https://www.facebook.com/obaidul1991
প্রসঙ্গ – নীতিহীন রাজনীতি ———- মোশারফ হোসেন
- Update Time : ০৫:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / ৪৪ Time View

মানুষ পৃথিবীতে কী নিয়ে বাঁচে ? বাস্তবিক কঠিন প্রশ্ন। সবাই কি আসলে বাঁচে? হ্যাঁ মানুষ বাঁচে আশার উপর ভিত্তি করে। কেউ আশাকরে রাজনীতি, কেউ মানব সেবা, কেউ আশা করে মানুষকে ভালবেসে স্রষ্ট্রার নৈকট্য। আশা ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। আর যদিও বাঁচে সেটা হল পৃথিবীতে অনর্থক জায়গা দখল । তবে খেয়াল করে দেখুন সব মানুষ কিন্তু একমানুষ নয়। পৃথিবীতে একেক জনের ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চিন্তা চেতনা। এরই বা মানে কী? সময় কাটানো। অস্কার ওয়াইল্ড বলেন; বেঁচে থাকার বিষয়টি খুবই বিরল। অর্থাৎ খুব কম লোকই সেরকমভাবে বাঁচতে পারেন, বাঁচা যাকে বলে। বেশিরভাগই কেবল অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেন। আর রবীন্দ্র নাথের বিবেচনায় এ ধরনের বেঁচে থাকা মানে, শুধু দিন যাপনের শুধু প্রাণ ধারণের গ্লানি বৈ নয়। রবার্ট ফ্রস্টের মনে প্রশ্ন জেগে ছিল, জীবন মানে কি? অনেক ভেবেচিন্তে তিনি এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, এ আর কিছু নয়, কেবলই বয়ে চলা। জীবনের চিরসাথী মৃত্যু । “জন্মিলে মরতে হইবে” এই অমোঘ সত্যিটা জেনেও মৃত্যুকে যতটা সম্ভব দূরে সরিয়ে রাখার জন্য মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই। মানুষ মৃত্যুকে ভালবাসে না। মায়াবী পৃথিবীকে সহজে কেউ ছাড়তে চায় না কিন্তু ঠেকনো যায় না মৃত্যু। তবে অনেকে বলে মানুষ চেষ্টা করলেই তার জীবনে কিছুটা দীর্ঘায়িত করতে পারে। মোটেও না। এ কথাটাও পাপের। রেলগাড়ী যেমন লোকাল ষ্টেশনে থামতে পছন্দ করে না। ঠিক তেমনি জীবন নামের রেলগাড়ী ও অসুখ বিসুখ বাঁধ মানতে চায় না। তবু থামতে হয়। কারন তেল মবিল ও পানি নিতে হয়। কিন্তু পৃথিবীতে জীবন একবারই আসে। মানুষ অহরহ ভাবেন, কত কাজ বাকী তবে জীবন এত স্বল্পকালীন কেন ? মানুষ নীতির জন্য ঠিক কাজটি ঠিক সময়ে সঠিকভাবে করতে পারলে ছোট একটা জীবনই যথেষ্ট। আমরা জীবনতরির কাণ্ডারি বলবো কাকে? এই জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজে না পেলে কেউ কোনো দিন সেই জীবন পাবে না, যে জীবন মানে সত্যিকার অর্থে বেঁচে থাকা, যে বাঁচার মধ্যে কোনো গ্লানি নেই। কাজেই এমনভাবে বাঁচতে হবে যাতে কখনও অনুশোচনা করতে না হয়। মানুষের যখন অর্থ-সম্পদ হারায় তখন আসলে কিছুই হারায় না, যখন স্বাস্থ্যহানি ঘটে তখন সামান্য কিছু হারায়। কিন্তু যখন মানুষ চরিত্র বা আত্মপরিচয় হারায় তখন সে নিঃস্ব হয়ে যায়। আর, কিসে তৈরি হয় ব্যক্তির সেই আত্মপরিচয়। সে তো আদর্শ ছাড়া আর কিছুই নয়। আদর্শ আর নীতির মধ্যে সামান্য পার্থক্য বোধহয় আছে। তবে আদর্শ আছে যার, নীতি তো তারই জন্য। যে আদর্শহীন তিনি কখনই নীতিবান হতে পারেন না। আর আদর্শ বা নীতিই হচ্ছে জীবনের ভারসাম্যের মূলমন্ত্র যা গন্তব্যে নিয়ে যায়। আদ্রেঁজিদ বলেন, তুমি যা নও তার জন্য প্রশংসিত হওয়ার চাইতে তুমি যা বিশ্বাস করো তার জন্য ঘৃণিত হওয়া ঢের ভালো। বাস্তবিক অর্থেই নীতিহীন, আদর্শহীন জীবন অসম্পূর্ণ। সেইসব মানুষের কাছে পৃথিবীর খুব যে কিছু চাওয়ার আছে, তাও নয়। পক্ষান্তরে সভ্যতা তাদের জন্যই প্রহর গণনায়রত যারা মনেপ্রাণে কোনো না কোনো আদর্শ ধারণ করেন। তারাই দেশকালের নেতৃত্ব দেন। তারাই মানুষকে পথ দেখান। শেষ পর্যায়ে স্মরণ করতে পারি মহাত্মা গান্ধীর সেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ। তিনি মানব জীবনে সাতটি মহাপাপ সনাক্ত করেছেন। আর সেই সাত পাপের অন্যতম পাপটি হলো নীতিহীন রাজনীতি। এখানে একটি কথা সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে-দুনিয়ার জীবনই মানুষের শেষ নয় বরং মৃত্যুর পর মানুষকে হাশরের অনন্ত জীবনে প্রবেশ করতে হবে। সেদিন আল্লাহ তা‘আলার দরবারে দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কর্মের হিসাব সবাইকে দিতে হবে। মূলত পরকালের চেতনা মানুষের জীবনে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে থাকে। যে ব্যক্তি পরকালের সত্যিকার বিশ্বাস করে সে কখনও দেশের জনগনের টাকা নিজের সুখের জন্য বিদেশে পাঁচার করতে পারে না ও মানুষের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহন করতে পারে না। মানুষের দুনিয়ার জীবন হচ্ছে অতি সংক্ষিপ্ত এবং পরকাল হচ্ছে অনন্ত জীবন। এ সম্পর্কে আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: “বরং তোমরা দুনিয়ার জিবনকে প্রাধান্য দিচ্ছ। অথচ পরকাল সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী।” (সূরা আল আ’লা- ১৬-১৭)। এ চেতনা যখন মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হবে, তখন সে অবশ্যই ভ্রান্ত থেকে বিরত থাকবে। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমিন।



























