০২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
https://www.facebook.com/obaidul1991
বৃত্তি ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাজশাহীতে ফের মানববন্ধন
বিশেষ প্রতিনিধি
- Update Time : ০৬:১০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / ৩৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী (মোঃ মাসুদ রানা) : প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে ফল পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশোধিত ফল প্রকাশের দাবিতে রাজশাহীতে দ্বিতীয় দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৬ জুলাই জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এক সপ্তাহ পার হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আন্দোলনে নামেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীনে শহরের ১১টি বিদ্যালয়ের মোট ২৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও ঘোষিত ফলাফলে একজনও বৃত্তি পায়নি। তাদের দাবি, এটি স্বাভাবিক নয়; বরং ওএমআর (OMR) মূল্যায়ন বা ফল প্রক্রিয়াকরণে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটির ইঙ্গিত বহন করে।
উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, “১১টি বিদ্যালয়ের ২৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও বৃত্তি না পাওয়া অস্বাভাবিক। বিষয়টি এক সপ্তাহ আগে জানানো হলেও এখনো কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।”
সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, “আমাদের অন্যতম মেধাবী ব্যাচ থেকেও কেউ বৃত্তি না পাওয়ায় আমরা মনে করছি ফল প্রক্রিয়াকরণে গুরুতর ত্রুটি হয়েছে।”
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমি ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে আমি অবশ্যই বৃত্তি পাব। আমরা দ্রুত সঠিক ফল প্রকাশের দাবি জানাই।”
অভিভাবকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ড. আজিবর রহমান বলেন, “স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমরা আবার রাজপথে নেমেছি। এই অনিয়ম কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করছে।”
মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফলাফলের অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, খাতা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশোধিত ফল প্রকাশ, ওএমআর বা প্রশাসনিক ত্রুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করা, ফল প্রক্রিয়াকরণে স্বচ্ছ প্রযুক্তি ব্যবহার, তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত জানানো, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত চূড়ান্ত ফল প্রকাশ।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, “শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত সমাধান না হলে রাজশাহীবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এ সময় স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোলও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে মোট ১৩ হাজার ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ১ হাজার ৯০৯ জন বৃত্তি লাভ করে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ. কে. এম. আনোয়ার হোসেন বলেন, “অভিভাবকদের আবেদন ও স্মারকলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ বছর প্রথমবার ওএমআর পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হওয়ায় সফটওয়্যার বা কারিগরি ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
Tag :























