০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

মজুরি বোর্ড গঠনের আন্দোলনে ৩১৮টি কারখানা ও ৭ লক্ষ ২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কী? দায়ভার কার?

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  • Update Time : ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৩ Time View

২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি কে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশের পোশাক শিল্পে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজিএমইএ-র তথ্য অনুযায়ী, এই অস্থিরতার কারণে ৩১৮টি কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ৭,০২,২৫৫ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯ লক্ষ ৭০ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই ৭ লক্ষ ২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এর দায়ভার কার-এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গঠিত মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার (১২,৫০০) টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু গত তিন বছরে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে এই মজুরিতে একজন শ্রমিকের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শ্রমিক সংগঠনগুলো দাবি তুলেছে-বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেলে যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সমপরিমাণ ন্যূনতম বেতন পোশাক শ্রমিকদেরও দিতে হবে। এদিকে এই খাতের সংকট নতুন নয়। জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে (জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬) দেশে মোট ৪০২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ-র সদস্যভুক্ত ২৮২টি এবং বিকেএমইএ-র সদস্যভুক্ত ১২০টি কারখানা রয়েছে।

১লা নভেম্বর ২০২৬, রবিবার ৬ সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আমরা এই বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে চাই না। আমরা চাই, বোর্ড দ্রুত একটি মজুরি কাঠামোর রোডম্যাপ ঘোষণা করুক। কারণ, যতদিন মজুরি নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে, ততদিন ৩১৮টি কারখানা ও ৭ লক্ষ ২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই থাকবে।

বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন মনে করে, এই সেক্টরকে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানিয়ে বা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে পা না দিয়ে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে দেখে রক্ষা করা প্রতিটি শ্রমিক ও নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। শিল্প রক্ষা ও শ্রমিকের মর্যাদা-দুটোই একসাথে নিশ্চিত করতে হবে।

(সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

মজুরি বোর্ড গঠনের আন্দোলনে ৩১৮টি কারখানা ও ৭ লক্ষ ২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কী? দায়ভার কার?

Update Time : ০২:১৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি কে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশের পোশাক শিল্পে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজিএমইএ-র তথ্য অনুযায়ী, এই অস্থিরতার কারণে ৩১৮টি কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ৭,০২,২৫৫ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯ লক্ষ ৭০ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই ৭ লক্ষ ২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এর দায়ভার কার-এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গঠিত মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার (১২,৫০০) টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু গত তিন বছরে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে এই মজুরিতে একজন শ্রমিকের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শ্রমিক সংগঠনগুলো দাবি তুলেছে-বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেলে যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সমপরিমাণ ন্যূনতম বেতন পোশাক শ্রমিকদেরও দিতে হবে। এদিকে এই খাতের সংকট নতুন নয়। জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে (জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬) দেশে মোট ৪০২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ-র সদস্যভুক্ত ২৮২টি এবং বিকেএমইএ-র সদস্যভুক্ত ১২০টি কারখানা রয়েছে।

১লা নভেম্বর ২০২৬, রবিবার ৬ সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আমরা এই বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে চাই না। আমরা চাই, বোর্ড দ্রুত একটি মজুরি কাঠামোর রোডম্যাপ ঘোষণা করুক। কারণ, যতদিন মজুরি নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে, ততদিন ৩১৮টি কারখানা ও ৭ লক্ষ ২ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই থাকবে।

বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন মনে করে, এই সেক্টরকে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানিয়ে বা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে পা না দিয়ে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে দেখে রক্ষা করা প্রতিটি শ্রমিক ও নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। শিল্প রক্ষা ও শ্রমিকের মর্যাদা-দুটোই একসাথে নিশ্চিত করতে হবে।

(সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)