০৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
https://www.facebook.com/obaidul1991
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পেয়ে রোগীর সন্তুষ্টি প্রকাশ
মোঃ জসীম উদ্দীন
- Update Time : ০৭:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / ২৯ Time View

বাঁশখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানাচ্ছেন অনেক রোগী ও সেবাগ্রহীতা। চিকিৎসকদের আন্তরিকতা, নিয়মিত উপস্থিতি এবং সেবার মান বৃদ্ধির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্তুষ্টি বাড়ছে বলে মতামত পাওয়া যাচ্ছে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক সেবাগ্রহীতা মোঃ হানিফ বলেন, আমার বাড়ি কাথরিয়া ইউনিয়নে। গত ২৫ জুলাই ঘুমানোর জন্য বাড়িতে মশারি টাংগাতে যাচ্ছিল। দুর্ভাগ্যবশত হাত ফ্যানের সাথে লেগে হাতের পিছনের পাশ কেটে যায়, শুরু হয় রক্তক্ষরণ। আমার বাবা আমাকে নিয়ে চলে আসলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাঁশখালী এর জরুরী বিভাগে। জরুরী বিভাগে কর্মরত ছিলেন ডা. মোহাম্মদ জুলকারনাইন স্যার। তিনি প্রাথমিকভাবে হাতের রগ কাটা গেছে দেখতে পান। তাই প্রাথমিকভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে রেফার করার প্রস্তুতি নেন।
কিন্তু আমার বাবা সামান্য একজন রিকশাচালন দিনমজুর, তার উপর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন প্রায় নি:স্ব। শহরে নিয়ে যাওয়ার গাড়ি ভাড়া পর্যন্ত নাই। তাই কর্তব্যরত ডাক্তারকে আমার বাবা অনুরোধ করে বলেন কোনভাবে এখানে কোনকিছু করা যায় কিনা একটু দেখেন। বাবার কথা শুনে জুলকারনাইন স্যার ফোন দিলেন ডা. আছরার উল্লাহ নুরীকে৷ যদিও ওনার ডিউটি ছিল না জুলকারনাইন স্যারের কল এবং উনি ফ্রি থাকাতে চলে আসলেন জরুরি বিভাগে। এবং আমাকে দেখে রাত প্রায় ১১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত সময় দিয়ে আমার চিকিৎসা সম্পূর্ণ করলেন।
এ বিষয়ে ডাক্তার বলেন, আলহামদুলিল্লাহ সফলভাবে মোহাম্মদ হানিফের হাতের রগ ( Tendon) রিপেয়ার করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ততক্ষণে রাত প্রায় ২ টা বাজে। প্রথমবার হাসি ফুটল আমাদের রোগী মোহাম্মদ হানিফ ও তার বাবার মুখে।
আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর চিকিৎসক ও স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। আমাদেরকে তিনি কিছু অর্থ ও অফার করলেন আমরা তাকে বললাম যে সরকারি হাসপাতালের সেবার কোন মূল্য হয় না।
স্থানীয়দের মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার-এর নেতৃত্বে হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত হয়েছে। রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ, ওষুধ বিতরণ, জরুরি সেবা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ সহজেই পাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং অনেকেই এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ ও সেবার মান ধরে রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। সেবার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
Tag :





























