https://www.facebook.com/obaidul1991
আমাদের দেশে এত দুর্নীতি কেন ? ———— মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৮:২৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ১০ Time View

আমাদের দেশে এত দুর্নীতি কেন ? পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের বাংলাদেশ অত্যন্ত ছোট। ১৯৭১ সালে
আমাদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি । আজ আমরা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে
জনসংখ্যা প্রায় তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পেটের ক্ষুধার তাড়না বাড়ে। অতীতের
সরকার প্রধানরা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের দিকে নজর দেননি। প্রত্যেক কাজেরই ভারসাম্য রক্ষা
করতে হয়। দেশের আয়তন অনুযায়ী জনসংখ্যার চাপ অনেক বেশী। দেশে স্ব্যস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা
মন্ত্রনালয়ের অধিদপ্তর রয়েছে। তাদের কার্যপ্রনালী মতে মাঠ পর্যায়ের কর্মের গতি বাড়ানো কিন্তু
কর্মকর্তা কর্মচারীদের গাফেলতির কারনে কাজ কর্ম স্থবির হয়ে আছে। কেউ তাদের কোন খোঁজ
খবর না রাখার কারনে তারা বিনাশ্রমে অলসতায় দিন কাটিয়ে সরকারের তহবিল থেকে হাজার হাজার
টাকা বেতন তুলে নিচ্ছে। এ টাকা দিতে হচ্ছে জনগনের করের টাকা থেকে। যে দেশ জনসংখ্যা উৎপাদন
নিয়ন্ত্রন রাখতে পারে না, সে দেশে দূর্নীতি বাড়বেই। জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশে দুর্নীতির মূল
কারণগুলো মূলত বহুমাত্রিক এবং ঐতিহাসিক। বিভিন্ন গবেষণা, সমাজবিজ্ঞান বিশ্লেষণ অনুযায়ী এর
পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো আইনের শাসনের অভাব ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধ করে বা
দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়া বা বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে ওঠা । অপরাধী যত প্রভাবশালীই
হোক না কেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে না পারায় দুর্নীতি আরও বেপরোয়া হয়েছে । রাজনৈতিক
প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়োগ, পদোন্নতি, ঠিকাদারি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় ও
রাজনৈতিক বিবেচনায় হস্তক্ষেপ দুর্নীতির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে । অনেক সময় টাকার ক্ষমতার
কারনে অযোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসানো হয় । জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি ও
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার শক্ত কাঠামোর অভাব রয়েছে ।
নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত কাজের তদারকি দুর্বল থাকায় অনিয়ম রোধ করা
কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কম বেতন সরকারি খাতের অনেক স্তরে কর্মচারীদের বেতন
ও সুযোগ-সুবিধা জীবনযাত্রার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়, যা তাদের উৎকোচ বা ঘুষ গ্রহণে প্ররোচিত করে
। এছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষকে সেবা পাওয়ার জন্য 'স্পিড মানি' বা
অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় ।সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়:- সমাজ ও পরিবার পর্যায়ে
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না থাকা এবং অনিয়মকে একধরনের স্বাভাবিক নিয়ম বা সংস্কৃতি
হিসেবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হওয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম,
রাজনৈতিক চাপে ঋণ প্রদান এবং ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারা আর্থিক
খাতে গভীর সংকট তৈরি করেছে । গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা ও তথ্যের অভাব:- অবাধ তথ্যপ্রবাহ
ও স্বাধীন সাংবাদিকতা দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করতে সাহায্য করে । কিন্তু গণমাধ্যমের ওপর
নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধতা থাকলে অনিয়মগুলো আড়ালে চলে যায় । এই সুযোগে দূর্নীতির
শিকড় আরও বেশী বিস্তার লাভ করে। ব্যক্তিগত লোভ, সামাজিক সচেতনতার অভাব এবং নৈতিক
শিক্ষার ঘাটতির কারণে সমাজে ঘুষ ও অনিয়ম স্বাভাবিক প্রথায় পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক কারণ
হল আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং ন্যায্য মজুরির অভাব অনেককে অনৈতিক উপায়ে
অর্থ উপার্জনে প্ররোচিত করে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি-এর তথ্য
অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের দুর্নীতির প্রধান খাতগুলোর মধ্যে জরিপে আসছে সবচেয়ে
দুর্নীতিগ্রস্ত খাত পাসপোর্ট অধিদপ্তর. দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিআরটিএ. তৃতীয় অবস্থানে
রয়েছে পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও চতুর্থ অবস্থানে জমি রেজিস্ট্রি, নামজারি
ও ভূমি অফিসসমূহ । এখন ১০০ এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ২৩ (যা আগের বছরের তুলনায় ১ পয়েন্ট
কম এবং বিগত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন । বৈশ্বিক অবস্থান: ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের
অবস্থান ১৫১তম কঙ্গ ও ইরানের সাথে যৌথভাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়
সর্বনিম্ন। মূল কথা হল আমাদের দেশটাকে আমাদেরকেই সুন্দর ভাবে গড়তে হবে। যদি তাই ই ভাবেন
তাহলে জনসংখ্যা বিস্ফোরন নিয়ন্ত্রন করার পথে হাটতে হবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।














