https://www.facebook.com/obaidul1991
বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী চাকুরী জাতীয়করণ ঐক্যজোটের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন
- Update Time : ০৭:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / ৮২ Time View

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী চাকুরী জাতীয়করণ ঐক্যজোটের উদ্যোগে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর বয়স ৬৫ করার দাবীতে এবং মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ.ন.ম এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে অদ্য ২০ জুলাই ২০২৬ রোজ সোমবার সকাল ১১ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুরুল হোসেন চৌধুরী হলে সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা মোঃ দেলোয়ার হোসেন মুন্সীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম মিঞার সঞ্চালনায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম মিঞা। এছাড়াও বক্তব্য প্রধান করেন- অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন, অধ্যাপক এ কে এম আব্দুল আউয়াল, অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা, অধ্যাপক হারুনুর রশিদ গাজী প্রমুখ জাতীয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম মিঞা বলেন- স্বাধীনতার পর শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষক সমাজ অত্যন্ত নাজুক ও দূরাবস্থায় বিরাজ করছিলো। ১৯৮০ সালের ১লা জানুয়ারী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার চিন্তা-চেতনা থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন জাতিগঠনে মূল চালিকাশক্তি কর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের দূরাবস্থা দেখে শিক্ষকদেরকে ৫০% বেতন-ভাতা দিয়ে জাতীয় পেস্কেলের অর্ন্তভূক্ত করেন। এটাই ছিলো শিক্ষা ও শিক্ষকদের উন্নয়নে প্রথম যুগান্তকারী মাইলফলক।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাতে যখনই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তখনই বাংলাদেশের সামগ্রীক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে বেসরকারী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক উন্নতির জন্য অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট চালু করেন এবং উৎসব ভাতা শিক্ষকদের ২৫% এবং কর্মচারীদের ৫০% চালু করেন। ১/১১ এর সেনা শাসিত সরকার এবং ফ্যাসিস্টচক্র ১৭ বছরের অধিককাল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মধ্য দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়করণের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন তা সামগ্রীকভাবে ধ্বংস করেছে। এ দেশের জুলাই-আগস্ট’ ২৪ ছাত্র-জনতার রক্তের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণসহ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রিয় আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব প্রাজ্ঞ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। যিনি বিগত বিএনপি সরকারের আমলে নকলমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ জ্ঞানচর্চা, সন্ধ্যা হলেই ঘরে বসে লেখাপড়া করার পুরনো ঐতিহ্য, আমাদের চিরায়ত গৃহপাঠ সংস্কৃতি চালু ও শিক্ষাকে আর্ন্তজাতিক মানে উন্নীত করার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার শুভ সূচনা করেছেন। তা ব্যাহত করার লক্ষ্যে স্বার্থান্বেষী মহল সুকৌশলে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ভূল বুঝিয়ে এবং কিছু অছাত্র ও ছাত্র নামধারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভাংচুর, রাস্তা-ঘাট অবরোধ, যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করিয়েছে এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি তুলে ’৭১ এর পরাজিত শক্তি, ২৪ পতিত শক্তি আর একটি ভূঁইফোড় শক্তির যৌথ প্রযোজনায় জাতির চোখে ধূলো দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রকৃত পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই আন্দোলনকে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন বলে আমরা মনে করি। তাই এই দেশের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত বিএনপির সরকারের বিরুদ্ধে যেকোন অপপ্রচার এবং আন্দোলনকে আমরা প্রতিহত করবো ইনশাল্লাহ। তিনি সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ কে তাদের শিক্ষার্থীদের কোন প্রকার আন্দোলনে না যাওয়ার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান। অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম মিঞা হুসিয়ারী দিয়ে বলেন- ভবিষ্যতে এই ধরনের মব সৃষ্টি করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বা সরকারের বিরুদ্ধে কোন অপতৎপরতা চালালে লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্র ও অভিভাবকদের নিয়ে ঢাকার রাজপথে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে সমচিত জবাব দেওয়া হবে।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পিরোজপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন- নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর বয়স ৬৫ বছর করণ ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি তার মতের পক্ষে ২টি যুক্তি উত্থাপন করেন ১। যেহেতু মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছরের অধিক সেহেতু শিক্ষকদের অবসর বয়স ৬৫ বছর করা যুক্তিযুক্ত। ২। অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখার জন্য অবসর বয়স ৬৫ করা যুক্তিযুক্ত। এছাড়াও তিনি মানসম্মত শিক্ষার জন্য নন-এমপিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করনের জোর দাবী উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক এ কে এম আব্দুল আউয়াল বলেন- নন-এমপিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণ, অবসর বয়স ৬৫ বছর করণ এবং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে তার কার্যক্রমে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অঙ্গিভুত সকল দপ্তর ও অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড সমূহের প্রধানকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক হারুন রশিদ গাজী বলেন- তার বক্তব্যে ২০০৯ সাল থেকে পরবর্তীতে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ প্রধান নিয়োগ হয়েছে তাদের চেয়ারে রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি কোন ক্রমে সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন এসমস্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ প্রধানগণ ছাত্রদেরকে আন্দোলনে উস্কায়ে দিচ্ছে। তাই এদের চেয়ার থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশপ্রেমিক সৎ শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন লিটন, অধ্যাপক কাজী মাইনুদ্দিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। অধ্যক্ষ আবতাবুল আলম, সমন্বয়ক, সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ, অধ্যক্ষ মুফতী মাওলানা মোঃ মুজিরউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি, মাওলানা মোঃ বায়েজীদ, অতিরিক্ত মহাসচিব, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি, মোঃ রফিকুল ইসলাম আসলামী, যুগ্ম সম্পাদক, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি, মোসাম্মৎ হোসনে আরা বেগম, প্রধান শিক্ষক, রামপুরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাওলানা মোঃ আব্দুল আলিম আকন, কেন্দ্রীয় নেতা, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি, অধ্যক্ষ এম এ মুনায়েম।
সংগঠনের চেয়ারম্যান মাওঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন মুন্সী বলেন- শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের জন্য শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা, চাকুরীর নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য নন-এমপিও, এমপিওভুক্ত এবং অধিভুক্ত সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ অপরিহার্য্য। তিনি সকল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন- মানসম্মত এবং কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করার জন্য অত্যান্ত প্রাজ্ঞ এবং কর্মঠ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। সর্বশেষ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পরিসমাপ্তি ঘোষনা করেন।
(প্রেস বিজ্ঞপ্তি )
























