০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

মুসলিম উম্মাহর ব্যর্থতার ভূ-রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবকাঠামো ——-ফিরোজ মাহবুব কামাল

মতামত
  • Update Time : ১০:৪৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৯ Time View

সরকার

 

 

 

ব্যর্থতার ভূ-রাজনৈতিক অবকাঠামো

 

মুসলিম উম্মাহর সর্বত্র জুড়ে শুধু ব্যর্থতা। সে ব্যর্থতা যেমন রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামরিক অঙ্গণে, তেমনি নৈতিক, চারিত্রিক ও ঈমানের অঙ্গণে।  সভ্য মানুষেরা ইতিহাস গড়ে গড়ায়, আর অসভ্য মানুষেরা ইতিহাস গড়ে ভাঙায়। মহান আল্লাহতায়ালার গড়াকে পছন্দ করেন এবং অপছন্দ করেন ভাঙাকে। ইসলামে ভাঙার কাজ হারাম, আর গড়ার কাজ হলো পবিত্র ইবাদত। যদি কোন কাফের জাতিও গড়ায় উদ্যোগী হয়, তবে মহান আল্লাহতায়ালা তাদের সাহায্য করেন। বিজয় দিয়ে পুরষ্কৃত করেন।  আর যদি কোন মুসলিম জনগোষ্ঠিও ভাঙার পথ বেছে নেয় -তবে তাদেরকে তিনি আযাব দিয়ে শাস্তি দেন। এটিই মহান আল্লাহতায়ালার সূন্নত। বিগত প্রায় ১০০ বছরে ধরে মুসলিমগণ লাগাতর ইতিহাস গড়ছে শুধু ভাঙায়। তাদের রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি পরিণত হয় ভাঙার কাজের হাতিয়ারে।  তারা খেলাফত ভেঙেছে। অখণ্ড আরব ভূমিকে ২২ টুকরোয় ভেঙেছে। খেলাফতের পর সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানকেও ভেঙেছে। ভাঙার প্রতিশ্রুত শাস্তি -যার উল্লেখ এসেছে সুরা আল ইমরানের ১০৫ নম্বর আয়াতে, অতীতে যেমন পেয়েছে, এখনও পাচ্ছে। শাস্তির নমুনা হলো, বাঙালি মুসলিমগণ শাস্তি পেয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ভিক্ষার তলাহীন ঝুড়ি এবং ভারতের অধীনত এক আশ্রিত রাষ্ট্রের অপমান কুড়িয়ে। ১৯৭৩-৭৪’য়ের পেয়েছে ভারতীয় লুণ্ঠন জনিত দুর্ভিক্ষ এবং সে দুর্ভিক্ষে ১৫ লাখের বেশী বাংলাদেশীর মৃত্যু। শাস্তি পেয়েছে ভোটডাকাত ফ্যাসিস্টের নৃশংস শাসন, গুম-খুন ও দুর্বৃত্তির জোয়ার এবং ভোটদানের অধিকার হারিয়ে।  দেশ ভাঙার শাস্তি আরবগণ পাচ্ছে মার্কিন ও ইসরাইলী অধিকৃতি এবং বোমা, মিজাইলের আঘাতে গণহত্যা, ধ্বংস যজ্ঞ,  গৃহহীন উদ্বাস্তু জীবনের মধ্য দিয়ে। খেলাফত যদি বাঁচতো তবে কি ইসরাইল সৃষ্টি হতো? হতো কি গাজার গণহত্যা? ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, ইয়েমেন কি মার্কিনী হামলার শিকার হতো? সৃষ্টি হতো কি কাতার, কুয়েত, আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরবের ন্যায় স্বৈরশাসিত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অধীনত আশ্রিত রাষ্ট্রের? তখন আরব ভূমির সম্পদে কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাপট বাড়তো? তুরস্ক কি হতো আজকের ন্যায় মেরুদণ্ডহীন দুর্বল রাষ্ট্র?

 

দেশ ভাঙলে স্বাধীনতাও হারাতে হয়। কারণ, দেশ ভাঙলে ক্ষুদ্রতর হওয়ার সাথে দুর্বলও হয়। আর স্বাধীনতা কখনোই দুর্বলদের জন্য নয়; তাদের বাঁচতে হয় পরাজয় ও পরাধীনতা নিয়ে। বিভক্তির কারণে আরবগণ হারিয়েছে গণতন্ত্র, মানবিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচার অধিকার। তারা এতোই শক্তিহীন যে ইসরাইলের ৭০ লাখ ইহুদীর সামনে খাড়া হওয়ার সামর্থ্যও নাই। ফলে গণহত্যার শিকার ফিলিস্তিনীরা। গাজার ৭০ হাজার নারী, শিশু ও নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারালেও তার মাঝে প্রতিরোধ নাই। ২০২৬’য়ের ২৮ ফেব্রেয়ারীর রাতে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ভাবে ইরানের উপর হামলা করে এবং দেশটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ বহু শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতাকে হত্যা করে। কিন্তু আরব রাষ্ট্রগুলি সে অবৈধ হামলার নিন্দা পর্যন্ত জানায়নি। নিন্দা জানায়নি পাকিস্তান, তুরস্ক ও বাংলাদেশ। মার্কিনীদের প্রতি এই হলো মুসলিম রাষ্ট্রগুলি নতজানু অবস্থার নগ্ন চিত্র। এ নতজানু চিত্রটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর। সে সাথে চিত্রটি মানবতা ও নৈতিকতা শূণ্যতারও।

 

বাংলাদেশীরা এক সময় ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠি; সুযোগ পেয়েছিল বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব ফেলার। এখন পরিণত হয়েছে ভারতের রাডারের নিচে এক আশ্রিত রাষ্ট্রের গোলাম প্রজায়। বাঙালি মুসলিমগণ মুজিব, এরশাদ ও হাসিনার শাসনামলে হারিয়েছিল মৌলিক মানবাধিকার। দেশটির উপর ভারতের আধিপত্যের প্রভাব সুস্পষ্ট; বাংলাদেশের নাই শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য -যেমনটি রয়েছে পাকিস্তানের। ১৯৭১’য়ে জন্ম থেকে ভারতের আধিপত্যের কাছে আত্মসমর্পণের নীতিই এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি। বাংলাদেশে সরকার পরির্তিত হয়, কিন্তু ভারতের প্রতি আত্মসমর্পণের এ নীতিতে পরিবর্তন হয় না। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ভারতের প্রতি সে নীতিতে কোন পরিবর্তন আসেনি। কারণ স্বাধীন ভাবে বাঁচার জন্য চাই ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য।  ক্ষুদ্র বাংলাদেশের সে সামর্থ্য নাই। সেটিই বাংলাদেশের বাস্তবতা। কোন নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও সে বাস্তবতা বদলানোর ক্ষমতা তার থাকে না। একই রূপ অসহায় ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রের। এরূপ ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা শুধু পরাধীনতা ও আত্মসমর্পণই বাড়ায়। ইসলামের শত্রুগণ মুসলিম বিশ্বে এ বাস্তবতাকেই বাঁচিয়ে রাখতে চায়। মুসলিমদের আত্মসমর্পণ ও পরাধীনতা বাঁচিয়ে রাখার এ ভূ-রাজনৈতিক অবকাঠামোকে এরা বলে status quo তথা স্থিতিশীলতা। এরূপ অসহায় পরিণতি থেকে বাঁচাতেই মহান আল্লাহতায়ালা ভাঙা ও বিভক্তির রাজনীতিতে হারাম করেছেন এবং একতাকে ফরজ করেছেন।  কিন্তু মুসলিমগণ বিদ্রোহ করেছে মহান রব’য়ের সে হুকুমের বিরুদ্ধে। ফলে বিদ্রোহের শাস্তিও পাচ্ছে।

ব্যর্থতার বুদ্ধিবৃত্তিক প্যাথোলজি

প্রতিটি রোগের পিছনেই প্যাথোলজি থাকে, তেমনি প্যাথোলজি থাকে প্রতিটি ব্যর্থতার পিছনেও। রোগের লক্ষণ ও উপসর্গগুলি মূলত সে প্যাথোলজির দৃশ্যমান রূপ। রোগের সঠিক চিকিৎসা জন্য তার প্যাথোলজি জানতে হয়। একই কারণে প্যাথোলজি জানতে হয় ব্যর্থতার। মুসলিম বিশ্বের বিভক্তি তথা ভৌগলিক ভাঙা-ভাঙির কারণ যেমন রাজনৈতিক ও সামরিক, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক। মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি হলো মুসলিম রূপে বেড়ে উঠায় ব্যর্থতা। এবং তাদের মুসলিম রূপে বেড়ে উঠায় ব্যর্থতার মূল প্যাথোলজি হলো, কুর’আনী জ্ঞানের শূণ্যতা। নবীজী (সা:)’য়ের অতি প্রসিদ্ধ হাদীস: “প্রতিটি মুসলিম নর ও নারীর উপর জ্ঞানার্জন ফরজ।” এবং পবিত্র কুর’আনে মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণা: “ইন্নামা ইয়াখশাল্লাহা মিন ইবাদিহিল উলামা” অর্থ: বান্দাদের মাঝে একমাত্র জ্ঞানবানগণই আমাকে ভয় করে। এর অর্থ দাঁড়ায়, যার মধ্যে জ্ঞান নাই, তার মধ্যে আল্লাহতায়ালার ভয়ও নাই। এবং যার মধ্যে আল্লাহতায়ালার ভয় নাই, সে মুসলিম হয় কি করে? তখন এমন ব্যক্তি বাঁচে মহান আল্লাহতায়ালার বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে। বস্তুত সে বিদ্রোহের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সংস্কৃতি তো সমগ্র মুসলিম বিশ্বজুড়ে। ফলে নবীজী (সা:) যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা দেন সে ইসলাম মুসলিম বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই। নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম বাঁচলে তো তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র, সে রাষ্ট্রে মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব, তাঁর শরিয়তী আইনের বিচার, প্যান-ইসলামী মুসলিম ভাতৃত্ব এবং দুর্বৃত্তির নির্মূলে ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ দেখা যেত। কিন্তু সে ইসলাম কি কোথাও নজরে পড়ে? এজন্যই সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা ইসলামের শুরু নামাজ-রোজা দিয়ে করেননি, করেছেন কুর’আন থেকে জ্ঞান আহরণের মধ্য দিয়ে। কারণ, কাউকে মুসলিম করতে হলে প্রথমে তার মগজকে মুসলিম করতে হয়।  এবং মগজকে মুসলিম করার কাজটি করে কুর’আনী জ্ঞান। অথচ আজ কুর’আন না বুঝাটাই মুসলিম জীবনের সংস্কৃতি। তারা নানা ভাষা শেখে এবং নানা বই বুঝে, কিন্তু কুর’আনের ভাষা শেখে না এবং কুর’আন বুঝার চেষ্টাও করেনা। জীবনে একবার পুরো কুর’আন শরীফ বুঝে পড়েছে এমন মুসলিম কি এক লাখের মাঝেও একজন মিলে?

 

দৈহিক ভাবে বাঁচার জন্য পানাহার চাই, তেমনি ঈমান নিয়ে বাঁচার জন্য চাই ইলম বা জ্ঞান। ইসলামে এটি ফরজ। এবং যা কিছু মুসলিমের উপর ফরজ -তা অর্জিত না হলে মুসলিম হওয়া অসম্ভব। জ্ঞানশূণ্য ব্যক্তিকে অজ্ঞ বা জাহিল বলা হয়। জাহিল ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব হলো মুসলিম হওয়া। এখানে যে জ্ঞানকে ফরজ করা হয়েছে সেটি সাহিত্য, ইতিহাস, ভূগোল, চিকিৎসা বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানের জ্ঞান নয়, সেটি পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান। মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার, কৃষিবাদ বা অন্য কিছু বানানোর জন্য এ পৃথিবী পৃষ্ঠে পাঠাননি।  যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি মানবকে সৃষ্টি করেছেন সেটি হলো, মানব নিজেকে তৈরী করবে জান্নাতের যোগ্য রূপে।  সে জন্য শর্ত হলো, সে হবে মহান রব’য়ের অনুগত দাস বা গোলাম। আর উত্তম দাস হতে হলে তো মনিবের হুকুমগুলি জানতে হয় এবং সেগুলিকে যথার্থভাবে মেনে চলতে হয়। আর মহান আল্লাহতায়ালার সে হুকুমগুলি জানতে হলে তো কুর’আন সঠিক ভাবে বুঝতে হয় এবং তা থেকে শিক্ষা নিতে হয়। পবিত্র কুর’আন হলো এ পৃথিবী পৃষ্ঠে জ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাণ্ডার। এটি এসেছে সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা থেকে। তাই প্রশ্ন হলো, জ্ঞানের এ সর্বশ্রেষ্ঠ ভাণ্ডার থেকে জ্ঞান সংগ্রহ না করে কি জ্ঞানার্জনের ফরজ আদায় হয়?

 

ভাষা কাজ করে জ্ঞানের ভাণ্ডারে ঢুকার চাবি রূপে। যার হাতে সে চাবি নাই, সে ব্যর্থ হয় জ্ঞান আহরনে। কুর’আন বুঝতে হলে এজন্যই জরুরি হলো আরবি ভাষার জ্ঞান। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অজ্ঞ ব্যক্তি কখনোই চিকিৎস্যক হতে পারে না, তেমনি কুর’আনে জ্ঞানে জাহিল ব্যক্তি কখনোই পূর্ণ মুসলিম হতে পারে না। প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের সকল সাফল্যের মূলে ছিল জ্ঞানর্জনের ফরজ আদায়ে বিশাল সাফল্য। তারা কুর’আন বুঝার গুরুত্ব বুঝেছিলেন। এবং কুর’আন বুঝার কাজটি সহজ করতে গিয়ে মিশর, সিরিয়া, ইরাক, সুদান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, আলজিরিয়া, মৌরতানিয়ার ন্যায় বহু দেশের জনগণ তাদের মাতৃভাষা কবরে পাঠিয়ে আরবি ভাষা শিখেছেন এবং সরাসরি মহান আল্লাহতায়ালার নিজের ভাষাতেই কুর’আনকে বুঝেছেন। তারা কোন তরজমার ধার ধারেননি। কিন্তু আজকের মুসলিমগণ ব্যর্থ হচ্ছে কুর’আনী জ্ঞানার্জনের সে ফরজ আদায়ে। ফলে ব্যর্থ হচ্ছে কুর’আন বুঝার গুরুত্ব বুঝতে। কুর‘আন না বুঝার কারণে তারা ব্যর্থ হচ্ছে একতার গুরুত্ব এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বুঝতে। এবং অজ্ঞতার কারণেই তাঁরা বাঁচছে আদালতে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা না দিয়ে। কুর’আন হলো জান্নাতের রোডম্যাপ। কুর’আন না বুঝাতে তার বিচ্যুৎ হয়েছে জান্নাতে রোডম্যাপ থেকে এবং ধাবিত হচ্ছে জাহান্নামের দিকে। সেটি বুঝা যায় জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের পথে ধাবিত হওয়া থেকে।

 

প্রশ্ন হলো, কুর’আনী জ্ঞানের অজ্ঞতা নিয়ে কি কোন ইবাদতই সঠিক ভাবে হয়? ঈমান একমাত্র তখনই বাঁচে ও বেড়ে উঠে যখন তা পুষ্টি পায় ওহীর জ্ঞান তথা পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান থেকে -যারা ঘোষণা এসেছে সুরা আনফালের দুই নম্বর আয়াতে। মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তাগিদ সত্ত্বেও মুসলিম নামধারীগণ ব্যক্তিগণ সে আহবানে সাড়া দেয়নি। সারা দিলে তাদের মাঝে কুর’আন বুঝায় আগ্রহ দেখা যেত। বরং তাদের আগ্রহ দেখা যায় বিশ্বের অন্য ভাষা শেখার ক্ষেত্রে। বিদেশী প্রতিষ্ঠানে ভাল চাকুরির জন্য তারা ইংরেজি ভাষার সাথে অন্যান্য ভাষাও শিখছে। নিজ সন্তানদের বিদেশী ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করছে। অথচ বিনিয়োগ নাই মহান আল্লাহতায়ালার বাণী বুঝার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ আগ্রহ নাই, নিজ সন্তানকে জান্নাতের যোগ্য বানানোয়। একমাত্র আগ্রহ কি করে এ দুনিয়ায় সফল করা যায়।  মহান রব’য়ে  নির্দেশের সাথে যাদের এরূপ গাদ্দারীর  -তারা কি তাঁর করুণা পেতে পারে? পায় কি জান্নাতের পথ? কুর’আনী জ্ঞানের অজ্ঞতা নিয়ে পূর্ণ মুসলিম হওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব হলো সভ্য সমাজ ও সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণ। বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম দেশের ব্যর্থতার মূল কারণ তো এই অজ্ঞতা ও জাহিলিয়াত। খেলাফত ও পাকিস্তান ভেঙে গেছে তো সে কারণেই। এবং ধাবিত হচ্ছে আরো ব্যর্থতার দিকে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

https://www.facebook.com/obaidul1991

মুসলিম উম্মাহর ব্যর্থতার ভূ-রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবকাঠামো ——-ফিরোজ মাহবুব কামাল

Update Time : ১০:৪৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

সরকার

 

 

 

ব্যর্থতার ভূ-রাজনৈতিক অবকাঠামো

 

মুসলিম উম্মাহর সর্বত্র জুড়ে শুধু ব্যর্থতা। সে ব্যর্থতা যেমন রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামরিক অঙ্গণে, তেমনি নৈতিক, চারিত্রিক ও ঈমানের অঙ্গণে।  সভ্য মানুষেরা ইতিহাস গড়ে গড়ায়, আর অসভ্য মানুষেরা ইতিহাস গড়ে ভাঙায়। মহান আল্লাহতায়ালার গড়াকে পছন্দ করেন এবং অপছন্দ করেন ভাঙাকে। ইসলামে ভাঙার কাজ হারাম, আর গড়ার কাজ হলো পবিত্র ইবাদত। যদি কোন কাফের জাতিও গড়ায় উদ্যোগী হয়, তবে মহান আল্লাহতায়ালা তাদের সাহায্য করেন। বিজয় দিয়ে পুরষ্কৃত করেন।  আর যদি কোন মুসলিম জনগোষ্ঠিও ভাঙার পথ বেছে নেয় -তবে তাদেরকে তিনি আযাব দিয়ে শাস্তি দেন। এটিই মহান আল্লাহতায়ালার সূন্নত। বিগত প্রায় ১০০ বছরে ধরে মুসলিমগণ লাগাতর ইতিহাস গড়ছে শুধু ভাঙায়। তাদের রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি পরিণত হয় ভাঙার কাজের হাতিয়ারে।  তারা খেলাফত ভেঙেছে। অখণ্ড আরব ভূমিকে ২২ টুকরোয় ভেঙেছে। খেলাফতের পর সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানকেও ভেঙেছে। ভাঙার প্রতিশ্রুত শাস্তি -যার উল্লেখ এসেছে সুরা আল ইমরানের ১০৫ নম্বর আয়াতে, অতীতে যেমন পেয়েছে, এখনও পাচ্ছে। শাস্তির নমুনা হলো, বাঙালি মুসলিমগণ শাস্তি পেয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ভিক্ষার তলাহীন ঝুড়ি এবং ভারতের অধীনত এক আশ্রিত রাষ্ট্রের অপমান কুড়িয়ে। ১৯৭৩-৭৪’য়ের পেয়েছে ভারতীয় লুণ্ঠন জনিত দুর্ভিক্ষ এবং সে দুর্ভিক্ষে ১৫ লাখের বেশী বাংলাদেশীর মৃত্যু। শাস্তি পেয়েছে ভোটডাকাত ফ্যাসিস্টের নৃশংস শাসন, গুম-খুন ও দুর্বৃত্তির জোয়ার এবং ভোটদানের অধিকার হারিয়ে।  দেশ ভাঙার শাস্তি আরবগণ পাচ্ছে মার্কিন ও ইসরাইলী অধিকৃতি এবং বোমা, মিজাইলের আঘাতে গণহত্যা, ধ্বংস যজ্ঞ,  গৃহহীন উদ্বাস্তু জীবনের মধ্য দিয়ে। খেলাফত যদি বাঁচতো তবে কি ইসরাইল সৃষ্টি হতো? হতো কি গাজার গণহত্যা? ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, লিবিয়া, ইয়েমেন কি মার্কিনী হামলার শিকার হতো? সৃষ্টি হতো কি কাতার, কুয়েত, আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরবের ন্যায় স্বৈরশাসিত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অধীনত আশ্রিত রাষ্ট্রের? তখন আরব ভূমির সম্পদে কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাপট বাড়তো? তুরস্ক কি হতো আজকের ন্যায় মেরুদণ্ডহীন দুর্বল রাষ্ট্র?

 

দেশ ভাঙলে স্বাধীনতাও হারাতে হয়। কারণ, দেশ ভাঙলে ক্ষুদ্রতর হওয়ার সাথে দুর্বলও হয়। আর স্বাধীনতা কখনোই দুর্বলদের জন্য নয়; তাদের বাঁচতে হয় পরাজয় ও পরাধীনতা নিয়ে। বিভক্তির কারণে আরবগণ হারিয়েছে গণতন্ত্র, মানবিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচার অধিকার। তারা এতোই শক্তিহীন যে ইসরাইলের ৭০ লাখ ইহুদীর সামনে খাড়া হওয়ার সামর্থ্যও নাই। ফলে গণহত্যার শিকার ফিলিস্তিনীরা। গাজার ৭০ হাজার নারী, শিশু ও নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারালেও তার মাঝে প্রতিরোধ নাই। ২০২৬’য়ের ২৮ ফেব্রেয়ারীর রাতে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ভাবে ইরানের উপর হামলা করে এবং দেশটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ বহু শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতাকে হত্যা করে। কিন্তু আরব রাষ্ট্রগুলি সে অবৈধ হামলার নিন্দা পর্যন্ত জানায়নি। নিন্দা জানায়নি পাকিস্তান, তুরস্ক ও বাংলাদেশ। মার্কিনীদের প্রতি এই হলো মুসলিম রাষ্ট্রগুলি নতজানু অবস্থার নগ্ন চিত্র। এ নতজানু চিত্রটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর। সে সাথে চিত্রটি মানবতা ও নৈতিকতা শূণ্যতারও।

 

বাংলাদেশীরা এক সময় ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠি; সুযোগ পেয়েছিল বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব ফেলার। এখন পরিণত হয়েছে ভারতের রাডারের নিচে এক আশ্রিত রাষ্ট্রের গোলাম প্রজায়। বাঙালি মুসলিমগণ মুজিব, এরশাদ ও হাসিনার শাসনামলে হারিয়েছিল মৌলিক মানবাধিকার। দেশটির উপর ভারতের আধিপত্যের প্রভাব সুস্পষ্ট; বাংলাদেশের নাই শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য -যেমনটি রয়েছে পাকিস্তানের। ১৯৭১’য়ে জন্ম থেকে ভারতের আধিপত্যের কাছে আত্মসমর্পণের নীতিই এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি। বাংলাদেশে সরকার পরির্তিত হয়, কিন্তু ভারতের প্রতি আত্মসমর্পণের এ নীতিতে পরিবর্তন হয় না। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ভারতের প্রতি সে নীতিতে কোন পরিবর্তন আসেনি। কারণ স্বাধীন ভাবে বাঁচার জন্য চাই ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য।  ক্ষুদ্র বাংলাদেশের সে সামর্থ্য নাই। সেটিই বাংলাদেশের বাস্তবতা। কোন নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও সে বাস্তবতা বদলানোর ক্ষমতা তার থাকে না। একই রূপ অসহায় ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রের। এরূপ ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা শুধু পরাধীনতা ও আত্মসমর্পণই বাড়ায়। ইসলামের শত্রুগণ মুসলিম বিশ্বে এ বাস্তবতাকেই বাঁচিয়ে রাখতে চায়। মুসলিমদের আত্মসমর্পণ ও পরাধীনতা বাঁচিয়ে রাখার এ ভূ-রাজনৈতিক অবকাঠামোকে এরা বলে status quo তথা স্থিতিশীলতা। এরূপ অসহায় পরিণতি থেকে বাঁচাতেই মহান আল্লাহতায়ালা ভাঙা ও বিভক্তির রাজনীতিতে হারাম করেছেন এবং একতাকে ফরজ করেছেন।  কিন্তু মুসলিমগণ বিদ্রোহ করেছে মহান রব’য়ের সে হুকুমের বিরুদ্ধে। ফলে বিদ্রোহের শাস্তিও পাচ্ছে।

ব্যর্থতার বুদ্ধিবৃত্তিক প্যাথোলজি

প্রতিটি রোগের পিছনেই প্যাথোলজি থাকে, তেমনি প্যাথোলজি থাকে প্রতিটি ব্যর্থতার পিছনেও। রোগের লক্ষণ ও উপসর্গগুলি মূলত সে প্যাথোলজির দৃশ্যমান রূপ। রোগের সঠিক চিকিৎসা জন্য তার প্যাথোলজি জানতে হয়। একই কারণে প্যাথোলজি জানতে হয় ব্যর্থতার। মুসলিম বিশ্বের বিভক্তি তথা ভৌগলিক ভাঙা-ভাঙির কারণ যেমন রাজনৈতিক ও সামরিক, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক। মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি হলো মুসলিম রূপে বেড়ে উঠায় ব্যর্থতা। এবং তাদের মুসলিম রূপে বেড়ে উঠায় ব্যর্থতার মূল প্যাথোলজি হলো, কুর’আনী জ্ঞানের শূণ্যতা। নবীজী (সা:)’য়ের অতি প্রসিদ্ধ হাদীস: “প্রতিটি মুসলিম নর ও নারীর উপর জ্ঞানার্জন ফরজ।” এবং পবিত্র কুর’আনে মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণা: “ইন্নামা ইয়াখশাল্লাহা মিন ইবাদিহিল উলামা” অর্থ: বান্দাদের মাঝে একমাত্র জ্ঞানবানগণই আমাকে ভয় করে। এর অর্থ দাঁড়ায়, যার মধ্যে জ্ঞান নাই, তার মধ্যে আল্লাহতায়ালার ভয়ও নাই। এবং যার মধ্যে আল্লাহতায়ালার ভয় নাই, সে মুসলিম হয় কি করে? তখন এমন ব্যক্তি বাঁচে মহান আল্লাহতায়ালার বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিয়ে। বস্তুত সে বিদ্রোহের রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও সংস্কৃতি তো সমগ্র মুসলিম বিশ্বজুড়ে। ফলে নবীজী (সা:) যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা দেন সে ইসলাম মুসলিম বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই। নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম বাঁচলে তো তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্র, সে রাষ্ট্রে মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব, তাঁর শরিয়তী আইনের বিচার, প্যান-ইসলামী মুসলিম ভাতৃত্ব এবং দুর্বৃত্তির নির্মূলে ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ দেখা যেত। কিন্তু সে ইসলাম কি কোথাও নজরে পড়ে? এজন্যই সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা ইসলামের শুরু নামাজ-রোজা দিয়ে করেননি, করেছেন কুর’আন থেকে জ্ঞান আহরণের মধ্য দিয়ে। কারণ, কাউকে মুসলিম করতে হলে প্রথমে তার মগজকে মুসলিম করতে হয়।  এবং মগজকে মুসলিম করার কাজটি করে কুর’আনী জ্ঞান। অথচ আজ কুর’আন না বুঝাটাই মুসলিম জীবনের সংস্কৃতি। তারা নানা ভাষা শেখে এবং নানা বই বুঝে, কিন্তু কুর’আনের ভাষা শেখে না এবং কুর’আন বুঝার চেষ্টাও করেনা। জীবনে একবার পুরো কুর’আন শরীফ বুঝে পড়েছে এমন মুসলিম কি এক লাখের মাঝেও একজন মিলে?

 

দৈহিক ভাবে বাঁচার জন্য পানাহার চাই, তেমনি ঈমান নিয়ে বাঁচার জন্য চাই ইলম বা জ্ঞান। ইসলামে এটি ফরজ। এবং যা কিছু মুসলিমের উপর ফরজ -তা অর্জিত না হলে মুসলিম হওয়া অসম্ভব। জ্ঞানশূণ্য ব্যক্তিকে অজ্ঞ বা জাহিল বলা হয়। জাহিল ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব হলো মুসলিম হওয়া। এখানে যে জ্ঞানকে ফরজ করা হয়েছে সেটি সাহিত্য, ইতিহাস, ভূগোল, চিকিৎসা বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানের জ্ঞান নয়, সেটি পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান। মহান আল্লাহতায়ালা মানুষকে ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার, কৃষিবাদ বা অন্য কিছু বানানোর জন্য এ পৃথিবী পৃষ্ঠে পাঠাননি।  যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি মানবকে সৃষ্টি করেছেন সেটি হলো, মানব নিজেকে তৈরী করবে জান্নাতের যোগ্য রূপে।  সে জন্য শর্ত হলো, সে হবে মহান রব’য়ের অনুগত দাস বা গোলাম। আর উত্তম দাস হতে হলে তো মনিবের হুকুমগুলি জানতে হয় এবং সেগুলিকে যথার্থভাবে মেনে চলতে হয়। আর মহান আল্লাহতায়ালার সে হুকুমগুলি জানতে হলে তো কুর’আন সঠিক ভাবে বুঝতে হয় এবং তা থেকে শিক্ষা নিতে হয়। পবিত্র কুর’আন হলো এ পৃথিবী পৃষ্ঠে জ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাণ্ডার। এটি এসেছে সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালা থেকে। তাই প্রশ্ন হলো, জ্ঞানের এ সর্বশ্রেষ্ঠ ভাণ্ডার থেকে জ্ঞান সংগ্রহ না করে কি জ্ঞানার্জনের ফরজ আদায় হয়?

 

ভাষা কাজ করে জ্ঞানের ভাণ্ডারে ঢুকার চাবি রূপে। যার হাতে সে চাবি নাই, সে ব্যর্থ হয় জ্ঞান আহরনে। কুর’আন বুঝতে হলে এজন্যই জরুরি হলো আরবি ভাষার জ্ঞান। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অজ্ঞ ব্যক্তি কখনোই চিকিৎস্যক হতে পারে না, তেমনি কুর’আনে জ্ঞানে জাহিল ব্যক্তি কখনোই পূর্ণ মুসলিম হতে পারে না। প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের সকল সাফল্যের মূলে ছিল জ্ঞানর্জনের ফরজ আদায়ে বিশাল সাফল্য। তারা কুর’আন বুঝার গুরুত্ব বুঝেছিলেন। এবং কুর’আন বুঝার কাজটি সহজ করতে গিয়ে মিশর, সিরিয়া, ইরাক, সুদান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, আলজিরিয়া, মৌরতানিয়ার ন্যায় বহু দেশের জনগণ তাদের মাতৃভাষা কবরে পাঠিয়ে আরবি ভাষা শিখেছেন এবং সরাসরি মহান আল্লাহতায়ালার নিজের ভাষাতেই কুর’আনকে বুঝেছেন। তারা কোন তরজমার ধার ধারেননি। কিন্তু আজকের মুসলিমগণ ব্যর্থ হচ্ছে কুর’আনী জ্ঞানার্জনের সে ফরজ আদায়ে। ফলে ব্যর্থ হচ্ছে কুর’আন বুঝার গুরুত্ব বুঝতে। কুর‘আন না বুঝার কারণে তারা ব্যর্থ হচ্ছে একতার গুরুত্ব এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বুঝতে। এবং অজ্ঞতার কারণেই তাঁরা বাঁচছে আদালতে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা না দিয়ে। কুর’আন হলো জান্নাতের রোডম্যাপ। কুর’আন না বুঝাতে তার বিচ্যুৎ হয়েছে জান্নাতে রোডম্যাপ থেকে এবং ধাবিত হচ্ছে জাহান্নামের দিকে। সেটি বুঝা যায় জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের পথে ধাবিত হওয়া থেকে।

 

প্রশ্ন হলো, কুর’আনী জ্ঞানের অজ্ঞতা নিয়ে কি কোন ইবাদতই সঠিক ভাবে হয়? ঈমান একমাত্র তখনই বাঁচে ও বেড়ে উঠে যখন তা পুষ্টি পায় ওহীর জ্ঞান তথা পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান থেকে -যারা ঘোষণা এসেছে সুরা আনফালের দুই নম্বর আয়াতে। মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তাগিদ সত্ত্বেও মুসলিম নামধারীগণ ব্যক্তিগণ সে আহবানে সাড়া দেয়নি। সারা দিলে তাদের মাঝে কুর’আন বুঝায় আগ্রহ দেখা যেত। বরং তাদের আগ্রহ দেখা যায় বিশ্বের অন্য ভাষা শেখার ক্ষেত্রে। বিদেশী প্রতিষ্ঠানে ভাল চাকুরির জন্য তারা ইংরেজি ভাষার সাথে অন্যান্য ভাষাও শিখছে। নিজ সন্তানদের বিদেশী ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করছে। অথচ বিনিয়োগ নাই মহান আল্লাহতায়ালার বাণী বুঝার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ আগ্রহ নাই, নিজ সন্তানকে জান্নাতের যোগ্য বানানোয়। একমাত্র আগ্রহ কি করে এ দুনিয়ায় সফল করা যায়।  মহান রব’য়ে  নির্দেশের সাথে যাদের এরূপ গাদ্দারীর  -তারা কি তাঁর করুণা পেতে পারে? পায় কি জান্নাতের পথ? কুর’আনী জ্ঞানের অজ্ঞতা নিয়ে পূর্ণ মুসলিম হওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব হলো সভ্য সমাজ ও সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণ। বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম দেশের ব্যর্থতার মূল কারণ তো এই অজ্ঞতা ও জাহিলিয়াত। খেলাফত ও পাকিস্তান ভেঙে গেছে তো সে কারণেই। এবং ধাবিত হচ্ছে আরো ব্যর্থতার দিকে।