০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

বাঙালি মুসলিমের সকল ব্যর্থতার কারণ নৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা

মতামত
  • Update Time : ১০:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭১ Time View

ফিরোজ মাহবুব কামাল

বাঙালি মুসলিমের নৈতিক সংকট

ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে অতি জরুরি হলো, পবিত্র কুর’আনের জ্ঞানে আলোকিত জনগণ। অজ্ঞ ও জাহিল মানুষকে যেমন ঈমানদার বানানো যায় না, তেমনি তাদেরকে দিয়ে কখনোই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করা যায় না। পবিত্র কুর’আনের জ্ঞানার্জন এজন্যই নামাজ-রোজার আগে ফরজ করা হয়েছে। নবীজী (সা:) তাঁর ১৩ বছরের মক্কী জীবনে সে আলোকিত মানুষ গড়ার কাজটিই করেছেন।  সে সাথে জরুরি হলো সমাজ থেকে দুর্বৃত্তদের নির্মূলের কাজ। হিংস্র পশু অধ্যুষিত গহিন জঙ্গলে ঘর বাঁধা যায় না। তেমনি দুর্বৃত্তের প্লাবনে ভাসা ভূমিতে কখনোই কোন সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণ করা যায় না। এজন্যই আরব ভূমি থেকে আবু জেহেল, আবু লাহাব ও ইহুদী কুচক্রীদের নির্মূল করতে হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের পথে মূল বাধাটি এখানেই। দুর্বৃত্ত নির্মূলের কাজটি বাংলাদেশে হয়নি; বরং  বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে দুর্বৃত্ত-অধিকৃত রাষ্ট্রে। দেশ ভাসছে গুম, খুন, ধর্ষণ, চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, সন্ত্রাসের জোয়ার। এমন দেশে ইসলামী রাষ্ট্র দূরে থাক অতি সাধারণ মাপের একটি সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণও অসম্ভব। এমন রাষ্ট্রে যা সহজ হয় তা হলো দুর্বৃত্তিতে বিশ্বরেকর্ড গড়া।

একটি দেশের জনগণের চেতনা, চরিত্র ও ঈমানের পরিচয় মেলে কাদেরকে তারা সম্মান করে এবং কাদেরকে তারা ঘৃণা করে -তা দেখে। এখানেই ব্যক্তির বিবেক ও কাণ্ডজ্ঞানের পরীক্ষা হয়। জান্নাতে যেতে হলে এ পরীক্ষায় পাশ করতে হয়, নইলে জাহান্নামে যেতে হয়।  গরু, বাছুর, মূর্তি ও মূর্তির যৌনাঙ্গকে যারা পূজা দেয় -তাদের কি সভ্য, বিবেকবান ও রুচিশীল মানব বলা যায়? এটি তো মহান আল্লাহতায়ালা-প্রদত্ত বিবেক-বুদ্ধির সাথেব গাদ্দারী। এরূপ অসভ্য ও অশ্লীল কাজ তো পশুও করে না। পবিত্র কুর’আনে কিছু মানুষকে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট  বলা হয়েছে। এরাই তো তারা। মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালার বিচারে এরা এতোই নিকৃষ্ট যে, তাদেরকে তিনি শাস্তি দিবেন অনন্ত কালের জন্য জাহান্নামের আগুনে ফেলে। তারা জাহান্নামে যাবে চুরি-ডাকাতি, ধর্ষণ বা খুনের অপরাধে নয়, বরং জাহিল, অজ্ঞ ও অসভ্য থাকার অপরাধে।

সেরূপ বিবেকহীনতা ও ঈমানহীনতার প্রকাশ ঘটে শুধু গরুপূজা, মূর্তিপূজা ও লিঙ্গপূজার মধ্য দিয়ে নয়, বরং সেটির প্রকাশ ঘটে গণতন্ত্র হত্যাকারি ফ্যাসিস্ট মুজিবের ন্যায় ভয়ানক অপরাধী ব্যক্তিকে নেতা, জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধুর আসনে বসানোর মধ্য দিয়েও। মুজিবের অপরাধের তালিকাটি বিশাল। সেটি যেমন গণতন্ত্র হত্যা, বিচার বহির্ভুত হত্যা, দুর্বৃত্ত প্রতিপালন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার; তেমনি তার অপরাধ হলো ভারতের হাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তুলে দেয়ার।

মহান রব’য়ের বিচারে খুন করা, ধর্ষণ করা, চুরিডাকাতি করাই শুধু অপরাধ নয়। ভয়ানক অপরাধ হল ফিরাউন, আবু জেহেল ও আবু লাহাবদের মত ব্যক্তিদের সম্মান দেখানো। অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে খুন, ধর্ষণ ও চুরিডাকাতির জন্য নয়, বরং অপরাধীদের প্রশংসা করা এবং তাদের পক্ষে সাক্ষী দেয়ার কারণে। কোন অপরাধীকে নেতা, পিতা ও বন্ধুর আসনে বসানো এবং নির্বাচনে তাকে ভোট দেয়ার অর্থ তার পক্ষে খাড়া হয় এবং সাক্ষী দেয়া। এটি তো গুরুতর নৈতিক অপরাধ। শুধু অপরাধীকেই মহান আল্লাহতায়ালা জাহান্নামে নিবেন না, বরং তাদেরও জাহান্নামে নিবেন যারা অপরাধীদের পক্ষে খাড়া দেয় এবং সাক্ষ্য দেয়। সিরাতাল মুস্তাকীমে চলতে মু’মিন ব্যক্তিকে প্রতি পদে পরীক্ষা দিতে হয়। তাকে যেমন ঈমান-আক্বীদার পরীক্ষায় পাশ করতে হয়, তেমনি পাশ করতে হয় ইসলামের শত্রুর পক্ষে খাড়া হওয়া ও তার পক্ষে ভোট দেয়া ও সাক্ষ্য দেয়া থেকে। কিন্তু সে পরীক্ষায় ক’জন বাঙালি পাশ করেছে?

সংকট বিবেকশূণ্যতা ও ঈমানশূণ্যতার

শেখ মুজিবের অপরাধী চরিত্র কোন গোপন বিষয় নয়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান ভাঙতে শেখ মুজিব ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার সাথে আগরতলা ষড়যন্ত্র করেছিল ষাটের দশকেই। তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলা উঠেছিল ১৯৬৮ সালে। সে ষড়যন্ত্র যে সত্য ছিল সে সাক্ষ্য দিয়েছে সে মামলার আরেক আসামী এবং আওয়ামী লীগ নেতা, জাতীয় সংসদের ডিপুটি স্পীকার লে.কর্নেল শওকত আলী। মুজিবের সে ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ছিল ভারতকে শক্তিশালী করা এবং পাকিস্তানকে দুর্বল করা। এটি তো মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও ইজ্জত নিয়ে যার মধ্যে সামান্য পরিমাণ চিন্তা-ভাবনা আছে -সে কি এমন ভয়ানক অপরাধীকে সমর্থন করতে পারে? মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয় হতে হলে তাকে তো পৌত্তলিক হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়। মুসলিম দেশ ভাঙা নয়, বরং সে দেশের ভূগোল বাড়ানোর নিয়ত ও প্রচেষ্টা থাকতে হয়। জনগণের ভোটকে ইজ্জত দিতে হয়। সর্বোপরি জনগণকে কথা বলা, লেখালেখি, সভা-সমিতি ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার দিতে হয়। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশীরা দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়েই শুধু রেকর্ড গড়েনি, রেকর্ড গড়েছে ফ্যাসিস্ট মুজিবের ন্যায় ভারতীয় চর এবং গণতন্ত্রের শত্রুকে জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধুর আসনে বসিয়। হিন্দুদের গরুপূজা, মূর্তি পূজা ও লিঙ্গ পূজার চেয়ে এটি কি কম বিবেকহীনতা?

অথচ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে মুজিব একদলীয় বাকশালী ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল। বাংলাদেশে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড প্রথম শুরু করে শেখ মুজিব। সে অপরাধ কর্মের জন্য গড়ে তোলে নৃশংস রক্ষি বাহিনী। বহু হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে এ বাহিনী হত্যা করে। সুশাসনের বদলে মুজিব সুযোগ করে দিয়েছিল ভারতীয় লুণ্ঠনসহ ভয়াবহ দুর্বৃত্তি ও দুঃশাসনের -যা ১৯৭৪ সালে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছিল। সে দুর্ভিক্ষে মৃত্যু হয় প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশীর। বাংলাদেশীদের জন্য এ ছিল মুজিবের উপহার! মুজিব দাঁড়িয়েছিল শুধু জনগণ ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতিপক্ষ রূপে নয়, বরং সত্য, ন্যায় ও সুবিচারের প্রতিপক্ষ রূপেও।  মুজিবের বিবেকশূণ্যতার মাত্রাটি প্রকট। সেটির প্রমাণ, সে চরম দুর্ভিক্ষের দিনেও মুজিব তার দুই পুত্রকে সোনার মুকুট পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছিল।

জান্নাতের যোগ্য হতে হলে সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায়, দুর্বৃত্তি ও সুনীতির মাঝে পার্থক্য বুঝার সামর্থ্যটুকু থাকতে হয়। সামর্থ্য থাকতে হয় ভয়ানক অপরাধীদের চেনার। মহান আল্লাহতায়ালা প্রতিটি মানুষের চোখের সামনে ফিরাউন, নমরুদ, মুজিব, হাসিনার ন্যায় ভয়ানক অপরাধীদের খাড়া করে তাদের ঈমানের পরীক্ষা নেন।  প্রশ্ন হলো, মুজিবের ন্যায় অপরাধীদেরকে যারা পিতা, নেতা ও বন্ধু বলে সম্মানিত করে -তারা কি কখনো ঈমানের পরীক্ষায় পাশ করতে পারে? একমাত্র বিবেকশূণ্যরাই এমন কাজ করতে পারে। তাই বাঙালি মুসলিমের সংকট শুধু ঈমানশূণ্যতা নয়, বরং প্রকট বিবেকশূণ্যতারও। এমন মৃত ঈমান ও মৃত বিবেকের মানুষদের নিয়ে কি ইসলামী রাষ্ট্র দূরে থাক, কোন সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণ করা যায়?

জনজীবনে রাজনীতিশূণ্যতার বিপদ

বাংলাদেশের ব্যর্থতার মূল কারণ, দেশটির অধিকাংশ মানুষের জীবনে কোন সভ্য রাজনীতির জ্ঞান নাই। সভ্য বুদ্ধিবৃত্তিও নাই। সুস্থ রাজনীতির প্রাকটিসও নাই। রাজনীতি বলতে অনেকে মনে করে কিছু লোক নিয়ে পছন্দের মত দল গড়া, দলাদলি করা, মিটিং-মিছিল করা ও নির্বাচন কলে ভোট দেয়া। অথচ রাজনীতির প্রকৃত অর্থ তা নয়। রাজনীতি হলো সভ্যতর মানব, সভ্যতর সমাজ ও সভ্যতর রাষ্ট্র নির্মাণের উচ্চমার্গীয় শিল্প।  রাজনীতি হলো মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার একমাত্র হাতিয়ার। ফলে নামাজ-রোজার ন্যায় রাজনীতিতে অংশ নেয়াও ফরজ। তাই শুধু মিটিং মিছিল ও ভোট দেয়ার সামর্থ্য থাকলে চলে না; সে সভ্য রাষ্ট্র গড়ার সে শিল্পে অংশ নেয়ার জন্য অপরিহার্য হলো হৃদয়ে সঠিক দর্শন ও রোডম্যাপ ধারণ করা -যা প্রতিপদে পথ দেখায়। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সে কাজটি করে পবিত্র কুর’আনের দর্শন। মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রটি গড়েছেন নবীজী (সা:)। নবীজী (সা:) কোন রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ছিলেন না। কিন্তু সে কাজে তিনি প্রতি পদে পথনির্দেশনা পেয়েছেন মহান রাব্বুল আলামীন থেকে। তাকে পরামর্শ দিতে হযরত জিবরাইল (আ:) ভূপৃষ্ঠে নেমে আসতেন।  তিনি যা কিছু করছেন -তা করেছেন মহান রব’য়ের নির্দেশনা অনুযায়ী।  তাই রাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহতায়ালা কি চান -সেটিই দৃশ্যমান করেছেন মহান নবীজী (সা:)। তাই প্রতিটি ঈমানদারের উপর ফরজ দায় হলো, নবীজী (সা:)’য়ের অনুসৃত সে রাজনীতি নিয়ে বাঁচা। এটিই মুমিনের সার্বক্ষণিক জিহাদ। এটি সর্বোচ্চ ইবাদত। নামাজের ওয়াক্ত দিনে মাত্র ৫ বার। রোজা বছরে মাত্র এক মাস। কিন্তু রাজনৈতিক জিহাদের ওয়াক্ত সব সময়। নামাজ রোজায় কাজা আছে, কিন্তু এ জিহাদে কোন কাজা নাই।  কিন্তু বাংলাদেশীরা নবীজী (সা:)’য়ের অনুসৃত রাজনীতির অনুসরণ নিয়ে বাঁচে না। তারা বাঁচে মুজিব, হাসিনা ও জিয়ার রাজনৈতিক ধারার অনুসরণ নিয়ে। রাজনীতিতে তারা অনুসরণ করে না সিরাতাল মুস্তাকীম। ফলে তাদের রাজনীতি পরিণত হয়েছে বেঈমানীর প্রদর্শনী রূপে।

ইসলামের রাজনীতি ও অনৈসলামের রাজনীতি

ইসলামে রাজনীতি হলো জুলুম, দুর্বৃত্তি, স্বৈরাচার, মিথ্যাচার, মিথ্যা মতবাদ, মিথ্যা ধর্ম ও অবিচার নির্মূলের যুদ্ধ। সে জন্য জরুরি হলো সুনীতি, সুবিচার ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির উপর রাষ্ট্রকে পরিচালিত করা। এটি হলো সমাজ ও রাষ্ট্রকে মুসলিম বানানোর জিহাদ। এ পবিত্র রাজনৈতিক জিহাদ ছাড়া কোথাও কোন সভ্য রাষ্ট্র নির্মিত হয়না। একমাত্র এ রাজনীতিই মুমিনকে সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল নিয়ে বাঁচার তাড়না দেয়। সে রাজনীতি তখন কাজ করে জনগণকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর কাজে হাতিয়ার রূপে। সে ফরজ কাজটি অসম্ভব হয় যদি ধর্মকর্মকে নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাতে সীমিত রাখা হয়। রাষ্ট্র তখন শয়তানী শক্তির দখলে যায়; রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো তখন জনগণকে জাহান্নামে নেয়ার বাহনে পরিণত হয়। রাষ্ট্রের বুকে তখন নানা রূপ অপরাধ কর্মের প্লাবন আসে।  এটিই হলো অনৈসলামী রাজনীতি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিজয় পেয়েছে এই অনৈসলামী রাজনীতি।

জীবন থেকে রাজনীতির জিহাদ বাদ দিলে মানব সন্তানও পশুতে পরিণত হয়। চোখের সামনে খুন, ধর্ষণ ও ডাকাতি হলেও গরু যেমন নীরবে ঘাষ খায়, পশুবৎ মানব সন্তানও তেমনি নিরাপদ দূরত্বে বসে তৃপ্তি ভরে পানাহার করে, বাঁচার খাতিরে বাঁচে ও যৌন সম্ভোগ করে। এটিই হলো নিরেট পশুত্ব। এরা নিজেদের মুসলিম বলে দাবী করে, কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন বিলুপ্ত করা হলেও এরা রাস্তায় নামে না। অনৈসলামী রাজনীতির এটিই হলো সবচেয়ে বড় নাশকতা। এরূপ দায়শূণ্য লোক দেখা গেছে নবীজী (সা:)’য়ের যুগেও। নবীজী (সা:)’য়ের পিছনে এরা নিয়মিত নামাজ পড়েছে, রোজা রেখেছে, এবং দান-খয়রাতও করেছে। কিন্তু মক্কার কাফিরদের পক্ষ থেকে যখন হামলা হয়েছে, তখন এরা শান্তিবাদী সেজেছে এবং জিহাদ থেকে দূরে থেকেছে। এরাই হলো মুসলিম ইতিহাসের অতি পরিচিত মুনাফিক। এরা ইসলাম ও মুসলিমের বিজয় চায় না, বরং পরাজয় চায়। এদের সর্দার ছিল আব্দুল্লাহ বিন উবাই। মদিনার বুকে মুনাফিকগণ জিততে পারিনি। কিন্তু বাংলাদেশে তারাই বিজয়ী; পরাজয় এদেশটিতে ইসলামপন্থীদের।

রাজনীতিশূণ্যতার বিপদ

অনেকের রয়েছে প্রচণ্ড রাজনীতি ভীতি। কারণ, রাজনীতিতে অর্থ, শ্রম ও রক্তের খরচ আছে। এজন্যই রাজীনীতিকে তারা আপদ মনে করে। ফলে ঝামেলামুক্ত জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে দূরে থাকাকে তারা জরুরি মনে করে। তাদের কাছে রাজনীতি হলো কিছু স্বার্থান্বেষীদের স্বার্থ হাছিলের পেশা। সেক্যুলারিস্ট দুর্বৃত্তদের বেলায় কথাটি সত্য। রাজনীতি হলো একটি ধারালো অস্ত্রের ন্যায়। অস্ত্র দিয়ে খুন-ডাকাতি যেমন করা যায়, তেমনি তা দিয়ে খুনিকেও হত্যা করা যায়। নবীজী (সা:)ও তাই নিজ গৃহে তরবারি রাখতেন।  ফিরাউনের রাজনীতি ছিল অসভ্য ও বর্বর রাষ্ট্র নির্মাণের হাতিয়ার। অথচ নবীজী (সা:)’য়ের কাছে রাজনীতি ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র ও সভ্যতা নির্মাণের সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার। নবীজী (সা:)’য়ের কাছে রাজনীতি গণ্য হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত তথা জিহাদ রূপে। জনগণের জীবনে জিহাদের রাজনীতি না থাকার অর্থ: তাদের জীবনে নাই সভ্যতর মানব, সভ্যতর সমাজ ও সভ্যতর রাষ্ট্র নির্মাণের ভাবনা ও তাড়না। তাদের মাঝে নাই দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ। এরাই হলো তারা যারা চাষাবাদ, পশুপালন, মৎসপালন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাদারী নিয়ে ভাবে, কিন্তু দুর্বৃত্তমুক্ত সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণে নিজ সামর্থ্যের বিনিয়োগে তারা রাজী নয়। এমন চেতনাধারীদের সংখ্যাটি বাংলাদেশে বিশাল। বাংলাদেশের সকল ব্যর্থতার জন্য তারাই মূলত দায়ী। রাজনীতি থেকে দূরে থাকা লোকদের মাঝে রয়েছে দেশটির অধিকাংশ আলেম, মুফতি, মসজিদের ইমাম, পীর এবং মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ। তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশের রাজনীতি ও শাসন ক্ষমতা ইসলামের শত্রুপক্ষের দখলে। অথচ দেশ ইসলামের শত্রুদের দখলে গেলে জিহাদ ফরজ হয়ে যায়। সে সময় নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকাটি হারাম। সে নীতি মুনাফিকদের।  অনৈসলামী রাজনীতির ন্যায় এরূপ অবস্থায় রাজনীতিশূণ্যতা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার নাশকতাও অতি ভয়ানক। এরূপ রাজনীতিশূণ্যতা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা কাজ করে শয়তানের হাতিয়ার রূপে -যা নেয় জাহান্নামে।

 প্রখ্যাত গ্রীক দার্শনিক এরিস্টোটল মানবকে সংজ্ঞায়ীত করেছেন রাজনৈতিক পশু রূপে। তার কথায় পশু + রাজনীতি = মানুষ।  তার মত হলো, ব্যক্তির জীবন থেকে রাজনীতি বাদ পড়লে সে ব্যক্তিটি আর মানুষ থাকে না। সে নিরেট পশুতে পরিণত হয়। অতীতে মুসলিমগণ সর্ববৃহৎ বিশ্বশক্তির জন্ম দিয়েছিলেন। সেটি এজন্য নয় যে, তারা বহু হাজার মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে নামাজী ও রোজাদার বানাতে পেরেছিলেন। শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা এবং নামাজী-রোজাদারের সংখ্যার বলে সেটি সম্ভব হলে আজকের মুসলিমগণও বিশ্বশক্তিতে পরিণত হতো। কারণ, আজকের যুগে মসজিদ-মাদ্রাসা এবং নামাজী-রোজাদারের সংখ্যা অতীতের গৌরব যুগে চেয়ে বহুগুণ বেশি।

মুসলিম উম্মাহর অতীত সাফল্যের মূল কারণ, সে কালের মুসলিমদের শতকরা শতভাগই রাজনীতির জিহাদে সর্বসামর্থ্য দিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। কেউই রাজনীতির নিষ্ক্রিয় দর্শক ছিলেন না। বাগানে শতকোটি বৃক্ষ থেকে লাভ কি, যদি ফলবান বৃক্ষের সংখ্যা মাত্র গুটি কয়েক? আজকের মুসলিমদের অবস্থা তেমনি এক ফলশূণ্য বৃক্ষের বাগানের মত। অতীতের মুসলিমদের রাজনীতি স্রেফ ভোটদান ও মিটিং মিছিলের রাজনীতি ছিল না। বরং সেটি ছিল নিজ অর্থ, নিজ মেধা, নিজ শ্রম ও নিজ রক্ত বিনিয়োগের রাজনীতি। সেটি ছিল জিহাদের রাজনীতি।  সে রাজনীতি নিয়ে বাঁচতে অর্ধেকের বেশি সাহাবা শহীদ হয়েছেন। সে রাজনীতি নিয়ে বাঁচতে এবং সেটিকে প্রতিষ্ঠা দিতে নবীজী (সা:) ১০টি বছর রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন এবং অস্ত্র হাতে নিজে রণাঙ্গণে যুদ্ধে নেমেছেন। এটি হলো নবীজী (সা:)’য়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সূন্নত; মুসলিম জীবনে সে সূন্নত প্রতিষ্ঠা পাওয়ার কারণেই মুসলিমগণ বিশ্বশক্তির জন্ম দিতে পেরেছিল। এ সূন্নতকে বাদ দিয়ে শুধু  দাড়ি রাখা, খেজুর খাওয়া, পাগড়ি বাধা, মেছওয়াক করার ন্যায় সূন্নতগুলি নিয়ে বাঁচলে কি সেটি সম্ভব হতো? বাংলাদেশের শতকরা ৯১ ভাগ জনগণ নিজেদেরকে মুসলিম রূপে পরিচয় দেয়। কিন্তু তাদের অধিকাংশের মাঝে নবীজী (সা:)’য়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সে সূন্নতটি বেঁচে নাই। তবে তারা যে রাজনীতিশূণ্য -বিষয়টি তা নয়। তাদের জীবনেও রাজনীতি আছে। সেটি হলো ইসলাম থেকে দূরে সরা চোরডাকাত ভোটডাকাত সেক্যুলারিস্ট দুর্বৃ্ত্তদের বিজয়ী করার রাজনীতি। সে সাথে সেটি ইসলামকে পরাজিত রাখার রাজনীতি। সে রাজনীতি নিয়ে বাঁচাতে তারা সভা সমিতিতে যায়, প্রচার নামে, লাঠি ধরে, অর্থ দেয় এবং নির্বাচনে ভোট দেয়। সে রাজনীতিতে তাড়না নাই শরিয়া প্রতিষ্ঠার এবং ইসলামকে বিজয়ী করার। অথচ যে রাজনীতিতে ইসলাম ও তার শরিয়া আইনকে বিলুপ্ত রাখা হয় -সে রাজনীতি যে জাহান্নামে নেয়ার শয়তানী হাতিয়ার, তা নিয়ে কি সামান্যতম সন্দেহ আছে?

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

https://www.facebook.com/obaidul1991

বাঙালি মুসলিমের সকল ব্যর্থতার কারণ নৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা

Update Time : ১০:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ফিরোজ মাহবুব কামাল

বাঙালি মুসলিমের নৈতিক সংকট

ইসলামী রাষ্ট্রের নির্মাণে অতি জরুরি হলো, পবিত্র কুর’আনের জ্ঞানে আলোকিত জনগণ। অজ্ঞ ও জাহিল মানুষকে যেমন ঈমানদার বানানো যায় না, তেমনি তাদেরকে দিয়ে কখনোই ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ করা যায় না। পবিত্র কুর’আনের জ্ঞানার্জন এজন্যই নামাজ-রোজার আগে ফরজ করা হয়েছে। নবীজী (সা:) তাঁর ১৩ বছরের মক্কী জীবনে সে আলোকিত মানুষ গড়ার কাজটিই করেছেন।  সে সাথে জরুরি হলো সমাজ থেকে দুর্বৃত্তদের নির্মূলের কাজ। হিংস্র পশু অধ্যুষিত গহিন জঙ্গলে ঘর বাঁধা যায় না। তেমনি দুর্বৃত্তের প্লাবনে ভাসা ভূমিতে কখনোই কোন সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণ করা যায় না। এজন্যই আরব ভূমি থেকে আবু জেহেল, আবু লাহাব ও ইহুদী কুচক্রীদের নির্মূল করতে হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের পথে মূল বাধাটি এখানেই। দুর্বৃত্ত নির্মূলের কাজটি বাংলাদেশে হয়নি; বরং  বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে দুর্বৃত্ত-অধিকৃত রাষ্ট্রে। দেশ ভাসছে গুম, খুন, ধর্ষণ, চুরিডাকাতি, ভোটডাকাতি, সন্ত্রাসের জোয়ার। এমন দেশে ইসলামী রাষ্ট্র দূরে থাক অতি সাধারণ মাপের একটি সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণও অসম্ভব। এমন রাষ্ট্রে যা সহজ হয় তা হলো দুর্বৃত্তিতে বিশ্বরেকর্ড গড়া।

একটি দেশের জনগণের চেতনা, চরিত্র ও ঈমানের পরিচয় মেলে কাদেরকে তারা সম্মান করে এবং কাদেরকে তারা ঘৃণা করে -তা দেখে। এখানেই ব্যক্তির বিবেক ও কাণ্ডজ্ঞানের পরীক্ষা হয়। জান্নাতে যেতে হলে এ পরীক্ষায় পাশ করতে হয়, নইলে জাহান্নামে যেতে হয়।  গরু, বাছুর, মূর্তি ও মূর্তির যৌনাঙ্গকে যারা পূজা দেয় -তাদের কি সভ্য, বিবেকবান ও রুচিশীল মানব বলা যায়? এটি তো মহান আল্লাহতায়ালা-প্রদত্ত বিবেক-বুদ্ধির সাথেব গাদ্দারী। এরূপ অসভ্য ও অশ্লীল কাজ তো পশুও করে না। পবিত্র কুর’আনে কিছু মানুষকে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট  বলা হয়েছে। এরাই তো তারা। মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালার বিচারে এরা এতোই নিকৃষ্ট যে, তাদেরকে তিনি শাস্তি দিবেন অনন্ত কালের জন্য জাহান্নামের আগুনে ফেলে। তারা জাহান্নামে যাবে চুরি-ডাকাতি, ধর্ষণ বা খুনের অপরাধে নয়, বরং জাহিল, অজ্ঞ ও অসভ্য থাকার অপরাধে।

সেরূপ বিবেকহীনতা ও ঈমানহীনতার প্রকাশ ঘটে শুধু গরুপূজা, মূর্তিপূজা ও লিঙ্গপূজার মধ্য দিয়ে নয়, বরং সেটির প্রকাশ ঘটে গণতন্ত্র হত্যাকারি ফ্যাসিস্ট মুজিবের ন্যায় ভয়ানক অপরাধী ব্যক্তিকে নেতা, জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধুর আসনে বসানোর মধ্য দিয়েও। মুজিবের অপরাধের তালিকাটি বিশাল। সেটি যেমন গণতন্ত্র হত্যা, বিচার বহির্ভুত হত্যা, দুর্বৃত্ত প্রতিপালন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার; তেমনি তার অপরাধ হলো ভারতের হাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তুলে দেয়ার।

মহান রব’য়ের বিচারে খুন করা, ধর্ষণ করা, চুরিডাকাতি করাই শুধু অপরাধ নয়। ভয়ানক অপরাধ হল ফিরাউন, আবু জেহেল ও আবু লাহাবদের মত ব্যক্তিদের সম্মান দেখানো। অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে খুন, ধর্ষণ ও চুরিডাকাতির জন্য নয়, বরং অপরাধীদের প্রশংসা করা এবং তাদের পক্ষে সাক্ষী দেয়ার কারণে। কোন অপরাধীকে নেতা, পিতা ও বন্ধুর আসনে বসানো এবং নির্বাচনে তাকে ভোট দেয়ার অর্থ তার পক্ষে খাড়া হয় এবং সাক্ষী দেয়া। এটি তো গুরুতর নৈতিক অপরাধ। শুধু অপরাধীকেই মহান আল্লাহতায়ালা জাহান্নামে নিবেন না, বরং তাদেরও জাহান্নামে নিবেন যারা অপরাধীদের পক্ষে খাড়া দেয় এবং সাক্ষ্য দেয়। সিরাতাল মুস্তাকীমে চলতে মু’মিন ব্যক্তিকে প্রতি পদে পরীক্ষা দিতে হয়। তাকে যেমন ঈমান-আক্বীদার পরীক্ষায় পাশ করতে হয়, তেমনি পাশ করতে হয় ইসলামের শত্রুর পক্ষে খাড়া হওয়া ও তার পক্ষে ভোট দেয়া ও সাক্ষ্য দেয়া থেকে। কিন্তু সে পরীক্ষায় ক’জন বাঙালি পাশ করেছে?

সংকট বিবেকশূণ্যতা ও ঈমানশূণ্যতার

শেখ মুজিবের অপরাধী চরিত্র কোন গোপন বিষয় নয়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান ভাঙতে শেখ মুজিব ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার সাথে আগরতলা ষড়যন্ত্র করেছিল ষাটের দশকেই। তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলা উঠেছিল ১৯৬৮ সালে। সে ষড়যন্ত্র যে সত্য ছিল সে সাক্ষ্য দিয়েছে সে মামলার আরেক আসামী এবং আওয়ামী লীগ নেতা, জাতীয় সংসদের ডিপুটি স্পীকার লে.কর্নেল শওকত আলী। মুজিবের সে ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ছিল ভারতকে শক্তিশালী করা এবং পাকিস্তানকে দুর্বল করা। এটি তো মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। মুসলিম উম্মাহর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও ইজ্জত নিয়ে যার মধ্যে সামান্য পরিমাণ চিন্তা-ভাবনা আছে -সে কি এমন ভয়ানক অপরাধীকে সমর্থন করতে পারে? মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয় হতে হলে তাকে তো পৌত্তলিক হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়। মুসলিম দেশ ভাঙা নয়, বরং সে দেশের ভূগোল বাড়ানোর নিয়ত ও প্রচেষ্টা থাকতে হয়। জনগণের ভোটকে ইজ্জত দিতে হয়। সর্বোপরি জনগণকে কথা বলা, লেখালেখি, সভা-সমিতি ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার দিতে হয়। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশীরা দুর্বৃত্তিতে বিশ্বে ৫ বার প্রথম হয়েই শুধু রেকর্ড গড়েনি, রেকর্ড গড়েছে ফ্যাসিস্ট মুজিবের ন্যায় ভারতীয় চর এবং গণতন্ত্রের শত্রুকে জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধুর আসনে বসিয়। হিন্দুদের গরুপূজা, মূর্তি পূজা ও লিঙ্গ পূজার চেয়ে এটি কি কম বিবেকহীনতা?

অথচ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে মুজিব একদলীয় বাকশালী ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল। বাংলাদেশে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড প্রথম শুরু করে শেখ মুজিব। সে অপরাধ কর্মের জন্য গড়ে তোলে নৃশংস রক্ষি বাহিনী। বহু হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে এ বাহিনী হত্যা করে। সুশাসনের বদলে মুজিব সুযোগ করে দিয়েছিল ভারতীয় লুণ্ঠনসহ ভয়াবহ দুর্বৃত্তি ও দুঃশাসনের -যা ১৯৭৪ সালে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছিল। সে দুর্ভিক্ষে মৃত্যু হয় প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশীর। বাংলাদেশীদের জন্য এ ছিল মুজিবের উপহার! মুজিব দাঁড়িয়েছিল শুধু জনগণ ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতিপক্ষ রূপে নয়, বরং সত্য, ন্যায় ও সুবিচারের প্রতিপক্ষ রূপেও।  মুজিবের বিবেকশূণ্যতার মাত্রাটি প্রকট। সেটির প্রমাণ, সে চরম দুর্ভিক্ষের দিনেও মুজিব তার দুই পুত্রকে সোনার মুকুট পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছিল।

জান্নাতের যোগ্য হতে হলে সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায়, দুর্বৃত্তি ও সুনীতির মাঝে পার্থক্য বুঝার সামর্থ্যটুকু থাকতে হয়। সামর্থ্য থাকতে হয় ভয়ানক অপরাধীদের চেনার। মহান আল্লাহতায়ালা প্রতিটি মানুষের চোখের সামনে ফিরাউন, নমরুদ, মুজিব, হাসিনার ন্যায় ভয়ানক অপরাধীদের খাড়া করে তাদের ঈমানের পরীক্ষা নেন।  প্রশ্ন হলো, মুজিবের ন্যায় অপরাধীদেরকে যারা পিতা, নেতা ও বন্ধু বলে সম্মানিত করে -তারা কি কখনো ঈমানের পরীক্ষায় পাশ করতে পারে? একমাত্র বিবেকশূণ্যরাই এমন কাজ করতে পারে। তাই বাঙালি মুসলিমের সংকট শুধু ঈমানশূণ্যতা নয়, বরং প্রকট বিবেকশূণ্যতারও। এমন মৃত ঈমান ও মৃত বিবেকের মানুষদের নিয়ে কি ইসলামী রাষ্ট্র দূরে থাক, কোন সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণ করা যায়?

জনজীবনে রাজনীতিশূণ্যতার বিপদ

বাংলাদেশের ব্যর্থতার মূল কারণ, দেশটির অধিকাংশ মানুষের জীবনে কোন সভ্য রাজনীতির জ্ঞান নাই। সভ্য বুদ্ধিবৃত্তিও নাই। সুস্থ রাজনীতির প্রাকটিসও নাই। রাজনীতি বলতে অনেকে মনে করে কিছু লোক নিয়ে পছন্দের মত দল গড়া, দলাদলি করা, মিটিং-মিছিল করা ও নির্বাচন কলে ভোট দেয়া। অথচ রাজনীতির প্রকৃত অর্থ তা নয়। রাজনীতি হলো সভ্যতর মানব, সভ্যতর সমাজ ও সভ্যতর রাষ্ট্র নির্মাণের উচ্চমার্গীয় শিল্প।  রাজনীতি হলো মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার একমাত্র হাতিয়ার। ফলে নামাজ-রোজার ন্যায় রাজনীতিতে অংশ নেয়াও ফরজ। তাই শুধু মিটিং মিছিল ও ভোট দেয়ার সামর্থ্য থাকলে চলে না; সে সভ্য রাষ্ট্র গড়ার সে শিল্পে অংশ নেয়ার জন্য অপরিহার্য হলো হৃদয়ে সঠিক দর্শন ও রোডম্যাপ ধারণ করা -যা প্রতিপদে পথ দেখায়। ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সে কাজটি করে পবিত্র কুর’আনের দর্শন। মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রটি গড়েছেন নবীজী (সা:)। নবীজী (সা:) কোন রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ছিলেন না। কিন্তু সে কাজে তিনি প্রতি পদে পথনির্দেশনা পেয়েছেন মহান রাব্বুল আলামীন থেকে। তাকে পরামর্শ দিতে হযরত জিবরাইল (আ:) ভূপৃষ্ঠে নেমে আসতেন।  তিনি যা কিছু করছেন -তা করেছেন মহান রব’য়ের নির্দেশনা অনুযায়ী।  তাই রাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহতায়ালা কি চান -সেটিই দৃশ্যমান করেছেন মহান নবীজী (সা:)। তাই প্রতিটি ঈমানদারের উপর ফরজ দায় হলো, নবীজী (সা:)’য়ের অনুসৃত সে রাজনীতি নিয়ে বাঁচা। এটিই মুমিনের সার্বক্ষণিক জিহাদ। এটি সর্বোচ্চ ইবাদত। নামাজের ওয়াক্ত দিনে মাত্র ৫ বার। রোজা বছরে মাত্র এক মাস। কিন্তু রাজনৈতিক জিহাদের ওয়াক্ত সব সময়। নামাজ রোজায় কাজা আছে, কিন্তু এ জিহাদে কোন কাজা নাই।  কিন্তু বাংলাদেশীরা নবীজী (সা:)’য়ের অনুসৃত রাজনীতির অনুসরণ নিয়ে বাঁচে না। তারা বাঁচে মুজিব, হাসিনা ও জিয়ার রাজনৈতিক ধারার অনুসরণ নিয়ে। রাজনীতিতে তারা অনুসরণ করে না সিরাতাল মুস্তাকীম। ফলে তাদের রাজনীতি পরিণত হয়েছে বেঈমানীর প্রদর্শনী রূপে।

ইসলামের রাজনীতি ও অনৈসলামের রাজনীতি

ইসলামে রাজনীতি হলো জুলুম, দুর্বৃত্তি, স্বৈরাচার, মিথ্যাচার, মিথ্যা মতবাদ, মিথ্যা ধর্ম ও অবিচার নির্মূলের যুদ্ধ। সে জন্য জরুরি হলো সুনীতি, সুবিচার ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির উপর রাষ্ট্রকে পরিচালিত করা। এটি হলো সমাজ ও রাষ্ট্রকে মুসলিম বানানোর জিহাদ। এ পবিত্র রাজনৈতিক জিহাদ ছাড়া কোথাও কোন সভ্য রাষ্ট্র নির্মিত হয়না। একমাত্র এ রাজনীতিই মুমিনকে সর্বশ্রেষ্ঠ নেক আমল নিয়ে বাঁচার তাড়না দেয়। সে রাজনীতি তখন কাজ করে জনগণকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর কাজে হাতিয়ার রূপে। সে ফরজ কাজটি অসম্ভব হয় যদি ধর্মকর্মকে নামাজ-রোজা ও হজ্জ-যাকাতে সীমিত রাখা হয়। রাষ্ট্র তখন শয়তানী শক্তির দখলে যায়; রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো তখন জনগণকে জাহান্নামে নেয়ার বাহনে পরিণত হয়। রাষ্ট্রের বুকে তখন নানা রূপ অপরাধ কর্মের প্লাবন আসে।  এটিই হলো অনৈসলামী রাজনীতি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিজয় পেয়েছে এই অনৈসলামী রাজনীতি।

জীবন থেকে রাজনীতির জিহাদ বাদ দিলে মানব সন্তানও পশুতে পরিণত হয়। চোখের সামনে খুন, ধর্ষণ ও ডাকাতি হলেও গরু যেমন নীরবে ঘাষ খায়, পশুবৎ মানব সন্তানও তেমনি নিরাপদ দূরত্বে বসে তৃপ্তি ভরে পানাহার করে, বাঁচার খাতিরে বাঁচে ও যৌন সম্ভোগ করে। এটিই হলো নিরেট পশুত্ব। এরা নিজেদের মুসলিম বলে দাবী করে, কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন বিলুপ্ত করা হলেও এরা রাস্তায় নামে না। অনৈসলামী রাজনীতির এটিই হলো সবচেয়ে বড় নাশকতা। এরূপ দায়শূণ্য লোক দেখা গেছে নবীজী (সা:)’য়ের যুগেও। নবীজী (সা:)’য়ের পিছনে এরা নিয়মিত নামাজ পড়েছে, রোজা রেখেছে, এবং দান-খয়রাতও করেছে। কিন্তু মক্কার কাফিরদের পক্ষ থেকে যখন হামলা হয়েছে, তখন এরা শান্তিবাদী সেজেছে এবং জিহাদ থেকে দূরে থেকেছে। এরাই হলো মুসলিম ইতিহাসের অতি পরিচিত মুনাফিক। এরা ইসলাম ও মুসলিমের বিজয় চায় না, বরং পরাজয় চায়। এদের সর্দার ছিল আব্দুল্লাহ বিন উবাই। মদিনার বুকে মুনাফিকগণ জিততে পারিনি। কিন্তু বাংলাদেশে তারাই বিজয়ী; পরাজয় এদেশটিতে ইসলামপন্থীদের।

রাজনীতিশূণ্যতার বিপদ

অনেকের রয়েছে প্রচণ্ড রাজনীতি ভীতি। কারণ, রাজনীতিতে অর্থ, শ্রম ও রক্তের খরচ আছে। এজন্যই রাজীনীতিকে তারা আপদ মনে করে। ফলে ঝামেলামুক্ত জীবনের জন্য রাজনীতি থেকে দূরে থাকাকে তারা জরুরি মনে করে। তাদের কাছে রাজনীতি হলো কিছু স্বার্থান্বেষীদের স্বার্থ হাছিলের পেশা। সেক্যুলারিস্ট দুর্বৃত্তদের বেলায় কথাটি সত্য। রাজনীতি হলো একটি ধারালো অস্ত্রের ন্যায়। অস্ত্র দিয়ে খুন-ডাকাতি যেমন করা যায়, তেমনি তা দিয়ে খুনিকেও হত্যা করা যায়। নবীজী (সা:)ও তাই নিজ গৃহে তরবারি রাখতেন।  ফিরাউনের রাজনীতি ছিল অসভ্য ও বর্বর রাষ্ট্র নির্মাণের হাতিয়ার। অথচ নবীজী (সা:)’য়ের কাছে রাজনীতি ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র ও সভ্যতা নির্মাণের সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার। নবীজী (সা:)’য়ের কাছে রাজনীতি গণ্য হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত তথা জিহাদ রূপে। জনগণের জীবনে জিহাদের রাজনীতি না থাকার অর্থ: তাদের জীবনে নাই সভ্যতর মানব, সভ্যতর সমাজ ও সভ্যতর রাষ্ট্র নির্মাণের ভাবনা ও তাড়না। তাদের মাঝে নাই দুর্বৃত্তির নির্মূল ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ। এরাই হলো তারা যারা চাষাবাদ, পশুপালন, মৎসপালন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাদারী নিয়ে ভাবে, কিন্তু দুর্বৃত্তমুক্ত সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণে নিজ সামর্থ্যের বিনিয়োগে তারা রাজী নয়। এমন চেতনাধারীদের সংখ্যাটি বাংলাদেশে বিশাল। বাংলাদেশের সকল ব্যর্থতার জন্য তারাই মূলত দায়ী। রাজনীতি থেকে দূরে থাকা লোকদের মাঝে রয়েছে দেশটির অধিকাংশ আলেম, মুফতি, মসজিদের ইমাম, পীর এবং মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ। তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশের রাজনীতি ও শাসন ক্ষমতা ইসলামের শত্রুপক্ষের দখলে। অথচ দেশ ইসলামের শত্রুদের দখলে গেলে জিহাদ ফরজ হয়ে যায়। সে সময় নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকাটি হারাম। সে নীতি মুনাফিকদের।  অনৈসলামী রাজনীতির ন্যায় এরূপ অবস্থায় রাজনীতিশূণ্যতা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার নাশকতাও অতি ভয়ানক। এরূপ রাজনীতিশূণ্যতা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা কাজ করে শয়তানের হাতিয়ার রূপে -যা নেয় জাহান্নামে।

 প্রখ্যাত গ্রীক দার্শনিক এরিস্টোটল মানবকে সংজ্ঞায়ীত করেছেন রাজনৈতিক পশু রূপে। তার কথায় পশু + রাজনীতি = মানুষ।  তার মত হলো, ব্যক্তির জীবন থেকে রাজনীতি বাদ পড়লে সে ব্যক্তিটি আর মানুষ থাকে না। সে নিরেট পশুতে পরিণত হয়। অতীতে মুসলিমগণ সর্ববৃহৎ বিশ্বশক্তির জন্ম দিয়েছিলেন। সেটি এজন্য নয় যে, তারা বহু হাজার মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে নামাজী ও রোজাদার বানাতে পেরেছিলেন। শুধু মসজিদ-মাদ্রাসা এবং নামাজী-রোজাদারের সংখ্যার বলে সেটি সম্ভব হলে আজকের মুসলিমগণও বিশ্বশক্তিতে পরিণত হতো। কারণ, আজকের যুগে মসজিদ-মাদ্রাসা এবং নামাজী-রোজাদারের সংখ্যা অতীতের গৌরব যুগে চেয়ে বহুগুণ বেশি।

মুসলিম উম্মাহর অতীত সাফল্যের মূল কারণ, সে কালের মুসলিমদের শতকরা শতভাগই রাজনীতির জিহাদে সর্বসামর্থ্য দিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। কেউই রাজনীতির নিষ্ক্রিয় দর্শক ছিলেন না। বাগানে শতকোটি বৃক্ষ থেকে লাভ কি, যদি ফলবান বৃক্ষের সংখ্যা মাত্র গুটি কয়েক? আজকের মুসলিমদের অবস্থা তেমনি এক ফলশূণ্য বৃক্ষের বাগানের মত। অতীতের মুসলিমদের রাজনীতি স্রেফ ভোটদান ও মিটিং মিছিলের রাজনীতি ছিল না। বরং সেটি ছিল নিজ অর্থ, নিজ মেধা, নিজ শ্রম ও নিজ রক্ত বিনিয়োগের রাজনীতি। সেটি ছিল জিহাদের রাজনীতি।  সে রাজনীতি নিয়ে বাঁচতে অর্ধেকের বেশি সাহাবা শহীদ হয়েছেন। সে রাজনীতি নিয়ে বাঁচতে এবং সেটিকে প্রতিষ্ঠা দিতে নবীজী (সা:) ১০টি বছর রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন এবং অস্ত্র হাতে নিজে রণাঙ্গণে যুদ্ধে নেমেছেন। এটি হলো নবীজী (সা:)’য়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সূন্নত; মুসলিম জীবনে সে সূন্নত প্রতিষ্ঠা পাওয়ার কারণেই মুসলিমগণ বিশ্বশক্তির জন্ম দিতে পেরেছিল। এ সূন্নতকে বাদ দিয়ে শুধু  দাড়ি রাখা, খেজুর খাওয়া, পাগড়ি বাধা, মেছওয়াক করার ন্যায় সূন্নতগুলি নিয়ে বাঁচলে কি সেটি সম্ভব হতো? বাংলাদেশের শতকরা ৯১ ভাগ জনগণ নিজেদেরকে মুসলিম রূপে পরিচয় দেয়। কিন্তু তাদের অধিকাংশের মাঝে নবীজী (সা:)’য়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সে সূন্নতটি বেঁচে নাই। তবে তারা যে রাজনীতিশূণ্য -বিষয়টি তা নয়। তাদের জীবনেও রাজনীতি আছে। সেটি হলো ইসলাম থেকে দূরে সরা চোরডাকাত ভোটডাকাত সেক্যুলারিস্ট দুর্বৃ্ত্তদের বিজয়ী করার রাজনীতি। সে সাথে সেটি ইসলামকে পরাজিত রাখার রাজনীতি। সে রাজনীতি নিয়ে বাঁচাতে তারা সভা সমিতিতে যায়, প্রচার নামে, লাঠি ধরে, অর্থ দেয় এবং নির্বাচনে ভোট দেয়। সে রাজনীতিতে তাড়না নাই শরিয়া প্রতিষ্ঠার এবং ইসলামকে বিজয়ী করার। অথচ যে রাজনীতিতে ইসলাম ও তার শরিয়া আইনকে বিলুপ্ত রাখা হয় -সে রাজনীতি যে জাহান্নামে নেয়ার শয়তানী হাতিয়ার, তা নিয়ে কি সামান্যতম সন্দেহ আছে?