১২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

চট্টগ্রামের বাঁশখালী শেখেরখীল এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগে একটি আইস ফ্যাক্টরিকে আর্থিক জরিমানা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে

বাঁশখালী প্রতিনিধি
  • Update Time : ০১:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • / ৩৫ Time View

মোঃ জসীম উদ্দীন : বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের জারি করা ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে অবৈধ মাছ ধরার কোনো চক্র ধরা না পড়লেও নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে আহরিত মাছ সংরক্ষণে বরফ সরবরাহের অভিযোগে একটি বরফ কারখানাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং কয়েকটি বরফ উৎপাদন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দিনব্যাপী এ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সমন্বিত দল। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বাঁশখালী এলাকার জলকদর খালের মোহনা ও আশপাশ এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও লঙ্ঘনের অভিযোগ যাচাই করতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে সাগরে অবৈধ উপায়ে মাছ আহরণে জড়িত কোনো চক্রকে আটক করা সম্ভব না হলেও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জলকদর খালের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা একাধিক বরফ উৎপাদন কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় ফাঁড়ির মুখ, শেখেরখীল এলাকার মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। কারখানাটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নির্ধারিত মানমাত্রার পানি ব্যবহার না করে বরফ উৎপাদন করছিল। পাশাপাশি উৎপাদিত বরফ নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে আহরিত সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণে সরবরাহ করা হচ্ছিল বলেও প্রমাণ মেলে।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মালিকপক্ষ বরফ সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ অপরাধে মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়।
শুধু জরিমানাই নয়, বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় অভিযুক্ত বরফ কারখানাসহ আশপাশের অন্যান্য বরফ উৎপাদন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ কার্যক্রম চালানো না যায়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিনের প্রসিকিউশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।

সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

চট্টগ্রামের বাঁশখালী শেখেরখীল এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগে একটি আইস ফ্যাক্টরিকে আর্থিক জরিমানা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে

Update Time : ০১:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

মোঃ জসীম উদ্দীন : বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের জারি করা ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে অবৈধ মাছ ধরার কোনো চক্র ধরা না পড়লেও নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে আহরিত মাছ সংরক্ষণে বরফ সরবরাহের অভিযোগে একটি বরফ কারখানাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং কয়েকটি বরফ উৎপাদন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দিনব্যাপী এ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সমন্বিত দল। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বাঁশখালী এলাকার জলকদর খালের মোহনা ও আশপাশ এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও লঙ্ঘনের অভিযোগ যাচাই করতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে সাগরে অবৈধ উপায়ে মাছ আহরণে জড়িত কোনো চক্রকে আটক করা সম্ভব না হলেও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জলকদর খালের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা একাধিক বরফ উৎপাদন কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় ফাঁড়ির মুখ, শেখেরখীল এলাকার মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। কারখানাটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নির্ধারিত মানমাত্রার পানি ব্যবহার না করে বরফ উৎপাদন করছিল। পাশাপাশি উৎপাদিত বরফ নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে আহরিত সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণে সরবরাহ করা হচ্ছিল বলেও প্রমাণ মেলে।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মালিকপক্ষ বরফ সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ অপরাধে মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়।
শুধু জরিমানাই নয়, বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় অভিযুক্ত বরফ কারখানাসহ আশপাশের অন্যান্য বরফ উৎপাদন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ কার্যক্রম চালানো না যায়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিনের প্রসিকিউশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।

সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।