০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ইউরিয়া সারে ছয়-নয়, কাগজে কলমে ঠিকঠাক

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৬:৪০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৮১ Time View

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ফেব্রুয়ারি মাসের বরাদ্দকৃত ইউরিয়া সারের চেয়ে কম সার উত্তোলন করা হয়েছে এবং ওই সার ডিলার পয়েন্টে পৌঁছানো হচ্ছেনা। এছাড়া সার উত্তোলন করলেও অধিকাংশ সার তেঁতুলিয়ার বাহিরে বিক্রি করে দিচ্ছেন বিসিআইসি ডিলাররা। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস ও বিসিআইসি ডিলারগণ সার উত্তোলনের তথ্য ও এরাইভাল কাগজে কলমে ঠিকঠাক গুছিয়ে রাখছেন।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় সাতটি বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। প্রতিবেদক গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিসিআইস সার গুদাম পঞ্চগড়ে তথ্য নিতে গেলে মহানন্দা টেডার্স ১১৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৯৮ মেট্রিক টন, আকিব এন্টারপ্রাইজ ১১৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৮০ মেট্রিক টন, মেসার্স সাকিব ট্রেডার্স ১১৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ১১৯ মেট্রিক টন, পিয়াশা এন্টারপ্রাইজ ১১৯ মেট্রিকটন ইউরিয়া সারের ১১২ মেট্রিক টন, মেসার্স রুম্পা এন্টারপ্রাইজ ১১৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ১০৯ মেট্রিক টন, নুরজাহান এন্টারপ্রাইজ ১১৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৯৭ মেট্রিক টন ও কেশব ট্রেডার্স ১১৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৯৪ মেট্রিক টন সার পে-অর্ডার বাবদ উত্তোলন করেন। এর পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদক প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে তথ্য যাচাই করেন। এতে মেসার্স সাকিব ট্রেডার্স (এতেও সন্দেহ রয়েছে সম্পূর্ণ সার আনা হয়েছে কিনা?) ছাড়া অন্যান্য সকল বিসিআইসি ডিলারের কর্মরত ব্যক্তিকে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণকে জিজ্ঞাসায় অমিলের তথ্য মিলে।

বিসিআইসি বাফার গুদাম পঞ্চগড়ের উপ-ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) ও ইনচার্জ বোরহান বাদশা প্রতিবেদকের এক প্রশেরœ জবাবে বলেন, গুদাম থেকে যা উত্তোলন ও পে-অর্ডার করা হয়েছে সেই তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবো। এতে আমার দ্বিমতের কোনো প্রশ্নই আসেনা। এরপর তিনি পে-অর্ডার বাবদ সার উত্তোলনের বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, পে-অর্ডার যা করেছে তাই উত্তোলন হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সাবরিনা আফরিন প্রতিবেদককে বলেন, ‘উপজেলায় ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ৮২৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে যে ডিলার যা বরাদ্দ পেয়েছে তাই উত্তোলন করবে, কম উত্তোলন কেউ করে থাকলে বা অন্য কোথাও বিক্রি করলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ইউরিয়া সারে ছয়-নয়, কাগজে কলমে ঠিকঠাক

Update Time : ০৬:৪০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ফেব্রুয়ারি মাসের বরাদ্দকৃত ইউরিয়া সারের চেয়ে কম সার উত্তোলন করা হয়েছে এবং ওই সার ডিলার পয়েন্টে পৌঁছানো হচ্ছেনা। এছাড়া সার উত্তোলন করলেও অধিকাংশ সার তেঁতুলিয়ার বাহিরে বিক্রি করে দিচ্ছেন বিসিআইসি ডিলাররা। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস ও বিসিআইসি ডিলারগণ সার উত্তোলনের তথ্য ও এরাইভাল কাগজে কলমে ঠিকঠাক গুছিয়ে রাখছেন।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় সাতটি বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। প্রতিবেদক গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিসিআইস সার গুদাম পঞ্চগড়ে তথ্য নিতে গেলে মহানন্দা টেডার্স ১১৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৯৮ মেট্রিক টন, আকিব এন্টারপ্রাইজ ১১৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৮০ মেট্রিক টন, মেসার্স সাকিব ট্রেডার্স ১১৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ১১৯ মেট্রিক টন, পিয়াশা এন্টারপ্রাইজ ১১৯ মেট্রিকটন ইউরিয়া সারের ১১২ মেট্রিক টন, মেসার্স রুম্পা এন্টারপ্রাইজ ১১৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ১০৯ মেট্রিক টন, নুরজাহান এন্টারপ্রাইজ ১১৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৯৭ মেট্রিক টন ও কেশব ট্রেডার্স ১১৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৯৪ মেট্রিক টন সার পে-অর্ডার বাবদ উত্তোলন করেন। এর পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদক প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে তথ্য যাচাই করেন। এতে মেসার্স সাকিব ট্রেডার্স (এতেও সন্দেহ রয়েছে সম্পূর্ণ সার আনা হয়েছে কিনা?) ছাড়া অন্যান্য সকল বিসিআইসি ডিলারের কর্মরত ব্যক্তিকে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণকে জিজ্ঞাসায় অমিলের তথ্য মিলে।

বিসিআইসি বাফার গুদাম পঞ্চগড়ের উপ-ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) ও ইনচার্জ বোরহান বাদশা প্রতিবেদকের এক প্রশেরœ জবাবে বলেন, গুদাম থেকে যা উত্তোলন ও পে-অর্ডার করা হয়েছে সেই তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবো। এতে আমার দ্বিমতের কোনো প্রশ্নই আসেনা। এরপর তিনি পে-অর্ডার বাবদ সার উত্তোলনের বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, পে-অর্ডার যা করেছে তাই উত্তোলন হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সাবরিনা আফরিন প্রতিবেদককে বলেন, ‘উপজেলায় ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ৮২৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে যে ডিলার যা বরাদ্দ পেয়েছে তাই উত্তোলন করবে, কম উত্তোলন কেউ করে থাকলে বা অন্য কোথাও বিক্রি করলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’