১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি ড. এম এনামুল হকের ইন্তেকাল

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৩:৫৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯ Time View

শোক সংবাদ

প্রতিবেদক ( ইব্রাহিম হোসেন রুবেল) : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কেল্লাবারুইপাড়ার কৃতী সন্তান, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি), ইন্টারপোল ও আইন কমিশনের সাবেক সদস্য এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ড. এম এনামুল হক আর নেই।
 রবিবার ফজরের সময় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে গোদাগাড়ীসহ রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মজীবনে অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সুনামের অধিকারী ড. এম এনামুল হক দেশের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের নানা অর্জন ও অবদান তাঁকে দেশের একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
কেল্লাবারুইপাড়ার কৃতী সন্তান
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লাবারুইপাড়া নিবাসী মরহুম ফাহিম উদ্দিন মাস্টার ও আনোয়ারা খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান ছিলেন ড. এম এনামুল হক। ছোটবেলা থেকেই মেধা, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বগুণের অধিকারী এই কৃতী সন্তান পরবর্তীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন।
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল এবং আইন কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তাঁকে একটি স্বতন্ত্র মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে।
রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা
কর্মজীবনের পাশাপাশি ড. এম এনামুল হক রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
জনসেবার প্রতি তাঁর আগ্রহ, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
গুণী ও বিশিষ্ট পরিবারের সদস্য
ড. এম এনামুল হক ছিলেন একটি বিশিষ্ট ও গুণী পরিবারের সদস্য। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক রুশদ হকের পিতা।
এছাড়াও তিনি সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হক, বাংলাদেশ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর প্রতিষ্ঠাতা, নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. এম আসাদুজ্জামান এবং রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দীনের ভাই।
এছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব রেহান আসিফ আসাদের তিনি বড় চাচা।
তাঁর মৃত্যুতে শুধু পরিবার ও স্বজনরাই নয়, তাঁর অসংখ্য সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং গুণগ্রাহী গভীরভাবে শোকাহত।
স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন
দীর্ঘ ৯৪ বছরের জীবনে ড. এম এনামুল হক অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর চলে যাওয়ায় পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি গোদাগাড়ী ও রাজশাহীর বিভিন্ন মহলে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ ও সুনামধন্য ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন তাঁর স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
গভীর শোক ও সমবেদনা
ড. এম এনামুল হকের ইন্তেকালে আমরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, দেশ ও মানুষের জন্য তাঁর অবদান এবং সমাজে তাঁর সম্মানজনক অবস্থান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।
মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করেন, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও সামর্থ্য দান করেন। আমিন।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি ড. এম এনামুল হকের ইন্তেকাল

Update Time : ০৩:৫৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

শোক সংবাদ

প্রতিবেদক ( ইব্রাহিম হোসেন রুবেল) : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কেল্লাবারুইপাড়ার কৃতী সন্তান, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি), ইন্টারপোল ও আইন কমিশনের সাবেক সদস্য এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ড. এম এনামুল হক আর নেই।
 রবিবার ফজরের সময় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে গোদাগাড়ীসহ রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্মজীবনে অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সুনামের অধিকারী ড. এম এনামুল হক দেশের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের নানা অর্জন ও অবদান তাঁকে দেশের একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
কেল্লাবারুইপাড়ার কৃতী সন্তান
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লাবারুইপাড়া নিবাসী মরহুম ফাহিম উদ্দিন মাস্টার ও আনোয়ারা খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান ছিলেন ড. এম এনামুল হক। ছোটবেলা থেকেই মেধা, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বগুণের অধিকারী এই কৃতী সন্তান পরবর্তীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন।
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল এবং আইন কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তাঁকে একটি স্বতন্ত্র মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে।
রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা
কর্মজীবনের পাশাপাশি ড. এম এনামুল হক রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
জনসেবার প্রতি তাঁর আগ্রহ, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
গুণী ও বিশিষ্ট পরিবারের সদস্য
ড. এম এনামুল হক ছিলেন একটি বিশিষ্ট ও গুণী পরিবারের সদস্য। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক রুশদ হকের পিতা।
এছাড়াও তিনি সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হক, বাংলাদেশ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর প্রতিষ্ঠাতা, নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. এম আসাদুজ্জামান এবং রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দীনের ভাই।
এছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব রেহান আসিফ আসাদের তিনি বড় চাচা।
তাঁর মৃত্যুতে শুধু পরিবার ও স্বজনরাই নয়, তাঁর অসংখ্য সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং গুণগ্রাহী গভীরভাবে শোকাহত।
স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন
দীর্ঘ ৯৪ বছরের জীবনে ড. এম এনামুল হক অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর চলে যাওয়ায় পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি গোদাগাড়ী ও রাজশাহীর বিভিন্ন মহলে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ ও সুনামধন্য ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন তাঁর স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
গভীর শোক ও সমবেদনা
ড. এম এনামুল হকের ইন্তেকালে আমরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, দেশ ও মানুষের জন্য তাঁর অবদান এবং সমাজে তাঁর সম্মানজনক অবস্থান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।
মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল করেন, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও সামর্থ্য দান করেন। আমিন।