https://www.facebook.com/obaidul1991
“তিস্তা মহাপরিকল্পনা: আঞ্চলিক সংযোগ, পানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৪:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / ১১ Time View

Dialogue For Development Bangladesh এর উদ্যোগে জহির খানের সভাপতিত্বে ও আবু তৈয়ব হাবিলদারের সঞ্চালনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলরুমে আয়োজিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা: আঞ্চলিক সংযোগ, পানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় ইউএসএ ভার্জিনিয়া বিএনপির সভাপতি জহির খান বলেন, তিস্তা আজ কেবল একটি নদীর প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি অর্থনীতি, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি জাতীয় ইস্যু।
প্রধান আলোচক রাষ্ট্রচিন্তক ও রাজনীতি বিশ্লেষক জনাব রেজাউল করিম রনি বলেন, কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রক্সি হবে না; বরং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা গ্রহণ করবে। জনপ্রত্যাশা বিবেচনা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বিএনপি সরকার যে কোনো মুল্যে বাস্তবায়ন করবে এটা নিশ্চিত বলা যায়।
আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহ—সভাপতি সাঈদ ইকবাল টিটু উল্লেখ করেন, তিস্তা নদীর সংকট শুধুমাত্র প্রাকৃতিক নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ফল। উজানে পানি প্রত্যাহার এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহের কারণে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, জীববৈচিত্র্য, ভূগর্ভস্থ পানি ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কে এম আজম চৌধুরী বলেন,– আন্তর্জাতিক জলপ্রবাহ আইন, বিশেষ করে জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের Watercourses Convention-এর আলোকে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত মূল্যায়ন প্রকাশ এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পানি নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের দাবি জানান।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও আঞ্চলিক অর্থনীতির পুনর্গঠনে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত ভারসাম্য, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় আয়োজক সংগঠন ডায়ালগ ফর ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ—ডিডিবি’র পক্ষ থেকে তিনদফা দাবী করা হয়। দাবীগুলো –হলো— প্রথমত, তিস্তার পানি চুক্তিকে সময়সীমাবদ্ধ রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার ঘোষণা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তিস্তা মহাপরিকল্পনার পূর্ণ Environmental Impact Assessment প্রকাশ করতে হবে এবং জনপরামর্শ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশকে একটি সমন্বিত জাতীয় Water Sovereignty Doctrine প্রণয়ন করতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ডায়ালগ ফর ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ—ডিডিবি’র প্লানিং কো—অর্ডিনেটর লেখক ও সংগঠক আবু বকর মুহাম্মদ মুঈন উদ্দীন, ভাষা আন্দোলন গবেষক হাসানুল বান্না, ডিডিবি’র কো—অর্ডিনেটর রবিউল ইসলাম পলাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সেক্রেটারি আলী আক্কাস নাদিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মাহমুদ তুষার, জাবের আব্দুল্লাহ খান, কুয়েত প্রবাসী সায়রুল আমীন রাজিব প্রমুখ।
সভা শেষে বক্তারা তিস্তা ইস্যুকে জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
(প্রেস বিজ্ঞপ্তি )
























