০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

প্রসঙ্গ: ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০২:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭১ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:‘ ৮ই আগস্ট, ১৯৭৬সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগের ৩ভাগে বিভক্ত অংশের নেতা-কর্মীদের নিয়ে খান-এ-সবুর বাংলাদেশ মুসলিম লীগ নামে মুসলিম লীগকে পুনর্গঠিত করেন। তিনি দলের সভাপতি ও শাহ আজিজুর রহমান দলের সেক্রেটারী মনোনীত হন। বিএনপি গঠিত হওয়ার পর শাহ আজিজুর রহমানকে চাপ প্রয়োগ করে মুসলিম লীগের জনপ্রিয় স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সহ বিএনপিতে যোগ দিতে বাধ্য করে তৎকালীন সরকার তথা শহীদ জিয়াউর রহমানের সরকার। তাদের মধ্যে থেকে শতাধিক মুসলিম লীগার ১৯৭৯সালের ২য় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়, শাহ আজিজুর রহমান পুরস্কার হিসেবে বিএনপি সরকারের প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হন। মুসলিম লীগ পাকিস্তান বিভক্তির বিপক্ষে ছিল যার অন্যতম কারণ ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও এই অঞ্চলের ভূরাজনীতি সম্পর্কে অন্য সবার চাইতে বেশী ওয়াকিহবহাল থাকা। মুসলিম লীগের ঝান্ডা নিয়ে সেদিন যাঁরা (আমাদের পূর্বপুরুষ ও নারীরা) পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিলেন, তাদের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠরা দিল্লীর সহায়তায় বাংলাদেশ সৃষ্টিকে ১৯৪৭ পূর্ব ভয়াল অভিজ্ঞতার কারণে সমর্থন করেন নি। আমাদের অভিজ্ঞ পূর্ব পুরুষরা( ৭১ সালে যাদের বয়স চল্লিশোর্ধ ছিলো) আশংকা করেছেন যে, তিন দিক ভারত পরিবেষ্টিত পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশটি যদি দিল্লীর সহায়তা ও সাহায্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে পরিণত হয় তাহলে দিল্লীর কংগ্রেস সরকার নেহেরু ডকট্রিন মতে বাংলাদেশের উপর স্থায়ীভাবে আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্টা করে বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশ মুসলিম লীগ আয়োজিত এক সভায় অংশগ্রহণ করে বলেছিলেন, তারা রনাঙ্গনে অস্র হাতে মুসলিম লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতিপক্ষ হিসাবে পাননি, কিন্তু বিশেষ একটি দলকে পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা আর স্বাধীনতার বিরোধিতা করা এক কথা নয়! তিন ভাগে বিভক্ত তৎকালীন মুসলিম লীগের একটি অংশও পাকিস্তান বিভক্তির পক্ষে তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেনি, এটা ঐতিহাসিক সত্য! আর স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা যদি বলা হয়, তবে বুনিয়াদী স্বাধীনতা মুসলিম লীগের অর্জন (১৯৪৭)। যে দল স্বাধীনতা অর্জন করে তারা স্বাধীনতা বিরোধী কি করে হয়! তবে এখানে বড় প্রশ্ন ১৪ই আগস্ট,১৯৪৭ ভারত বিভক্তি দিবসকে আপনি কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন! ভারত বিভক্তি কি আপনি ভুল বলে মনে করেন? ১৯৪৭কে কি আপনি বুনিয়াদী স্বাধীনতা হিসাবে দেখেন? জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬ অনুযায়ী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নিজামে ইসলামের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান আইন আধুনিকায়ন করা হয়েছে বলে, ত্রয়োদশ সংসদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সাথে সাথে ক্ষমতসীন দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আরো দুটি বিষয় জনগণের উদ্দেশ্যে পরিস্কার করার: ১. ১৯৪৭ সালের আজাদী সম্পর্কে বিএনপির মতামত ও অবস্থান (যা এখনো পরিস্কার নয়)। ২. ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাশের পর বিএনপি কি ১৯৭৯সালে মুসলিম লীগ থেকে তাদের দলে যোগ দেয়া সদস্যদের মরনোত্তর হলেও বহিস্কার বা শাস্তিমূলক (শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস সহ তালিকাটা ছোট নয়) কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

https://www.facebook.com/obaidul1991

প্রসঙ্গ: ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’

Update Time : ০২:১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:‘ ৮ই আগস্ট, ১৯৭৬সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগের ৩ভাগে বিভক্ত অংশের নেতা-কর্মীদের নিয়ে খান-এ-সবুর বাংলাদেশ মুসলিম লীগ নামে মুসলিম লীগকে পুনর্গঠিত করেন। তিনি দলের সভাপতি ও শাহ আজিজুর রহমান দলের সেক্রেটারী মনোনীত হন। বিএনপি গঠিত হওয়ার পর শাহ আজিজুর রহমানকে চাপ প্রয়োগ করে মুসলিম লীগের জনপ্রিয় স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সহ বিএনপিতে যোগ দিতে বাধ্য করে তৎকালীন সরকার তথা শহীদ জিয়াউর রহমানের সরকার। তাদের মধ্যে থেকে শতাধিক মুসলিম লীগার ১৯৭৯সালের ২য় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়, শাহ আজিজুর রহমান পুরস্কার হিসেবে বিএনপি সরকারের প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হন। মুসলিম লীগ পাকিস্তান বিভক্তির বিপক্ষে ছিল যার অন্যতম কারণ ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও এই অঞ্চলের ভূরাজনীতি সম্পর্কে অন্য সবার চাইতে বেশী ওয়াকিহবহাল থাকা। মুসলিম লীগের ঝান্ডা নিয়ে সেদিন যাঁরা (আমাদের পূর্বপুরুষ ও নারীরা) পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিলেন, তাদের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠরা দিল্লীর সহায়তায় বাংলাদেশ সৃষ্টিকে ১৯৪৭ পূর্ব ভয়াল অভিজ্ঞতার কারণে সমর্থন করেন নি। আমাদের অভিজ্ঞ পূর্ব পুরুষরা( ৭১ সালে যাদের বয়স চল্লিশোর্ধ ছিলো) আশংকা করেছেন যে, তিন দিক ভারত পরিবেষ্টিত পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশটি যদি দিল্লীর সহায়তা ও সাহায্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে পরিণত হয় তাহলে দিল্লীর কংগ্রেস সরকার নেহেরু ডকট্রিন মতে বাংলাদেশের উপর স্থায়ীভাবে আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্টা করে বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশ মুসলিম লীগ আয়োজিত এক সভায় অংশগ্রহণ করে বলেছিলেন, তারা রনাঙ্গনে অস্র হাতে মুসলিম লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতিপক্ষ হিসাবে পাননি, কিন্তু বিশেষ একটি দলকে পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা আর স্বাধীনতার বিরোধিতা করা এক কথা নয়! তিন ভাগে বিভক্ত তৎকালীন মুসলিম লীগের একটি অংশও পাকিস্তান বিভক্তির পক্ষে তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেনি, এটা ঐতিহাসিক সত্য! আর স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা যদি বলা হয়, তবে বুনিয়াদী স্বাধীনতা মুসলিম লীগের অর্জন (১৯৪৭)। যে দল স্বাধীনতা অর্জন করে তারা স্বাধীনতা বিরোধী কি করে হয়! তবে এখানে বড় প্রশ্ন ১৪ই আগস্ট,১৯৪৭ ভারত বিভক্তি দিবসকে আপনি কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন! ভারত বিভক্তি কি আপনি ভুল বলে মনে করেন? ১৯৪৭কে কি আপনি বুনিয়াদী স্বাধীনতা হিসাবে দেখেন? জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬ অনুযায়ী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নিজামে ইসলামের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান আইন আধুনিকায়ন করা হয়েছে বলে, ত্রয়োদশ সংসদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সাথে সাথে ক্ষমতসীন দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আরো দুটি বিষয় জনগণের উদ্দেশ্যে পরিস্কার করার: ১. ১৯৪৭ সালের আজাদী সম্পর্কে বিএনপির মতামত ও অবস্থান (যা এখনো পরিস্কার নয়)। ২. ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাশের পর বিএনপি কি ১৯৭৯সালে মুসলিম লীগ থেকে তাদের দলে যোগ দেয়া সদস্যদের মরনোত্তর হলেও বহিস্কার বা শাস্তিমূলক (শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস সহ তালিকাটা ছোট নয়) কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?