https://www.facebook.com/obaidul1991
ঘুষ আদান প্রদান একটি অন্যায় কাজ ——— মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০২:১০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ২২ Time View

ঘুষ আদান প্রদান একটি অন্যায় কাজ একথা দেশের সকলেই স্বীকার করেন। অথচ দুঃখজনক এটি
দেশের সর্বত্র বহাল তবিয়তে চালু রয়েছে। এতে অন্যায়ভাবে একজনের প্রাপ্তি এবং অন্যজনের
ক্ষতি। এতে করে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা
বিপর্যয়ের দিকে। আমার সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ সব দেখেন ও নির্দেশে ফেরেশতাগন সব লেখেন।
পৃথিবীতে এর অশুভ পরিণতি এক সময় নিজের উপর ও পরবর্তী প্রজন্মের উপর বর্তায়। তাই
স্বভাবতঃই এর নগ্ন চেহারা ও অশুভ পরিণতি নিয়ে আলোচনা এখন খুবই প্রাসঙ্গিক এবং সময়ের
দাবী। ঘুষের চরিত্রও পরিচয় প্রায় সকলেরই জানা। এর সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেউই
এটিকে ঘুষ বলতে রাজী না। তারা এটিকে ৫%, ১০% অফিস খরচ, বখ্শিশ, চা চক্র খরচ বলতে বেশ
স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সরকারি কর্মচারীদের ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা সরকারের
সদিচ্ছা, কঠোর প্রশাসনিক সংস্কার, জবাবদিহি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে।
বর্তমান সরকারের পক্ষে এটি বন্ধ করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে বিভিন্ন মহল ও পর্যবেক্ষকদের
নানা ধরনের মতামত রয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও পে-ফিক্সেশন, ভেরিফিকেশন, জনশক্তি ব্যুরো (বিএমইটি) এবং
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ পুরোপুরি থামেনি বলে সংসদ সদস্য হাসনাত
আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন পক্ষ ও নাগরিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়া পদায়ন ও নিয়োগে
অর্থের লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঘুষ বাণিজ্য রোধ করতে হলে কেবল
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার
ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদায়ন নিশ্চিত করা। দুর্নীতিপ্রবণ পদগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তা বদলি বা
রোটেশন চালু করা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং প্রচলিত আইনগুলোর কঠোর ও নিরপেক্ষ
প্রয়োগ নিশ্চিত করা। অনলাইন সেবা বা অটোমেশনের মাধ্যমে মানুষের সরাসরি যোগাযোগ কমানো।
সরকারি চাকরিতে কে কোথায় নিয়োগ পাবেন, কোন কর্মকর্তা কোন পদে পদায়িত হবেন কিংবা কার
ভাগ্যে জুটবে লাভজনক কর্মস্থল এসব সিদ্ধান্ত যদি যোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের পরিবর্তে
অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত হয়, তাহলে এ দেশে প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন।
বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে যে
তদবিরনির্ভর বাণিজ্য গড়ে উঠেছে, তা দুর্নীতির অন্যতম প্রধান উৎস। এই ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত
একটি প্রভাবশালী মধ্যস্বত্বভোগী চক্র রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে নিজেদের পরিচয়
বদলে প্রশাসনের ভেতরে সক্রিয় থাকে। সরকার বদলায়, ক্ষমতাসীন দলের নাম বদলায়, কিন্তু
সুবিধাভোগী এই চক্রের তৎপরতা থামে না। শেষ পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ডের দায় এসে পড়ে
সরকারের ওপর, আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জনগণের অধিকার। এই দুর্নীতির
সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, অর্থের বিনিময়ে কাঙ্ক্ষিত পদে বসার পর অনেক কর্মকর্তা-
কর্মচারীর কাছে জনসেবা নয়, বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে আনাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। যে ব্যক্তি
লাখ লাখ কিংবা কোটি টাকা খরচ করে একটি লাভজনক পদে নিয়োগ বা বদলি হন, তিনি সেই অর্থ বৈধ
উপায়ে ফেরত পাওয়ার সুযোগ সীমিত দেখলে অনিয়ম ও ঘুষের আশ্রয় নিতে পারেন। এভাবেই ঘুষ দিয়ে
পদ পাওয়া, পদে বসে ঘুষ আদায় এবং সেই অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার চক্র
তৈরি হয়। এর ফলে জবাবদিহি দুর্বল হয়, সৎ কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত হন এবং সাধারণ মানুষ
সরকারি সেবা পেতে গিয়ে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। ইচ্ছে করলে আমাদের সরকার যে
কোন মহুর্তে অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে পারেন যদি বিরোধী দলের সদস্যরা পরিপূর্ন সহায়তা
প্রদান করেন। আমরা সাধারন মানুষ এই সরকারের কাছে আশা করি দেশ সত্য ও ন্যায়ের পথে চলবে।












