০৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

মুসলমানদের অপূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালন এবং অর্জিত আযাব

মতামত
  • Update Time : ০২:২৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৬৩ Time View

 

ফিরোজ মাহবুব কামল

 

 

মুসলিমদের গাদ্দারী ও ভ্রষ্টতা

 

আজকের মুসলিমদের সকল সংকটের মূলে রয়েছে তাদের অপূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালন এবং অর্পিত খেলাফতের দায়িত্ব পালনের সাথে গাদ্দারী। তাদের মূল পরিচয় যে মহান আল্লাহতায়ালার খলিফা ও তাঁর সার্বক্ষণিক সৈনিক -সে পরিচয়টি নিয়েও তারা বাঁচে না। বরং বাঁচে স্বৈর শাসক, রাজা-বাদশাহ বা দলের খলিফা বা সৈনিক রূপে। এবং তারা বাঁচে ভাষা, বর্ণ, গোত্র ও অঞ্চল ভিত্তিক পরিচয় বহন করে। বরং তাদের সার্বক্ষণিক যুদ্ধটি নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠিত সে ইসলামের বিরুদ্ধে -যা ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা চায়।  নবীজী (সা:) যে আরব ভূমিতে বাংলাদেশের চেয়ে ২০ গুণ বৃহৎ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন সে মুসলিম আরব ভূমির নাগরিকগণ আর তাদের ইসলামী পরিচয় নিয়ে বাঁচে না। তারা ফিরে গেছে ইসলাম পূর্ব জাহেলী যুগের গোত্রীয় পরিচয়ে। ফলে তাদের বাঁচায় গৌরবের বিষয়টি হলো সৌদি, ইয়েমেনী, ওমানী, কাতারী ও বাহরাইনী পরিচয় নিয়ে বাচায়।  প্যান-ইসলামী একতা নিয়ে নয়, গোত্রীয় বিভক্তি নিয়ে বাঁচাই তাদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ ভূরাজনৈতিক বিভক্তি হলো বেঈমানী ও মুনাফিকির দৃশ্যমান রূপ। সত্যিকার ঈমান থাকলে তো তাদের মাঝে একতাবদ্ধ উম্মাহ রূপে বাঁচার তাড়না দেখা যেত।  পূর্ণাঙ্গ ইসলামে ব্যর্থতা ও দায়িত্ব পালনে গাদ্দারীর কারণে মুসলিম ভূমি আযাবের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যারা আল্লাহতায়ালার স্মরণ ও তাঁর প্রতি দায়বদ্ধতার কথা ভূলে যায় তাদের ঘাড়ের উপর শয়তান বসিয়ে দেন। সে ঘোষণা দেয়া হয়েছে নিচের আয়াতে:

وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَـٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ

অর্থ: “যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।”-(সুরা যুখরুফ, আয়াত ৩৬)।

মুসলিমগণ আজ আর আল্লাহর স্মরণ নিয়ে বাঁচে না। স্মরণ নিয়ে বাঁচলে তো তাদের মাঝে তাঁর এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জিহাদও দেখা যেত। ফলে উপরের আয়াতে যা প্রতিশ্রুত -সেটিই দেখা যাচ্ছে। শয়তান যে মুসলিমদের ঘাড়ের উপর শক্ত ভাবে অবস্থান নিয়েছে, সেটি সুস্পষ্ট বুঝা যায় সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে মুসলিমদের বিশাল বিচ্যুতি দেখে। নবীজী (সা:) যে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম এবং ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন, – তা আজ মুসলিম বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই। তারা প্রতিষ্ঠা দিয়েছে ভাষা, গোত্র ও অঞ্চল ভিত্তিক সেক্যুলার রাষ্ট্রের। সেসব রাষ্ট্রে স্থান নাই শরিয়া ও মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্বের।  কারণ, শয়তানের মূল এজেন্ডাই হলো মানুষকে জান্নাতের পথ থেকে বিচ্যুত করে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করা। এ কাজে শয়তানের সাফল্যটি বিশাল। সেটি সুস্পষ্ট দেখা যায় মুসলিমদের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, সেক্যুলারিজম, কম্যুনিজম, রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা দেখে। শয়তানের বিজয়টি আরো দেখা যায় অর্থনীতিতে সূদ, ঘুষ ও প্রতারণা, সাংস্কৃতিক জীবনে বেপর্দাগী, অশ্লিলতা ও হিন্দুত্ব এবং ধর্মীয় জীবনে জিহাদশূণ্যতা, কুর’আনী জ্ঞানে অজ্ঞতা ও ফিরকা ভিত্তিক দেখে। মুসলিমদের এ ব্যর্থতা ও গাদ্দারীর কারণে তাদের উপর আযাবের হাতিয়ার রূপে হাজির হয়েছে শয়তানের বিশ্বস্ত সৈনিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ফলে মুসলিম ভূমির উপর বর্ষিত হচ্ছে মার্কিনী ও ইসরাইলী বোমা ও মিজাইল।

মুসলিমের ঈমানশূণ্যতা ও জিহাদশূণ্যতা

যেদেশে মুসলিমের বসবাস, সেদেশে যুদ্ধ শুধু শয়তানের অনুসারীদের জীবনেই থাকে না, যুদ্ধ থাকে প্রতিটি মুমিনের জীবনেও। মুমিনের জীবনের সে অবিরাম যুদ্ধটিই হলো জিহাদ। নামাজ-রোজা ছাড়লে কেউ মুসলিম থাকে না। তেমনি জিহাদ ছাড়লে কেউ মুসলিম থাকে না। তাই নবীজী (সা:)’য়ের পিছনে নামাজ পড়েও মুসলিম হতে পারিনি আব্দুল্লাহ বিন উবাই ও তার তিনশত সাথী -কারণ তারা দূরে সরেছিল জিহাদ থেকে। প্রশ্ন হলো, দেশ যখন হিন্দুত্ববাদের সেবকদের হাতে অধিকৃত, শরিয়া যখন বিলুপ্ত, ন্যায় ও সুবিচারের বদলে প্লাবন যেখান দুর্বৃত্তির -এমন দেশে মুসলিম জীবনে জিহাদ থাকবে না, সেটি কি ভাবা যায়? জিহাদের আযান দেন খোদ মহান আল্লাহতায়ালা। পবিত্র কুর’আনে ছত্রে ছত্রে সে আযান। পবিত্র কুর’আনে মাহে রমযানের রোজার হুকুম দিয়েছেন মাত্র একবার, কিন্তু জিহাদের হুকুম এসেছে অসংখ্য বার। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে জিহাদের আযানে সাড়া দেননি -এমন মুসলিম একজনও ছিল না। তাদের সবার জিহাদে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র। অথচ আজ মুসলিম দেশ থেকে মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন বিলুপ্ত করা হলেও জিহাদের আযানে সাড়া দেয়ার লোক নাই। ফলে ১৫০ কোটি মুসলিম ব্যর্থ হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠা দিতে। এভাবে মুসলিমগণ বাঁচছে পূর্ণ ইসলাম পালন ছাড়াই।

যার হৃদয়ে মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি সামান্য ভালবাসা ও আনুগত্য আছে -সে কি কখনো তাঁর সর্বক্ষমতাময় মহান প্রভুর সার্বভৌমত্বের বিলুপ্তি মেনে নেয়? কোন ঈমানদার কি নিজ দেশে ইসলামের শত্রুশক্তির শাসন মেনে নেয়? মেনে নেয় কি শরিয়ার বিলুপ্তি? মেনে নেয় কি বর্ণ, ভাষা ও আঞ্চলিকতার নামে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি? মেনে নেয় কি জিহাদের বিলুপ্তি? এগুলি মেনে নেয়ার অর্থ তো ইসলামের বিলুপ্তিকে মেনে নেয়া। এমন আত্মসমর্পণ নিয়ে বাঁচা কখনোই কোন ঈমানদারের মিশন হতে পারে না। কোন মুসলিম ভূমি ইসলামের শক্তির হাতে অধিকৃত হলে সে অধিকৃতি থেকে মুক্তির জন্য মুসলিম জীবনে জিহাদ আসবে -সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? কিন্তু বাঙালি মুসলিমের জীবনে কোথায় সে জিহাদ? কোথায় সে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের তাড়না? সেরূপ একটি প্রবল তাড়না না থাকলে বুঝতে হবে, আগ্রহ নাই মহান আল্লাহতায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করায়। তখন বুঝতে হবে, সে ব্যক্তি বাঁচতে চায় বিদ্যমান পরাজয় নিয়ে। প্রশ্ন হলো, যারা বাঁচে মহান আল্লাহতায়ালার দ্বীনের পরাজয় মেনে নিয়ে এবং যাদের আগ্রহ নাই পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালনে -তারা কি কখনো তাঁর নিকট থেকে কোন রূপ করুণা বা প্রতিদান আশা করতে পারে?

জালেম শাসক ও তার সৈনিকদের জীবনেও যুদ্ধ থাকে। সেসব যুদ্ধে তারা প্রাণও দেয়। এ সব বেঈমানদের জীবনে নিজ বিশ্বাসের সাথে মুনাফিকি নাই। তারা যা বিশ্বাস করে সেটিকে বিজয়ী করতে যুদ্ধ করে; এবং বিপুল সংখ্যায় প্রাণদানও করে।  ১৯৭১’য়ে সে রকম একটি যুদ্ধ দেখা বাঙালি সেক্যুলারিস্ট, ফ্যাসিস্ট, কম্যুনিস্ট, জাতীয়তাবাদী ও হিন্দত্ববাদীদের জীবনে।  এজন্যই বেঈমানগণ দেশে দেশে বিজয়ী। অথচ প্রতিদান রূপে তারা যা পায় -তা অতি সামান্য। পরকালে তারা পৌঁছবে নিশ্চিত জাহান্নামের আগুনে। কিন্তু যারা অনন্ত-অসীম কালের জন্য নিয়ামত ভরা জান্নাত পেতে চায় -তাদের জীবনে নিজ বিশ্বাসের সাথে কাঙ্খিত ঈমানদারী কই? ঈমানদারী থাকলে তো মহান রব’য়ের দ্বীনকে বিজয়ী করার জিহাদ এবং সে জিহাদে কুরবানী দেখা যেত -যেমন দেখা গেছে নবীজী (সা:)’য়ের সাহাবাদের জীবনে। ঈমানদার হওয়ার অর্থ তো নিজ জীবন ও সম্পদকে জান্নাতের বিনিময়ে বিক্রয় করে দেয়া। সে বিক্রয়নামার কথা বলা হয়েছে সুরা তাওবার ১১১ নম্বর আয়াতে। এবং যারা নিজের জীবনকে বিক্রয় করে জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জন্য জিহাদের নির্দেশ এসেছে। বলা হয়েছে:

فَلْيُقَـٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يَشْرُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا بِٱلْـَٔاخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَـٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًۭا

অর্থ: “অতএব যারা দুনিয়ার জীবনকে বিক্রয় করেছে আখেরাতের বিনিময়ে -তাদের অবশ্যই আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা উচিত। এবং যে যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে, অতঃপর সে যুদ্ধে নিহত হয় অথবা বিজয়ী হয় -শীঘ্রই আমি তাদের বিরাট পুরস্কার দিব।” –( সুরা নিসা, আয়াত ৭৪)।

প্রশ্ন হলো, যারা নিজেদের পেশ করে ঈমানদার রূপে -তাদের জীবনে জান্নাতের বিনিময়ে মহান আল্লাহতায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করার জিহাদ কই? তাদের কাছে মহান রব’য়ের জিজ্ঞাসা হলো:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হলো, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধরো, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।”-(সুরা তাওবা, আয়াত ৩৮)।

মহান রব উপরিউক্ত প্রশ্নটি রেখেছিলেন নবীজী (সা:)’য়ের যুগে। অথচ মানব জাতির ইতিহাসে সে সময়েই জিহাদে অংশগ্রহণের মাত্র ছিল সর্বাধিক। অর্ধেকের বেশী সাহাবা জিহাদে যোগ দিয়ে শহীদ হয়ে গেছেন। উপরের আয়াত থেকে যে বিষয়টি বুঝা যায় তা হলো, মহান আল্লাহতায়ালা চান, তারা প্রতিটি ঈমানদার বান্দার সার্বক্ষণিক তাড়নাটি হবে সে বাঁচবে ইসলামকে বিজয়ী করার জিহাদে অংশগ্রহন নিয়ে।  নামাজের ওয়াক্ত দিনে ৫ বার, কিন্তু জিহাদের ওয়াক্ত সর্বক্ষণ। সে জিহাদ হতে পারে বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক। সে জিহাদ থেকে কোন ঈমানদার কখনো দূরে থাকতে পারে না।

জিহাদ থেকে দূরে থাকার অর্থ মহান রব’য়ের এজেন্ডার সাথে গাদ্দারী। সেটি মুনাফিকি। আল্লাহতায়ালা কি কখনো মুনাফিকদের বিজয় দেন? পবিত্র কুর’আনে মুনাফিকদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি। জাহান্নামে তাদের অবস্থানটি হবে সবচেয়ে ভয়ংকরতম স্থানে। দুনিয়াতেও কি মুনাফিকদের অবস্থান কাফিরদের চেয়ে উত্তম হতে পারে? উত্তম যে নয়, তার প্রমাণ তো আজকের মুসলিমগণ নিজেরাই। তারা বাঁচছে গোলামী, অপমান, ধ্বংস ও  আযাব নিয়ে।  মহান রব’য়ের পক্ষে থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে যাদের আগ্রহ নাই, তাদের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়া এবং তাদেরকে আযাব দেয়াই মহান রব’য়ের নীতি -যার ঘোষণা এসেছে নিচের আয়াতে:

إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ: “যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।” –(সুরা তাওবা, আয়াত ৩৯)।

মুসলিমগণ যখনই আল্লাহতায়ালার খলিফা রূপে দায়িত্ব পালনে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে নিজেদের জান, মাল, শ্রম ও মেধার বিনিয়োগ করেছে, মহান রব তাদেরকে বিজয়ের পর বিজয় দিয়েছেন। তাদেরকে বিজয়ী করতে এমন কি ফেরেশতা নামিয়ে সাহায্য করেছেন। ফলে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিশাল ভূভাগ জুড়ে তাদের শাসন সম্প্রসারিত হয়েছে। এমন কি স্পেন ও পর্তুগালের ন্যায় পশ্চিম ইউরোপীয় ভূমিতেও তারা বহু শত বছর শাসনের সুযোগ পেয়েছে। শত শত বছর শাসন করেছে গ্রীস, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া হার্জিগোভিনা, রুমানিয়া, মেসিডোনিয়া, আলবানিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রিমিয়া, মন্টেনেগ্রোসহ পূর্ব ইউরোপের বিশাল ভূভাগ জুড়ে। কিন্তু যখনই তারা দায়িত্ব পালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন থেকেই তাদের পরাজয়ের শুরু।  এমন কি তাদের শাসন কেড়ে নেয়া হয়েছে ইসলামের মূল ভূমি থেকেও।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

https://www.facebook.com/obaidul1991

মুসলমানদের অপূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালন এবং অর্জিত আযাব

Update Time : ০২:২৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

 

ফিরোজ মাহবুব কামল

 

 

মুসলিমদের গাদ্দারী ও ভ্রষ্টতা

 

আজকের মুসলিমদের সকল সংকটের মূলে রয়েছে তাদের অপূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালন এবং অর্পিত খেলাফতের দায়িত্ব পালনের সাথে গাদ্দারী। তাদের মূল পরিচয় যে মহান আল্লাহতায়ালার খলিফা ও তাঁর সার্বক্ষণিক সৈনিক -সে পরিচয়টি নিয়েও তারা বাঁচে না। বরং বাঁচে স্বৈর শাসক, রাজা-বাদশাহ বা দলের খলিফা বা সৈনিক রূপে। এবং তারা বাঁচে ভাষা, বর্ণ, গোত্র ও অঞ্চল ভিত্তিক পরিচয় বহন করে। বরং তাদের সার্বক্ষণিক যুদ্ধটি নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠিত সে ইসলামের বিরুদ্ধে -যা ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা চায়।  নবীজী (সা:) যে আরব ভূমিতে বাংলাদেশের চেয়ে ২০ গুণ বৃহৎ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন সে মুসলিম আরব ভূমির নাগরিকগণ আর তাদের ইসলামী পরিচয় নিয়ে বাঁচে না। তারা ফিরে গেছে ইসলাম পূর্ব জাহেলী যুগের গোত্রীয় পরিচয়ে। ফলে তাদের বাঁচায় গৌরবের বিষয়টি হলো সৌদি, ইয়েমেনী, ওমানী, কাতারী ও বাহরাইনী পরিচয় নিয়ে বাচায়।  প্যান-ইসলামী একতা নিয়ে নয়, গোত্রীয় বিভক্তি নিয়ে বাঁচাই তাদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ ভূরাজনৈতিক বিভক্তি হলো বেঈমানী ও মুনাফিকির দৃশ্যমান রূপ। সত্যিকার ঈমান থাকলে তো তাদের মাঝে একতাবদ্ধ উম্মাহ রূপে বাঁচার তাড়না দেখা যেত।  পূর্ণাঙ্গ ইসলামে ব্যর্থতা ও দায়িত্ব পালনে গাদ্দারীর কারণে মুসলিম ভূমি আযাবের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যারা আল্লাহতায়ালার স্মরণ ও তাঁর প্রতি দায়বদ্ধতার কথা ভূলে যায় তাদের ঘাড়ের উপর শয়তান বসিয়ে দেন। সে ঘোষণা দেয়া হয়েছে নিচের আয়াতে:

وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَـٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ

অর্থ: “যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।”-(সুরা যুখরুফ, আয়াত ৩৬)।

মুসলিমগণ আজ আর আল্লাহর স্মরণ নিয়ে বাঁচে না। স্মরণ নিয়ে বাঁচলে তো তাদের মাঝে তাঁর এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জিহাদও দেখা যেত। ফলে উপরের আয়াতে যা প্রতিশ্রুত -সেটিই দেখা যাচ্ছে। শয়তান যে মুসলিমদের ঘাড়ের উপর শক্ত ভাবে অবস্থান নিয়েছে, সেটি সুস্পষ্ট বুঝা যায় সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে মুসলিমদের বিশাল বিচ্যুতি দেখে। নবীজী (সা:) যে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম এবং ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন, – তা আজ মুসলিম বিশ্বের কোথাও বেঁচে নাই। তারা প্রতিষ্ঠা দিয়েছে ভাষা, গোত্র ও অঞ্চল ভিত্তিক সেক্যুলার রাষ্ট্রের। সেসব রাষ্ট্রে স্থান নাই শরিয়া ও মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্বের।  কারণ, শয়তানের মূল এজেন্ডাই হলো মানুষকে জান্নাতের পথ থেকে বিচ্যুত করে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করা। এ কাজে শয়তানের সাফল্যটি বিশাল। সেটি সুস্পষ্ট দেখা যায় মুসলিমদের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, সেক্যুলারিজম, কম্যুনিজম, রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা দেখে। শয়তানের বিজয়টি আরো দেখা যায় অর্থনীতিতে সূদ, ঘুষ ও প্রতারণা, সাংস্কৃতিক জীবনে বেপর্দাগী, অশ্লিলতা ও হিন্দুত্ব এবং ধর্মীয় জীবনে জিহাদশূণ্যতা, কুর’আনী জ্ঞানে অজ্ঞতা ও ফিরকা ভিত্তিক দেখে। মুসলিমদের এ ব্যর্থতা ও গাদ্দারীর কারণে তাদের উপর আযাবের হাতিয়ার রূপে হাজির হয়েছে শয়তানের বিশ্বস্ত সৈনিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ফলে মুসলিম ভূমির উপর বর্ষিত হচ্ছে মার্কিনী ও ইসরাইলী বোমা ও মিজাইল।

মুসলিমের ঈমানশূণ্যতা ও জিহাদশূণ্যতা

যেদেশে মুসলিমের বসবাস, সেদেশে যুদ্ধ শুধু শয়তানের অনুসারীদের জীবনেই থাকে না, যুদ্ধ থাকে প্রতিটি মুমিনের জীবনেও। মুমিনের জীবনের সে অবিরাম যুদ্ধটিই হলো জিহাদ। নামাজ-রোজা ছাড়লে কেউ মুসলিম থাকে না। তেমনি জিহাদ ছাড়লে কেউ মুসলিম থাকে না। তাই নবীজী (সা:)’য়ের পিছনে নামাজ পড়েও মুসলিম হতে পারিনি আব্দুল্লাহ বিন উবাই ও তার তিনশত সাথী -কারণ তারা দূরে সরেছিল জিহাদ থেকে। প্রশ্ন হলো, দেশ যখন হিন্দুত্ববাদের সেবকদের হাতে অধিকৃত, শরিয়া যখন বিলুপ্ত, ন্যায় ও সুবিচারের বদলে প্লাবন যেখান দুর্বৃত্তির -এমন দেশে মুসলিম জীবনে জিহাদ থাকবে না, সেটি কি ভাবা যায়? জিহাদের আযান দেন খোদ মহান আল্লাহতায়ালা। পবিত্র কুর’আনে ছত্রে ছত্রে সে আযান। পবিত্র কুর’আনে মাহে রমযানের রোজার হুকুম দিয়েছেন মাত্র একবার, কিন্তু জিহাদের হুকুম এসেছে অসংখ্য বার। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে জিহাদের আযানে সাড়া দেননি -এমন মুসলিম একজনও ছিল না। তাদের সবার জিহাদে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র। অথচ আজ মুসলিম দেশ থেকে মহান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইন বিলুপ্ত করা হলেও জিহাদের আযানে সাড়া দেয়ার লোক নাই। ফলে ১৫০ কোটি মুসলিম ব্যর্থ হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠা দিতে। এভাবে মুসলিমগণ বাঁচছে পূর্ণ ইসলাম পালন ছাড়াই।

যার হৃদয়ে মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি সামান্য ভালবাসা ও আনুগত্য আছে -সে কি কখনো তাঁর সর্বক্ষমতাময় মহান প্রভুর সার্বভৌমত্বের বিলুপ্তি মেনে নেয়? কোন ঈমানদার কি নিজ দেশে ইসলামের শত্রুশক্তির শাসন মেনে নেয়? মেনে নেয় কি শরিয়ার বিলুপ্তি? মেনে নেয় কি বর্ণ, ভাষা ও আঞ্চলিকতার নামে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি? মেনে নেয় কি জিহাদের বিলুপ্তি? এগুলি মেনে নেয়ার অর্থ তো ইসলামের বিলুপ্তিকে মেনে নেয়া। এমন আত্মসমর্পণ নিয়ে বাঁচা কখনোই কোন ঈমানদারের মিশন হতে পারে না। কোন মুসলিম ভূমি ইসলামের শক্তির হাতে অধিকৃত হলে সে অধিকৃতি থেকে মুক্তির জন্য মুসলিম জীবনে জিহাদ আসবে -সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? কিন্তু বাঙালি মুসলিমের জীবনে কোথায় সে জিহাদ? কোথায় সে ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের তাড়না? সেরূপ একটি প্রবল তাড়না না থাকলে বুঝতে হবে, আগ্রহ নাই মহান আল্লাহতায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করায়। তখন বুঝতে হবে, সে ব্যক্তি বাঁচতে চায় বিদ্যমান পরাজয় নিয়ে। প্রশ্ন হলো, যারা বাঁচে মহান আল্লাহতায়ালার দ্বীনের পরাজয় মেনে নিয়ে এবং যাদের আগ্রহ নাই পূর্ণাঙ্গ ইসলাম পালনে -তারা কি কখনো তাঁর নিকট থেকে কোন রূপ করুণা বা প্রতিদান আশা করতে পারে?

জালেম শাসক ও তার সৈনিকদের জীবনেও যুদ্ধ থাকে। সেসব যুদ্ধে তারা প্রাণও দেয়। এ সব বেঈমানদের জীবনে নিজ বিশ্বাসের সাথে মুনাফিকি নাই। তারা যা বিশ্বাস করে সেটিকে বিজয়ী করতে যুদ্ধ করে; এবং বিপুল সংখ্যায় প্রাণদানও করে।  ১৯৭১’য়ে সে রকম একটি যুদ্ধ দেখা বাঙালি সেক্যুলারিস্ট, ফ্যাসিস্ট, কম্যুনিস্ট, জাতীয়তাবাদী ও হিন্দত্ববাদীদের জীবনে।  এজন্যই বেঈমানগণ দেশে দেশে বিজয়ী। অথচ প্রতিদান রূপে তারা যা পায় -তা অতি সামান্য। পরকালে তারা পৌঁছবে নিশ্চিত জাহান্নামের আগুনে। কিন্তু যারা অনন্ত-অসীম কালের জন্য নিয়ামত ভরা জান্নাত পেতে চায় -তাদের জীবনে নিজ বিশ্বাসের সাথে কাঙ্খিত ঈমানদারী কই? ঈমানদারী থাকলে তো মহান রব’য়ের দ্বীনকে বিজয়ী করার জিহাদ এবং সে জিহাদে কুরবানী দেখা যেত -যেমন দেখা গেছে নবীজী (সা:)’য়ের সাহাবাদের জীবনে। ঈমানদার হওয়ার অর্থ তো নিজ জীবন ও সম্পদকে জান্নাতের বিনিময়ে বিক্রয় করে দেয়া। সে বিক্রয়নামার কথা বলা হয়েছে সুরা তাওবার ১১১ নম্বর আয়াতে। এবং যারা নিজের জীবনকে বিক্রয় করে জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জন্য জিহাদের নির্দেশ এসেছে। বলা হয়েছে:

فَلْيُقَـٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يَشْرُونَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا بِٱلْـَٔاخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَـٰتِلْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًۭا

অর্থ: “অতএব যারা দুনিয়ার জীবনকে বিক্রয় করেছে আখেরাতের বিনিময়ে -তাদের অবশ্যই আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা উচিত। এবং যে যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে, অতঃপর সে যুদ্ধে নিহত হয় অথবা বিজয়ী হয় -শীঘ্রই আমি তাদের বিরাট পুরস্কার দিব।” –( সুরা নিসা, আয়াত ৭৪)।

প্রশ্ন হলো, যারা নিজেদের পেশ করে ঈমানদার রূপে -তাদের জীবনে জান্নাতের বিনিময়ে মহান আল্লাহতায়ালার দ্বীনকে বিজয়ী করার জিহাদ কই? তাদের কাছে মহান রব’য়ের জিজ্ঞাসা হলো:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হলো, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধরো, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।”-(সুরা তাওবা, আয়াত ৩৮)।

মহান রব উপরিউক্ত প্রশ্নটি রেখেছিলেন নবীজী (সা:)’য়ের যুগে। অথচ মানব জাতির ইতিহাসে সে সময়েই জিহাদে অংশগ্রহণের মাত্র ছিল সর্বাধিক। অর্ধেকের বেশী সাহাবা জিহাদে যোগ দিয়ে শহীদ হয়ে গেছেন। উপরের আয়াত থেকে যে বিষয়টি বুঝা যায় তা হলো, মহান আল্লাহতায়ালা চান, তারা প্রতিটি ঈমানদার বান্দার সার্বক্ষণিক তাড়নাটি হবে সে বাঁচবে ইসলামকে বিজয়ী করার জিহাদে অংশগ্রহন নিয়ে।  নামাজের ওয়াক্ত দিনে ৫ বার, কিন্তু জিহাদের ওয়াক্ত সর্বক্ষণ। সে জিহাদ হতে পারে বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক। সে জিহাদ থেকে কোন ঈমানদার কখনো দূরে থাকতে পারে না।

জিহাদ থেকে দূরে থাকার অর্থ মহান রব’য়ের এজেন্ডার সাথে গাদ্দারী। সেটি মুনাফিকি। আল্লাহতায়ালা কি কখনো মুনাফিকদের বিজয় দেন? পবিত্র কুর’আনে মুনাফিকদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি। জাহান্নামে তাদের অবস্থানটি হবে সবচেয়ে ভয়ংকরতম স্থানে। দুনিয়াতেও কি মুনাফিকদের অবস্থান কাফিরদের চেয়ে উত্তম হতে পারে? উত্তম যে নয়, তার প্রমাণ তো আজকের মুসলিমগণ নিজেরাই। তারা বাঁচছে গোলামী, অপমান, ধ্বংস ও  আযাব নিয়ে।  মহান রব’য়ের পক্ষে থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে যাদের আগ্রহ নাই, তাদের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়া এবং তাদেরকে আযাব দেয়াই মহান রব’য়ের নীতি -যার ঘোষণা এসেছে নিচের আয়াতে:

إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ: “যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।” –(সুরা তাওবা, আয়াত ৩৯)।

মুসলিমগণ যখনই আল্লাহতায়ালার খলিফা রূপে দায়িত্ব পালনে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে নিজেদের জান, মাল, শ্রম ও মেধার বিনিয়োগ করেছে, মহান রব তাদেরকে বিজয়ের পর বিজয় দিয়েছেন। তাদেরকে বিজয়ী করতে এমন কি ফেরেশতা নামিয়ে সাহায্য করেছেন। ফলে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিশাল ভূভাগ জুড়ে তাদের শাসন সম্প্রসারিত হয়েছে। এমন কি স্পেন ও পর্তুগালের ন্যায় পশ্চিম ইউরোপীয় ভূমিতেও তারা বহু শত বছর শাসনের সুযোগ পেয়েছে। শত শত বছর শাসন করেছে গ্রীস, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া হার্জিগোভিনা, রুমানিয়া, মেসিডোনিয়া, আলবানিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রিমিয়া, মন্টেনেগ্রোসহ পূর্ব ইউরোপের বিশাল ভূভাগ জুড়ে। কিন্তু যখনই তারা দায়িত্ব পালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন থেকেই তাদের পরাজয়ের শুরু।  এমন কি তাদের শাসন কেড়ে নেয়া হয়েছে ইসলামের মূল ভূমি থেকেও।