https://www.facebook.com/obaidul1991
মুসলমানদের বড় সমস্যা এক আল্লাহ,নবী,কুরআনের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ না হওয়া
- Update Time : ১১:১০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / ৬ Time View

ভূ-রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য -সর্বত্র জুড়ে মুসলিমদের বিশাল ব্যর্থতা। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাটি হলো মুসলিম হওয়ায়। অন্য সকল ব্যর্থতার জন্ম মূলত এ ব্যর্থতাটি থেকে। মুসলিম হওয়ায় সে ব্যর্থতাটি দৃশ্যমান হয় মুসলিমদের অনৈক্য, দুর্বৃত্তি, কুর’আনী জ্ঞানে অনিহা এবং জিহাদশূণ্যতা এবং ইসলাম রাষ্ট্র নির্মাণে অঙ্গীকারহীনতার মধ্য দিয়ে। তবে মুসলিম হওয়ায় সকল ব্যর্থতার মূলে হলো বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যর্থতা। ব্যক্তির সবচেয়ে বড় সামর্থ্য হলো তার বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য। সে সামর্থ্যটি দেয় সঠিক চিন্তা ভাবনা এবং সত্য মিথ্যা চেনার সামর্থ্য। বস্তুত সে সামর্থ্যের গুণেই ব্যক্তি ঈমানদার হয় এবং জান্নাতের পথ পায়। অপর দিকে বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যর্থতার কারণে মানুষ বেঈমান হয় এবং জাহান্নামের পথে যায়। তাই এ জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি দৈহিক বল বা অর্থ বৃদ্ধি নয়, বরং সেটি হলো বুদ্ধিবৃত্তিক বলবৃদ্ধি। বুদ্ধিবৃত্তিক বল বৃদ্ধির এ কাজটি ইসলামে ফরজ। এবং সে বলের উৎস্য হলো পবিত্র কুর’আন।
মহান রব দেহের পুষ্টির জন্য নানারূপ খাদ্য পানীয় দিয়েছেন, তেমনি কুর’আন দিয়েছেন চিত্তের বা বিবেকের পুষ্টি জুগাতে। নামাজ রোজা ফরজ করার আগে তিনি পবিত্র কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। এ থেকে বুঝা যায়, সর্বজ্ঞানী মহান রব মানুষের জন্য কুর’আনের জ্ঞানকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। পরিতাপের বিষয় হলো, অধিকাংশ মুসলিম জ্ঞানার্জনের সে ফরজ পালন করে না। কুর’আন তেলাওয়াত করলেও কুর’আন বুঝার চেষ্টা করে না। ফলে তাদের দ্বারা কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনের কাজটি হয় না। ফলে মুসলিমগণ হারিয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক পুষ্টি ও সুস্থতা। মুসলিমগণ আজ যেরূপ শক্তিহীন, পরাজিত ও বিপর্যস্ত তার কারণ তাদের দৈহিক স্বাস্থ্যহানী বা সম্পদের কমতি নয়; বরং সেটি হলো কুর’আনী জ্ঞানের অপুষ্টি। অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাস্থ্যহানী।
কুর’আনী জ্ঞানের অপুষ্টির কুফলটি ভয়ানক। তাতে মৃত্যু হয় ঈমানের। মুসলিম তখন নামে মাত্র মুসলিম থেকে যায়; তখন অবিকল কাফিরদের মত হয় তাদের চেতনা, চরিত্র, রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি। কাফিরগণ যেমন ইসলামী রাষ্ট্র, শরিয়া, কুর’আন শিক্ষা ও জিহাদের বিরোধীতার করে, এরাও তেমনি সেগুলির বিরোধীতা করে। কাফিরগণ যেমন ইসলামের বিজয় চায় না, এরাও তেমনি ইসলামের বিজয় চায় না। সেটি স্পষ্ট বুঝা যায় বাংলাদেশের সেক্যুলারিস্ট, বাঙালি ফ্যাসিস্ট ও কম্যুনিস্টদের দিকে নজর দিলে। এজন্যই মহান আল্লাহ তায়ালা চান, কুর’আনী জ্ঞানের অপুষ্টি থেকে মানব জাতিকে মুক্তি দিতে চান। মানুষের জন্য এটিই ইসলামের সবচেয়ে বড় দান। কারণ, এ দানই মানুষকে জান্নাতে নিবে; ,মাছ গোশত ফল মূল দুধ নয়। ইসলামের মিশনের শুরু এখান থেকেই। এ জন্যই তিনি প্রতিটি মুসলিম নর ও নারীর উপর জ্ঞানার্জন ফরজ করেছে।
পবিত্র কুর’আনে মহান আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা: “ইন্নামা ইয়াখশাল্লাহা মিন ইবাদিহিল উলামা” অর্থ: বান্দাদের মাঝে একমাত্র জ্ঞানবানগণই আমাকে ভয় করে। যারা মুসলিম রূপে বাঁচতে চায়, তাদের জন্য এটি এক ভয়ঙ্কর হুশিয়ারি। এর অর্থ দাঁড়ায়, যার মধ্যে জ্ঞান নাই, তার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার ভয়ও নাই। এবং যার মধ্যে আল্লাহ তায়ালার ভয় নাই, তার জন্য স্বভাবতই অসম্ভব হলো মুসলিম হওয়া। এখানে জ্ঞান বলতে বুঝানো হয়েছে পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান। অথচ কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনের কাজটি আজ হচ্ছে না। কুর’আন না বুঝাটাই আজ মুসলিম জীবনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তারা নানা ভাষা শেখে ও নানা পেশা শেখে, কিন্তু কুর’আন শেখে না। জীবনে একবার পুরো কুর’আন শরীফ বুঝে পড়েছে এমন মুসলিম কি এক লাখের মাঝেও একজন মিলে? কুর’আনী জ্ঞানের এ অজ্ঞতা থেকেই মুসলিম বিশ্বজুড়ে আজ জাহিলিয়াতের জোয়ার। সে জাহিলিয়াতের জোয়ার এতোই তীব্র যে, নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠা পাওয়া বিশুদ্ধ ইসলাম বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই। ফলে কোথাও বেঁচে নাই আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব, তাঁর শরিয়া, প্যান ইসলামী ভাতৃত্ব এবং দুর্বৃত্তির নির্মূলে ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জিহাদ।
কুর’আন বুঝতে হলে কুর’আনের ভাষা বুঝতে হয়। ভাষার জ্ঞান কাজ করে জ্ঞানের ভাণ্ডারে ঢুকার চাবি রূপে। যার হাতে সে চাবি নাই, সে ব্যর্থ হয় জ্ঞান আহরনে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অজ্ঞ ব্যক্তি কখনোই চিকিৎস্যক হতে পারে না, তেমনি কুর’আনে জ্ঞানে জাহিল ব্যক্তি কখনোই পূর্ণ মুসলিম হতে পারে না। প্রাথমিক যুগের মুসলিমগণ বিষয়টি বুঝতেন। তাই কুর’আন বুঝার কাজটি সহজ করতে মিশর, সিরিয়া, ইরাক, সুদান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, আলজিরিয়া, মৌরতানিয়ার ন্যায় বহু দেশের জনগণ তাদের মাতৃভাষা কবরে পাঠিয়ে আরবি ভাষা শিখেছেন এবং সরাসরি মহান আল্লাহ তায়ালার নিজের ভাষাতেই কুর’আনকে বুঝেছেন। তারা কোন তরজমার ধার ধারেননি। কিন্তু আজকের মুসলিমগণ ব্যর্থ হচ্ছে কুর’আনী জ্ঞানার্জনের সে ফরজ আদায়ে। ফলে তারা ব্যর্থ হচ্ছে কুর’আনের পথে তথা সিরাতাল মুস্তাকীমের পথে চলতে। প্রথম যুগের মুসলিমদের সকল সাফল্যের মূলে ছিল জ্ঞানর্জনের ফরজ আদায়ে তাদের বিশাল সাফল্য। তারা কুর’আন বুঝার গুরুত্ব বুঝেছিলেন। কুর’আন হলো জান্নাতের রোডম্যাপ। কুর’আন না বুঝে কি সে পথে চলা সম্ভব? সে অজ্ঞতার কারণে মুসলিম উম্মাহর বিশাল বিচ্যুতিটি জান্নাতের রোডম্যাপ থেকে। সেটি বুঝা যায় জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের পথে ধাবিত হওয়া থেকে। সেটি আরো বুঝা যায় মুসলিম দেশে দুর্নীতি, পতিতাবৃত্তি, সুদ, জুয়া ও মদের উপস্থিতি দেখে।
ঈমান একমাত্র তখনই বাঁচে ও বেড়ে উঠে যখন পুষ্টি পায় ওহীর জ্ঞান তথা পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান থেকে -যারা ঘোষণা এসেছে সুরা আনফালের দুই নম্বর আয়াতে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাগিদ সত্ত্বেও মুসলিম নামধারীগণ সে আহবানে সাড়া দেয়নি। সাড়া দিলে তাদের মাঝে কুর’আন বুঝায় আগ্রহ দেখা যেত। অথচ তাদের আগ্রহ দেখা যায় বিশ্বের অন্য ভাষা শেখায়। বিদেশী প্রতিষ্ঠানে ভাল চাকুরির জন্য তারা ইংরেজি ভাষা শিখছে। নিজ সন্তানদের বিদেশী ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। অথচ বিনিয়োগ নাই মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী বুঝার ক্ষেত্রে। মহান রব’য়ে নির্দেশের সাথে যাদের এরূপ গাদ্দারী -তারা কি তাঁর করুণা পেতে পারে? পায় কি জান্নাতের পথ? কুর’আনী জ্ঞানের অজ্ঞতা নিয়ে পূর্ণ মুসলিম হওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি অসম্ভব হলো সভ্য রাষ্ট্রের নির্মাণ ও সুরক্ষা। এ কারণেই ভেঙে গেছে খেলাফত ও পাকিস্তান।
মুসলিম জীবনের প্রথম জিহাদটি সশস্ত্র শত্রুদের বিরুদ্ধে রণাঙ্গণে হয়না, সেটি হয় চেতনার ভূবনে। যুদ্ধটি হয় হারাম মতবাদের বিরুদ্ধে কুর’আনী জ্ঞান দিয়ে। এটি এক বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ। নবীজী (সা:) সে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদটি শুরু করেছিলেন তাঁর নবুয়তী জীবনের প্রথম দিন থেকে। যে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের মুজাহিদ হতে হয় প্রতিটি ঈমানদারকে। এ পবিত্র জিহাদের মূল অস্ত্র হলো পবিত্র কুর’আন। এ জিহাদকে মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা আল ফুরকানের ৫২ নম্বর আয়াতে “জিহাদান কবিরা” তথা বড় জিহাদ বলেছেন। যার কুর’আনী জ্ঞান নাই, সে কখনোই এ জিহাদে জয়ী হতে পারে না। আর যে ব্যক্তি এ জিহাদে জয়ী হতে ব্যর্থ হয়, সে কখনোই প্রকৃত ঈমানদার হতে পারেনা। তাকে বাঁচতে হয় অনৈসলামী মতবাদের কাছে আত্মসমর্পণ নিয়ে। মহান আল্লাহ তায়ালা চান, প্রতিটি মুসলিম সুসজ্জিত হবে কুর’আনী জ্ঞানের অস্ত্রে। তাই তিনি পবিত্র কুর’আন থেকে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। জ্ঞানের এ অস্ত্রে সজ্জিত না হলে পরাজিত হতে হয় এবং ভেসে যেতে জাহিলী মতবাদের স্রোতে। আজ সে স্রোতে ভেসে যাওয়াটাই প্রবল ভাবে হয়েছে মুসলিমদের মাঝে। ফলে মুসলিম দেশে বিজয় এসেছে ইসলামের শত্রুপক্ষের।
একটি মুসলিম দেশে জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ, বর্ণবাদ, স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র, কম্যুনিজম ও সেক্যুলারিজমের স্রোতে ভাসা বিপুল সংখ্যক লোক দেখে নিশ্চিত বলা যায়, সে দেশে মুসলিম রূপে বেড়ে উঠায় ব্যর্থতাটি কত বিশাল। মুসলিমগণ তাদের গৌরবযুগে বিভেদ সৃষ্টিকারী এবং জাহান্নামের দিকে টানা মতবাদগুলিকে কবর দিতে পেরেছিলেন বলেই আরব, ইরানি, তুর্কি, কুর্দি, মুর, হাবশি, আফগানি ইত্যাদি নানা ভাষার মুসলিমগণ একত্রে কাজ করেছিলেন। ফলে তারা জন্ম দিতে পেরেছিলেন বিশ্বশক্তির; নির্মান করতে পেরেছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতার। অথচ আজ মুসলিমগণ ফিরে গেছে ইসলামপূর্ব জাহিলী যুগে। সে যুগে আরবদের কোন রাষ্ট্র ছিল না। তারা বাঁচতো অসংখ্য গোত্রে বিভক্ত কলহপ্রবন এক অসভ্য গোত্রীয় পরিচিতি নিয়ে। সে রক্তাক্ত বিভক্তি ও কলহ-প্রবনতা আরবদের জীবনে আবার ফিরে এসেছে। ৪৫ কোটি আরবের দ্বারা ২২টি আরব রাষ্ট্রের নির্মাণ হলো তার প্রমাণ।
———ফিরোজ মাহবুব কামাল


























