০৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পিপলস টিভি ৬
https://www.facebook.com/obaidul1991

শ্রমিক বিক্ষোভ আন্দেলনের রহস্য কি —- মোশারফ হোসেন

মতামত
  • Update Time : ১২:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৩৩ Time View

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন – একটি সমাজ কতটা সভ্য তা তার সবচেয়ে ধনীর
প্রাচুর্য দিয়ে পরিমাপ করা যায়না, বরং সবচেয়ে ক্ষমতাহীন ও দূর্বল মানুষটি কতটুকু স্বাধীনতা
এবং সুযোগ ভোগ করছে তা দিয়ে যাচাই করতে হয়। ছোট্ট মানব শিশু মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলেই
কান্না করে। কারন পৃথিবীর আলো বাতাস দেখেই সে ভয় পায়, আমার ভবিষ্যৎ কি? যে সন্তানটি
ধনীর ঘরে জন্ম নেয় তার কান্না বাবা মা দাদা দাদীর খুশির বার্তা প্রকাশ পায়। যে সন্তানটি দিনমুজুর
গরীব মা এর গর্ভ থেকে জন্ম নেয়, তার কান্না বাবা মা ও স্বজনদের অভাবের বার্তা প্রকাশ করে।
এই পৃথিবীতে যে হাসার সে হাসবেই, যে কাঁদার সে কাদবেই। উঁচু নিচু এ নিয়ম চলবে অনন্তকাল।
হর্কিন ফাসোর সাবেক রাষ্ট্রপতি ও এক বিপ।লবী নেতা থামাস সানকারা বলেছিলেন- দূর্নীতিগ্রস্থ
নেতৃত্ব দেশের অর্থনীতিকে ভেতর থেকে ধ্বংশ করে দেয়। ডঃ ইউনূস সরকার ১ বছরেই সুইস ব্যাংকে
যে পরিমান টাকা জমা করেছেন, ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে সুইস ব্যাংকটাই কিনে নিতো। অল্পের জন্য
সুইস ব্যাংকের মালিকানা হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ। সূত্র-(একাত্তর বিজনেস ফেইস বুক, তাং
২৭/৬/২০২৬ ইং)। আসা যাক মূল প্রসংগে- বাংলাদেশে চলমান পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
আন্দোলনের নেপথ্যে প্রধানত জীবনযাত্রার তীব্র ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা
করার দাবি রয়েছে, তবে একই সাথে এর পেছনে রাজনৈতিক উসকানি ও নাশকতার অভিযোগও সামনে
এসেছে । ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মূলত দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা
রহস্যের কথা আলোচনা করা হচ্ছে: ১. অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনধারণের লড়াই (শ্রমিকদের পক্ষ)
মজুরি বৃদ্ধির দাবি- বর্তমানে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২,৫০০ টাকা, যা ২০২৩
সালের ডিসেম্বরে নির্ধারণ করা হয়েছিল । শ্রমিকরা এটিকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির তুলনায়
অত্যন্ত অপ্রতুল মনে করে এটি বাড়িয়ে ৩০,০০০ টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন । দ্রব্যমূল্যের
ঊর্ধ্বগতি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বাড়িভাড়া এবং গ্যাস-বিদ্যুতের বিল
অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন । শ্রমিক
নেতাদের মতে, এটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং পেটের দায়ে বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের লড়াই ।

বিজ্ঞাপন

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে
যে, এই আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বহিরাগতরা অনুপ্রবেশ করেছে। মিরপুর ও
গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত এমন বেশ কয়েকজনকে আটক
করা হয়েছে, যারা পোশাক শ্রমিক নন বরং পতিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির
সাথে জড়িত বলে পুলিশ দাবি করেছে । অন্যদিকে সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা/মন্ত্রী
এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, দেশের পোশাক খাতকে ধ্বংস করতে এবং
অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতে একটি রাজনৈতিক মহল শ্রমিকদের যৌক্তিক আবেগকে
ব্যবহার করে নাশকতা ছড়াচ্ছে । মহিলা শ্রমিকদেরউপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও স্পর্শকাতর স্থানে
হাত দেওয়া এটা সত্যিই নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। এরা আমাদের মায়ের জাত। চলমান পোশাক শ্রমিক
আন্দোলনে নারী শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শারীরিক
আচরণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক এবং সমালোচনার জন্ম

দিয়েছে। গত কয়েকদিনের মিরপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় আন্দোলনকারী এবং প্রশাসনের
পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ও তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত ভিডিও এবং প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা
অবরোধ সরাতে পুলিশ টিয়ারশেল ব্যবহারের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের ওপরও লাঠিচার্জ করেছে ।
বেশ কিছু ভিডিওতে নারী শ্রমিকদের পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে বাঁচতে আকুতি জানাতে এবং ক্ষোভ
প্রকাশ করতে দেখা গেছে । স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ ও বিতর্ক: সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে নারী শ্রমিকদের গায়ে হাত দেওয়া বা হেনস্থার কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক
সমালোচনা শুরু হয় । এর মধ্যে কিছু ভিডিওতে নারী শ্রমিকদের সরাসরি পুলিশের এমন আচরণের
বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে । মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলন দমনে
নারী শ্রমিকদের ওপর যেকোনো ধরনের শারীরিক বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জকে মানবাধিকারের চরম
লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে । নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নারী পুলিশ সদস্য ছাড়া পুরুষ
পুলিশ দ্বারা তাদের নিয়ন্ত্রণ বা স্পর্শ করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। হিউম্যান
রাইটস ওয়াচ (HRW), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের
বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করা শ্রমিকদের একটি মৌলিক
অধিকার । শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং লাঠিচার্জের মতো
কঠোর বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি
বাধ্যতামূলক করা মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, নারী বিক্ষোভকারীদের
নিয়ন্ত্রণ বা রাস্তা থেকে সরানোর জন্য পুরুষ পুলিশ সদস্যদের বলপ্রয়োগ এবং স্পর্শ করার ঘটনা
কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে নারী শ্রমিকদের মুখোমুখি হতে হলে পর্যাপ্ত
নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েনের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন নারী
অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার ফোরাম যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, কর্মক্ষেত্রে এবং
আন্দোলনে নারী শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি
নারী শ্রমিকদের মাঝে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। আন্দোলনের জেরে ইতিমধ্যে মিরপুর,
সাভার ও গাজীপুরে হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা শ্রমিকের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে
এবং সাধারণ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে । মানবাধিকার
সংগঠনগুলোর মতে, ঢালাও মামলার ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের যৌক্তিক কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা করা
উচিত নয়। এই আন্দোলন আমাদের মজলুম শ্রমিকদের রুটি রুজি ও অধিকার আদায়ের লড়াই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thedailysarkar@gmail.com

About Author Information

thedailysarkar

দৈনিক সরকার পত্রিকা ১৯৯১ সাল হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত হচ্ছে।

https://www.facebook.com/obaidul1991

শ্রমিক বিক্ষোভ আন্দেলনের রহস্য কি —- মোশারফ হোসেন

Update Time : ১২:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন – একটি সমাজ কতটা সভ্য তা তার সবচেয়ে ধনীর
প্রাচুর্য দিয়ে পরিমাপ করা যায়না, বরং সবচেয়ে ক্ষমতাহীন ও দূর্বল মানুষটি কতটুকু স্বাধীনতা
এবং সুযোগ ভোগ করছে তা দিয়ে যাচাই করতে হয়। ছোট্ট মানব শিশু মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হলেই
কান্না করে। কারন পৃথিবীর আলো বাতাস দেখেই সে ভয় পায়, আমার ভবিষ্যৎ কি? যে সন্তানটি
ধনীর ঘরে জন্ম নেয় তার কান্না বাবা মা দাদা দাদীর খুশির বার্তা প্রকাশ পায়। যে সন্তানটি দিনমুজুর
গরীব মা এর গর্ভ থেকে জন্ম নেয়, তার কান্না বাবা মা ও স্বজনদের অভাবের বার্তা প্রকাশ করে।
এই পৃথিবীতে যে হাসার সে হাসবেই, যে কাঁদার সে কাদবেই। উঁচু নিচু এ নিয়ম চলবে অনন্তকাল।
হর্কিন ফাসোর সাবেক রাষ্ট্রপতি ও এক বিপ।লবী নেতা থামাস সানকারা বলেছিলেন- দূর্নীতিগ্রস্থ
নেতৃত্ব দেশের অর্থনীতিকে ভেতর থেকে ধ্বংশ করে দেয়। ডঃ ইউনূস সরকার ১ বছরেই সুইস ব্যাংকে
যে পরিমান টাকা জমা করেছেন, ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে সুইস ব্যাংকটাই কিনে নিতো। অল্পের জন্য
সুইস ব্যাংকের মালিকানা হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ। সূত্র-(একাত্তর বিজনেস ফেইস বুক, তাং
২৭/৬/২০২৬ ইং)। আসা যাক মূল প্রসংগে- বাংলাদেশে চলমান পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
আন্দোলনের নেপথ্যে প্রধানত জীবনযাত্রার তীব্র ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০ টাকা
করার দাবি রয়েছে, তবে একই সাথে এর পেছনে রাজনৈতিক উসকানি ও নাশকতার অভিযোগও সামনে
এসেছে । ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মূলত দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা
রহস্যের কথা আলোচনা করা হচ্ছে: ১. অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনধারণের লড়াই (শ্রমিকদের পক্ষ)
মজুরি বৃদ্ধির দাবি- বর্তমানে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২,৫০০ টাকা, যা ২০২৩
সালের ডিসেম্বরে নির্ধারণ করা হয়েছিল । শ্রমিকরা এটিকে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির তুলনায়
অত্যন্ত অপ্রতুল মনে করে এটি বাড়িয়ে ৩০,০০০ টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন । দ্রব্যমূল্যের
ঊর্ধ্বগতি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বাড়িভাড়া এবং গ্যাস-বিদ্যুতের বিল
অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন । শ্রমিক
নেতাদের মতে, এটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং পেটের দায়ে বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের লড়াই ।

বিজ্ঞাপন

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে
যে, এই আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বহিরাগতরা অনুপ্রবেশ করেছে। মিরপুর ও
গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত এমন বেশ কয়েকজনকে আটক
করা হয়েছে, যারা পোশাক শ্রমিক নন বরং পতিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির
সাথে জড়িত বলে পুলিশ দাবি করেছে । অন্যদিকে সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা/মন্ত্রী
এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, দেশের পোশাক খাতকে ধ্বংস করতে এবং
অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতে একটি রাজনৈতিক মহল শ্রমিকদের যৌক্তিক আবেগকে
ব্যবহার করে নাশকতা ছড়াচ্ছে । মহিলা শ্রমিকদেরউপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও স্পর্শকাতর স্থানে
হাত দেওয়া এটা সত্যিই নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। এরা আমাদের মায়ের জাত। চলমান পোশাক শ্রমিক
আন্দোলনে নারী শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শারীরিক
আচরণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক এবং সমালোচনার জন্ম

দিয়েছে। গত কয়েকদিনের মিরপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় আন্দোলনকারী এবং প্রশাসনের
পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ও তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত ভিডিও এবং প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা
অবরোধ সরাতে পুলিশ টিয়ারশেল ব্যবহারের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের ওপরও লাঠিচার্জ করেছে ।
বেশ কিছু ভিডিওতে নারী শ্রমিকদের পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে বাঁচতে আকুতি জানাতে এবং ক্ষোভ
প্রকাশ করতে দেখা গেছে । স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ ও বিতর্ক: সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে নারী শ্রমিকদের গায়ে হাত দেওয়া বা হেনস্থার কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক
সমালোচনা শুরু হয় । এর মধ্যে কিছু ভিডিওতে নারী শ্রমিকদের সরাসরি পুলিশের এমন আচরণের
বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে । মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলন দমনে
নারী শ্রমিকদের ওপর যেকোনো ধরনের শারীরিক বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জকে মানবাধিকারের চরম
লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে । নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নারী পুলিশ সদস্য ছাড়া পুরুষ
পুলিশ দ্বারা তাদের নিয়ন্ত্রণ বা স্পর্শ করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। হিউম্যান
রাইটস ওয়াচ (HRW), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাদের
বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলন করা শ্রমিকদের একটি মৌলিক
অধিকার । শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং লাঠিচার্জের মতো
কঠোর বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি
বাধ্যতামূলক করা মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, নারী বিক্ষোভকারীদের
নিয়ন্ত্রণ বা রাস্তা থেকে সরানোর জন্য পুরুষ পুলিশ সদস্যদের বলপ্রয়োগ এবং স্পর্শ করার ঘটনা
কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে নারী শ্রমিকদের মুখোমুখি হতে হলে পর্যাপ্ত
নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েনের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন নারী
অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার ফোরাম যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, কর্মক্ষেত্রে এবং
আন্দোলনে নারী শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি
নারী শ্রমিকদের মাঝে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। আন্দোলনের জেরে ইতিমধ্যে মিরপুর,
সাভার ও গাজীপুরে হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা শ্রমিকের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে
এবং সাধারণ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে । মানবাধিকার
সংগঠনগুলোর মতে, ঢালাও মামলার ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের যৌক্তিক কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা করা
উচিত নয়। এই আন্দোলন আমাদের মজলুম শ্রমিকদের রুটি রুজি ও অধিকার আদায়ের লড়াই।