০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণী অপহরণ ও তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৫:১০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / ১৫ Time View

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (১৮) অপহরণ করে তিন দিন একটি বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই বাদী হয়ে গোদাগাড়ী থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার জাহানাবাদ চাত্রাপুকুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ওসমান আলীর মেয়ে মোছা. এলিনা খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার রামনগর গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আজিজ (২৮)-এর দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আজিজ তাকে বিয়ের আশ্বাস ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাহানাবাদ চাত্রাপুকুর ক্রেমেন্ট হল মোড়ে আজিজের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় তাকে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অপহরণের পর তাকে আজিজের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টানা তিন দিন ও তিন রাত আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। বন্দিদশায় তিনি বারবার বিয়ের দাবি জানালেও আজিজ তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য অভিযুক্তদের সহযোগিতায় তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে—মো. আজিজ (২৮), তার বাবা মো. নজরুল ইসলাম (৫০), মোছা. সুলতানা বেগম (৪০), মোছা. নূরী বেগম (৩০) এবং মো. জামালের ছেলে মো. পলাশ (৪০)-কে।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং পরামর্শ করতে কিছুটা সময় লেগে যাওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনবে।

তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই তিনি ন্যায়বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এমন ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণী অপহরণ ও তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা

Update Time : ০৫:১০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (১৮) অপহরণ করে তিন দিন একটি বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই বাদী হয়ে গোদাগাড়ী থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার জাহানাবাদ চাত্রাপুকুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ওসমান আলীর মেয়ে মোছা. এলিনা খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার রামনগর গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আজিজ (২৮)-এর দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আজিজ তাকে বিয়ের আশ্বাস ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাহানাবাদ চাত্রাপুকুর ক্রেমেন্ট হল মোড়ে আজিজের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় তাকে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অপহরণের পর তাকে আজিজের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টানা তিন দিন ও তিন রাত আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। বন্দিদশায় তিনি বারবার বিয়ের দাবি জানালেও আজিজ তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য অভিযুক্তদের সহযোগিতায় তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে—মো. আজিজ (২৮), তার বাবা মো. নজরুল ইসলাম (৫০), মোছা. সুলতানা বেগম (৪০), মোছা. নূরী বেগম (৩০) এবং মো. জামালের ছেলে মো. পলাশ (৪০)-কে।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্য ও নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং পরামর্শ করতে কিছুটা সময় লেগে যাওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনবে।

তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই তিনি ন্যায়বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এমন ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।