https://www.facebook.com/obaidul1991
ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে কমিশন একপেশে ও পক্ষপাতিত্ব ভূমিকা রেখেছে
- Update Time : ০৪:০২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৫৫ Time View

ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন নির্বাচন ২০২৬–২০২৭ এ সবুজ প্যানেলের প্রেস বিবৃতি
বিষয়: ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন নির্বাচন ২০২৬–২০২৭ এর পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল
প্রসঙ্গে সবুজ প্যানেলের প্রেস বিবৃতি।
ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন-এর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন ২০২৬–২০২৭ উপলক্ষে আমরা
সর্বপ্রথম সকল ভোটার সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, দীর্ঘ ০৮ বছর পর বিগত ২২ ও
২৩ শে এপ্রিল ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যারা উৎসাহ ও আগ্রহের সাথে ভোট প্রদান
করেছেন।
আমরা বিজয়ী প্যানেলকে অভিনন্দন জানাই এবং আশা করি তারা বারের সার্বিক উন্নয়ন, পেশাগত
মর্যাদা ও সদস্য সেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
তবে দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে নির্বাচন চলাকালীন এবং ফলাফল
গণনা পর্যন্ত একপেশে কমিশন গঠন ও তাদের নিয়ন্ত্রিত কার্যপরিচালনা সম্পন্ন করেছেন।
বিভিন্ন অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের নিকট একাধিকবার
মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ উত্থাপন করেছি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ
১. আইন ও সংবিধান (সংবিধানের ধারা ৩১) পরিপন্থি এক পেশে অর্থাৎ বিএনপি সমর্থিত
ও “নীল” প্যানেলের পক্ষের সকল সদস্যদের নিয়ে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিশন গঠন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ও বাংলাদেশ লয়ার্স কাউন্সিল মনোনীত “সবুজ”
প্যানেল এবং এনসিপি সমর্থিত “লাল-সবুজ” প্যানেলের পক্ষ থেকে আইনানুগ এবং
ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমান হারে অথবা আনুপাতিক হারে নির্বাচন কমিশনে সদস্য
অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন সহ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য
স্মারকলিপি দেয়া হলেও কার্যকর কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার
ভিত্তিতে সবুজ প্যানেলের পক্ষ থেকে ৬ জন এবং লাল-সবুজ প্যানেলের ০৪ জন কে
নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করা হলেও তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা সৃষ্টি
করেছেন। ভোট চলাকালীন বেশির ভাগ সময় সবুজ প্যানেলের ০৩ জনকে বারের/বুথের
বাইরে রাখা হয়েছিল।
২. জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ করা হলেও কোন ব্যাবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন। ভোট
গণনায় আমরা দেখেছি একই হাতের ছাপে অসংখ্য ভোট দেয়া ব্যালট যা পুরো নীল
প্যানেলের ভোট, যাতে জাল ভোটের আলামত পাওয়া যায়।
৩. মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জনাব এডভোকেট আহমেদ আযম খান, সরকারের
গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও বারের সংবিধান {সংবিধানের ধারা ১১(এইচ)} পরিপন্থী সদস্য
পদ রেখেছেন এবং ভোট প্রদান করেছেন। যেখানে জনাব দিহিদার মাসুম কবির,বারের
সম্মানিত একজন সদস্য যিনি বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ার পরে সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি
নিয়েছিলেন।
৪. নির্বাচন কমিশন সদস্যগণ ভোটকক্ষে নীল প্যানেলের লিস্ট সরবরাহ এবং ভোটারকে
প্রভাবিত করার মাধ্যমে নীল প্যানেলে ভোট দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগও কমিশন
আমলে নেয়নি।
৫. ভোট কাস্টিং টেবিলে ভোটার ভ্যারিফিকেশনে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কমিশন সদস্যগণ
বাধা প্রদান করেছিল।
৬. নীল প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থগণ ভোটার লাইনে আমাদের প্রার্থী ও সমর্থকদের ভোট
চাইতে অসহযোগিতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিল সেই অভিযোগেরও কমিশন সুরাহা করেননি।
এনসিপি সমর্থিত প্রার্থীদেরও ঊভোয় লাইনে দাড়ানোর সুযোগ না দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে
আমাদের প্রার্থীদের লাইনে দাড় করিয়েছে।
৭. আচরণবিধি (বিধি-৩) লঙ্ঘন করে নীল প্যানেলের প্রার্থীগণ ভোটারদের উপটৌকন
প্রদান করেছেন।
৮. জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরামের অনেক সিনিয়র সদস্য নির্বাচন চলাকালীন এবং
গণনার সময়েও বারের ভেতর থেকে প্রভাব বিস্তার করেছেন যারা নির্বাচন কমিশনের
সদস্য ছিলনা।
৯. ভোট গণনার সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রিডিং টেবিলে যারা প্রতিনিধিত্ব
করেছিলেন তারা সবাই নীল প্যানেলের পক্ষ থেকে বিএনপির লোক ছিলেন,আমরা সবুজ
প্যানেল ও লাল-সবুজ প্যনেলের পক্ষ থেকে ট্যাবুলেশন রাইটিং এ ১২ টেবিলে
প্রতিনিধিত্ব করলেও রিডিং এ আমাদের প্রতিনিধিত্ব করতে দেয়া হয়নি এমনকি সবুজ
প্যানেলের প্রার্থীদেরকেও গণনা শুরুর ১ঘন্টা পর্যন্ত কাউন্টিং রুমে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হওয়ায় এবং এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও
প্রতিকার না করায় নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি এবং এর ফলে
ফলাফলের স্বাভাবিকতা নিয়ে সদস্যদের মাঝে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
একই সাথে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—
একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা ছাড়া কোনো পেশাগত সংগঠনের টেকসই
উন্নয়ন সম্ভব নয়।
অতএব, আমরা ভবিষ্যতের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করার আহবান জানাচ্ছি:
✔️ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন এবং স্বচ্ছ কার্য পরিচালননা।
✔️ নির্বাচনী আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগ
✔️ স্বচ্ছ ভোটিং ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
✔️ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল প্যানেলের সমান অধিকার নিশ্চিতকরণ
আমরা আমাদের সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাদের
পাশে থেকে বারের উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করছি।
(সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)


























