০১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত, অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের

Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / ৩০ Time View

বিদ্যুতের মূল্য পুনরায় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। দলটির চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মতিন এবং মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আবদুর রহিম শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে গ্যাস, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো জনজীবনের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।

তারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন মূল্যহার অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুৎ বর্তমানে কোনো বিলাসী পণ্য নয়; এটি নাগরিক জীবনের অপরিহার্য সেবা। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সব খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর প্রভাব বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, দুর্নীতি ও অপচয়ের দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বারবার মূল্যবৃদ্ধির পথ বেছে নেওয়া কোনো দায়িত্বশীল সরকারের কাজ হতে পারে না। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত খাতের অব্যবস্থাপনার মাশুল জনগণ কেন বহন করবে—এ প্রশ্ন আজ সর্বস্তরের মানুষের।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতি ও অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

বিবৃতির শেষে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলে দেশের সচেতন জনতাকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত, অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের

Update Time : ০৩:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের মূল্য পুনরায় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। দলটির চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মতিন এবং মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আবদুর রহিম শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, একদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে গ্যাস, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানো জনজীবনের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।

তারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন মূল্যহার অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুৎ বর্তমানে কোনো বিলাসী পণ্য নয়; এটি নাগরিক জীবনের অপরিহার্য সেবা। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সব খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর প্রভাব বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, দুর্নীতি ও অপচয়ের দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বারবার মূল্যবৃদ্ধির পথ বেছে নেওয়া কোনো দায়িত্বশীল সরকারের কাজ হতে পারে না। জনগণের করের অর্থে পরিচালিত খাতের অব্যবস্থাপনার মাশুল জনগণ কেন বহন করবে—এ প্রশ্ন আজ সর্বস্তরের মানুষের।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতি ও অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

বিবৃতির শেষে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলে দেশের সচেতন জনতাকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে।