১১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নতুন সদস্যপদ প্রদানকে কেন্দ্র করে সাধারণ সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ

Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / ৬ Time View

দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন জাতীয় প্রেস ক্লাবের নতুন সদস্যপদ প্রদানকে কেন্দ্র করে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ৪৪১ জন সাংবাদিককে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই ক্লাবের অভ্যন্তরে এবং সাধারণ সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ৪৪১ জনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অন্তত ৬ জন সদস্যের নাম একাধিকবার এসেছে তালিকায়।

সংবাদকর্মীরা বলছেন, পেশাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অনেক অপেশাদার এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। অযোগ্যদের সদস্যপদ দিতে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সদস্য করতে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। হোটেলের ম্যানেজার, পিয়ন, কম্পিউটার অপারেটর এমনকি গণমাধ্যমে মার্কেটিং বিভাগে কর্মরতদেরও সদস্য করা হয়েছে। এক বছর সাংবাদিকতায় এসেছেন এমন নবীন সংবাদকর্মীকেও সদস্যপদ দিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি।

এবার বাছাই উপ-কমিটিতে আহবায়ক ছিলেন কাদের গনি চৌধুরী; তার পছন্দের অন্যদের কমিটিতে যুক্ত করা হয়। তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও বরাবরই তিনি জামায়াত ও গুপ্তদের প্রেস ক্লাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। ২০২৪ সালেও প্রেস ক্লাবে যে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে সেখানে জামায়াত নেতাদের সদস্যপদ দেন কাদের গনি চৌধুরী। ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, বিএফইউজে’র সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন জামায়াতের রোকন পদে রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ নিয়ে অর্থ বাণিজ্য করেছেন কাদের গনি চৌধুরী।

শুধুমাত্র দেশটিভি থেকে ২৫ জনকে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের নামে ডাবল সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় ৪০৫ ও ৪২২ তম ক্রমিকে আলীমুজ্জামান সাফওয়ান একই ব্যক্তির নাম। তিনি সাংবাদিকতা করেন দুই বছরও হয়নি। দেড় বছর আগেও ঢাকা ট্রিবিউনে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করতেন।  ১৪৫ ও ১৮৭ নম্বরেও একই ব্যক্তি আনিসুর রহমান তারেক। তিনি সাংবাদিক নন, কাজ করেন দেশটিভির মার্কেটিং বিভাগে। ১৮৮, ২২০ মো: হামিদ উল্লাহ মুকুল একই ব্যক্তি। ১০৭ নম্বরে দেশ টিভি থেকে সদস্যপদ পাওয়া আল্লামা ইকবাল সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ও অসাংবাদিক।

নতুন সদস্য তালিকার ৬ নম্বরে ঠাঁই পাওয়া শাখাওয়াত হোসেন হোটেল ওয়েস্টিনের ম্যানেজার। ৪৩৮ নম্বর ক্রমিকে সদস্যপদ পাওয়া তুলনা আফরিন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের রক্ষিতা। স্বৈরাচার আমলে বিটিভিতে চাকরি নিলেও ৫ আগস্টের পর চাকরিচ্যুত হন। ৪১৫ নম্বর ক্রমিকে সদস্যপদ পাওয়া শাপলা রহমান আওয়ামী লীগ নেত্রী। তিনি একজন সাংবাদিক নেতার শয্যাসঙ্গিনী।

আমাদের বার্তা নামে একটি ভূঁইফোড় পত্রিকা থেকে বেশ কয়েকজনকে সদস্যপদ দিয়েছেন কাদের গনি গং। কান্ট্রি টু ডে, বাঙলার জাগরণ, আমার বাঙলা, বাংলাদেশ ফাস্টসহ বেশ কয়েকটি ভূইফোড় গণমাধ্যমের পরিচয়ে জামায়াত কর্মীদের সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন গণমাধ্যম থেকে বিপুল সংখ্যক সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরার মিডিয়াগুলো যে ‘আচরণ’ করছে তাদের সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সাথে এসবের মূলহোতার নাম কাদের গনি। যাকে বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের প্রধান লাঠিয়াল নিয়োগ দিয়েছিলো ‘বিএনপির’ ‘বড়’ ‘নেতা’ হিসেবে। এর আগে চাঁদাবাজি ও অন্য রাজনৈতিক দলের হয়ে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ জন্য বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে ‘কিক’ করা হয়েছিলো গনিকে। মজার বিষয় এমন একজন “নিপাট ভদ্দরনোক” হতে চাচ্ছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের ডিজি। যার জন্য জামায়াত-বিএনপির সুবিধাভোগী সাংবাদিক ও নেতারা লবিং করছেন।

বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ সাংবাদিকদের দাবি, প্রকৃত পেশাদার ও মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অনেক যোগ্য সাংবাদিককে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আর্থিক সুবিধা ও লবিংয়ের মাধ্যমে এমন কিছু ব্যক্তিকে সদস্য করা হয়েছে যাদের মূলধারার সাংবাদিকতায় কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। এই সদস্যপদ বাণিজ্যের পেছনে ক্লাবের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে এবং এতে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন চলছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ সদস্য বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের একটি নিজস্ব গৌরব ও ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু এবারের সদস্যপদ তালিকায় যেভাবে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, তা এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

সাংবাদিক মাহবুব আলম লাভলু লিখেছেন, একজন সাংবাদিক নেতার কাছে প্রেসক্লাবের সদস‍্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলাম। কথা প্রসঙ্গে তিনি হাইপার হয়ে বললেন, ‘যান আপনে আমার বা/ল ছিড়েন।’ আমি বোকা বনে গেলাম।

সাংবাদিক গাজী আবু বকর ফেসবুকে লিখেছেন, গত ১২ মে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ৪৪১ জন সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঐদিন সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে নতুন সদস্যদের তালিকা প্রকাশ ও টানানো হয়। প্রকাশিত তালিকায় একাধিকবার আসা নামের তালিকা:- যাদের অনেকের পত্রিকার নাম বা কর্মস্থল ভিন্ন। আবার দু’জনের কর্মস্থল আছে অভিন্ন।
১৪৫. মোঃ আনিসুর রহমান তারেক (দেশ টিভি)
১৮৭. মো: আনিসুর রহমান তারেক (দেশ টিভি)
১৮৮. মেঃ হামিদ উল্লল্লাহ মুকুল (দেশ টিভি)
২২০. মো: হামিদ উল্লল্লাহ মুকুল (দেশ টিভি)
৪০৫. আলীমুজ্জামান সাফওয়ান (দেশ টিভি)
৪২২. আমীরুজ্জামান আমীরুজ্জামান (দেশ টিভি)
১৬৬. মিজানুর রহমান (দেশ টিভি)
২৬৪. মিজানুর রহমান (নিউজ টুয়েন্টি ফোর)
২৮৯. মিজানুর রহমান (এ মিজান) (খবরের কাগজ)
৪৭. আবুল কালাম আজাদ (এটিএন নিউজ)
৫৮. আবুল কালাম আজাদ (কালের কণ্ঠ)
২৫২. আবুল কালাম আজাদ (সংগ্রাম)
২৭৪. আবুল কালাম আজাদ (বিবিসি বাংলা)
৭৮. মোঃ জাহিদুল ইসলাম (আমার দেশ)
৪৩৬. মোঃ জাহিদুল ইসলাম (আরটিভি)
২৪১. মো: শফিকুল ইসলাম (কালবেলা)
৩৯৬. মো: শফিকুল ইসলাম (ঢাকা পোস্ট)
২০. আরিফুর রহমান (প্রথম আলো)
৪৩২. আরিফুর রহমান (নিউজ টোয়েন্টি ফোর)
৬. শাখাওয়াত হোসেন (আমাদের সময়)
৮২. সাখাওয়াত হোসেন (আমার দেশ)
৮৯. সাখাওয়াত হোসেন (ইনকিলাব)
৩৭৪. মনিরুল ইসলাম (ডিবিসি নিউজ)
৪১২. মনিরুল ইসলাম (আমাদের নতুন সময়)
১৬১. মেঃ মাসউদুর রহমান (চ্যানেল ২৪)
২২৪. মোঃ মাসউদুর রহমান (নয়াদিগন্ত)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এখানে তালিকার নাম ও কর্মক্ষেত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকার অনেক ক্ষেত্রে একই নামের ব্যক্তির পাশে ভিন্ন কর্মক্ষেত্রের নাম থাকায়, তারা ভিন্ন ব্যক্তিও হতে পারেন অথবা একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কর্মরত থাকা অবস্থায় একাধিক আবেদন করার কারণে তালিকায় একই নাম একাধিকবার আসতে পারে। তবে নাম ও বানান হুবহু মিলে যাওয়ায় এগুলো পুনরাবৃত্তির তালিকায় রাখা হয়েছে।
সাংবাদিক আহসান কামরুল ফেসবুকে লিখেছেন, জুলাইয়ে ৪১ জন সাংবাদিক প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস দেখাতে না পারলেও ৪৪১ জন ৫ আগস্টের সুফল ঘরে তুলতে পেরেছেন, এজন্য তাদেরকে অভিনন্দন। এর বিপরীতে পেশাদারদের বদলে যারা দলীয় কর্মী, কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী, নেতার স্ত্রী, শ্যালিকা এবং বাসার বাজার করে দেওয়া কর্মচারীদের জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ দিয়েছেন, প্রকৃতি তাদের বিচার অবশ্যই করবে। ৫ আগস্ট না এলে হর্তাকর্তা হওয়া তো দূরের কথা, যাদেরকে প্রেসক্লাবের কুত্তায়ও পাত্তা দিত না, প্রকৃতি তাদেরকে ছাড় দিলেও ছেড়ে দেবে না নিশ্চয়ই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নতুন সদস্যপদ প্রদানকে কেন্দ্র করে সাধারণ সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ

Update Time : ১২:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন জাতীয় প্রেস ক্লাবের নতুন সদস্যপদ প্রদানকে কেন্দ্র করে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ৪৪১ জন সাংবাদিককে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই ক্লাবের অভ্যন্তরে এবং সাধারণ সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ৪৪১ জনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অন্তত ৬ জন সদস্যের নাম একাধিকবার এসেছে তালিকায়।

সংবাদকর্মীরা বলছেন, পেশাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অনেক অপেশাদার এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। অযোগ্যদের সদস্যপদ দিতে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সদস্য করতে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। হোটেলের ম্যানেজার, পিয়ন, কম্পিউটার অপারেটর এমনকি গণমাধ্যমে মার্কেটিং বিভাগে কর্মরতদেরও সদস্য করা হয়েছে। এক বছর সাংবাদিকতায় এসেছেন এমন নবীন সংবাদকর্মীকেও সদস্যপদ দিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি।

এবার বাছাই উপ-কমিটিতে আহবায়ক ছিলেন কাদের গনি চৌধুরী; তার পছন্দের অন্যদের কমিটিতে যুক্ত করা হয়। তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও বরাবরই তিনি জামায়াত ও গুপ্তদের প্রেস ক্লাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। ২০২৪ সালেও প্রেস ক্লাবে যে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে সেখানে জামায়াত নেতাদের সদস্যপদ দেন কাদের গনি চৌধুরী। ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, বিএফইউজে’র সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন জামায়াতের রোকন পদে রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ নিয়ে অর্থ বাণিজ্য করেছেন কাদের গনি চৌধুরী।

শুধুমাত্র দেশটিভি থেকে ২৫ জনকে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের নামে ডাবল সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় ৪০৫ ও ৪২২ তম ক্রমিকে আলীমুজ্জামান সাফওয়ান একই ব্যক্তির নাম। তিনি সাংবাদিকতা করেন দুই বছরও হয়নি। দেড় বছর আগেও ঢাকা ট্রিবিউনে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করতেন।  ১৪৫ ও ১৮৭ নম্বরেও একই ব্যক্তি আনিসুর রহমান তারেক। তিনি সাংবাদিক নন, কাজ করেন দেশটিভির মার্কেটিং বিভাগে। ১৮৮, ২২০ মো: হামিদ উল্লাহ মুকুল একই ব্যক্তি। ১০৭ নম্বরে দেশ টিভি থেকে সদস্যপদ পাওয়া আল্লামা ইকবাল সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ও অসাংবাদিক।

নতুন সদস্য তালিকার ৬ নম্বরে ঠাঁই পাওয়া শাখাওয়াত হোসেন হোটেল ওয়েস্টিনের ম্যানেজার। ৪৩৮ নম্বর ক্রমিকে সদস্যপদ পাওয়া তুলনা আফরিন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের রক্ষিতা। স্বৈরাচার আমলে বিটিভিতে চাকরি নিলেও ৫ আগস্টের পর চাকরিচ্যুত হন। ৪১৫ নম্বর ক্রমিকে সদস্যপদ পাওয়া শাপলা রহমান আওয়ামী লীগ নেত্রী। তিনি একজন সাংবাদিক নেতার শয্যাসঙ্গিনী।

আমাদের বার্তা নামে একটি ভূঁইফোড় পত্রিকা থেকে বেশ কয়েকজনকে সদস্যপদ দিয়েছেন কাদের গনি গং। কান্ট্রি টু ডে, বাঙলার জাগরণ, আমার বাঙলা, বাংলাদেশ ফাস্টসহ বেশ কয়েকটি ভূইফোড় গণমাধ্যমের পরিচয়ে জামায়াত কর্মীদের সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন গণমাধ্যম থেকে বিপুল সংখ্যক সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরার মিডিয়াগুলো যে ‘আচরণ’ করছে তাদের সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সাথে এসবের মূলহোতার নাম কাদের গনি। যাকে বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের প্রধান লাঠিয়াল নিয়োগ দিয়েছিলো ‘বিএনপির’ ‘বড়’ ‘নেতা’ হিসেবে। এর আগে চাঁদাবাজি ও অন্য রাজনৈতিক দলের হয়ে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ জন্য বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে ‘কিক’ করা হয়েছিলো গনিকে। মজার বিষয় এমন একজন “নিপাট ভদ্দরনোক” হতে চাচ্ছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের ডিজি। যার জন্য জামায়াত-বিএনপির সুবিধাভোগী সাংবাদিক ও নেতারা লবিং করছেন।

বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ সাংবাদিকদের দাবি, প্রকৃত পেশাদার ও মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অনেক যোগ্য সাংবাদিককে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আর্থিক সুবিধা ও লবিংয়ের মাধ্যমে এমন কিছু ব্যক্তিকে সদস্য করা হয়েছে যাদের মূলধারার সাংবাদিকতায় কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। এই সদস্যপদ বাণিজ্যের পেছনে ক্লাবের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে এবং এতে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন চলছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ সদস্য বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের একটি নিজস্ব গৌরব ও ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু এবারের সদস্যপদ তালিকায় যেভাবে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, তা এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

সাংবাদিক মাহবুব আলম লাভলু লিখেছেন, একজন সাংবাদিক নেতার কাছে প্রেসক্লাবের সদস‍্য পদের বিষয়ে জানতে চাইলাম। কথা প্রসঙ্গে তিনি হাইপার হয়ে বললেন, ‘যান আপনে আমার বা/ল ছিড়েন।’ আমি বোকা বনে গেলাম।

সাংবাদিক গাজী আবু বকর ফেসবুকে লিখেছেন, গত ১২ মে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ৪৪১ জন সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঐদিন সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে নতুন সদস্যদের তালিকা প্রকাশ ও টানানো হয়। প্রকাশিত তালিকায় একাধিকবার আসা নামের তালিকা:- যাদের অনেকের পত্রিকার নাম বা কর্মস্থল ভিন্ন। আবার দু’জনের কর্মস্থল আছে অভিন্ন।
১৪৫. মোঃ আনিসুর রহমান তারেক (দেশ টিভি)
১৮৭. মো: আনিসুর রহমান তারেক (দেশ টিভি)
১৮৮. মেঃ হামিদ উল্লল্লাহ মুকুল (দেশ টিভি)
২২০. মো: হামিদ উল্লল্লাহ মুকুল (দেশ টিভি)
৪০৫. আলীমুজ্জামান সাফওয়ান (দেশ টিভি)
৪২২. আমীরুজ্জামান আমীরুজ্জামান (দেশ টিভি)
১৬৬. মিজানুর রহমান (দেশ টিভি)
২৬৪. মিজানুর রহমান (নিউজ টুয়েন্টি ফোর)
২৮৯. মিজানুর রহমান (এ মিজান) (খবরের কাগজ)
৪৭. আবুল কালাম আজাদ (এটিএন নিউজ)
৫৮. আবুল কালাম আজাদ (কালের কণ্ঠ)
২৫২. আবুল কালাম আজাদ (সংগ্রাম)
২৭৪. আবুল কালাম আজাদ (বিবিসি বাংলা)
৭৮. মোঃ জাহিদুল ইসলাম (আমার দেশ)
৪৩৬. মোঃ জাহিদুল ইসলাম (আরটিভি)
২৪১. মো: শফিকুল ইসলাম (কালবেলা)
৩৯৬. মো: শফিকুল ইসলাম (ঢাকা পোস্ট)
২০. আরিফুর রহমান (প্রথম আলো)
৪৩২. আরিফুর রহমান (নিউজ টোয়েন্টি ফোর)
৬. শাখাওয়াত হোসেন (আমাদের সময়)
৮২. সাখাওয়াত হোসেন (আমার দেশ)
৮৯. সাখাওয়াত হোসেন (ইনকিলাব)
৩৭৪. মনিরুল ইসলাম (ডিবিসি নিউজ)
৪১২. মনিরুল ইসলাম (আমাদের নতুন সময়)
১৬১. মেঃ মাসউদুর রহমান (চ্যানেল ২৪)
২২৪. মোঃ মাসউদুর রহমান (নয়াদিগন্ত)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এখানে তালিকার নাম ও কর্মক্ষেত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পুনরাবৃত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকার অনেক ক্ষেত্রে একই নামের ব্যক্তির পাশে ভিন্ন কর্মক্ষেত্রের নাম থাকায়, তারা ভিন্ন ব্যক্তিও হতে পারেন অথবা একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কর্মরত থাকা অবস্থায় একাধিক আবেদন করার কারণে তালিকায় একই নাম একাধিকবার আসতে পারে। তবে নাম ও বানান হুবহু মিলে যাওয়ায় এগুলো পুনরাবৃত্তির তালিকায় রাখা হয়েছে।
সাংবাদিক আহসান কামরুল ফেসবুকে লিখেছেন, জুলাইয়ে ৪১ জন সাংবাদিক প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস দেখাতে না পারলেও ৪৪১ জন ৫ আগস্টের সুফল ঘরে তুলতে পেরেছেন, এজন্য তাদেরকে অভিনন্দন। এর বিপরীতে পেশাদারদের বদলে যারা দলীয় কর্মী, কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী, নেতার স্ত্রী, শ্যালিকা এবং বাসার বাজার করে দেওয়া কর্মচারীদের জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ দিয়েছেন, প্রকৃতি তাদের বিচার অবশ্যই করবে। ৫ আগস্ট না এলে হর্তাকর্তা হওয়া তো দূরের কথা, যাদেরকে প্রেসক্লাবের কুত্তায়ও পাত্তা দিত না, প্রকৃতি তাদেরকে ছাড় দিলেও ছেড়ে দেবে না নিশ্চয়ই।