০১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

“ রামও গরু খেতেন ” ——— মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ০৪:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / ২৮ Time View

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু গরু পালনকারীরা গরু বিক্রী না পেরে ব্যাংকের লোন
পরিশোধ নিয়ে তাদের চোখ দিয়ে অশ্রুর বন্যা বইছে। কোন মুসলিমরা গরু কিনলেই
সনাতনীরা জোর করে গরু নিয়ে যাচ্ছে এবং অপমান করতে দেখা গেছে। ভারতের হিন্দুরা
গরুকে গোমাতা হিসেবে এখন গোমূত্র পান করতে দেখা গেছে। আমরা যতটুকু জানি ভারত
শিক্ষিত মানুষের মানবতাবাদী দেশ। এই দেশের মানুষ মুসলিমদের উপর জুলুমবাজ কেন ?
ভারত আগে মুসুলমানরাই শাসন করত। ভারতে মুসলিম শাসনকালে সামগ্রিকভাবে
হিন্দুদের পূজা পালন বন্ধ ছিল না। তবে এই দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন শাসকের
দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতির কারণে পরিস্থিতির তারতম্য ঘটেছে। কোনো কোনো শাসক
অসহিষ্ণু আচরণ করলেও, সামগ্রিকভাবে হিন্দু প্রজারা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম ও
উৎসব পালন করেছেন। মুঘল সম্রাট আকবর, বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
প্রমুখ উদার শাসকরা হিন্দুদের পূজা-পার্বণে কোনো বাধা দেননি, বরং অনেক সময়
আর্থিক অনুদান প্রদান ও উৎসবে অংশগ্রহণ করে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।
মধ্যযুগের ইতিহাস অনুযায়ী, অধিকাংশ সময় হিন্দু ও মুসলমানরা পাশাপাশি শান্তিতে
বসবাস করেছে এবং হিন্দু পুরোহিত ও সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য রাজকীয়
ফরমান জারির প্রমাণও রয়েছে। আজ ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় ঈদুল আযহা
নিয়মানুযায়ী কোরবানী দিতে হয়। কোরবানী দিতে গরু ছাগল ভেড়া মহিষের প্রয়োজন হয়
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুসুলমানদের কোরবানী বন্ধ করে
রেখেছে। তাহলে হিন্দুরা কেন গো মাংস খায় না? গো মাতা কেন সনাতন ধর্মে পূজনীয়?
উত্তর:- হিন্দুরা নানান জায়গায় মানুষের কাছ থেকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, মানুষ
গরুর দুধ খায় ঠিকই কিন্তু মাংস খায় না কেন? আসুন এবার জানা যাক সনাতন ধর্মে
গো-মাতা সম্পর্কে কিছু বলা হয়েছে। পবিত্র বেদে সাত ধরণের মাতার কথা উল্লেখ করা
হয়েছে । তারা হলেন: (১) বেদ মাতা (২) ধরণী মাতা (৩) গো মাতা (৪) রাণী মাতা (৫)
ব্রাহ্মণ মাতা (৬) গুরুদেবের স্ত্রী মাতা (৭) নিজের আপন মাতা । হিন্দুরা কিন্তু তাদের
আপন জন্মধাত্রী মায়ের দুধ পান করতে পারে কিন্তু তাই বলে কি আপন মায়ের মাংস
ভক্ষন করতে পারে না। শাস্ত্র মতে এই ৭ জন মাতার মধ্যে গো মাতা এক। তাই তারা
গোমাতার দুধ পান করতে পারে কিন্তু মাংস ভক্ষন করতে পারেনা। তাদের ভাষায় গো-
মাতা পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণের অতিব প্রিয় । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাল্যকালের
লীলা বিলাস এই গো-মাতাদের সাথে করেছিলেন । পবিত্র বেদে গো মাতা হত্যা ও

গোমাংস ভক্ষন করা হিন্দু ধর্মে সম্পুর্ন ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গো-মাতাকে হত্যা
নয় রক্ষা করাই তাদের ধর্ম। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন "যে ব্যক্তি গোমাংস
ভক্ষণ এবং যে ব্যক্তি ঘাতককে গোহত্যার অনুমতি দেয়, তাদের সকলকেই সেই নিহত
গরুর লোম পরিমিত বৎসরকাল নরকে নিমগ্ন থাকতে হবে"। এখন যারা নিজেদের গো-
রক্ষক বলে গলা ফাটাচ্ছেন, যারা রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন, গরু পাচার
এবং যারা গরু খায় তাদের হত্যা করছেন-তারা কি জানেন যে, তাদের শাস্ত্রে গরুর মাংস
খাওয়ার কথা বলা হয়েছে ? এমনকি রামও গরু খেতেন। এখন কি গো-রক্ষকরা, যারা
রামকে ভগবান মনে করেন, কী করবেন? রাম গরুর মাংসের সঙ্গে মদ খেতে
ভালোবাসতেন। বনবাসে যাওয়ার প্রাক্কালে মায়ের কাছে রামের আক্ষেপ ছিল যে, তিনি
১৪ বছর গোমাংস খেতে পারবেন না, সোমরস পান করতে পারবেন না এবং সোনার খাটে
ঘুমাতে পারবেন না। “রাম গোমাংস ভক্ষণ করতেন।” (বাল্মীকী রামায়ণ, আদিকাণ্ড,
অযোধ্যাকাণ্ড)। রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা বনবাসের পথে ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে
বৃষমাংস, মধুপর্ক ও ফলমূল খেয়েছিলেন। (বাল্মীকী রামায়ণ ২/৫৪)। গোহত্যা এবং
গোমাংস খাওয়ার বিধান রয়েছে **শতপথ ব্রাহ্মণ** ১১/১/২-এ। ঋগ্বেদে বৈদিক
আর্যদের গোমাংস খাওয়ার বহু উল্লেখ রয়েছে- “ইন্দ্র বললেন, তাদের খাওয়ার জন্য
২০টি ষাঁড় রান্না করা হয়েছে” (ঋগ্বেদ ১০/৮৬/১৪, অনুবাদ: রমেশ চন্দ্র)।গোমাংস
ইন্দ্রের অতিপ্রিয় ছিল। ঋগ্বেদে অগ্নির উদ্দেশ্যে ঘোড়া, বলদ, ষাঁড়, দুগ্ধহীন গাই ও
মেষ বলির উল্লেখ আছে। বৈদিক আর্যরা গরু বা ষাঁড়কে তরোয়াল বা কুড়ুল দিয়ে হত্যা
করতেন। একটি বেঁটে ষাঁড় বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে, একটি চিত্রকপালী শিংওয়ালা গরু ইন্দ্রের
উদ্দেশ্যে, একটি কালো গরু পূষণের উদ্দেশ্যে এবং একটি লাল গরু রুদ্রের উদ্দেশ্যে
বলি দেওয়া হতো। ঋগ্বেদ সংহিতার **বিবাহসূক্তে** কন্যার বিয়েতে সমাগত
অতিথিদের জন্য গোমাংস পরিবেশনের উদ্দেশ্যে অজস্র গরু বলির বিধান আছে
(ঋগ্বেদ সংহিতা ১০/৮৫/১৩, অনুবাদ: রমেশ চন্দ্র)। বিষ্ণুপুরাণও গোমাংস ভোজনকে
সমর্থন করেছে। শ্রাদ্ধের দিনে ব্রাহ্মণদের মৎস্য দানে ২ মাস, শশক মাংস দানে ৩
মাস, ছাগ মাংস দানে ৬ মাস, মেষ মাংস দানে ১০ মাস এবং গোমাংস দানে ১১ মাস
পিতৃগণের আত্মা পরিতৃপ্ত থাকেন (বিষ্ণুপুরাণ ৩/১৬, ঔর্ব মুনির বচন)। **পাণিনির
অষ্টাধ্যায়ী** (চতুর্থ-ষষ্ঠ খ্রিস্টপূর্বাব্দ): পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীতে একটি সূত্র
আছে— **“দাশগোঘ্নৌ সম্প্রদানে”**। শ্রীশচন্দ্র বসুর অনূদিত সংস্করণ অনুসারে
এখান থেকে জানা যায় যে, গোহত্যাকারীকে গোঘ্ন বলা হয় না; বরং যার (অতিথির)
আগমনে গরু হত্যা করা হয়, তাকেই গোঘ্ন বলা হয়। **চাণক্যের অর্থশাস্ত্র**

(২/২৯/১২৯)। গো-পালকেরা মাংসের জন্য ছাপ দেওয়া গরুর মাংস কাঁচা অথবা শুকিয়ে
বিক্রি করতে পারে। তাদের পথপ্রদর্শকরা গরু ভক্ষন করেই ধর্ম প্রচার করেছেন।
মুসুলমানদের বেলায় কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে কোরবানী নিষেদ কেন ?

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

“ রামও গরু খেতেন ” ——— মোশারফ হোসেন

Update Time : ০৪:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু গরু পালনকারীরা গরু বিক্রী না পেরে ব্যাংকের লোন
পরিশোধ নিয়ে তাদের চোখ দিয়ে অশ্রুর বন্যা বইছে। কোন মুসলিমরা গরু কিনলেই
সনাতনীরা জোর করে গরু নিয়ে যাচ্ছে এবং অপমান করতে দেখা গেছে। ভারতের হিন্দুরা
গরুকে গোমাতা হিসেবে এখন গোমূত্র পান করতে দেখা গেছে। আমরা যতটুকু জানি ভারত
শিক্ষিত মানুষের মানবতাবাদী দেশ। এই দেশের মানুষ মুসলিমদের উপর জুলুমবাজ কেন ?
ভারত আগে মুসুলমানরাই শাসন করত। ভারতে মুসলিম শাসনকালে সামগ্রিকভাবে
হিন্দুদের পূজা পালন বন্ধ ছিল না। তবে এই দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন শাসকের
দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতির কারণে পরিস্থিতির তারতম্য ঘটেছে। কোনো কোনো শাসক
অসহিষ্ণু আচরণ করলেও, সামগ্রিকভাবে হিন্দু প্রজারা স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম ও
উৎসব পালন করেছেন। মুঘল সম্রাট আকবর, বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
প্রমুখ উদার শাসকরা হিন্দুদের পূজা-পার্বণে কোনো বাধা দেননি, বরং অনেক সময়
আর্থিক অনুদান প্রদান ও উৎসবে অংশগ্রহণ করে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।
মধ্যযুগের ইতিহাস অনুযায়ী, অধিকাংশ সময় হিন্দু ও মুসলমানরা পাশাপাশি শান্তিতে
বসবাস করেছে এবং হিন্দু পুরোহিত ও সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য রাজকীয়
ফরমান জারির প্রমাণও রয়েছে। আজ ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় ঈদুল আযহা
নিয়মানুযায়ী কোরবানী দিতে হয়। কোরবানী দিতে গরু ছাগল ভেড়া মহিষের প্রয়োজন হয়
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুসুলমানদের কোরবানী বন্ধ করে
রেখেছে। তাহলে হিন্দুরা কেন গো মাংস খায় না? গো মাতা কেন সনাতন ধর্মে পূজনীয়?
উত্তর:- হিন্দুরা নানান জায়গায় মানুষের কাছ থেকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, মানুষ
গরুর দুধ খায় ঠিকই কিন্তু মাংস খায় না কেন? আসুন এবার জানা যাক সনাতন ধর্মে
গো-মাতা সম্পর্কে কিছু বলা হয়েছে। পবিত্র বেদে সাত ধরণের মাতার কথা উল্লেখ করা
হয়েছে । তারা হলেন: (১) বেদ মাতা (২) ধরণী মাতা (৩) গো মাতা (৪) রাণী মাতা (৫)
ব্রাহ্মণ মাতা (৬) গুরুদেবের স্ত্রী মাতা (৭) নিজের আপন মাতা । হিন্দুরা কিন্তু তাদের
আপন জন্মধাত্রী মায়ের দুধ পান করতে পারে কিন্তু তাই বলে কি আপন মায়ের মাংস
ভক্ষন করতে পারে না। শাস্ত্র মতে এই ৭ জন মাতার মধ্যে গো মাতা এক। তাই তারা
গোমাতার দুধ পান করতে পারে কিন্তু মাংস ভক্ষন করতে পারেনা। তাদের ভাষায় গো-
মাতা পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণের অতিব প্রিয় । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বাল্যকালের
লীলা বিলাস এই গো-মাতাদের সাথে করেছিলেন । পবিত্র বেদে গো মাতা হত্যা ও

গোমাংস ভক্ষন করা হিন্দু ধর্মে সম্পুর্ন ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গো-মাতাকে হত্যা
নয় রক্ষা করাই তাদের ধর্ম। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন "যে ব্যক্তি গোমাংস
ভক্ষণ এবং যে ব্যক্তি ঘাতককে গোহত্যার অনুমতি দেয়, তাদের সকলকেই সেই নিহত
গরুর লোম পরিমিত বৎসরকাল নরকে নিমগ্ন থাকতে হবে"। এখন যারা নিজেদের গো-
রক্ষক বলে গলা ফাটাচ্ছেন, যারা রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন, গরু পাচার
এবং যারা গরু খায় তাদের হত্যা করছেন-তারা কি জানেন যে, তাদের শাস্ত্রে গরুর মাংস
খাওয়ার কথা বলা হয়েছে ? এমনকি রামও গরু খেতেন। এখন কি গো-রক্ষকরা, যারা
রামকে ভগবান মনে করেন, কী করবেন? রাম গরুর মাংসের সঙ্গে মদ খেতে
ভালোবাসতেন। বনবাসে যাওয়ার প্রাক্কালে মায়ের কাছে রামের আক্ষেপ ছিল যে, তিনি
১৪ বছর গোমাংস খেতে পারবেন না, সোমরস পান করতে পারবেন না এবং সোনার খাটে
ঘুমাতে পারবেন না। “রাম গোমাংস ভক্ষণ করতেন।” (বাল্মীকী রামায়ণ, আদিকাণ্ড,
অযোধ্যাকাণ্ড)। রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা বনবাসের পথে ভরদ্বাজ মুনির আশ্রমে
বৃষমাংস, মধুপর্ক ও ফলমূল খেয়েছিলেন। (বাল্মীকী রামায়ণ ২/৫৪)। গোহত্যা এবং
গোমাংস খাওয়ার বিধান রয়েছে **শতপথ ব্রাহ্মণ** ১১/১/২-এ। ঋগ্বেদে বৈদিক
আর্যদের গোমাংস খাওয়ার বহু উল্লেখ রয়েছে- “ইন্দ্র বললেন, তাদের খাওয়ার জন্য
২০টি ষাঁড় রান্না করা হয়েছে” (ঋগ্বেদ ১০/৮৬/১৪, অনুবাদ: রমেশ চন্দ্র)।গোমাংস
ইন্দ্রের অতিপ্রিয় ছিল। ঋগ্বেদে অগ্নির উদ্দেশ্যে ঘোড়া, বলদ, ষাঁড়, দুগ্ধহীন গাই ও
মেষ বলির উল্লেখ আছে। বৈদিক আর্যরা গরু বা ষাঁড়কে তরোয়াল বা কুড়ুল দিয়ে হত্যা
করতেন। একটি বেঁটে ষাঁড় বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে, একটি চিত্রকপালী শিংওয়ালা গরু ইন্দ্রের
উদ্দেশ্যে, একটি কালো গরু পূষণের উদ্দেশ্যে এবং একটি লাল গরু রুদ্রের উদ্দেশ্যে
বলি দেওয়া হতো। ঋগ্বেদ সংহিতার **বিবাহসূক্তে** কন্যার বিয়েতে সমাগত
অতিথিদের জন্য গোমাংস পরিবেশনের উদ্দেশ্যে অজস্র গরু বলির বিধান আছে
(ঋগ্বেদ সংহিতা ১০/৮৫/১৩, অনুবাদ: রমেশ চন্দ্র)। বিষ্ণুপুরাণও গোমাংস ভোজনকে
সমর্থন করেছে। শ্রাদ্ধের দিনে ব্রাহ্মণদের মৎস্য দানে ২ মাস, শশক মাংস দানে ৩
মাস, ছাগ মাংস দানে ৬ মাস, মেষ মাংস দানে ১০ মাস এবং গোমাংস দানে ১১ মাস
পিতৃগণের আত্মা পরিতৃপ্ত থাকেন (বিষ্ণুপুরাণ ৩/১৬, ঔর্ব মুনির বচন)। **পাণিনির
অষ্টাধ্যায়ী** (চতুর্থ-ষষ্ঠ খ্রিস্টপূর্বাব্দ): পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীতে একটি সূত্র
আছে— **“দাশগোঘ্নৌ সম্প্রদানে”**। শ্রীশচন্দ্র বসুর অনূদিত সংস্করণ অনুসারে
এখান থেকে জানা যায় যে, গোহত্যাকারীকে গোঘ্ন বলা হয় না; বরং যার (অতিথির)
আগমনে গরু হত্যা করা হয়, তাকেই গোঘ্ন বলা হয়। **চাণক্যের অর্থশাস্ত্র**

(২/২৯/১২৯)। গো-পালকেরা মাংসের জন্য ছাপ দেওয়া গরুর মাংস কাঁচা অথবা শুকিয়ে
বিক্রি করতে পারে। তাদের পথপ্রদর্শকরা গরু ভক্ষন করেই ধর্ম প্রচার করেছেন।
মুসুলমানদের বেলায় কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে কোরবানী নিষেদ কেন ?