https://www.facebook.com/obaidul1991
সুন্দরগঞ্জে সরকারি বরাদ্দ না মেলায় ৮৫টি হাসকিং মিল বন্ধ, সহস্রাধিক শ্রমিক বেকার
- Update Time : ০২:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১ Time View

শাহ মোঃ রেদওয়ান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, গাইবান্ধাঃ দীর্ঘদিন হতে সরকারিভাবে ধান চাল
সংগ্রহে খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর অটোমিলের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়
৮৫টি হাসকিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে সহ¯্রাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় অনেকে পেশা
বদল করে কোন রকমে সংসার পরিচালনা করছেন।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে গত ১০ বছর আগে খাদ্য সংগ্রহের জন্য এ
উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও ১ পৌর এলাকায় ১২০টি হাসকিং মিল চালু ছিল। মিল মালিকেরা সরকারি
বরাদ্দ না পাওয়ায় ব্যাংকের দায়-দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে পুজি হারিয়ে ফেলে। ফলে ইতোমধ্যে ৮৫টি
হাসকিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ৩৫টি মিল চালু থাকলেও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের বিমাতাসুলভ
আচরণে তাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ৮ বছর ধরে কৃষকদের নিকট থেকে সরকারিভাবে
ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। শুরুতেই মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের তালিকা অনুযায়ী এবং পরে
লটারীর মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয়। যা ছিল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। মুলতঃ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে
তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই সাথে গত ৬ বছর ধরে উপজেলায় ১টি বড় অটোমিল চালুর পর থেকে
চাহিদা মোতাবেক চাল সংগ্রহ করছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ফলে সামান্য মাত্রই
হাসকিং মিল থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। হাসকিং মিল মালিক লুৎফর রহমান মুক্তা বলেন, খাদ্য
অধিদপ্তরের ধান বিভাজন বৈষম্যের কারণে বেশির ভাগ মিল বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সাথে ব্যাংকের দায়-
দেনা ও পুঁজির অভাবে অনেকে মিল বন্ধ করেছেন। বরাদ্দ না পাওয়ায় দিনদিন ব্যাংক ঋণের পরিমান বেড়ে
যাওয়ায় অনেক চাতাল ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছেন। হাসকিং চাতাল ব্যবসা এখন বন্ধ হয়ে
গেছে বললেন, উপজেলা চাতাল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদৎ হোসেন আনন্দ। তিনি
আক্ষেপ করে বলেন, বিভাজন বৈষম্যের কারণে ব্যবসায়ীদের অনেকে চাতাল বন্ধ করে দিয়েছেন। যে
হাসকিং মিলগুলো বর্তমানে কোন রকমে টিকে আছে সেগুলোও কখন যেন বন্ধ হয়ে যায় এমন
আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্বপন কুমার দে বলেন, নিয়ম
মেনে কৃষকরা ধান দিতে পারেন না। তারপরও সরকার কৃষকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
এখানে মধ্যস্বত্ত্বাভোগীদের একটা কৌশল রয়েছে। হাসকিং মিল মালিকরা এখন চাল সংগ্রহ করতে
ব্যর্থ হচ্ছেন। তারপরও চালু মিলগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।


























