০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ব্যালট পেপার উধাও, নির্বাচন স্থগিত

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪২ Time View

বাঁশখালীতে প্রতিনিধি, মোঃ জসীম উদ্দীন :

চট্টগ্রামের বাঁশখালী আদালত ভবনে অনুষ্ঠিতব্য আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার জেরে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও প্রায় ১টার দিকে কেন্দ্রজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে ব্যাপক হট্টগোলে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এরপর নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টা পর্যন্ত আর ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময় শেষে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো ফলাফল ঘোষণা ছাড়াই কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এ সময় কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ব্যালট পেপার ও নির্বাচন সামগ্রী উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনব্যাপী নির্বাচনকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল, যা পুরো পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে।

এর আগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পরস্পরবিরোধী বিজ্ঞপ্তিতে আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। গত ১৯ এপ্রিল এডহক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন মাতব্বার নূরীর স্বাক্ষরে জারি করা এক জরুরি নোটিশে নির্বাচন কমিশনের কিছু কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০ এপ্রিলের নির্বাচনসহ সব কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে, একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীলের স্বাক্ষরে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তীতে এডহক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দিলীপ কুমার দাশসহ অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষরিত আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন গঠনের পর নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে এডহক কমিটির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই এবং সদস্য সচিবের একক সিদ্ধান্তে জারি করা নোটিশ বিভ্রান্তিকর।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন, এডহক কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণেই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও সমাধান না এলে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

https://www.facebook.com/obaidul1991

বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ব্যালট পেপার উধাও, নির্বাচন স্থগিত

Update Time : ০৭:০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বাঁশখালীতে প্রতিনিধি, মোঃ জসীম উদ্দীন :

চট্টগ্রামের বাঁশখালী আদালত ভবনে অনুষ্ঠিতব্য আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার জেরে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও প্রায় ১টার দিকে কেন্দ্রজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে ব্যাপক হট্টগোলে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এরপর নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টা পর্যন্ত আর ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময় শেষে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো ফলাফল ঘোষণা ছাড়াই কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এ সময় কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ব্যালট পেপার ও নির্বাচন সামগ্রী উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনব্যাপী নির্বাচনকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল, যা পুরো পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে।

এর আগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত পরস্পরবিরোধী বিজ্ঞপ্তিতে আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। গত ১৯ এপ্রিল এডহক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন মাতব্বার নূরীর স্বাক্ষরে জারি করা এক জরুরি নোটিশে নির্বাচন কমিশনের কিছু কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০ এপ্রিলের নির্বাচনসহ সব কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে, একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীলের স্বাক্ষরে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তীতে এডহক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দিলীপ কুমার দাশসহ অন্যান্য সদস্যদের স্বাক্ষরিত আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন গঠনের পর নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে এডহক কমিটির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই এবং সদস্য সচিবের একক সিদ্ধান্তে জারি করা নোটিশ বিভ্রান্তিকর।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন, এডহক কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণেই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও সমাধান না এলে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।