https://www.facebook.com/obaidul1991
২০২৪ সাল বৈষম্য বিরোধী ও রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাসের আন্দোলনের বছর হিসেবে বাংলাদেশে স্বরণীয় হয়ে থাকবে — মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৩:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / ২২ Time View

বাংলাদেশের ডাইরিতে ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিল সাধারণ
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি ঐতিহাসিক ও সফল গণঅভ্যুত্থান। সরকারি
চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে তীব্র
সরকার পতনের এক দফার 'অসহযোগ আন্দোলন'-এ রূপ নেয়, যা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের একমাত্র কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই আন্দোলনের তাদের প্রধান
দাবি ছিল মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার
করা। এই আন্দোলন দমনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং ছাত্র
হত্যার প্রতিবাদে তা দ্রুত সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি শুধু
কোটা সংস্কার নয়, বরং দেশে সুশাসন, মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার গন-
আন্দোলনে পরিণত হয়। যাহা কোনো একক রাজনৈতিক দলের বা প্রচলিত ছাত্র সংগঠনের
ব্যানারে এই আন্দোলন হয়নি। ইহা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের একটি সমন্বয়
কমিটির মাধ্যমে সারা দেশে এই আন্দোলন পরিচালিত হয়। আন্দোলন চলাকালে অসংখ্য
ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান, যারমধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের
আত্মত্যাগের দৃশ্য সারা বিশ্বে আলোড়ন তোলে। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল বা
সংস্কার না করার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূল যুক্তি ছিল অনগ্রসর ও
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী (যেমন-নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা) যেন
রাষ্ট্রীয় চাকরিতে প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত না হয় । এই যুক্তিকে পূঞ্জী করে দলীয় এম
পি ও চেলা চামুন্ডারা বিদলীয় লোকদের কাছ থেকে দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের অবৈধ ঘুষ
নিয়ে সরকারী চাকুরী প্রদান করতে দেখা গেছে। এরা বুঝে গেছে ক্ষমতা চলে গেলে আর সুযোগ
পাবে না। এছাড়া মুখে মুখে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও তাদের পরিবারের প্রতি সম্মান
প্রদর্শনও ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান ইস্যু । ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের
মুখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে একসময় সব কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন । তবে পরবর্তীতে
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, কোটা পুরোপুরি বাতিল করায় দেশের অনেক
অনগ্রসর জেলা ও সম্প্রদায় থেকে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রতিনিধিত্ব
হারাচ্ছে । আওয়ামী লীগের চেলা চামুন্ডারা মোটা অংকের টাকা খেয়ে দলের কর্মীকে পিছনে
ফেলে বিরুধী দলের ছেলে মেয়েদেরকে চাকরি গ্রদানের পানসি বিরতীহীনভাবে চালিয়েছে। অবৈধ
টাকার কাছে মেধা হেরে যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে উচ্চ আদালত যখন কোটা পুনর্বহাল
করার রায় দেয়, তখন তিনি অবস্থান নেন যে বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার এবং
নির্বাহী বিভাগের এখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই । এই কথা বলে কেটে যাওয়ার
চেষ্টা করেন। আমরা জানি রক্তে আগুন প্রতিরোধ করে। তীব্র ছাত্র-জনতার
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ
ছাড়তে বাধ্য হন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এ
পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অপরাধী ২৩ জন মন্ত্রী, ৫ জন প্রতিমন্ত্রী, ৩ জন উপমন্ত্রী
এবং বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার হয়ে কারারুদ্ধ
হয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তারকৃত ২৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি,
সাবেক রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান,
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং সাবেক
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ
আহমেদ পলক, সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, এবং সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী
আরিফ খান জয়। এর মধ্যে উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি
শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী,
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান ও এ্যাডভোকেট
কামরুল ইসলাম, এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। সব মিলিয়ে সাবেক মন্ত্রী,
উপদেষ্টা এবং সংসদ সদস্য (এমপি) মিলিয়ে শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি কারাগারে রয়েছেন।
তাদের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। আজ দেশে
জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগন আশা করে এই গনতান্ত্রিক
সরকার দেশ থেকে ঘুষ র্দূনীতি ও অর্থপাচারকারীদের চিরতরে বিদায় জানাবে।






















