https://www.facebook.com/obaidul1991
- Update Time : ১২:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৮ Time View

পিরোজপুরে বাংলাদেশী নাগরিক ও মুসলমান মানিক পশারীর দাফনে বাধা ও ভয়ভীতির অভিযোগ, নারীদের
দ্বারা দাফন সম্পন্ন হওয়ায় রাষ্ট্রীয় নাগরিক অধিকার, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে এবং আমাদের প্রস্তাবনা
=====================================================================================================
পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামের বাংলাদেশী নাগরিক ও মুসলমান মানিক পশারী গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে মারা যান। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার ক্ষোভের বশবতী হয়ে মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর তাঁর দাফন নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়। দাফনে বাধা দেওয়া, হুমকি দেওয়া এবং খোঁড়া কবর ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কবর খোঁড়ার লোক না পাওয়ায় মেয়ে ও বোনেরা সহায়তা করেছেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে রাত দেড়টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ হতে বিরানব্বই শতাংশ মুসলমানের বাংলাদেশে একজন মুসলমানকে জানাযা ও দাফনে বাধা দেওয়ার দলীয় কোনো নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত ছিল না বলে জানানো হয়েছে। তাই সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দোষারোপ করা সঠিক হবে না।
বাংলাদেশ মানবাধিকার উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মুহম্মদ ওবায়দুল হক পিরোজপুরের ঘটনায় মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.)-কে জড়িয়ে নারীদের দ্বারা দাফন সম্পন্ন হওয়ায় রাষ্ট্রীয় নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা করেছেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার উন্নয়ন সংস্থার প্রস্তাবনা:
১। ১৯৪৭ সালে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে এদেশের ভূখণ্ডের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু পিরোজপুরে বাংলাদেশী নাগরিক ও মুসলমান মানিক পশারীর দাফনে বাধা ও ভয়ভীতির অভিযোগ, নারীদের দ্বারা দাফন সম্পন্ন হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় নিয়মের ব্যতয় ঘটেছে। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ইসলামকে অবহেলা করে বাংলাদেশ পরিচালনার চেষ্টা করা সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন।
২। বিগত সরকারের সময়ে ঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মানিক পশারীকে স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়ার বিতর্কের কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনর্গঠন করতে হবে। লোভনীয় সুযোগ-সুবিধার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় দলীয় পছন্দের ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অপরাধী ও রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সাত কোটি মানুষ সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করে স্বাধীন বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সবাইকে মুক্তিযোদ্ধার সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। জামায়াতে ইসলামী ১৯৪১ সালে গঠিত হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে পিরোজপুরের ঘটনার তদন্তের সকল কাজে সহযোগিতা ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করতে হবে। বিরানব্বই শতাংশ মুসলমানের বাংলাদেশে ইসলামী নির্দেশনা বা প্রচলনে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৪। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এ ভূখণ্ডে ইসলামী বিষয়ে মতামত বা ফতোয়া দেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠান করার জন্য দেশের সকল ইসলামী সংগঠন ও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। মতামত বা ফতোয়া দেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠান হতে ইসলামের সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে পাওয়া সম্ভব হবে। যে যার মতো ইসলামী বিষয়ে বিতর্ক বা মতামত দেওয়া বন্ধ হবে।
৫। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একজন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের বাংলাদেশে জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পিরোজপুরের ঘটনায় মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জড়িয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দোষীরা তাদের নিজেদের ইচ্ছানুসারে মব সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছে এবং সকল দায়-দায়িত্ব তাদের বহন করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে স্বাধীন দেশ বাংলাদেশকে বা সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক কাজে বাধা ও অস্থিরতা তৈরি করার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফন নিয়ে ওঠা অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের শোক ও ধর্মীয় অধিকারসংক্রান্ত বিষয় নয়; এটি মানবিক মর্যাদা, নাগরিক অধিকার, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আইনের শাসনের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। ন্যায়বিচার, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ, কল্যাণমুখী ও মানবাধিকার রক্ষাকারী উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
শাহ মো: রেজাউল কবীর , দপ্তর সম্পাদক , বাংলাদেশ মানবাধিকার উন্নয়ন সংস্থা , মোবাইল: ০১৮৩৩৩৩৫৫৩৫




























