০২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে রাতের আঁধারে ফলগাছ কেটে নাশকতা, কৃষকের মাথায় হাত

ইব্রাহিম হোসেন রুবেল
  • Update Time : ০৬:১৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / ২ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:  রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কাদিপুর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় কৃষক মোঃ আকবর আলীর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ফলের বাগানে রাতের অন্ধকারে ঢুকে কে বা কারা একাধিক ফলগাছ কেটে ফেলে পালিয়ে যায়। সকালে বাগানে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

ছবিতে দেখা যায়, ফলে ভরা পেঁপে গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। কিছু গাছে অনেকগুলো কাঁচা পেঁপে ঝুলছিল, যা কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারজাত করার উপযোগী হতো। কিন্তু দুর্বৃত্তদের এমন নাশকতায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে কৃষকের মাসের পর মাসের শ্রম, সময় ও অর্থের বিনিয়োগ।

স্থানীয়দের ধারণা, গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে কারা এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা সূত্র পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি গাছ কাটার ঘটনা নয়, বরং একজন কৃষকের জীবিকা ও স্বপ্নের ওপর নির্মম আঘাত।

কৃষক মোঃ আকবর আলী জানান, অনেক কষ্ট করে তিনি এই ফলের বাগান গড়ে তুলেছিলেন। গাছগুলো থেকে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা সেই আশায় আঘাত হেনেছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এলাকাবাসী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, কৃষকের ওপর এমন হামলা ও ফসল নষ্ট করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও ফলের বাগানে গাছ কেটে দেওয়ার মতো নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান:
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ আকবর আলীর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হোক, যাতে তিনি আবারও নতুন উদ্যমে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে রাতের আঁধারে ফলগাছ কেটে নাশকতা, কৃষকের মাথায় হাত

Update Time : ০৬:১৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:  রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কাদিপুর গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় কৃষক মোঃ আকবর আলীর দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ফলের বাগানে রাতের অন্ধকারে ঢুকে কে বা কারা একাধিক ফলগাছ কেটে ফেলে পালিয়ে যায়। সকালে বাগানে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

ছবিতে দেখা যায়, ফলে ভরা পেঁপে গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। কিছু গাছে অনেকগুলো কাঁচা পেঁপে ঝুলছিল, যা কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারজাত করার উপযোগী হতো। কিন্তু দুর্বৃত্তদের এমন নাশকতায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে কৃষকের মাসের পর মাসের শ্রম, সময় ও অর্থের বিনিয়োগ।

স্থানীয়দের ধারণা, গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে কারা এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা সূত্র পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি গাছ কাটার ঘটনা নয়, বরং একজন কৃষকের জীবিকা ও স্বপ্নের ওপর নির্মম আঘাত।

কৃষক মোঃ আকবর আলী জানান, অনেক কষ্ট করে তিনি এই ফলের বাগান গড়ে তুলেছিলেন। গাছগুলো থেকে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা সেই আশায় আঘাত হেনেছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এলাকাবাসী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, কৃষকের ওপর এমন হামলা ও ফসল নষ্ট করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও ফলের বাগানে গাছ কেটে দেওয়ার মতো নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান:
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ আকবর আলীর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হোক, যাতে তিনি আবারও নতুন উদ্যমে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারেন।