https://www.facebook.com/obaidul1991
শায়খ নূরুল ইসলাম ফারুকী (রহ.) হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে নরসিংদীতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার স্মারকলিপি প্রদান
- Update Time : ০২:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৩ Time View
নরসিংদী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বিশিষ্ট আলেম, ইসলামী বক্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শহীদ মাওলানা আল্লামা শায়খ নূরুল ইসলাম ফারুকী (রহ.) হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, নরসিংদী জেলা শাখা।

রোববার (৩০ আগস্ট) নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), নরসিংদীর হাতে এ স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, নরসিংদী জেলা শাখার সংগ্রামী সভাপতি ও ছাত্রনেতা মোহাম্মদ অলিউল্লাহ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক খাজা মাঈনউদ্দিন হাসান, আবু সুফিয়ান, আবু তালহাসহ জেলা শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী (রহ.) ছিলেন দেশের একজন সুপরিচিত আলেম, ইসলামী বক্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও উদার ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন তাঁর ছেলে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলার চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় শহীদ পরিবার, তাঁর অনুসারী এবং ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৪ সালের শেষভাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে বলে তারা অবগত। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো উগ্রবাদী মতাদর্শ, নেটওয়ার্ক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তা নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানানো হয়।
Sonali Shop – online shop in Bangladesh
স্মারকলিপিতে যেসব দাবি জানানো হয়
১. মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
২. চার্জশিটভুক্ত কোনো আসামি পলাতক থাকলে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা।
৩. হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা, আশ্রয়দাতা, মদদদাতা বা সহযোগী থাকার তথ্য পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক বা সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৬. সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার এবং উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “বিচার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অনুগ্রহ নয়; এটি নাগরিকের ন্যায়সংগত অধিকার।” অপরাধী যে পরিচয় বা মতাদর্শেরই হোক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের শাসনের মাধ্যমে তার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ শহীদ মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী (রহ.) হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের বিচারপ্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সদয় হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কামনা করেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা আইনসম্মত, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলবে।


























