০৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

বাঁশখালীতে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চলছে এনজিওর কিস্তি আদায়: চরম বিপাকে বন্যা দুর্গতরা

আনিছুর রহমান 
  • Update Time : ০৭:৪১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৯ Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক:- চট্টগ্রাম ​বন্যা দুর্গত এলাকায় তিন মাসের জন্য এনজিওর কার্যক্রম ও ঋণ কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তা মানছে না বাঁশখালীর বিভিন্ন এনজিও। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে জোরপূর্বক ঋণের কিস্তি আদায় অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
​সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের বাড়িঘরে এখনো বন্যার ক্ষত এবং চরম অর্থনৈতিক সংকট বিরাজ করছে। এর মধ্যেই গত ২৬ জুলাই গন্ডামারার বরঘোনা এবং বৈলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ি  নতুন পাড়া,মির্জা কাটা এলাকায় এনজিওর মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ঋণগ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করেন,ব্যুরো বাংলাদেশসহ পৃথক দুটি এনজিওর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
​এর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করতে এসে স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তরা যেন কোনোভাবেই কিস্তির টাকা পরিশোধ না করেন এবং এনজিওগুলোও যেন কোনো কিস্তি আদায় না করে।
​অথচ সরকারের এই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ের এনজিও কর্মীরা দাবি করছেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দপ্তরে লিখিত কি,বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ  নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
কিস্তির টাকা আদায়ের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মী এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও  সম্ভব হয়নি। ​ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, বন্যায় ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির কারণে এমনিতেই মানুষ দিশেহারা। দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ তাদের মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তিন মাসের জন্য ঋণ আদায় স্থগিত রাখার কথা বলা হলেও এনজিওগুলো তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে।
​বন্যা দুর্গত এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় এবং সরকারি নির্দেশ অমান্যকারী এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

বাঁশখালীতে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চলছে এনজিওর কিস্তি আদায়: চরম বিপাকে বন্যা দুর্গতরা

Update Time : ০৭:৪১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:- চট্টগ্রাম ​বন্যা দুর্গত এলাকায় তিন মাসের জন্য এনজিওর কার্যক্রম ও ঋণ কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তা মানছে না বাঁশখালীর বিভিন্ন এনজিও। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে জোরপূর্বক ঋণের কিস্তি আদায় অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
​সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের বাড়িঘরে এখনো বন্যার ক্ষত এবং চরম অর্থনৈতিক সংকট বিরাজ করছে। এর মধ্যেই গত ২৬ জুলাই গন্ডামারার বরঘোনা এবং বৈলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ি  নতুন পাড়া,মির্জা কাটা এলাকায় এনজিওর মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ঋণগ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করেন,ব্যুরো বাংলাদেশসহ পৃথক দুটি এনজিওর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
​এর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করতে এসে স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তরা যেন কোনোভাবেই কিস্তির টাকা পরিশোধ না করেন এবং এনজিওগুলোও যেন কোনো কিস্তি আদায় না করে।
​অথচ সরকারের এই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাঠ পর্যায়ের এনজিও কর্মীরা দাবি করছেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দপ্তরে লিখিত কি,বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ  নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
কিস্তির টাকা আদায়ের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মী এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও  সম্ভব হয়নি। ​ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, বন্যায় ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির কারণে এমনিতেই মানুষ দিশেহারা। দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ তাদের মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তিন মাসের জন্য ঋণ আদায় স্থগিত রাখার কথা বলা হলেও এনজিওগুলো তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে।
​বন্যা দুর্গত এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় এবং সরকারি নির্দেশ অমান্যকারী এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।