাষ্ট্রের একমাত্র রূপ -যা প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন খোদ নবীজী (সা:)। এমন রাষ্ট্রে সুশিক্ষা, সুশাসন ও সুবিচারের কাজটি ইবাদত গণ্য হয়।। রাষ্ট্র কাজ করে সামাজিক কল্যাণ কর্মে জনগণকে সংগঠিত করা, নেতৃত্ব দেয়া এবং সে কাজে সামর্থ্য সৃষ্টির হাতিয়ার রূপে। এমন একটি কল্যাণশীল রাষ্ট্র না থাকাই সবচেয়ে বড় অসভ্যতা। শুধু কালেমা পাঠ, নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন করলে সে অসভ্যতা থেকে মুক্তি মেলে না। এজন্যই নবীজী (সা:)কে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হয়েছে। বস্তুত সে রাষ্ট্রের নির্মাণই ছিল তাঁর নিজের এবং তাঁর সাহাবাদের জীবনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ। অর্ধেকের বেশি সাহাবা এ কাজে শহীদ হয়ে যান। ৮৩টি যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়েছে।  আজকের মুসলিমদের সকল ব্যর্থতার মূল কারণ, লক্ষ লক্ষ মসজিদ, হাজার হাজার মাদ্রাসা এবং শত শত ইসলামী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গড়লেও তারা ব্যর্থ হয়েছে সেরূপ একটি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে।  বুঝতে হবে রাষ্ট্রের বিকল্প একমাত্র রাষ্ট্রই, মসিজদ, মাদ্রাসা ও সংগঠন নয়।

রাষ্ট্র ছাড়া কখনোই দেশে স্বাধীনতা এবং জনগণের জান মাল ও ইজ্জতের সুরক্ষা হয়না। এবং সম্ভব হয়না সমাজে সুশিক্ষা, আইনের শাসন, মিথ্যাচার ও দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং সত্য ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা। এ কাজগুলি না হলে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকে না, মানবরূপী পশুদের জঙ্গলে পরিণত হয়। তখন বিলুপ্ত হয় আইনের শাসন ও শান্তি শৃঙ্খলা, অসম্ভব হয় নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস। তাই সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণ -বিশেষ করে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণই হলো এ পৃথিবী পৃষ্ঠে সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্ম। রাষ্ট্র তখন শিক্ষা-সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লবের হাতিয়ারে পরিণত হয়। তাই যে জনগোষ্ঠি ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে পেরেছে, তারা ইতিহাস গড়তে পেরেছে উচ্চতর সভ্যতার নির্মাণে। নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের সাফল্য এক্ষেত্রে অনন্য। কারণ, একমাত্র তারাই মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠটি রাষ্ট্র গড়তে পেরেছিলেন। অন্যরা স্থাপত্যে ও বিজ্ঞানে বিস্ময়কর আবিস্কার করলেও মানবকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব গুণে গড়ে তোলা এবং কোটি কোটি মানুষকে জাহান্নামের পথ থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের পথ দেখানোর কাজটি একমাত্র মুসলিমগণই করেছে।

নবীজী (সা:)’য়ের সাফল্যের মূল কারণ, তিনি পদে পদে সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ থেকে নির্দেশনা পেয়েছেন। তাঁর রাষ্ট্রের নীতিমালা ও আইনও এসেছিল মহান আল্লাহ তায়ালা থেকে। সে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় রণাঙ্গণে নেমে এসেছে ফিরেশতাদের বাহিনী। মানব জাতির ইতিহাসে আর কোন রাষ্ট্রই এভাবে সরাসরি মহান রবয়ের নির্দেশনায় নির্মিত ও পরিচালিত হয়নি। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটিই ছিল সবচেয়ে বড় নিয়ামত। তাই যারা রাষ্ট্র নির্মাণ ও সেটির পরিচালনায় নবীজী (সা:)কে অনুসরণ করে, তারা বস্তুত অনুসরণ করে মহান আল্লাহকে। ঈমানদার তাই রাষ্ট্র নির্মাণে কখনোই জাতীয়তাবাদী, ফ্যাসিবাদী, রাজতন্ত্রী ও কম্যুনিস্ট হতে পারে না। সেটি হারাম।  নবীজী (সা:)’য়ের ইন্তেকালে হযরত আবু বকর (রা:) অঝোরে কেঁদেছিলেন। তিনি তাঁর ক্রন্দনের কারণও সহচর সাহাবাদের জানিয়েছিলেন। তাঁর ক্রন্দের কারণ নবীজী (সা:)’য়ের ইন্তেকাল ছিল না, বরং সেটি ছিল, তাঁর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে মহান রব’য়ের সাথে মুসলিম উম্মাহর ডাইরেক্ট সংয়োগের সমাপ্তি।। কারণ নবীজী (সা:) ছিলেন সে সংযোগের একমাত্র মাধ্যম। উম্মাহ কোন সংকটে পড়লে বা কোন প্রশ্নের মুখে পড়লে সাহাবাগণ নবীজী (সা:)’য়ের দরবারে হাজির হতেন সে বিষয়ে মহান রাব্বুল আলামীনের নির্দেশনা জানতে। কোন প্রশ্নের জবাব না জানলে নবীজী (সা:) মহান রব’য়ের দরবারে হাত তুলে জেনে নিতেন।

অপরাধের সংস্কৃতি এবং ইবাদতের সংস্কৃতি: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ         

মানব যে ভাবে বাঁচে সেটাই তার সংস্কৃতি। তাই বেঈমানদের যেমন সংস্কৃতি থাকে, তেমনি থাকে ঈমানদারদের সংস্কৃতি। তাই অভিন্ন ভূমি ও জলবায়ুতে বসবাস করেও মানুষের ধর্ম ও জীবন দর্শন যেমন একই রূপ হয় না, তেমনি একই রূপ হয়না তাদের সংস্কৃতি। সংস্কৃতির দুটি ধারা সব সময়ই দুটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়। বেঈমানদের সংস্কৃতিটি মূলত অপরাধ কর্মের সংস্কৃতি। তাই তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ অপরাধ কর্মে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। বাংলাদেশ তার জন্ম থেকে শাসিত হয়ে আসছে ইসলাম থেকে দূরে সরা অপরাধীদের হাতে; ফলে বার বার ইতিহাস গড়েছে দুর্বৃত্তিতে। অপরদিক ঈমানদারদের সংস্কৃতিটি হলো ইবাদতের। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ জুড়ে জোয়ার আসে নেক কর্মের -যেমন এসেছিল নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামদের আমলে।  বাংলাদেশে কোন কালেই ইসলামের পক্ষ বিজয় পায়নি, ফলে দেশটিতে কোন কালেই নেক আমলের তথা ইবাদতের সংস্কৃতি নির্মিত হয়নি।

রাষ্ট্র সভ্য হবে না অসভ্য হবে -সেটি নির্ভর করে জনগণের সাংস্কৃতিক গুণাগুণের উপর। যেদেশে বিজয় অপরাধের সংস্কৃতির, সেদেশ পরিণত হয় একটি অসভ্য রাষ্ট্রে। অপরদিকে যেদেশের মানুষ বাঁচে ইবাদতের সংস্কৃতি  নিয়ে, সেখানে জন্ম নেয় সভ্য রাষ্ট্র। মানুষের সভ্য, ভদ্র ও রুচিশীল সংস্কৃতির পরিচয়টি তার গায়ে লেখা থাকে না; তবে তার নিখুঁত পরিচয় মেলে কি ধরনের পরিবেশে ও গৃহে সে বসবাস করে -তা দেখে। বাসস্থান হলো ব্যক্তির রুচি, স্বপ্ন ও সংস্কৃতির শো‌’কেস। গরু ছাগলের বাসস্থান এবং মানুষের বাসস্থান কখনোই একই রূপ হয়না। তেমনি একই রূপ হয়না সভ্য মানুষের বাসস্থান ও অসভ্য মানুষের বাসস্থান। যে গৃহে দেয়াল নাই, দরজা-জানালা নাই, ঘরের আঙ্গিণায় দুর্গন্ধময় আবর্জনার স্তুপ এবং স্তুপে পোকামাকড় ও মশামাছির উপদ্রব -এমন গৃহের বাসিন্দাদেরকে কেউ সভ্য, রুচিবান ও বিবেকমান বলবে না। তাদেরকে অসভ্য ও কুৎসিত মনের মানুষ ভাবাই স্বাভাবিক। বিষয়টি তেমনি রাষ্ট্রের বেলায়ও। রাজনীতি, প্রশাসন, আইন আদালত, স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় নিয়েই একটি রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হলো একটি জনগোষ্ঠির দর্শন, কর্ম, চরিত্র ও স্বপ্নের শো’কেস। যে দেশে গুম, খুন, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি ও সন্ত্রাসের প্লাবন এবং শাসন ক্ষমতায় নৃশংস ফ্যাসিস্ট -সে দেশ কখনোই সভ্য রাষ্ট্রের মর্যাদা পায় না।

 

Sonali Shop – online shop in Bangladesh

বিশ্বে আজকাল গবেষণা হয় দুর্নীতিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের তুলনামূলক অবস্থান নিয়ে। আবিস্কৃত হয়েছে দেহের তাপ মাপার ন্যায় দুর্নীতি মাপার কৌশল।  চলমান শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশ সে বিচারে ৫ বার বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের খেতাব পেয়েছে। একটি দেশের জন্য এরচেয়ে অধিক লজ্জা ও অপমানের বিষয় আর কি হতে পারে? কিন্তু দুর্নীতি নিয়ে বাঁচাই যখন সংস্কৃতি, তাদের সে লজ্জাবোধ থাকে না। যেমন পতিতাপল্লীর সংস্কৃতিতে দেহ বিক্রয়ে সামান্যতম লজ্জা ও অপরাধ বোধ থাকে না। তাদের কাছে সেটি নিত্য দিনের ব্যবসা মনে হয়। নবীজী (সা:) লজ্জাকে ঈমানের অংশ বলেছেন। তাই ঈমানের মৃত্যু হলে, লজ্জা শরমেরও মৃত্যু ঘটে। পাপ নিয়ে বাঁচার তাড়না হত্যা করে অপরাধীর ঈমান। মৃত ঈমানের কারণে নির্লজ্জ দুর্বৃত্তগণ তাই প্রকাশ্যে ডাকাতি, ভোট ডাকাতি, চাঁদাবাজী, প্রতারণা ও সন্ত্রাসে নামে। ধরা পড়লেও তাদের লজ্জা হয়না। অপরাধের দায়ে জেল হলেও তাদের চরিত্র বদলায় না। বরং অপরাধ নিয়েই তাদের গর্ব। তাই শেখ হাসিনার কাছে গর্বের বিষয় ছিল ২০১৮ সালের নির্বাচনে সফল ভোট ডাকাতি। মুজিবের কাছে গর্বের বিষয় ছিল বন্দী সিরাজ শিকদারকে বিনা বিচারে হত্যা।

রাষ্ট্র যখন এমন দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হয়, তখন সে রাষ্ট্র আর সভ্য রাষ্ট্র থাকে না। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি এরূপ দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হয়েছে বার বার -যেমন আওয়ামী লীগের হাতে, তেমনি বিএনপির হাতে। উভয় দলের প্রতিযোগিতা ছিল দ্রুত দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে; ফলে দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হওয়াটি বাংলাদেশের জন্য অতি মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এটি ছিল দুর্বৃত্ত শাসক শক্তির হাতে ব্যাপক দুর্বৃত্তায়নের ফসল। কিন্তু সে কলঙ্ক নিয়ে ক্ষমতাসীন শাসকদের বিবেকে সামান্যতম দংশন হয়নি; বরং তারা বুক ফুলিয়ে নানা সাফল্যের গল্প শুনিয়েছে।

সভ্য রাষ্ট্র একমাত্র তখনই নির্মিত হয় যখন সে রাষ্ট্রের শাসক শ্রেণী ও জনগণ উন্নত দর্শন, উন্নত চরিত্র, মানবতা ও উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার অধিকারী হয়; এবং  রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্য হয় অবিচার, অত্যাচার, প্রতারণা ও দুর্বৃত্তির নির্মূল।  কিন্তু যে দেশের শাসক দলের লোকেরা নিজেরাই প্রতারক, ভোটডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, স্বৈরাচারী ও গণহত্যার সংঘটক, সেদেশের জনগণ উন্নত চরিত্র নিয়ে বেড়ে উঠায় উৎসাহ পাবে কোত্থেকে? একটি দেশের সংস্কৃতি নির্মাণে শাসক শ্রেণীর ভূমিকাটি বিশাল। কারণ জনগণের সামনে ন্যায় অন্যায়, সভ্য অসভ্য এবং কাঙ্খিত অনাকাঙ্খিত কর্মের একটি মানদণ্ড তারাই নির্মাণ করে। ডাকাত দলে যেমন গড়ে উঠে নৃশংস ডাকাতির সংস্কৃতি। তেমনি ফ্যাসিস্ট হিটলার, মুজিব এবং হাসিনার দলে গড়ে উঠেছিল নৃশংস ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। তাই দেশবাসীর সংস্কৃতি পাল্টাতে হলে শুরুটি ক্ষমতা শীর্ষ বিন্দু থেকে হতে হয়।

নবীজী (সা:) গড়েছিলেন মুসলিমদের মাঝে ঈমানদারী ও ভাতৃত্বের সংস্কৃতি। সেরূপ সংস্কৃতির নির্মাণ ছিল তার কাছে পবিত্র ইবাদত। তাঁর কাছে সেটি ছিল সাংস্কৃতিক যুদ্ধ তথা জিহাদ। নবীজী (সা:) তাই বিশাল ভূ-ভাগ জুড়ে শুধু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিপ্লব আনেননি, এনেছিলেন যুগান্তকারী সাংস্কৃতিক বিপ্লবও। পানি যেমন পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে আসে, সংস্কৃতির ধারাও তেমিন শাসক শ্রেণীর স্তর থেকে জনগণের স্তরে নেমে আসে। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে সে সাংস্কৃতিক ধারার শুরু হয়েছিল খোদ নবীজী (সা:) থেকে এবং সেটি পৌছে গিয়েছিল জনগণের স্তরে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ যে প্রতারণা, চাঁদাবাজী  ও সন্ত্রাসের জোয়ার, সেটির শুরুও দুর্বৃত্ত শাসক শ্রেণীর স্তর থেকে। বাংলাদেশীদের জীবনে আজ যে চারিত্রিক ধ্বস, তার জন্য দুর্বৃত্ত শেখ মুজিব, জেনারেল এরশাদ ও শেখ হাসিনার ভূমিকা অতি বিশাল। এখন সে চারিত্রিক ধ্বসে নতুন মাত্রা যোগ করছে প্রধানমন্ত্রী তারিক জিয়া। এ শতাব্দীর শুরুতে যে চাঁদাবাজীর শুরু হাওয়া ভবন থেকে, সেটির তাণ্ডব এখন সমগ্র দেশ জুড়ে।  দুর্বৃত্ত শাসকগণ এভাবে রাষ্ট্র জুড়ে দুর্বৃত্তায়ন ঘটায়। তাই দেশ থেকে দুর্বৃত্তি নির্মূল করতে হলে শুধু মহল্লার চোর ডাকাত, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করলে চলে না, শাসনক্ষমতার উচ্চাসনে বসে থাকা দুর্বৃত্তকে হটাতে হয়। এভাবে নির্মূল করতে হয় দুর্বৃত্তির মূল উৎসকে। বাংলাদেশের জনগণ এ লড়াই কতটা সফল হবে -তার উপর নির্ভর করছে দুর্বৃত্তিমুক্ত সভ্য বাংলাদেশের নির্মাণ। ২২/৮/২০২৬

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

বিশ্বে সভ্য রাষ্ট্র ও সভ্য সংস্কৃতির নির্মাণ: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ ———– ফিরোজ মাহবুব কামাল

Update Time : ০২:৫০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রের গুরুত্ব এবং সভ্য ও অসভ্য রাষ্ট্র

পর্বত গুহায় বা জঙ্গলে জীব জন্তুর ন্যায় আমৃত্যু বসবাস করা যায়। সেরূপ বাঁচার জন্য গৃহ, বস্ত্র, শিক্ষা ও আইন আদালত লাগে না; পশুদের ন্যায় শুধু পানাহার হলেই চলে। এমন বন্য জীবনকে কখনোই সভ্য জীবন বলা হয়না। সভ্য জীবনের চাহিদা অনেক। শুধু পানাহার, গৃহ, বস্ত্র ও রাস্তা ঘাট থাকলে চলে না, থাকতে সুশিক্ষা, সুশাসন ও সুবিচারের শক্তিশালী অবকাঠামো। থাকতে হয় সভ্য আইন ও আইন প্রয়োগের সামর্থ্য। সভ্য জীবনের জন্য অপরিহার্য তাই ইসলামী রাষ্ট্র। কারণ, ইসলামী রাষ্ট্রই হলো সমগ্র মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্য রাষ্ট্রের একমাত্র রূপ -যা প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন খোদ নবীজী (সা:)। এমন রাষ্ট্রে সুশিক্ষা, সুশাসন ও সুবিচারের কাজটি ইবাদত গণ্য হয়।। রাষ্ট্র কাজ করে সামাজিক কল্যাণ কর্মে জনগণকে সংগঠিত করা, নেতৃত্ব দেয়া এবং সে কাজে সামর্থ্য সৃষ্টির হাতিয়ার রূপে। এমন একটি কল্যাণশীল রাষ্ট্র না থাকাই সবচেয়ে বড় অসভ্যতা। শুধু কালেমা পাঠ, নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালন করলে সে অসভ্যতা থেকে মুক্তি মেলে না। এজন্যই নবীজী (সা:)কে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হয়েছে। বস্তুত সে রাষ্ট্রের নির্মাণই ছিল তাঁর নিজের এবং তাঁর সাহাবাদের জীবনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ। অর্ধেকের বেশি সাহাবা এ কাজে শহীদ হয়ে যান। ৮৩টি যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়েছে।  আজকের মুসলিমদের সকল ব্যর্থতার মূল কারণ, লক্ষ লক্ষ মসজিদ, হাজার হাজার মাদ্রাসা এবং শত শত ইসলামী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গড়লেও তারা ব্যর্থ হয়েছে সেরূপ একটি ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণে।  বুঝতে হবে রাষ্ট্রের বিকল্প একমাত্র রাষ্ট্রই, মসিজদ, মাদ্রাসা ও সংগঠন নয়।

রাষ্ট্র ছাড়া কখনোই দেশে স্বাধীনতা এবং জনগণের জান মাল ও ইজ্জতের সুরক্ষা হয়না। এবং সম্ভব হয়না সমাজে সুশিক্ষা, আইনের শাসন, মিথ্যাচার ও দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং সত্য ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা। এ কাজগুলি না হলে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকে না, মানবরূপী পশুদের জঙ্গলে পরিণত হয়। তখন বিলুপ্ত হয় আইনের শাসন ও শান্তি শৃঙ্খলা, অসম্ভব হয় নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস। তাই সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণ -বিশেষ করে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণই হলো এ পৃথিবী পৃষ্ঠে সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্ম। রাষ্ট্র তখন শিক্ষা-সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লবের হাতিয়ারে পরিণত হয়। তাই যে জনগোষ্ঠি ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে পেরেছে, তারা ইতিহাস গড়তে পেরেছে উচ্চতর সভ্যতার নির্মাণে। নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবাদের সাফল্য এক্ষেত্রে অনন্য। কারণ, একমাত্র তারাই মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠটি রাষ্ট্র গড়তে পেরেছিলেন। অন্যরা স্থাপত্যে ও বিজ্ঞানে বিস্ময়কর আবিস্কার করলেও মানবকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব গুণে গড়ে তোলা এবং কোটি কোটি মানুষকে জাহান্নামের পথ থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের পথ দেখানোর কাজটি একমাত্র মুসলিমগণই করেছে।

নবীজী (সা:)’য়ের সাফল্যের মূল কারণ, তিনি পদে পদে সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ থেকে নির্দেশনা পেয়েছেন। তাঁর রাষ্ট্রের নীতিমালা ও আইনও এসেছিল মহান আল্লাহ তায়ালা থেকে। সে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় রণাঙ্গণে নেমে এসেছে ফিরেশতাদের বাহিনী। মানব জাতির ইতিহাসে আর কোন রাষ্ট্রই এভাবে সরাসরি মহান রবয়ের নির্দেশনায় নির্মিত ও পরিচালিত হয়নি। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটিই ছিল সবচেয়ে বড় নিয়ামত। তাই যারা রাষ্ট্র নির্মাণ ও সেটির পরিচালনায় নবীজী (সা:)কে অনুসরণ করে, তারা বস্তুত অনুসরণ করে মহান আল্লাহকে। ঈমানদার তাই রাষ্ট্র নির্মাণে কখনোই জাতীয়তাবাদী, ফ্যাসিবাদী, রাজতন্ত্রী ও কম্যুনিস্ট হতে পারে না। সেটি হারাম।  নবীজী (সা:)’য়ের ইন্তেকালে হযরত আবু বকর (রা:) অঝোরে কেঁদেছিলেন। তিনি তাঁর ক্রন্দনের কারণও সহচর সাহাবাদের জানিয়েছিলেন। তাঁর ক্রন্দের কারণ নবীজী (সা:)’য়ের ইন্তেকাল ছিল না, বরং সেটি ছিল, তাঁর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে মহান রব’য়ের সাথে মুসলিম উম্মাহর ডাইরেক্ট সংয়োগের সমাপ্তি।। কারণ নবীজী (সা:) ছিলেন সে সংযোগের একমাত্র মাধ্যম। উম্মাহ কোন সংকটে পড়লে বা কোন প্রশ্নের মুখে পড়লে সাহাবাগণ নবীজী (সা:)’য়ের দরবারে হাজির হতেন সে বিষয়ে মহান রাব্বুল আলামীনের নির্দেশনা জানতে। কোন প্রশ্নের জবাব না জানলে নবীজী (সা:) মহান রব’য়ের দরবারে হাত তুলে জেনে নিতেন।

অপরাধের সংস্কৃতি এবং ইবাদতের সংস্কৃতি: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ         

মানব যে ভাবে বাঁচে সেটাই তার সংস্কৃতি। তাই বেঈমানদের যেমন সংস্কৃতি থাকে, তেমনি থাকে ঈমানদারদের সংস্কৃতি। তাই অভিন্ন ভূমি ও জলবায়ুতে বসবাস করেও মানুষের ধর্ম ও জীবন দর্শন যেমন একই রূপ হয় না, তেমনি একই রূপ হয়না তাদের সংস্কৃতি। সংস্কৃতির দুটি ধারা সব সময়ই দুটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়। বেঈমানদের সংস্কৃতিটি মূলত অপরাধ কর্মের সংস্কৃতি। তাই তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ অপরাধ কর্মে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। বাংলাদেশ তার জন্ম থেকে শাসিত হয়ে আসছে ইসলাম থেকে দূরে সরা অপরাধীদের হাতে; ফলে বার বার ইতিহাস গড়েছে দুর্বৃত্তিতে। অপরদিক ঈমানদারদের সংস্কৃতিটি হলো ইবাদতের। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ জুড়ে জোয়ার আসে নেক কর্মের -যেমন এসেছিল নবীজী (সা:) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামদের আমলে।  বাংলাদেশে কোন কালেই ইসলামের পক্ষ বিজয় পায়নি, ফলে দেশটিতে কোন কালেই নেক আমলের তথা ইবাদতের সংস্কৃতি নির্মিত হয়নি।

রাষ্ট্র সভ্য হবে না অসভ্য হবে -সেটি নির্ভর করে জনগণের সাংস্কৃতিক গুণাগুণের উপর। যেদেশে বিজয় অপরাধের সংস্কৃতির, সেদেশ পরিণত হয় একটি অসভ্য রাষ্ট্রে। অপরদিকে যেদেশের মানুষ বাঁচে ইবাদতের সংস্কৃতি  নিয়ে, সেখানে জন্ম নেয় সভ্য রাষ্ট্র। মানুষের সভ্য, ভদ্র ও রুচিশীল সংস্কৃতির পরিচয়টি তার গায়ে লেখা থাকে না; তবে তার নিখুঁত পরিচয় মেলে কি ধরনের পরিবেশে ও গৃহে সে বসবাস করে -তা দেখে। বাসস্থান হলো ব্যক্তির রুচি, স্বপ্ন ও সংস্কৃতির শো‌’কেস। গরু ছাগলের বাসস্থান এবং মানুষের বাসস্থান কখনোই একই রূপ হয়না। তেমনি একই রূপ হয়না সভ্য মানুষের বাসস্থান ও অসভ্য মানুষের বাসস্থান। যে গৃহে দেয়াল নাই, দরজা-জানালা নাই, ঘরের আঙ্গিণায় দুর্গন্ধময় আবর্জনার স্তুপ এবং স্তুপে পোকামাকড় ও মশামাছির উপদ্রব -এমন গৃহের বাসিন্দাদেরকে কেউ সভ্য, রুচিবান ও বিবেকমান বলবে না। তাদেরকে অসভ্য ও কুৎসিত মনের মানুষ ভাবাই স্বাভাবিক। বিষয়টি তেমনি রাষ্ট্রের বেলায়ও। রাজনীতি, প্রশাসন, আইন আদালত, স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় নিয়েই একটি রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হলো একটি জনগোষ্ঠির দর্শন, কর্ম, চরিত্র ও স্বপ্নের শো’কেস। যে দেশে গুম, খুন, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি ও সন্ত্রাসের প্লাবন এবং শাসন ক্ষমতায় নৃশংস ফ্যাসিস্ট -সে দেশ কখনোই সভ্য রাষ্ট্রের মর্যাদা পায় না।

 

Sonali Shop – online shop in Bangladesh

বিশ্বে আজকাল গবেষণা হয় দুর্নীতিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের তুলনামূলক অবস্থান নিয়ে। আবিস্কৃত হয়েছে দেহের তাপ মাপার ন্যায় দুর্নীতি মাপার কৌশল।  চলমান শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশ সে বিচারে ৫ বার বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের খেতাব পেয়েছে। একটি দেশের জন্য এরচেয়ে অধিক লজ্জা ও অপমানের বিষয় আর কি হতে পারে? কিন্তু দুর্নীতি নিয়ে বাঁচাই যখন সংস্কৃতি, তাদের সে লজ্জাবোধ থাকে না। যেমন পতিতাপল্লীর সংস্কৃতিতে দেহ বিক্রয়ে সামান্যতম লজ্জা ও অপরাধ বোধ থাকে না। তাদের কাছে সেটি নিত্য দিনের ব্যবসা মনে হয়। নবীজী (সা:) লজ্জাকে ঈমানের অংশ বলেছেন। তাই ঈমানের মৃত্যু হলে, লজ্জা শরমেরও মৃত্যু ঘটে। পাপ নিয়ে বাঁচার তাড়না হত্যা করে অপরাধীর ঈমান। মৃত ঈমানের কারণে নির্লজ্জ দুর্বৃত্তগণ তাই প্রকাশ্যে ডাকাতি, ভোট ডাকাতি, চাঁদাবাজী, প্রতারণা ও সন্ত্রাসে নামে। ধরা পড়লেও তাদের লজ্জা হয়না। অপরাধের দায়ে জেল হলেও তাদের চরিত্র বদলায় না। বরং অপরাধ নিয়েই তাদের গর্ব। তাই শেখ হাসিনার কাছে গর্বের বিষয় ছিল ২০১৮ সালের নির্বাচনে সফল ভোট ডাকাতি। মুজিবের কাছে গর্বের বিষয় ছিল বন্দী সিরাজ শিকদারকে বিনা বিচারে হত্যা।

রাষ্ট্র যখন এমন দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হয়, তখন সে রাষ্ট্র আর সভ্য রাষ্ট্র থাকে না। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি এরূপ দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত হয়েছে বার বার -যেমন আওয়ামী লীগের হাতে, তেমনি বিএনপির হাতে। উভয় দলের প্রতিযোগিতা ছিল দ্রুত দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে; ফলে দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হওয়াটি বাংলাদেশের জন্য অতি মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এটি ছিল দুর্বৃত্ত শাসক শক্তির হাতে ব্যাপক দুর্বৃত্তায়নের ফসল। কিন্তু সে কলঙ্ক নিয়ে ক্ষমতাসীন শাসকদের বিবেকে সামান্যতম দংশন হয়নি; বরং তারা বুক ফুলিয়ে নানা সাফল্যের গল্প শুনিয়েছে।

সভ্য রাষ্ট্র একমাত্র তখনই নির্মিত হয় যখন সে রাষ্ট্রের শাসক শ্রেণী ও জনগণ উন্নত দর্শন, উন্নত চরিত্র, মানবতা ও উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার অধিকারী হয়; এবং  রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্য হয় অবিচার, অত্যাচার, প্রতারণা ও দুর্বৃত্তির নির্মূল।  কিন্তু যে দেশের শাসক দলের লোকেরা নিজেরাই প্রতারক, ভোটডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, স্বৈরাচারী ও গণহত্যার সংঘটক, সেদেশের জনগণ উন্নত চরিত্র নিয়ে বেড়ে উঠায় উৎসাহ পাবে কোত্থেকে? একটি দেশের সংস্কৃতি নির্মাণে শাসক শ্রেণীর ভূমিকাটি বিশাল। কারণ জনগণের সামনে ন্যায় অন্যায়, সভ্য অসভ্য এবং কাঙ্খিত অনাকাঙ্খিত কর্মের একটি মানদণ্ড তারাই নির্মাণ করে। ডাকাত দলে যেমন গড়ে উঠে নৃশংস ডাকাতির সংস্কৃতি। তেমনি ফ্যাসিস্ট হিটলার, মুজিব এবং হাসিনার দলে গড়ে উঠেছিল নৃশংস ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। তাই দেশবাসীর সংস্কৃতি পাল্টাতে হলে শুরুটি ক্ষমতা শীর্ষ বিন্দু থেকে হতে হয়।

নবীজী (সা:) গড়েছিলেন মুসলিমদের মাঝে ঈমানদারী ও ভাতৃত্বের সংস্কৃতি। সেরূপ সংস্কৃতির নির্মাণ ছিল তার কাছে পবিত্র ইবাদত। তাঁর কাছে সেটি ছিল সাংস্কৃতিক যুদ্ধ তথা জিহাদ। নবীজী (সা:) তাই বিশাল ভূ-ভাগ জুড়ে শুধু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিপ্লব আনেননি, এনেছিলেন যুগান্তকারী সাংস্কৃতিক বিপ্লবও। পানি যেমন পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে আসে, সংস্কৃতির ধারাও তেমিন শাসক শ্রেণীর স্তর থেকে জনগণের স্তরে নেমে আসে। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে সে সাংস্কৃতিক ধারার শুরু হয়েছিল খোদ নবীজী (সা:) থেকে এবং সেটি পৌছে গিয়েছিল জনগণের স্তরে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ যে প্রতারণা, চাঁদাবাজী  ও সন্ত্রাসের জোয়ার, সেটির শুরুও দুর্বৃত্ত শাসক শ্রেণীর স্তর থেকে। বাংলাদেশীদের জীবনে আজ যে চারিত্রিক ধ্বস, তার জন্য দুর্বৃত্ত শেখ মুজিব, জেনারেল এরশাদ ও শেখ হাসিনার ভূমিকা অতি বিশাল। এখন সে চারিত্রিক ধ্বসে নতুন মাত্রা যোগ করছে প্রধানমন্ত্রী তারিক জিয়া। এ শতাব্দীর শুরুতে যে চাঁদাবাজীর শুরু হাওয়া ভবন থেকে, সেটির তাণ্ডব এখন সমগ্র দেশ জুড়ে।  দুর্বৃত্ত শাসকগণ এভাবে রাষ্ট্র জুড়ে দুর্বৃত্তায়ন ঘটায়। তাই দেশ থেকে দুর্বৃত্তি নির্মূল করতে হলে শুধু মহল্লার চোর ডাকাত, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করলে চলে না, শাসনক্ষমতার উচ্চাসনে বসে থাকা দুর্বৃত্তকে হটাতে হয়। এভাবে নির্মূল করতে হয় দুর্বৃত্তির মূল উৎসকে। বাংলাদেশের জনগণ এ লড়াই কতটা সফল হবে -তার উপর নির্ভর করছে দুর্বৃত্তিমুক্ত সভ্য বাংলাদেশের নির্মাণ। ২২/৮/২০২৬