https://www.facebook.com/obaidul1991
ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না ———– মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৪:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩ Time View

তৃতীয় বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র জনবহুল দেশ হিসেবে চিহ্নিত বাংলাদেশ । আমাদের
অভাব অসীম, কিন্তু আর্ন্তজাতিক বাহাবা পাওয়ার লক্ষে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের
জন্য সীমান্ত খুলে দেয়া হয়েছিল। একেই বলে বাপ দাদার নাম নাই চাঁন মোল্লার বিয়াই।
২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের হিসেব অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০১৭
সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা শুরু হওয়া গণহত্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে
প্রায় ৬,৫৫,০০০ থেকে ৭,০০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। প্রশ্ন
হল বাংলাদেশে কেন ? পাশ্বর্বতী অন্যকোন দেশ ছিল না। ছিল আর্ন্তজাতিকভাবে
হাততালি ও নোবেল পাওয়ার আশায় আমাদের দরদ বেশী। বিগত তিন দশক ধরে
মিয়ানমার সরকারের সহিংস নির্যাতন থেকে ৩,০০,০০০ এর অধিক রোহিঙ্গা
বাংলাদেশে পালিয়ে এসে অবস্থান করছে। এ মুহূর্তে কক্সবাজারে সব মিলিয়ে অন্তত
২২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭৩ তম জাতিসংঘের
সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে
বাংলাদেশে এখন ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। রোহিঙ্গা মিয়ানমারের
একটি মুসলিম সংখ্যালঘু জাতি, যাদেরকে অনেক মিয়ানমারের বৌদ্ধরা বাংলাদেশের
অবৈধ অভিবাসী হিসাবে গণ্য করে। রোহিঙ্গারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে
বসবাস করে আসছে এবং বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সরকারকে শরণার্থীদের ফিরিয়ে
নেবার জন্য বলছে। মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং
তাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাচারিত সংখ্যালঘু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্বের
বড় বড় দেশের কর্তারা বাংলাদেশের উপর এতবড় জুলুম কেন চাপিয়ে দিল ? আমাদের
নিজেদের থাকার জায়গা নাই। একমাস দুইমাস না বছরের পর বছর রোহিঙ্গাদের দেখভাল
করতে হচ্ছে। রোহিঙ্গারা মুসলিম ঠিকই কিন্তু খুব ভাল চরিত্রের না। আমরা মনে করি
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্বারা পার্বত্য চট্রগ্রাম এলাকাটির পর্যটন প্রত্যাশা
ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শরণার্থীদের অপরাধ এবং কক্সবাজারে ২০১২ রামু
সহিংসতার জন্যও দোষারূপ করা হয়। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের এদেশে
অনাগমনমুখী নীতি তৈরির অনুসরণ করছে। অধিকাংশ শরণার্থী অনিবন্ধিত রয়ে গেছে,
শুধুমাত্র ৩২ হাজার শরণার্থী নিজেদের ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশ
সরকারের সাথে নিবন্ধন করেছে। আনুমানিক ২,০০,০০০-এর অধিক শরণার্থী
অনিবন্ধিত অবস্থায় বাংলাদেশে বসবাস করছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ডিসেম্বর
২০১৬-এর একটি প্রতিবেদনে বলেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ধর্ষণ, বিচার
বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, এবং রোহিঙ্গাদের বাসভবন দখলে তত্ত্বাবধান করছে। পার্বত্য
চট্টগ্রামে শরণার্থীরা আদিবাসী জনগোষ্ঠী সরিয়ে দিচ্ছে। আজ শরণার্থী রোহিঙ্গারা
মিয়ানমারের তৈরী মরনঘাতক নেশা ইয়াবা আমদানি করে আমাদের নিস্পাপ যুব সমাজকে
ধ্বংশের পথে ঠেলে দিচ্ছে। আর কিছুদিন এরা শরণার্থীর সার্টিফিকেট নিয়ে বসবাস
করলে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে পার্বত্য চট্রগ্রাম তাদের আবাস ভূমি হয়ে যাবে।
শরণার্থী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার বাংলাদেশীকে নির্মমভাবে
করেছে। ১। ওমর ফারুক(সাবেক সভাপতি, জাদিমুরা এমআর সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়) – জাদিমুড়া, হ্নীলা, টেকনাফ ২২ আগস্ট -২০১৯ ইং। ২। ২০ অক্টোবর –
২০১৯ টেকনাফ উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়ের ২ কিশোরী (লাকি ও তসলিমা) অপহরণ
করেছে কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। ৩। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার
এলাকার দুই ভাইকে কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে নির্মমভাবে
হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল। ৩ মে ২০২০ সালে পুলিশ আকতারুল্লাহ নামে
একজনের লাশ উদ্ধার করে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজারের মৌলভী আবুল
কাছিমের ছেলে আক্তারুল্লাহ (২৪)। অপহৃত অপর দুজন হলেন মোহাম্মদ হোসেনের
ছেলে মোহাম্মদ শাহেদ (২৫), মৃত মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ ইদ্রিস (৩০)।
২০২১ সালের ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে মোহাম্মদ
আলীর বাড়িতে হানা দেয়া ভাড়াটে কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাঁকে না পেয়ে
তাঁর স্ত্রী মোহসেনা আক্তারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে খুন করে তাঁরা। ৫।
৩০ জুন রাতে হোয়াইক্যং শামলাপুর সড়ক হয়ে ফেরার স্থানীয় মাহমুদুল করিম ও
মিজানুর রহমান রোহিঙ্গাদের হাতে অপহরণের শিকার হন। দুদিন পরে মুক্তিপণ দিয়ে
মিজান ফিরলেও মাহমুদুল করিমের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে বসে সশস্ত্র কতিপয়
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। বিকাশে কয়েক দফায় ৫৫ হাজার টাকা নিলেও মুক্তি মেলেনি
তাঁর। একপর্যায়ে ১ মাস ১২ দিন পরে পাহাড়ে তাঁর অর্ধগলিত লাশ মেলে। এছাড়া তাঁদের
হাতে খুন হন। ৬। টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।
৭। ২০১৮ সালে হোয়াইক্যং উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি আব্দুর রশিদ। নিজের নাক কেটে
অন্যের যাত্রা শুভ করার দরকার নাই। বিশ্বের ধনীদেশের কর্তারা একটু সহযোগিতা
করে বাংলাদেশ থেকে রোহিংঙ্গাদেরকে তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা
করলে ভাল হত। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট এক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সমস্যা,
যা শুধুমাত্র জাতীয় স্তরে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই
সংকটের পেছনে রয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর মায়ানমারের দীর্ঘমেয়াদী নিপীড়ন এবং
তাদের নাগরিকত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। এ সমস্যার ইতিহাস, বর্তমান
পরিস্থিতি, বাংলাদেশের ভূমিকা ও সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা করা অপরিহার্য।
পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি রাষ্ট্রবিহীন ইন্দো-আর্য জনগোষ্ঠীই
রোহিঙ্গা । বাংলাদেশ সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত
উন্মুক্ত রাখার একটি সাহসী পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশের জনগনের পিঠের চামড়া নাই। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনাকে “মাদার অফ হিউম্যানিটি” উপাধিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এটা চায়নি।
তবে মনে মনে চেয়েছিল নোবেল পুরস্কার। রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন বা সমস্যার
স্থায়ী সমাধানে মায়ানমার সরকারের সাথে কূটনৈতিক আলোচনায় কোন উল্লেখযোগ্য
অগ্রগতি করতে পারেনি। মায়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি সত্ত্বেও
রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ তখনকার সরকার তৈরি করতে পারেনি।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে আমাদের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বিশাল চাপ পড়ছে।
আমাদের দৃষ্টিতে রোহিঙ্গারা শরর্নাথী কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক নহে। আমাদের
দেশের একশ্রেনীর সরকারী কর্মচারীরা লোভ লালসায় বশীভূত হয়ে অন্যায়ভাবে
হাতেলেখা পাসর্পোট প্রদান করেছে। তারই ফসল আজ সৌদি আরবে অবস্থানরত
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি মূলত আইনি জটিলতা নিরসন এবং
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের খাতিরে করা হচ্ছে। ২০ এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী,
বর্তমানে সেখানে থাকা প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ২২ হাজার জনকে ইতিমধ্যে
প্রয়োজনীয় নথি যাচাই সাপেক্ষে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সৌদি সরকার
২০১০ সাল থেকেই এই রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ
এবং এক পর্যায়ে চাপ দিয়ে আসছিল। তাদের মতে, যেহেতু তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট
নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেছে, তাই পাসপোর্ট নবায়নের দায়িত্বও বাংলাদেশের। সৌদিী
আরবের লোকদের রোহিঙ্গাদের জন্য দরদ বেশী। কারন তারা মুসলিম। বাংলাদেশীদের
ব্যাপারে তারা অত্যন্ত কঠিন। বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে সেখানে অবস্থানরত
রোহিঙ্গারা বৈধভাবে কাজ করতে পারবে এবং তাদের জীবনযাত্রা সহজ হবে, যা প্রবাসী
শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
আমাদের ধারনা আজ যদি বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের পাসর্পোট দেয় তাহলে
আর্ন্তজাতিকভাবে তাদেরকে নাগরিকত্ব প্রদান করতে চাপ সৃষ্টি করবে বলে সাধারন
মানুষের ধারনা। অনেক আইনি বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, পাসপোর্ট পাওয়া ব্যক্তিরা
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দাবি করতে পারেন, কারণ পাসপোর্টে জাতীয়তা
হিসেবে 'বাংলাদেশি' লেখা থাকে। এটি ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক
হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে, কারণ তাদের কাছে তখন বাংলাদেশের
বৈধ পরিচয়পত্র থাকবে। তখন আমাদের কোন কথা থাকবেনা। যা করার চিন্তা ভাবনা
করে করাই শ্রেয়।























