https://www.facebook.com/obaidul1991
গোদাগাড়ীতে খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বাবা-মাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
- Update Time : ০৪:১৯:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৫ Time View

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি, মোঃ আতিকুর রহমান :রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক দম্পতিকে মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত স্বামী-স্ত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. আলমগীর (৪২)।
শিশুর খেলাধুলা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বাদী আলমগীরের নয় বছর বয়সী ছেলে মাহিম বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত বল বা খেলার সামগ্রী প্রতিপক্ষের বাড়ির জানালায় আঘাত করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে শিশুটিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ছেলের পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করেন আলমগীর ও তাঁর স্ত্রী মোসা. নাজরিন খাতুন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত, ১৪টি সেলাইয়ের দাবি
বাদী আলমগীরের অভিযোগ, বিরোধের একপর্যায়ে অভিযুক্ত মো. শাহাদাৎ হোসেন মিঠু (৩০) ঘরের ভেতর থেকে একটি লোহার হাসুয়া নিয়ে এসে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে চিকিৎসা নেওয়ার সময় মাথার ক্ষতস্থানে ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযুক্ত মো. বাদশা (৫০) লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে আলমগীরের বাম হাতের কনুইয়ের নিচের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
স্ত্রীকে মাটিতে ফেলে মারধরের অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত মোসা. সালেহা (৪৫) ও মোসা. রিতু (২৫) আলমগীরের স্ত্রী নাজরিন খাতুনের চুলের মুঠি ধরে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর তাঁকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। এ সময় তাঁর শ্লীলতাহানির অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সামান্য একটি খেলাধুলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই আহত হন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।
পরিবারের অন্য সদস্যকেও মারধরের অভিযোগ
এজাহার অনুযায়ী, আলমগীরের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে পরিবারের অন্য সদস্য ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। এ সময় তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ময়নাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জনি (২৬), মো. আসমাউল (২৬), মো. জসিম (৩৫)সহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে নিজেদের বাড়ির ভেতরে চলে যান।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁরা চিকিৎসা গ্রহণ করেন। বাদীর দাবি, হামলার কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এজাহারে আলমগীর উল্লেখ করেছেন, ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা করানো এবং পরিবারের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
ভুক্তভোগী মো. আলমগীর এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সামান্য বিরোধের জেরে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি। ছোটখাটো বিরোধ যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে জন্য পারস্পরিক সহনশীলতা ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


























