https://www.facebook.com/obaidul1991
স্রোতে ভাসা বাঙালি মুসলিমগণ দ্রুত সরছে ইসলাম থেকে
- Update Time : ০৫:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ৬ Time View

ফিরোজ মাহবুব কামাল
সাংস্কৃতিক উৎসবে দৃশ্যমান হচ্ছে বেঈমানী
বাংলাদেশে নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ ও একুশে ফেব্রেয়ারির উদযাপন দেখে মনে হয় বাঙালি মুসলিমগণ দ্রুত ইসলাম থেকে দূরে সরছে। আল্লাহর ভয় এবং আখেরাতের ভয় এখন আর তাদের মাঝে কাজ করছে না। মনে হচ্ছে, তাদের মন থেকে বহু আগেই সেগুলি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ধর্মের নামে যা বেঁচে আছে সেটি লোক দেখানো আচার, সত্যিকার কোন ঈমানদারী নয়। কোন ঈমানদার কখনোই এভাবে উৎসব করতে পারে না। যারা আল্লাহতায়ালার ভয় ও ঈমান নিয়ে বাঁচে তাদের উৎসব কখনোই এরূপ হয়না। তাদের উৎসবের মধ্যে আখেরাতের ভয় দেখা যায়।
ম্যালেরিয়া বা নেউমোনিয়া আক্রান্ত হলে সেটি গোপন থাকে না। তীব্র জ্বর, ব্যাথা আর কাঁপুনি দিয়ে উপস্থিতি জানিয়ে দেয়। তেমনি বেঈমানীর জোয়ার এলে সেটিও গোপন থাকে না। বাঙালি জীবনে সে বেঈমানীর প্রবল প্রকাশ ঘটে পহেলা বৈশাখ, বসন্তবরণ ও একুশে ফেব্রুয়ারি এলে। তখন বুঝা যায় বাঙালি মুসলিম কতটা দূরে সরেছে ইসলাম থেকে এবং কতটা ভেসে চলেছে সেকুলার বাঙালি সংস্কৃতির স্রোতে।
মুসলিমের ইবাদতই শুধ কাফিরদের থেকে ভিন্ন নয়, ভিন্ন হলো তাদের সংস্কৃতি। মানুষ যেভাবে বাঁচে এবং যেভাবে তার সুখ-দুঃখের প্রকাশ করে বস্তুত সেটিই হলো তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই দৃশ্যমান হয় ব্যক্তির ঈমান। আর মুসলিম এবং অমুসলিম কখনো একই ভাবে বাঁচে না এবং একই ভাবে সুখ-দুঃখের প্রকাশ করে না -ফলে তাদের সংস্কৃতিও একই রূপ হয়না।
পহেলা বৈশাখ, বসন্তবরণ ও একুশে ফেব্রুয়ারির উৎসব দেখে মনেই হয় না বাংলাদেশ একটা মুসলিমের দেশ। বুঝাই যায় না এখানকার মানুষের ধর্ম ইসলাম। নতুন বসন্ত ও নতুন বছর সাহাবাদের আমলে আরবের বুকেও এসেছে। কিন্তু তারা কি কখনো এভাবে নেচে কুদে ও সেজে গুজে নারী পুরুষ একত্রে রাজপথের উৎসবে নেমেছেন? মদিনা ছিল শহীদদের নগরী; পৃথিবীর আর কোন জনপদের মানুষ এতো অধিক হারে শহীদ হননি। নবীজী (সা:)’য়ের অর্ধেকের বেশী সাহাবা শহীদ হয়ে গেছেন। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত শহীদদের বাস ছিল মদিনায়। কিন্তু সে শহীদদের স্মরণে পূজাস্তম্ভ বানিয়ে কেউ কি নগ্ন পদ ফুল দিতে যায়?
বাঙালি মুসলিমের সাংস্কৃতিক বিদ’য়াত
বাঙালি মুসলিমের জীবনে বাঙালি সংস্কৃতির নামে যা কিছু হচ্ছে তা সম্পূর্ণ বিদ’আত। এসবের প্রবেশ ঘটেছে প্রতিবেশী পৌত্তলিক হিন্দু সংস্কৃতি থেকে। আর বিদ’য়াতের পথ তো সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতির পথ তথা জাহান্নামের পথ। শয়তান দুই ভাবে মানুষকে জাহান্নামে নেয়। এক). ধর্মে অবিশ্বাসী নাস্তিক অথবা পৌত্তলিক বা অন্য কোন মিথ্যা ধর্মে বিশ্বাসী বানিয়ে। দুই). সাংস্কৃতিক বিচ্যুতির মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী বানিয়ে। শয়তান বাঙালি মুসলিমদের গরু পূজারী, মূর্তি পূজারী বানাতে না পারলেও আল্লাহতায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী করছে সাংস্কৃতিক অঙ্গণে। শয়তান তাতেই খুশি। কারণ, জাহান্নামে নেয়ার জন্য এই সাংস্কৃতিক বিচ্যুতিটাই যথেষ্ঠ।
নবীজী (সা) আর কোন কালেই আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। কিন্তু তিনি যদি কবর থেকে উঠে বাংলাদেশ আসতেন তবে বাংলাদেশী নারী পুরুষদের এরূপ একত্রে নেচে কুদে বসন্ত বরণ করতে দেখে মুসলিম ভাবতেন না। বিস্মিত হতেন এবং মনে করতেন, দেশটি নিশ্চয়ই পৌত্তলিক হিন্দুদের। কারণ মানুষের বেঈমানি শুধু মূর্তিপূজায় ধরা পড়ে না, দেখা যায় সাংস্কৃতিক পৌত্তলিকতার মাঝেও। ঈমানদারের প্রতিটি কর্ম ও উৎসবের মধ্যে দৃশ্যমান মহান আল্লাহর স্মরণ বা যিকর। এভাবে ঈমানদার তার প্রতিটি কর্ম ও উৎসবকে ইবাদতে পরিণত করে। অপর দিকে বেঈমানগণ করে উল্টোটি। সে তার প্রতিটি উৎসবকে বড় রকমের পাপ কর্মে পরিণত করে। কালের বা ঋতুর আবর্তন ঘটান খোদ আল্লাহ সুবহানাতায়ালা। তাই বছর ঘুরে নতুন বছর আসলে স্মরণ করা উচিত সে মহান রবয়ের। কিন্তু বেঈমানেরা আল্লাহকে ভুলে থাকার নানারূপ কৌশল আবিষ্কার করেছে। নাচ গান নিয়ে উৎসব করাটি বস্তুত আল্লাহকে ভুলে থাকার পুরাতন শয়তানি কৌশল। অপর দিকে ঈমানদারের কাছে প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা মনে হয়। পরীক্ষার মাঝে বসে নাচ গানের ফুরসত কোথায়?
যুদ্ধ হচ্ছে তিন রণাঙ্গণে
বাংলাদেশ প্রবল যুদ্ধ হচ্ছে তিন রণাঙ্গণে। যুদ্ধ হচ্ছে রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে। প্রতিটি যুদ্ধেই বিজয় পাচ্ছে শয়তানের পক্ষের শক্তি। এসব যুদ্ধে ইসলামের পক্ষে যোদ্ধা নাই। যোদ্ধা থাকলেও তাদের হাতে অস্ত্র নাই। এ যুদ্ধের অস্ত্র হলো বই এবং বই থেকে প্রাপ্ত দর্শন। বাংলাদেশে যারা বই লেখে ও বই পড়ে তাদের অধিকাংশই হলো ইসলামের শত্রুপক্ষ।
পরিতাপের বিষয় হলো বাংলাদেশে যারা নিজেদেরকে ইসলামপন্থী বলে জাহির করে তাদের মধ্যেও বাঙালি মুসলিমের এ বিশাল আদর্শিক বিচ্যুতি ও সংস্কৃতিক দুর্যোগ দেখে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তারা নীরব ও নিষ্ক্রিয়। বরং বহু তথাকথিত ইসলামপন্থীরা এ সেকুলার বাঙালি সংস্কৃতির স্রোতে স্বেচ্ছায় ভেসে চলেছে। এদের নেতারা এমন কি ২১ ফেব্রেয়ারি এলে নগ্ন পদে হাজির হচ্ছে পূজাস্তম্ভে। এদের অনেকে রোজা আর পূজাকে এক করে ফেলছে। তথাকথিত ইসলামপন্থীদের অনেকে উৎসবের সাজে যোগ দিচ্ছে বর্ষবরণ ও বসন্ত বরণে। তাই অভিভাবকশূণ্য বাঙালি মুসলিমদের আজ বড়ই দুর্দিন। ১৬৪/২০২৬
























